চরিত্র

                                        চরিত্র

                                                                নৈঋত ইকবাল   

চিহ্ন উজানের প্রকাশনা
কিশোর গ্রন্থমালা-২
১৩০ শহীদুল্লাহ কলাভবন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
একটি প্রান্তমুখো সাহিত্য উদ্যোগ
www.chinnofoundation.org
প্রথম প্রকাশ
একুশের বইমেলা ২০১৬
প্রচ্ছদ
নৈঋত ইকবাল
অলংকরণ
আইয়ুব আল-আমিন
পৃষ্ঠাসজ্জা ও বর্ণবিন্যাস
এম.এন হক
মুদ্রণ
জাহান কম্পিউটার এন্ড প্রিন্টিং
রাজশাহী
১০০ টাকা
.................................................
Charittra A book of Story by Naireet Iqbal, Published by chinno, February 2016. Tk. 100 only.

                                                                    বাবার কথা

বাপি, তুমি এখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়। সব সময় আমি তোমার মধ্যে আমাকে দেখতে পাই। আমি যখন কিশলয় পড়তাম, স্কুল আর পরিবারের কড়া শাসনে তখন অনেক ইচ্ছার মৃত্যু হতো, কতো রাজপুত্তুর আর রাজরাণীর তেপান্তরের মাঠ পেরুনোর গল্প সেই সোনালী আলোয় মরে গেছে— কেউ জানে না। সার্কাসের বনমানুষেরা আর বানরগুলা কখন যেন প্যান্ডেল ভেঙে চলে গেছে! এখন তুমিও রাজপুত্তুরের গল্প লেখ। অন্য সব বাবারাও আমার মতোই হয়তো একই গল্প বলবে। এক সময় আমি বড় হই, সংসার হয়; আমার বন্ধু খালেদ-লিটন-টিপু-কনক-জ্যাক-রানারা সবাই সংসারী হয়। এখন আমাদের প্রত্যেককের সন্তানরা তোমরা একসঙ্গে বড় হচ্ছো। ঈষাণ-শাহরিয়ার-আদিয়ান-স্বপ্নীল-সৌহার্দ- বিভা-মৌনতা-শ্রেয়ান-অর্চন-জাফরিন-কাব্য অনেকেই। তোমরা সবাই এখন তেপান্তরের মাঠ পেরুনোর গল্প বলতে পারো। আসলে তেপান্তরের মাঠ বলে তো কিছু নেই। রাজপুত্তুর আর রাজকন্যাও শূন্য। কিন্তু এসব এ্যাডভেঞ্চার সবসময় সবাইকে আকর্ষণ করে।

এখানে যে নানারকম ঘটনা তুমি লিখছ তার প্রত্যেকটিই বড় হওয়ার স্বপ্ন। প্রত্যেক বাবারও এসব কিশোরকালের গল্প। এ গল্পগুলো কোনোদিনই শেষ হয় না। এর ভেতর দিয়ে একদিন তুমিও বড় হবে, তোমার প্রজন্মও তৈরি হবে। মনে রাখবে, এ নশ্বর পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয় কিন্তু জীবনের গল্পগুলো সবার জন্যই সমান। এ গল্পগুলোই সবাইকে আপন করে নেয়, সব ব্যবধান দূর করে ফেলে। মলিনতা টুটে যায়। সবাই এই গল্পের ভেতর দিয়েই বড় হয়— যেমন আমরা, তুমি-তোমরা। যেভাবে আমরা সব বাবারাও অনেককাল পরস্পরকে বন্ধু ভেবে গর্ব বোধ করে এসেছি। তোমরাও কিন্তু সেভাবে সকলের মধ্যে নিজেকে বড় করে তুলবে, সবার মাঝ থেকে তখন নিজের মতো আলাদা হয়ে উঠবে। কারণ এককভাবে স্বার্থপর হয়ে কেউ আকাশ ছুঁতে পারে না। আর লেখক হতে গেলে তো পাখির চোখে আকাশ দেখতে হয়! অনেক ভালো থেক, উদার ও আয়ুষ্মান হও।

শহীদ ইকবাল

উৎসর্গ
মা-মণিকে
সূচিপত্র
১. বামুন ও রাজা                                   ১১
২. বানর                                         ১৩
৩. আমি সকাল থেকে যা করেছি                        ১৪
৪. গরমকাল                                      ১৬
৫. অলিম্পিক ২০১২                                 ১৭
৬. ঈদ মার্কেট                                    ১৯
৭. হঠাৎ বৃষ্টি                                     ২০
৮. ছোট চাচ্চুর বিয়ে                                ২১
৯. শীতকাল                                       ২৩
১০. কুয়াশা                                       ২৫
১১. কুরবানীর জন্য গরু না ছাগল                       ২৭
১২. শীতের রোদ                                   ৩৩
১৩. রিমা ও মিনার জীবনের গল্প                      ৩৫
১৪. হরতাল ও মানুষ                                ৩৯
১৫. পাখি                                        ৪১
১৬. চাঁদ                                         ৪৪
১৭. রোদেলা দুপুর                                  ৪৬
১৮. সাঁতার কাটা                                   ৪৮
১৯. আমাদের শ্রেণিকক্ষ                             ৪৯
২০. আমার প্রতিদিনের কাজ                          ৫০
২১. রহিম ও করিম দুই বন্ধু                          ৫১
২২. একরাতের ঘটনা                                ৫৩
২৩. ভোলা এবং বাদল                               ৫৫
২৪. বর্ষকাল                                     ৫৮
২৫. আমি এবং আমার বন্ধু ফারিহা                     ৫৯
২৬. শীতের পরে আরামদায়ক রোদ                      ৬২
২৭. হরতাল ও অবরোধে মানুষের জীবনে ঝুঁকি              ৬৬
২৮. আজকাল কী সব আজব অফফ                     ৬৯
২৯. ভ্রান্ত ধারণার আন্ধকারে আজও মানুষ               ৭৩
৩০. বনস্পতির ছায়া                                ৭৮
৩১. কাঠঠোকরাটা কী বেঁচে আছে?                      ৮১
৩২. বাংলাদেশের রেললাইনের পরিস্থিতি                   ৮৪
৩৩. নিলয়ের সাহসিকতা                              ৮৭
৩৪. Lizard                                     ৯৫
৩৫. About Hitlar                               ৯৬

raja

                                                              বামুন ও রাজা

এক গ্রামে ছিল এক বামুন। সেই বামুন ছিল খুব গরীব। সে হাড়ি-পাতিল বিক্রি করে তার কোনো রকমে সংসার চলতো। সেই দেশের রাজা ছিল খুব অত্যাচারি। সেই রাজা গরীবদের একটুও সাহায্য করতো না। অবশ্য সেই রাজা যুদ্ধের পর মারা গেলেন। সেই রাজ্যে বলা হয়েছিল যুদ্ধের পর যে দেশ জিতবে, সেই এ দেশের রাজা হবে। ঠিক ঠিক মতো যুদ্ধের পর ওই অত্যাচারী রাজা মারা গেলেন। আসলো ওই দেশে নতুন রাজা। রাজ্যে আনন্দে মেতে উঠলো। যুদ্ধের পর যেই রাজা আসল, সেই রাজা ছিল খুব ভালো। সে গরীবদের দুঃখের পাশে গিয়ে দাঁড়াতো। সেই বামুন রাজার কাছে গিয়ে বললো, আমি খুব গরীবআমার দু বেলা দু মুঠো খাবারও জোটে না। তাই আপনার কাছে এলাম, যদি কোনো সাহায্য করেন। বামুনের কথা শুনে রাজার খুব মায়া লাগল। রাজা বলল, ঠিক আছে আমি তোমার একটু লোভের পরীক্ষা নিতে চাই। রাজা প্রহরীকে বলল, আমার ওই জমিটাতে ওকে একটু নিয়ে চলো। দেখি জমি দেখে ও নিতে চায়, নাকি না নিতে চায়। প্রহরী বামুনকে জমি দেখাতে নিয়ে গেলো। বামুন জমি দেখে বললো, আমি এ জমি নেব না। এ জমি রাজার আছে রাজারই থাক। রাজা বামুনের লোভের পরিচয়ে খুব খুশি হলো। রাজা বামুনকে বলল, তোমার সততার পরিচয় দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। তাই তোমাকে আমি এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপহার দিলাম। সেই উপহার পেয়ে বামুন খুব খুশি হলো। সেই টাকা দিয়ে বামুন ঘরবাড়ি এবং একটা গোলা ভরা ধান এইসব করলো। তারপর বামুন সুখে-শন্তিতে ঘর-সংসার করতে থাকলো।

৭.১০.২০১১
শুক্রবার
সময়- দুপুর ১টা

gdb

                                                                            বানর                                                            

কালকে পেপারে দেখলাম, শীতে বানর সব একসাথে জড়াজড়ি করে আছে। পেপারে বেশি কিছু লেখাও নেই। শুধু একটা বড় করে ছবি দেওয়া আছে। আর নিচে একটা ছোট করে ক্যাপশন দেওয়া আছে। পেপারে বানরগুলোর ছবি এমন করে দিয়েছে যে, একটা বানরের ছবিতেই অনেককিছু কথা বোঝা যাচ্ছে। তার জন্য একটুখানি ছবির নিচে ক্যাপশন দিয়েছে। আর ওই ছবিটা দেখে অনেক কিছু বোঝা যাচ্ছে তার জন্য বেশি কথা লেখেনি। কী আশ্চর্য! বানরও মানুষের মতো প্রাণী! মানুষের মতো বানরেরও শীত লাগে।

vdv

                                           আমি সকাল থেকে যা করেছি

আমি আজ সকালে উঠে মুখ-হাত ধুলাম। দাঁত ব্রাশ করলাম। কাপড় পরলাম, নাস্তা করলাম। পড়তে বসলাম। কিছুক্ষণ পড়লাম। পড়ার পর আলম চাচ্চুর সাথে ছাদে উঠলাম। ছাদে খুব সুন্দর মৃদু রোদ। ওখানে কিছুক্ষণ থাকলাম। তারপর নিচে নামলাম। তারপর আবার পড়া শুরু করলাম। পড়ার পর মা-মণি স্কুল থেকে চলে আসল। তারপর অংকন করছিলাম। অংকন করার পর গোসল করতে গেলাম। গোসল করে আসলাম। একটু অংক করলাম। আরবি লিখলাম। আমাকে মা-মণি খেতে ডাকল। আমি খেতে গেলাম। খাওয়ার পর আমি আবার অংক করতে বসলাম। তার পর মামণি কম্পিউটারে কাজ করছিল আমি একটু দেখলাম। দেখার পর অংকন করলাম। ৫টা পর্যন্ত আমি ড্রইং করছিলাম। তারপর দেখি অর্থি আপু আমাকে খেলতে ডাকতে এসেছে। আমি অর্থি আপুকে বললাম, তুমি বসো আমি তৈরি হয়ে আসছি। অর্থি আপু বসল। আমি তৈরি হয়ে এলাম। অর্থি আপু আমাকে একটা বাউকুল দিল। তারপর অর্থি আপু আর আমি যেই বের হতে গেলাম সেই সময় রুনিজা আসল ও আমাকে বলল, অর্থি আপু কোথায়। ও তো আর জানেনা যে, অর্থি আপু আমার বাসায়। তারপর আমরা একসাথে খেল

vd

                                                                    গরমকাল

আজ আমি স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে আসার পর বাসায় দেখি কারেন্ট নাই। কি গরম বাসায়, বলার মতো না। গরমকাল আমার একদম পছন্দ না। শীতকালে কত মজা। শোয়ার সময় লেপ নিয়ে শুই। আহা! কী আরাম! আর গরমকালে গাছের পাতা শুকিয়ে যায়। তখন পুরো প্রকৃতি শুকনো হয়ে যায়। তবে গরমকালে আমার আইসক্রীম খেতে বেশ মজাই লাগে। আর গরমকালে মানুষ বেশ তৃষ্ণার্ত হয়। গরমকালে অনেক বেশি পানি খেতে হয়। তা না হলে অনেক অসুখ-বিসুখ হয়। গরমের সময় অনেক পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এই কারণে বেশি বেশি পানি খেতে হবে।

                                                          vbb

                                                            অলিম্পিক ২০১২

অলিম্পিকে নানারকম খেলাধুলা থাকে। যেমন— দৌড়ানো, Badminton টেবিল টেনিস আরো অনেক খেলা। টেবিল টেনিস খেলা কেন জানি আমার খুব কঠিন মনে হয়। আর এসব খেলা নানারকম দেশ খেলে থাকে। যেমন— রাশিয়া, জাপান, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ড, ইন্ডিয়া, চায়না। খবরে এখন দেখাচ্ছে যে চায়না সবচেয়ে বেশি গোল্ড মেডেল পেয়েছে। শুধু গোল্ড মেডেলই নয় সিলভার, ব্রোঞ্জ। চায়নারা আছে প্রথম স্থানে। চায়না সব খেলাতেই ভালো। Badminton খেলায় চায়নার সাথে আর কেউ পারবে না। আমার সবচেয়ে পছন্দের খেলা Badminton। আর সাঁতার কাটা খুব কঠিন খেলা। আমি টিভিতে দুই ধরনের সাঁতার কাটা দেখেছি। সেগুলো হলো— একটা উল্টো দিক করে, আরেকটা সোজা দিক করে। আমার সাঁতার শেখার খুব ইচ্ছা আছে। আর একটা খেলা আছে সেটা হচ্ছে হাইজাম্প। কালকে আমি হাইজাম্প খেলা টিভিতে দেখেছিলাম, খুব মজার খেলা। এবং কালকের হাইজাম্প খেলায় রাশিয়া গোল্ড মেডেল পেয়েছিল। পুরস্কার দেয়া যখন শেষ হয়ে যায় তখন জাতীয় পতাকা তোলে এবং যেই দেশ জিতেছে সেই দেশের পতাকা সবার আগে তোলে। আর যে দ্বিতীয় তার পতাকা দ্বিতীয়তে তোলে আর যে তৃতীয় হয়েছে তার পতাকা তৃতীয়তে থাকে।

bfb

                                                           ঈদ মার্কেট

কালকে ইফতার করার পর বাপ্পি আর আমি কিছুক্ষণ টিভি দেখলাম। টিভি দেখতে দেখতে বাপ্পিকে আমি বললাম, কবে যে যাব জামা কিনতে। তখন বাপ্পি একটু হাসল, কিছুক্ষণ পর বাপ্পি বলল রেডি হও, তারপর বাপ্পি গাড়ি আনতে গেল। আমরা রেডি হয়ে নিচে নামলাম হাঁটতে হাঁটতে দেখি রাস্তায় একটা শেয়াল। অবশ্য শেয়ালটা অন্য রাস্তা দিয়ে চলে গেল। আমরা এমনি অল্প হাঁটা-হাঁটি করলাম তারপর বাপ্পি চলে আসল। গাড়িতে চড়ে আমার জামা কিনতে নিউমার্কেটে চলে আসলাম। তারপর আমার জামা কিনলাম। জামা কেনার পর জুতো কিনলাম। তারপর আমরা সাহেববাজার গেলাম। ওখানে বাপ্পি একটা আমের দোকানের সামনে গাড়ি রাখল তারপর যখন আমরা দোকানে যাচ্ছিলাম তখন একটা আমের দোকানের লোক বলল এখানে গাড়ি রাখা নিষেধ। তারপর বাপ্পি অন্য জায়গায় গাড়ি রাখতে গেল এবং আমাদের বলল, তোমরা দোকানে যাও।

bf

                                                         হঠাৎ বৃষ্টি

কালকে পড়তে বসতে বসতে হঠাৎ বৃষ্টি এল। সেই বৃষ্টি অনেকক্ষণ ধরে চলল এবং খুব জোরে জোরে বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। অনেকক্ষণ পর বৃষ্টি থামল। একটু বৃষ্টি হয়েই একেবারে পুরো একেবারে পুরো দুনিয়া ঠা-া হয়ে গেল। বৃষ্টি হলে আমার খুব মজা লাগে। মনে হয় বৃষ্টিতে ভিজি। আমার আবার একটু আজব বৃষ্টি পছন্দ; এ রকম পছন্দ যে ঝরঝর করে খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে না, কারণ বিদ্যুৎ চমকালে সহজে বাইরে বের হওয়া যায় না। তাই আমার এরকম বৃষ্টি পছন্দ, ঝরঝর করে বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে না। তাহলে সহজে বৃষ্টিতে ভেজাও যায়।

                                                         ছোট চাচ্চুর বিয়ে

ছোট চাচ্চু একদিন রাজশাহীতে আসল। রাজশাহীতে আসল বিয়ের তারিখ ঠিক করতে। ছোট চাচ্চু ঢাকা থেকে এসেছিল, ভোরে। তখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম। সকালে উঠে দেখি ছোট চাচ্চু এসেছে। আমি তারপরে খেয়ে-দেয়ে স্কুলে গেলাম। স্কুল হয়ে গেল, স্কুল থেকে বের হয়ে দেখলাম ছোট চাচ্চু আমাকে নিতে এসেছে। আমি ছোট চাচ্চুর সাথে বাসায় আসলাম। এসে আমি আবার খেলাম। তারপর ছোট চাচ্চুর সাথে একটু ইধফসরহঃড়হ খেললাম। তারপরে ছোট চাচ্চুর মোবাইল থেকে

fbf

আমার নতুন চাচির ছবি দেখলামআরো অনেকের ছবি দেখলাম। ওই দিন ছিল বৃহস্পতিবার। বৃহস্পতিবার দিন আমার গানের শিক্ষক আসে। ওই দিনও এসেছিল। ছোট চাচ্চু আমার গানের শিক্ষকের সাথে হাত মেলালো। আমার গানের শিক্ষক যতক্ষণ গান সেখাচ্ছিল ততক্ষণে ওরা সবাই তারিখ ঠিক করে ফেলল। তারপর আমার শিক্ষক চলে গেল। আজ রাতে ছোট চাচ্চু ঢাকায় যাবে। টিকিট কাটার জন্য আমাকে কাজলায় নিয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির করে টিকিট পেল। তারপর ছোট চাচ্চু আমাকে কাজলায় নিয়ে এসে জাম এবং ৭ঁঢ় কিনে দিল। খেতে খেতে বাসায় গেলাম। তারপর আমরা বাসায় এসে সবাই মিলে আমের জুস এবং জাম খেলাম। কিছুক্ষণ পর বাপ্পি আসল। আমরা রাতের খাওয়া-দাওয়া করলাম। কিছুক্ষণ পর ১২টা বেজে গেল ছোট চাচ্চু ঢাকায় চলে গেল। আমি ইুব বললাম। কিছুদিন পর ফুপি আসল মেঘাকে নিয়ে।

                                                                       শীতকাল

শীতকাল অনেক মাজার। শীতকালে অনেক পিঠাপুলি খাওয়া যায়। যেমন- ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা, চিতই পিঠা ইত্যাদি। শীতকালের সকালে ভাপা পিঠা খেতে যা মজা। আহা! শীতে আমার সবচেয়ে বেশি মজা লাগে লেপমোড়া দিয়ে ঘুমাতে। সকালবেলা লেপের নিচ থেকে উঠতে একদমই ইচ্ছে করে না। এজন্যই তো আমি সকাল ১০টা, ১০:৩০টা পর্যন্ত ঘুমাই। হি হি। শীতকালে অনেকেরই খেজুরের রস খেতে খুব মজা লাগে। কিন্তু আমার ভালো লাগে না। বাপ্পিরও খুবই পছন্দ। ওই বছরের শীতকালে আমরা একবার পুঠিয়ায় গিয়েছিলাম। ওখানে আমি দেখেছিলাম খেজুরের গাছে হাড়ি লাগানো।nfn

বাপ্পি ওখান থেকে তাজা এবং গাছ থেকে নেওয়া নির্ভেজাল খেজুরের রস খেল। যেদিন সকালে খেজুরের রস পাড়া হবে তার আগের দিন খেজুরের রস সাদা চুনের মত থাকে। শীতকালে সকাল সকাল গোসল করে নিলে কোনো ঝামেলা থাকে না। শীতকালে রোদে বসে থাকতে অনেক আরাম লাগে। শীতকালে ইধফসরহঃড়হ খেলা হয়। আমার ইধফসরহঃড়হ খেলা সবচেয়ে বেশি পছন্দ। শীতকাল সবদিক দিয়েই ভালো। শীতকাল আমার খুবই পছন্দের। শুধুমাত্র একটাই সমস্যা বোছকা পরে থাকা। শীতকালে অনেক সর্দি, কাশি, জ্বর এসব অসুখ হয়। কিন্তু নিয়ম মতো চললে এসব অসুখ-বিসুখ কিচ্ছু হবে না। যেমন আমার প্রতিবছর শীতকালে সর্দি, কাশি, জ্বর এসব

কিন্তু এবার আমার এখন পর্যন্ত ওসব কিচ্ছু হয়নি। কারণ আমি সকাল বেলাতেই গোসল করে নিই। হা হা হা হা। ঝামেলাটা শেষ করে নিই। হি হি হি হি।

                                                                       কুয়াশা

শীতকালে ধোয়ার মতে কিছু দেখা যায়। সেগুলো আসলে কুয়াশা। ঘন কুয়াশা হলে সামান্য দূরের জিনিসও দেখা যায় না। কুয়াশা হলে অনেক বেশি জামা-কাপড় পরতে হয়। দীর্ঘদিন কুয়াশা হলে অনেক ফসল নষ্ট হয়।

কুয়াশা আমার ভালোই লাগে। দেখে মনে হয় যেন আমি বরফের দেশে রয়েছি। কুয়াশায় পুরো প্রকৃতি ঢেকে থাকে। কিচ্ছু দেখা যায় না। সব ঘোলা মনে হয়। আমার তো আগে মনে হতো কী এসব সাদা সাদা। কিন্তু পরে বড় হয়ে যখন আমি বিজ্ঞান বইয়ে পড়ি যে কুয়াশা হচ্ছে জলীয়বাষ্পের মতো একটি জিনিস। জলীয়বাষ্পের সংস্পর্শে যখন কুয়াশা আসে তখন কুয়াশাটি ছোট ছোট পানিকণায় পরিণত হয়। যাকে আমরা শিশির বলে চিনি।ngn

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘাসের উপর এসব কী? পানি, পানি। কুয়াশা যেরকমই হোক না কেন আমার কিন্তু বেশ ভালো লাগে। ঠা-া ঠা-া আসছে এরকম একটা সুন্দর অনুভবের সৃষ্টি হয়। দারুণ ব্যাপার। মাঝে মধ্যে আমি ভাবি এই কুয়াশা কোথা থেকে এলো, কে আবিষ্কার করল যে এটা কুয়াশা। কুয়াশা নামটা কে দিলো? এসব কী যে হাবিজাবি প্রশ্ন আমার মাথায় ঘোরে সেটা শুধু আমি জানি। যতোই হোক এই কুয়াশা মশাই শীতকালেরই তো একটি চিহ্ন। কিন্তু কোথায় যেন এসব হারিয়ে যাচ্ছে আজকাল। তাই আমাদের প্রকৃতির প্রতি কিছুটা হলেও সতর্ক আর সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।

gngn

                                             কুরবানির জন্য গরু না ছাগল

১.
গতকাল আমি আমার দাদাবাড়ি পীরগঞ্জে এসেছি। সেখানে এসে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বে জর্জরিত আমরা। কী কুরবানি দেওয়া যায় তা নিয়ে। গরু না ছাগল, গরু না ছাগল। কালকে ছোট চাচ্চু বলল, তার একজন ছাত্র তাকে জিজ্ঞেস করল, “এবার আপনারা গরু না ছাগল।” তখন ছোট চাচ্চু বলল, “চটকানা মেরে একেবারে বরিশাল পাঠায় দিব, আমরা তো মানুষ।” তখন ছোট চাচ্চুর ছাত্র বলল, “না মানে গরু কুরবানি দিবেন না ছাগল!” ঠিক এভাবেই খুবই সমস্যা এটা নিয়ে যে, আমরা গরু কুরবানি দেব না ছাগল। আমি চাই গরুই কুরবানি দেওয়া হোক। কেন জানি গরুকে কুরবানি দেওয়াই আমার বেশি মজার বলে মনে হয়। অবশ্য একজনের প্রাণ চলে যাচ্ছে, আর আমি মজা পাব তা ঠিক নয়। তবুও আমি চাই যে গরু কুরবানি দেওয়া হোক। কিন্তু ছোট চাচ্চু বলছে যে, গরুর দাম যদি বাজেটের মধ্যে না পড়ে তাহলে গরু আর কেনা হবে না। তার মতামত যে, এবার চারজন চারটা খাসি অর্থাৎ ছাগল কিনুক। কারণ, আমাদের বাসায় গরুর মাংস কেউ খায় না শুধু ছোট চাচ্চু আর দাদুভাই, দিদুমনি তো বাসায় একা থাকে। দিদুমনি একা তো আর এতোগুলো গরুর মাংস খেতে পারবে না। অবশ্য ছোট চাচ্চুর কথা যুক্তিসংগত। তবুও আমি চাই যে, গরু কুরবানি দেওয়া হোক। শুধু আমিই না আমার ছোট চাচিও চায় যে, গরু কুরবানি দেওয়া হোক। মাঝে মধ্যে মনে হয়, বাড়ির মধ্যেই ধর্মঘট ডেকে বসি। গরু কুরবানি দিতে হবে, দিতে হবে। তবে আমরা যাই করি না কেন আমাদের কথা আর কে শোনে? কী কুরবানি দেওয়া হবে তার সাথে সাথে আরেকটি জিনিসেরও সংকট দেখা দিয়েছে। তা হলো কসাইয়ের। আমাদের একজন পরিচিত কসাই আছে যার নাম রহিম। কিন্তু সে নাকি চোর। আমি ছোট চাচ্চু আর বাপ্পির কাছে শুনেছি যে, রহিম অর্থাৎ কসাইটা নাকি আগে জেলের মধ্যে যদি কেউ মারা যেত তাহলে সে ভ্যানে করে মৃতদেহ নিয়ে যেত। আমার কেমন জানি গা ছমছম করে ওঠে, এ কথা ভাবলেই। লোকটা দেখতে বড়ই আজব। দুপাশের গাল একেবারে বসে গেছে। সে নাকি আগে অনেক মদ খেত, জুয়া খেলতো। কালকেই মেজ চাচ্চুর দোকানে যখন রহিম কসাই আসল, তখনও দেখি সিগারেট হাতে নিয়ে এসেছে। যাই হোক, তাকে আবার কেউ নিতে চায় না, কারণ সে চোর বলেই গণ্য বেশি। কিন্তু গরুই কুরবানি দিতে হবে, কসাই-টসাই আমি জানি না। এখন দেখা যাক যে, কী কুরবানি দেওয়া যায়! যদি ছাগল কেনে তাহলে আমার মন খুব খারাপ হবে। আমার মন খারাপের সাথে তো আর কারো কিছু যায় আসবে না, বাজেটটাই আসল। আমার মন খারাপ মনে হয় হবেই কারণ, গরুর দাম হাটের আবহাওয়া আনুযায়ী বাজেটের মধ্যে পড়ছে না।
২.
আজকে সন্ধ্যাবেলায় একটা খুশির খবর দরজায় এসে টোকা দিয়েছে। খুশির খবরটা হলো গরু কেনা হয়েছে। আমি বিকালে ঘুমাচ্ছিলাম। মা-মণি হঠাৎ করে বলে উঠল, “ওরা এসেছে।” ওএকটা কথা তো বলাই হয়নি। আজকে বিকালে বাপ্পি, ছোট চাচ্চুসহ আরও অনেকে হাটে মানে গরু ছাগলের হাটে গিয়েছিল। আমি আবার প্রতিবছর গাধার মতো কোন দুঃখে যে হাটে যেতাম কে জানে! অবশ্য এ বছর মনে হয় আমার একটু হলেও বুদ্ধি খুলেছে। এবার আমি ওই কাদামাটি আর গরু-ছাগলের গু-এর মধ্যে আর যাইনি। অবশ্য ওরা এবার আর সে হাটে যায়নি, অন্য হাটে গিয়েছিল। অবশ্য যে হাটেই যাক না কেন, হাট মানেই গরুর গোবর আর ছাগলের বিষ্ঠা। আজকে আবার রহিম কসাই দুপুরের দিকে এসেছিল। মেরে দিলো কয়েকটা বক্তৃতা। আমি কিন্তু দাম বেশি নেই নি, আমি সৎ লোক, আমি কখনও আপনাদের কাছে ডিমান্ড করিনি ইত্যাদি ইত্যাদি। বাপ্পিও চিল্লান দিলো, কয়েকটা ধমক দিলো, ব্যাস হয়ে গেল সোজা। আরেকটু হলে মনে হয় ছেড়েই দিতো, সে তো বলতে লেগেছিল যে, “আপনারা অন্য কাউকে খুঁজে নেন। আমি করতে পারবো না।” আমরা ওই চোরকে বাদ দিয়েই দিতাম। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা আবার কসাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাই, বাধ্য হয়ে দোটানায় পড়ে আমার ভাষায় ওই ‘ফসারি’ বা ‘পচারি’ কসাইটাকে নিতেই হলো, কী আর করার! অবশ্য সে যতোই খারাপ হোক না কেন সে কিন্তু তার কাজে অত্যন্ত দক্ষ। দেখে নিতান্তই ভালো মানুষ বলে মনে হয়। একজন মানুষের তো আর শুধু সব খারাপ গুণ হতে পারে না, তার কিছু ভালো গুণও রয়েছে। অনেকেই মনে করে যে সে খুব আত্মকেন্দ্রীক মানুষ। আমার দাদুভাই বলে, “রহিমতো একটা চোর, ওর কোনো ধর্ম নাই। খালি মদ, গাঁজা খেয়ে বেড়ায়।” এর আগের কুরবানি ঈদে এই কসাই গরুর মাংস কাটতে কাটতে বলল, “এ জায়গার মাংসটা খুব স্বাদ”। এ কথা বলতে বলতেই গপ্ করে কাঁচা মাংস ঢুকিয়ে দিলো মুখের ভেতর। আমার দেখে এতোটাই ঘৃণা লাগল যা আর বলার মতো না। আমি আশ্চর্য হলাম এটা ভেবে যে, সে ওই কাঁচা মাংসটা খেলো সেটা ঠিক আছে, কিন্তু মাংসটা তার পেটে হজম হবে কীভাবে? আজব ব্যাপার! যাই হোক, এবারও সে ঘটনা ঘটবে কী না জানি না। তবে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হচ্ছি এটা ভেবে যে, গরু কেনা হয়েছে। আমিতো গরুর রঙের কথা বলতেই ভুলে গেছি। গরুর রং না কালো না সাদা। গরুটা বড়ই শান্ত। ঠিক সেরকম যেরকম আমি পছন্দ করি। গরুটার চোখের দিকে কিছুটা কালোর আভা রয়েছে। গরুর শরীরের বেশিরভাগ অংশই সাদা। এখন সে গরু রহিম কসাইয়ের বাড়িতে। পরের দিন সকালবেলা যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন আমার দাদাবাড়ির পাশের গুলশান হোটেল থেকে পরোটা খাওয়ার জন্য মা-মণি আমাকে ২০ টাকা দিলো। বড় চাচ্চু আমাকে গুলশান হোটেল থেকে পরোটা এনে দিলো। তারপর দেখি সকাল সকাল পকেটে বিড়ি, সিগারেট নিয়ে দোকানে হাজির। সে বলছে যে, “গরুটা পানি আর ভুষি ছাড়া কিছু খায় না। আমার বাড়িতে ঘাস, পাতা অনেককিছুই আছে কিন্তু সেগুলো কিচ্ছু খাচ্ছে না।” চাচ্চু বলল, “ঠিক আছে, তাহলে কয় কেজি লাগবে, ৩ কেজি?” রহিম বলল, “৩ বার খাওয়াব ঠিকই কিন্তু ৩ কেজি অতো বেশি লাগবে না। ২ কেজি হলেই হবে। চাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “২ কেজি ভুষির দাম কত?” রহিম বলল, “৬০ টাকা”। চাচ্চু ৬০ টাকা দিলো। তারপর রহিম ষাট টাকা পকেটে ঢুকিয়ে চলে গেল। কালকে ঈদ। কালকে গরু জবাই কখন হবে, কীভবে হবে সেটা দেখতে আমি খুবই উদগ্রীব। যদিও বা আমি আগেও দেখেছি।
৩.
কালকে আমার সেই প্রিয় গরুটার কুরবানি হয়ে গেল। খুব কষ্ট হলো। গরুর গলা কেটে ফেলার কারণে একদম তাজা রক্ত বেরুচ্ছে ওর গলা দিয়ে। বাপরে! দেখেই কেমন ঘিনঘিন লাগে। রহিম কসাই দুই ঘণ্টার মধ্যে সব গোশত একেবারে কেটে সুন্দর করে ভাগ করে দিলো। আমাদের বাসার কুরবানি সবার প্রথমে হয়েছে। আমাদের বাসা ১ নম্বর তারপরেই অন্যান্য বাসা। অবশ্য একটা ছাগলও কেনা হয়েছিল। সেটার কথা তো আমি বলতে ভুলেই গেছি। ছোট চাচ্চু আর মেজ চাচ্চু একটা খাসি কিনে নিয়ে আসল। যদিওবা সেটা খাসি নয় রামছাগল। ঐ রকম উঁচু আর লম্বা কিন্তু স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয়। দিদুমণি তো চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিয়েছে। বলছে যে, “কী এটা বুড়ানি বকরি নিয়ে আনলি তোরা?” সে কী অবস্থা! হাটে গিয়েছিল দাদুভাইও কিন্তু কেউ-ই চিনতে পারেনি যে ওটা বুড়ানি বকরি। ঈদের দিন ওটা জবাই করার পর হুজুর দৌড় দিলেন অন্য কোথাও কুরবানি করে দেওয়ার জন্য। কুরবানি যখন গরু, খাসি দুইটারই হয়ে গেল, তখন আমার মনের মধ্যে কেমন যেন একটা অনুভূতি হলো। মনে হলো যে, যদি আমাকে এভাবে জবাই করা হতো তাহলে সেই পশুদের যেমন কষ্ট হচ্ছে, কাতরাচ্ছে ঠিক আমারও সেরকম হতো। একজনের প্রাণ চলে যাচ্ছে আর আমরা তার গোশত খেয়ে তৃপ্তি করছি, কতটা অমানবিক। কে জানে কোন দুঃখে যে এ নিয়ম হয়েছে, ‘কুরবানি করা’। আমার কেন জানি খুব আজব মনে হয়। একটা গরুর জবাই করা গোশত আমরা তো খেয়ে দেয়ে একেবারে সাবাড় করে দিই। কিন্তু কেউ কী এটা ভাবে যে, একই ঘটনা যদি নিজের ক্ষেত্রে ঘটত, যদি মানুষের ক্ষেত্রে ঘটত তাহলে কিন্তু তারা এই নিয়ম ভেঙেই ছাড়ত। মানুষ কতটা আত্মকেন্দ্রীক। অবশ্য কুরবানি দেওয়াই ইসলাম ধর্মের একটি বিধান। এর অর্থ ত্যাগ। একজন পশুর প্রাণ না হয় গেলই, কিন্তু অনেক মানুষের খাদ্যও জুটল এতে। যারা গরীব, যারা ভিক্ষা করে বেড়ায়, তাদের মাংস খাওয়ার একটা সুযোগ হয়ে গেল

                                                          ngng                                                                       শীতের রোদ

শীতের রোদ মৃদু। শীতের মধ্যে যখন রোদ ওঠে, তখন আমার খুব মজা লাগে। শীতকালে যখন রোদ ওঠে তখন আমি সারাদিন রোদে বসে থাকি। শীতকালে যখন রোদ ওঠে, তখন মনে হয় দিনটাই যেন ভালো যাবে। সারাদিক আলোয় ছেয়ে যায়। আলো আমার খুব পছন্দ। হা হা হি হি হো হো। রোদ উঠলে চারিদিক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দেখতে খুব সুন্দর লাগে। আর যেদিন রোদ ওঠে না, সেদিন আমার একদম ভালো লাগে না। আলো নাই কিছু নাই। আর খুব ঠা-াও লাগে। শীতকালে যখন রোদ ওঠে না, তখন একটা পাখিও কোনো গাছে থাকে না। তখন মনে হয় সকালবেলা আমাদের ঘুম ভাঙানোর মতোও আর কেউ নেই। ও আর একটা কথা তো আমি বলতে ভুলেই গেছি, সকালে যদি রোদ ওঠে তাহলে শুধু আমাদেরই মজা না, পাখিদেরও মজা। কারণ যদি রোদ ওঠে শীত হয়। তাহলে শীতে ওদের অনেক কষ্ট হয়। পাখিরা তো আর আমাদের মতো কাপড় তারপর সৈটার পরে থাকে না। এজন্য পাখিদের শীত অনেক কষ্টে কাটে। তার জন্য একটু রোদ উঠলে পাখিদের একটু আরাম হয় আর কি! এটাই বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। ও হ্যাঁ আর একটা কথা, আমি এবার বুঝতে পারলাম যে কীভাবে পাখি শীত কাটায়। ওদের লোম আছে বলে ওদের শীত লাগে না। পাখি ছাড়াও আরেকটি প্রাণী আছে, যার নাম ভেড়া। ভেড়ার লোম দিয়ে কম্বল তৈরি করা হয়। এর মানে শীতকালে ওদের লোমের সাহায্যে ওরা গরম থাকে। অর্থাৎ বিভিন্ন পাখি ও ভেড়া তাদের লোমের সাহায্যে গরম থাকে। বা বা! ওদের লোমের সাহায্যে ওরা গরম থাকে। এই ব্যাপারটা বেশ আশ্চর্য তাই না! হা হা হা, হি হি হি, হো হো হো।

nmnhfmh

                                               রিমা ও মিনার জীবনের গল্প

একজন মেয়ে ছিল তার নাম রিমা। সে একটি দোকানে কাজ করত। সেই মেয়েটির বয়স ১৯ বছর। ১৩ বছর আগে সেই মেয়েটি এবং তার পরিবার রংপুরের একটি গ্রামে ছিল। সেই গ্রামটিতে জলোচ্ছ্বাস হওয়ার কারণে ওদের ঘরবাড়ি সবকিছু ভেসে যায়। তারপর ওই মেয়েটির পরিবার ময়মনসিংহে চলে আসে। সেখানে তাদের ছোট্ট একটি বাড়ি আছে। সেই বড়িতে তারা থাকে। রিমার বাবা অটো চালায়। সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন রিমার বাবা মারা গেল। রিমার এক মামা ওকে দোকানে নিয়ে গেল কাজ করার জন্য। তারপর থেকেই রিমা দোকানে কাজ করে। রিমার আরেকটি বোন আছে। তার নাম মিনা। সে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এভাবেই দিন কাটে রিমার। রিমার খুব দুঃখ হয় যে ওর বাবা মারা গেছে। কিন্তু ও একদিন সকালবেলা দোকানে যেতে যেতে দেখে একটি মেয়ের বাবাও নেই মাও নেই। এজন্য সে রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষে করছে। অমনি রিমার দুঃখ ঘুচল। আমার বাবা নেই ঠিকই কিন্তু আমার মা তো আছে। আর ওর যে মা-বাবা দুজনেই নেই। ওরতো আমার চেয়ে আরও বেশি কষ্ট, এটা ভেবে রিমা মেয়েটিকে দশ টাকার নোট দিল। ও হ্যাঁ আর একটা কথা বলতে তো আমি ভুলেই গেছি। রিমার মা নকশিকাঁথা সেলাই করে। আর যেদিন রিমা অবসর থাকে সেদিন রিমা সিনেমা দেখে। সিনেমা দেখতে রিমার খুব ভালো লাগে।

অনেকদিন এভাবেই চলতে থাকে। তারপর রিমার বিয়ে হয়। রিমার পর এবার শুরু হয় মিনার ঘটনা। মিনা ছিল খুব ভালো মেয়ে। ওই যে বলেছিলাম মিনা স্কুলে পড়াশোনা করে। সে খুব ভালো ছাত্রী। সে প্রতিবার সব পরীক্ষায় প্রথম হয়। এরকম ভালো ভালো রেজাল্ট করতে করতে মিনা এসএসসি পাশ করল। খুবই খুশির খবর, মিনা গোল্ডেন অ+ পেয়েছে। মিনার মা তো খুবই খুশি। মিনার মা মোবাইলে রিমাকে বলল যে, মিনা গোল্ডেন অ+ পেয়েছে। মিনার বাসায় খাওয়া আর মিষ্টিমুখ তো হলো। কিন্তু ওদের তো আর অতো টাকা-পয়সা নেই। এজন্য মিনার মা বাসাতেই পায়েস রান্না করে সবাইকে মিষ্টিমুখ করালো। কিন্তু মিনার মন খারাপ। কারণ এতো খুশির খবর কিন্তু ওর বাবা নেই। এজন্য মিনার মন খারাপ। এভাবেই চলতে থাকল মিনার দিন। মাঝে মধ্যে রিমা আসে। মিনার কলেজের পরীক্ষাতেও ভালো রেজাল্ট করল। তারপরে কিছুদিন মিনা পড়াশোনা করল। তারপর ভালো রেজাল্টের জন্য মিনার বিদেশে বিয়ে হলো। মিনা গরীব হলেও একমাত্র ভালো রেজাল্ট ও ভালো পড়াশোনার জন্যই মিনার বিদেশে বিয়ে হলো।

বেশ ধুমধাম করে মিনার বিয়ে হয়ে গেল। তারপর মিনা বিদেশে চলে গেল। ওর মা এখন একা। রিমার যেই মামা ওকে দোকানে কাজ করতে নিয়ে গিয়েছিল। সেই মামাই এখন ওদের বাসায় ওর মায়ের সাথে থাকে। কিছুদিনের মধ্যে মিনা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসল। মিনা বিদেশ থেকে নিজের বাসায় এসে খুবই খুশি। মিনা এখনও পড়াশোনা খুব ভালো করে, পড়াশোনা ভালো করে মানে মিনা বই পড়তে খুব ভালোবাসে। ওর নিজের মনে হয় যে মিনা মনে হয় এখন বই লিখতে পারবে। মিনা বই পড়তে পড়তে অনেক নতুন শব্দ শিখে ফেলেছে। এজন্যই মিনার বই পড়তে খুব ভালো লাগে। কারণ বই পড়লে অনেক নতুন নতুন শব্দ শেখা যায়। মিনার বই পড়তে এতোই ভালো লাগে যে, সে যেখানেই যায় সেখানেই একটা না একটা বই নিয়ে যাবেই। মিনা বই লিখবে ভাবতে ভাবতে সত্যি একটা বই লিখে ফেলল। বইটির নাম মুক্তিযুদ্ধ। সেখানে মিনা বীরশ্রেষ্ঠদের কথা লিখেছে। আমাদের ভাষার জন্য যে কত মানুষ প্রাণ দিয়েছে, তাদের কথা লিখেছে। আরও মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনার কথা লিখেছে মিনা। ওই বইটা মিনা ফেব্রুয়ারি মাসে লিখেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে যেসব মেলা হয় সেখানে মিনার বইটি বের হলো। মিনা বই লিখতে লিখতে কবি হয়ে গেল। ওর লেখা বইগুলো বিদেশেও যায়। কারণ ওর যে বিদেশে বিয়ে হয়েছে! মিনার লেখা প্রিয় বই ওর কাছে মুক্তিযোদ্ধা। সেই বইটা মিনা সবসময় পড়ে। প্রতিদিন পড়ে। এমনকি শোয়ার সময়ও পড়ে। মিনা ওই বইগুলো লিখে যত টাকা পায়, সেই টাকা কিন্তু ও নিজে রাখে না। ওর পরিবারকে দেয়। এভাবে মিনা ও রিমার পরিবার অনেক বড়লোক হয়ে যায়। গাড়ি, বাড়ি, টাকা সবই ওদের এখন আছে। শুধু বাবা নেই। দুই বোনের এতো কষ্ট শুধু বাবাকে নিয়ে। যাই হোক যা হবার তা তো হবেই। তা নিয়ে দুঃখ করে তো কোনো লাভ নেই। রিমার এখন আফসোস হয়, কেন যে আমি পড়াশোনা করি নি। মিনা কত ভালো পড়াশোনায় আর আমি! মিনা পড়াশোনায় ভালো বলেই তো আজ মিনা কবি। আর আমি ছোটবেলা থেকেই মূর্খ বলে এখনও আমি মূর্খ। কিন্তু মিনা রিমাকে অনেক টাকা দিল এবং একটা গাড়িও দিল। মিনা তো অনেক খুশি। তারপর সে এবং তার বোন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

ngnmfykj

                                                           হরতাল ও মানুষ

যদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির জন্য যে কত হরতাল হলো। মারামারি, ভাঙচুর, আগুন লাগানো আরও কত কী! আমরা সবাই জানি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। ঠিক সে রকমই যেন বর্তমানে আরেক মুক্তিযুদ্ধ চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির সময় খুবই বেশি হরতাল হচ্ছিল। প্রায় প্রতিদিনই। আমার তো একদমই ভালো লাগতো না। স্কুলে যেতে পারছি না হরতালের কারণে। তারপর কয়েকদিন ধরে হরতাল হয়নি। আবার এখন হচ্ছে ৩৬ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টা হরতাল। মানুষ তো নয় একেবারে হিংস্র প্রাণী। এসব মানুষদের জন্য যারা আয় করে খায় তারা আয় করতে পারছে না। শুধু আয় করাই কেন আরও যে কত কি মানুষ করতে পারছে না ওই হিংস্র মানুষদের জন্য। তারা প্রতিদিনই গাড়ি, অটোরিক্সা ভাঙচুর করছে, গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। অটো উল্টিয়ে দিচ্ছে। আজকেই সন্ধ্যার সময় বাপ্পি আমাকে পেপারে দেখাল পিকেটারদের ধাওয়ায় অটোরিক্সা উল্টে অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত। আমি তো শুনে এবং দেখে অবাক। এরা কিনা দেশপ্রেমিক! হরতাল মানে আমার কাছে একটা জেলখানার মতো। আমার আর ভালো লাগে না। এতো মারামারি, ভাঙচুর। ৩৬ ঘণ্টার হরতাল হলো আবার আজকে শুক্রবার, বাসার মধ্যে বন্দি হয়ে থাকতে আর ভালো লাগে না। কালকে এতো দিন পর সবার সাথে দেখা হবে। অনেক মজা হবে। তারপরের দিন যদি আবার হরতাল হয়। তাহলে পুরো মজাটাই মাটি। তারপরের দিন যদি হরতাল না হয় তাহলে প্রাণে বাঁচি। বাসার মধ্যে আর বন্দি হয়ে অন্তত থাকতে হবে না।

নৈরিত
২৮.০৩.২০১৩
বৃহস্পতিবার
সময় ৭:৩৫মি:

mhmf

                                                                    পাখি

পাখি খুব নিরীহ ও শান্ত। আমার পাখি খুব পছন্দ। পাখি আমার খুব পুষতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কোনো পাখিকে খাঁচার মধ্যে বন্দি করে রাখা ঠিক নয়। শুধু পাখিই নয় অন্য কোনো পশুকেই বন্দি করে রাখা ঠিক নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা আমার পাখি হতে খুব খুব খুবই ইচ্ছে করে। যদিও আমি কখনো পাখি হতে পারবো না। কারণ মানুষ কি কখনো পাখি হতে পারে? আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে। যেমন— টিয়া, চড়–ই, কবুতর, মাছরাঙা, ময়না, দোয়েল, কাঠঠোকরা, বাবুই ইত্যদি বিভিন্ন ধরনের পাখি। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় পাখি হচ্ছে ময়না এবং দোয়েল। আমার ময়না পাখি পছন্দ হওয়ার কারণ ময়না পাখি কথা বলে। আর দোয়েল পাখি পছন্দ হওয়ার কারণ দোয়েল পাখিরা সারা শরীর সাদা-কালো লোমে ঢাকা। দোয়েল পাখি অনেক ছোট। আমার কাছে মনে হয় দোয়েল পাখি দেখতে অনেক সুন্দর। বিভিন্ন পাখি নানারকম গাছের ডালে বাসা বাঁধে এবং বিভিন্ন পাখির নানারকম বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দোয়েল পাখি আমাদের জাতীয় পাখি। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়েল পাখি দেখা যায়। দোয়েল পাখি যেন বিভিন্ন জায়গায় শিষ দিয়ে বেড়ায়। এবার হলো ময়না পাখির কথা। আমরা যদি ময়না পাখির কাছে গিয়ে কিছু বলি তাহলে ময়না পাখি তাই বলবে। আমরা যদি ময়না পাখিকে বলি ‘শুভ সকাল’, তাহলে ময়না পাখিও বলবে শুভ সকাল। আর কোনো কারণে যদি ময়না পাখি কথা না বলে তাহলে আমি বলি ময়না পাখি কথা কও। আর তাও যদি ময়না পাখি কথা না বলে তাহলে আমার কাছে মনে হয় যে বুঝতে হবে ময়না পাখির মন খারাপ। ময়না পাখি আর দোয়েল পাখি তো আমার পছন্দ কিন্তু তাই বলে যে অন্যান্য পাখি আমার পছন্দ নয় তা কিন্তু নয়। আমার সব পাখিই বেশ পছন্দ। তার মধ্যে দোয়েল আর ময়না একটু বেশি পছন্দ এই যা। বিভিন্ন পাখি নানাভাবে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। যেমন— পাখি ফল খেয়ে তাদের মল ত্যাগ করে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। আমি অনেকবার পাখি ধরেছিও। কখনো আলম চাচ্চু আমাকে পাখি ধরে নিয়ে এনে দিত। যেই পাখিকেই আনত সেই পাখিকেই আমি আদর করতাম। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে, যতবার আমাকে আলম চাচ্চু মাঝে-মধ্যে পাখি নিয়ে আসত, তখন পাখি মাঝে-মধ্যে মারা যেত। আমি ওকে সবরকম খাবারই দিতাম- চাল, পানি কিন্তু কিছুই খেত না। এজন্যেই হয়তো মারা যেত। মনে হয় ভয়ে পাখিটা কিছু খেতে পারে নি। আমার তখন খুব রাগ হতো। আমি ভাবতাম যে, এতো আদর করি তবুও কেন পাখি ভাবে যে, এরা আমাকে মেরে ফেলবে। এই হচ্ছে পাখিদের একটা সমস্যা। তবুও আমার পাখি পছন্দ।

আমি একদিন রাতে স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমি পাখি হয়ে স্বাধীন হয়ে ছুটে ছুটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কী মজাই না আমি করছি। ইশ! যদি সত্যি হতো এই স্বপ্ন! অবশ্য পাখির কিছু কষ্ট আছে। যেমন— পাখিকে তার বাচ্চার খাবার খুঁজে নিয়ে এসে খাওয়াতে হয়। আর আমরা কত সহজেই খাবার পাই। তাছাড়া সবকিছুই পাখিদের মজা। আমার সবসময় মনে হয়, ইশ ওদের কী মজা! কোনো পড়াশোনা নেই। বিশেষ করে আমি এজন্যই পাখি হতে চাই। তাছাড়াও আমি পাখি হতে চাই।

kh

                                                                  চাঁদ

চাঁদ পৃথিবীর একটি উপগ্রহ। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। কিন্তু সূর্যের নিজস্ব আলো আছে। সূর্যের আলো থেকে চাঁদ আলো পায়। চাঁদের আলো স্নিগ্ধ। কারণ, সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে চাঁদ আলো পায়। কালকের চাঁদটা পুরো ছিল। কালকের চাঁদটা খুব সুন্দর ছিল এবং কালকে ছিল পূর্ণিমা। পূর্ণিমার চাঁদ যেমন অপূর্ব সুন্দর তেমনি ঈদের চাঁদও চমৎকার সুন্দর। ঈদের চাঁদ খুবই চিক্কন। কিন্তু পূর্ণিমার চাঁদ পুরো। পূর্ণিমা মানেই পূর্ণ চন্দ্র। কালকে যখন আমি চাঁদ দেখছিলাম তখন যেন আমার মনে হচ্ছিল আমি চাঁদের দেশে। আমরা সবাই জানি, চাঁদে সর্বপ্রথম পা রেখেছিল নীল আর্মস্ট্রং। নীল আর্মস্ট্রং কিছুদিন আগেই মারা গেলেন। নীল আর্মস্ট্রং অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। তার জন্য আমরা সবাই খুব গর্ববোধ করি। চাঁদে যাওয়া বিরাট বড় ব্যাপার। বাপ্পি চাঁদ দেখলে মাঝেমধ্যে বলে এই চাঁদে মানুষ যায়, কম কথা! আমি তো ভাবলে জ্ঞান হারাই। নীল আর্মস্ট্রং-এর সাথে আরো কয়েকজন ছিলেন। তবে চাঁদে সর্বপ্রথম পা ফেলেছিলেন নীল আর্মস্ট্রং। নীল আর্মস্ট্রং সর্বপ্রথম পা ফেলেছিলেন বলে তিনি একটু বেশি বিখ্যাত। নীল আর্মস্ট্রং এবং অন্যরা যারা চাঁদে গিয়েছিল, তাদের পায়ের ছাপ এখনও মাটিতে রয়েছে। একদিন পেপারে এই খবর ছাপা হয়েছিল।

,j,

                                                            রোদেলা দুপুর

আজকে সকালে আমি ঘুম থেকে উঠি ১০ টার সময়। ঘুম থেকে উঠে দেখি যে কী সুন্দর রোদ! কখনো রোদ আমার প্রিয়, কখনো রোদ আমার একদমই প্রিয় না। রোদ আমার প্রিয় মনে হয় শীতকালে। কারণ, শীতকালে অনেক ঠা-া থাকে তখন রোদ হয়তো শুধু আমারই নয় সবারই প্রিয়। আর রোদ আমার প্রিয় মনে হয় না, গরমকালে। গরমকালে অনেক গরম লাগে। তার সাথে আবার কড়া রোদ। অসহ্য গরম। রোদ খুব সুন্দর সোনালি রঙের হয়ে থাকে। তারপরে আমি ব্রাশ করলাম। খাওয়া-দাওয়া করলাম আরো কত কী! সূর্য আমাদের রোদ দেয়। সূর্য যখন আস্তে আস্তে পূর্ব দিক থেকে আমাদের মাথার ওপর অর্থাৎ আকাশের একদম মাঝখানে চলে আসে, তখন আমরা ওই সময়টাকে দুপুর বলি। দুপুরের রোদ একটু কড়া হয়, তবে দেখতে কিন্তু সুন্দর মনে হয়। আমার সবচেয়ে বেশি ভালো তখন লাগে, যখন অনেক গাছপালার পাতার মধ্যে দিয়ে অল্প অল্প রোদ আসে। কিন্তু যখন আমরা দুপুরে বাড়ির বাইরে বা কোনো কাজে যাই, তারপরে আমরা যখন কিছুক্ষণ পরে আসি তখন আমরা ঘাম মেখে আসি। তখন আমরা খুবই তৃষ্ণার্ত থাকি। আমার তো মনে হয় এক জগ পানি একেবারে খেয়ে ফেলি। আর যদি কেউ দুপুরবেলা বাইরে না যায় তাহলে তো কিছুই বুঝতে পারে না। শুধু বাসায় আরামে ফ্যানের নিচে বসে বাতাস খাওয়া। বাড়িতে তো অনেক আরাম। কিন্তু গরমকালে দুপুরবেলা যে বাইরে বের হয়, সেই বুঝতে পারে—যে বাইরে জ্বলন্ত আগুনের মতো গরম। কিন্তু দুপুরবেলা এতো জ্বলন্ত গরমের সময় আইসক্রিম খেতে বেশ মজা। তবে বেশি খাওয়া উচিত নয়, তাতে সর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদি অসুখ-বিসুখ হতে পারে। আমরা যদি আইসক্রিম মাঝে মধ্যে খাই এবং নিয়ম মেনে চলে খাই, তাহলে অসুখ-বিসুখ হবে না। যেমন- সেদিন বাপ্পি আইসক্রিম নিয়ে এসেছিল, আমি কিন্তু অনেকদিনই আইসক্রিম খাই নি, আর সেদিন সন্ধ্যায় যখন আমি আইসক্রিম খেয়েছি, তখন সেই রাত থেকেই আমার কাশি শুরু হয়ে গেছে। আর পরের দিন জ্বর। কি যে দুঃখ আমার! বাপ্পি আমার জন্য ঔষুধ আনল আর আমি তা খেলাম। ঔষুধ কিছুদিন খাওয়ার পর আমার জ্বর সেরে গেল। কিন্তু আমার কাশি এখনও আছে, ভালো হয়নি। বাপ্পি বলেছিল যে, “তুমি আর কোনোদিন আইসক্রিম খাবে না”। এখন আমি সবসময় ভাবি, যদি আমি আইক্রিম না খেতাম, তাহলে আমাকে আর আইসক্রিম খাওয়া বাদ দিতে হতো না। শুধুই আফসোস! যাই হোক, এই জন্য সবসময় আইসক্রিম খাওয়া যায় না। তা না হলে বিপদে পড়তে হয়।

jgm,jg

                                                         সাঁতার কাটা

আমাদের জীবনে সাঁতার কাটা শেখা খুব জরুরি। পুকুর, খাল-বিল, নদীতে অনেক সময় বিভিন্ন বিপদ ঘটে থাকে। যেমন- লঞ্চ বা নৌকা ডোবা আরো বিভিন্ন ধরনের বিপদ। এসব বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাঁতার আমাদের কাজে আসে। আমাদের বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। আগে আমাদের পুকুর, নদী বা খাল পার হওয়ার জন্য নৌকা, স্টিমার, লঞ্চ প্রয়োজন হতো। কিন্তু এখন সেই পানির ওপর দিয়ে ব্রিজ এবং রাস্তা হয়ে গেছে। যদিওবা এখনও কোনো জেলায় যেতে হলে নৌকা, লঞ্চ ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। যেমন- ভোলায়। এজন্য আমাদেরকে পানিতে ডোবার বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কীভাবে সাঁতার কাটতে হয় তা শিখতে হবে।

mjg

                                                        আমাদের শ্রেণিকক্ষ

আমি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের স্কুলে মোট শিক্ষক রয়েছে ৫০ জন। আমাদের শ্রেণিকক্ষ চার কোণা ঘরের মতো। আমাদের বিদ্যালয়ে ৩৬৫টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। আমাদের শ্রেণিকক্ষে মোট ৭১ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। আমাদের চতুর্থ শ্রেণির তিনটি শাখা রয়েছে। ক, খ ও গ শাখা। আমি গ শাখার ছাত্রী। আমাদের শ্রেণিকক্ষের অর্ধেক বেঞ্চ মেয়েদের আর অর্ধেক বেঞ্চ ছেলেদের। আমাদের দুইটি বোর্ড, চারটি জানালা ও দুইটি দরজা রয়েছে। আমি আমার স্কুলের প্রতি অত্যন্ত গর্ববোধ করি।

jg,

                                              আমার প্রতিদিনের কাজ

আমি সকালে ঘুম থেকে উঠি ৭.৩০ মিনিটে। উঠে মুখ-হাত ধুই, স্কুলে যাওয়ার জন্য পোশাক পরি এবং তারপর চুল আঁচড়াই তারপর নাস্তা খাই। স্কুলের ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে চলি স্কুলের পথের দিকে। স্কুলে আমি খুব মজা করি। আমি স্কুল থেকে আসি ১২ টার সময়। স্কুল থেকে আসার পর কাপড় বদলাই ও খাওয়া-দাওয়া করি। এরপর আমার মা আসে। আমি গোসল করতে যাই ১টা বা ১:৩০ মিনিটে। তারপর আমি দুপুরের খাবার খাই। কোনো কোনো দিন খাবার খাওয়ার পরে আমি ঘুমাই বা কাজ করি। এরপর আমি খেলতে যাই। খেলা থেকে এসে আমি নাস্তা খাই তারপর পড়তে বসি। পড়ার পরে রাতের খাবার খাই। তারপর ঘুমাতে যাই।

 mjg,


                                                  রহিম ও করিম দুই বন্ধু

একদিন এক লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। পথে দেখল, একজন অন্ধ মানুষ। তার কেউ নেই। তার ঘর বাড়িও নেই। সে অন্ধ বলে কেউ তাকে মূল্য দেয় না। এজন্য অন্ধ লোকটার খুব দুঃখ। সে সারা দিনরাত ভাবে যে, আমার যদি অন্যদের মতো চোখ থাকত তাহলে আমি সারাটা পৃথিবীর নানারকম সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখতে পোতাম। কী মজাই না হতো! কিন্তু আমি এগুলো কীভাবে দেখব আমার যে চোখ নেই। আমি তো অন্ধ। অন্ধ লোকটি খুব সুন্দর মধুর সুরে গান গাইতো। সেই কথা ওই পথচারীকে অন্ধ লোকটি বলল। সেই পথচারীর নাম ছিল রহিম। আর অন্ধ লোকটির নাম ছিল করিম। রহিম করিমের কাছ থেকে একটি গান শুনতে চাইল। রহিম করিমের গান শুনে অবাক হয়ে গেল।  সে বলল, “এ রকম গান তো কখনো শুনিনি।” তখন করিম বলল, “ঠিকই বলেছ আমার মনে যা আসে সেটাই আমি গানের সুরে গাই।” তোমার কেমন লাগল বন্ধু? রহিম বলল, “আমার খুব ভালো লেগেছে।” রহিম আর করিম খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেল। রহিম একদিন তার বাড়িতে করিমকে নিয়ে গেল। তারপর থেকে রহিম আর করিম দুজন একই বাড়িতে এক সাথে থাকে। করিম একদিন রহিমকে জিজ্ঞেস করল যে, তোর মা বাবা নেই? তখন রহিম বলল যে, “আমার বাবা-মা আমি ছোট থাকতেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।” রহিম একদিন করিমকে একটা মেলায় নিয়ে গেল। মেলাটা ছিল বইমেলা। তারা একটি বইয়ের স্টলে ঢুকল। করিম তো অন্ধ, এজন্য রহিম বইয়ের নামগুলো পড়ে শোনাচ্ছিল করিমকে। করিমের যেসব বই একটু পছন্দ হয়েছে সেই বইগুলো করিম রহিমকে কিনতে বলে। ওই মেলায় আবার যারা গান, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক যা পারে তা বলার জন্য অনুগ্রহ করছিল কয়েকটি লোক। মানে সেখানে একটা জায়গায় অনুষ্ঠান হচ্ছিল। তখন সেখানকার উপস্থাপক সেই ঘোষণা করল। রহিম করিমকে সেখানে গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কিন্তু করিম ভয় পাচ্ছিল সে যেতে চাইল না। কিন্তু রহিমও নাছোড়বান্দা। অনেক বলার পর করিম সেই অনুষ্ঠানে গান গাইতে রাজি হলো। তারপর সেই অনুষ্ঠানে করিম গান গেয়েছিল। তারপর দুই বন্ধু কথা বলতে বলতে বড়ি ফিরে আসল। করিম রহিমকে বলল, “বন্ধু তুমি খুবই জেদি আছো, তোমার বলার জন্যই আমি কিন্তু গান গাইলাম। তা না হলে গাইতাম না।” রহিম বলল, “তা তো বুঝতেই পেরেছি। তুমি যা ভয় পাচ্ছিলে। আচ্ছা বন্ধু বলত তুমি গান গাওয়ার পরে সবাই তোমার কতো তারিফ করল। তোমার ভালো লাগেনি।” করিম বলল, “তা অবশ্য লেগেছে। আমি তো কখনো ভাবিনি যে, আমি এতো ভালো গান গাই।” এভাবে কথা বলতে বলতে দুইজন ঘুমিয়ে পড়ল। এভাবেই আনন্দে কাটতে থাকল রহিম ও করিমের জীবন।

,jg,

                                                         এক রাতের ঘটনা

একদিন একজন লোক তার ঘরে একা খুব সুন্দর করে একটি বইয়ের গল্প পড়ছিল। তাদের বাড়িতে সেদিন কেউ ছিল না। হঠাৎ করে তাদের বাড়ির দরজায় টকটক শব্দ করে কে বা কারা যেন শব্দ করল। বাড়িতে যেই লোকটি ছিল তার নাম হলো আকাশ। আকাশ ছেলেটি পড়াশোনায় ভালো। খেলাধুলাতেও বেশ। সে একটু ভয় পেয়েছিল সে ভাবল, এতো রাতে আবার কে এলো। আকাশ দরজাটা খুলতে যদিও চায়নি কিন্তু শেষমেশ সে মনে সাহস নিয়ে দরজা খুলল। বাইর খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। দরজা খুলে দেখে একজন মানুষ একরাতের জন্য আশ্রয় নিতে এসেছে। আকাশ তাকে একরাতের জন্য থাকতে দিল। লোকটি তার নাম ও পরিচয় দিল। লোকটির নাম সবুজ। আকাশ তাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার নাম সবুজ কেন ভাই?” সবুজ বলল, “কেন ভাই? আমার নামটা বুঝি তোমার পছন্দ হলো না। আচ্ছা যাই হোক, আমার নাম সবুজ কারণ আমি প্রকৃতিকে ভালোবাসি। আর প্রকৃতি তো সবুজ গাছে ভরা থাকে তাই না? আকাশ বলল, “হ্যাঁ, আর তুমি যে বললে তোমার নাম আমার পছন্দ হয়নি, তা নয়। তোমার নাম খুব চমৎকার।” আকাশ ও সবুজ গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে গেল। পরের দিন সকালে সবুজ তার বাড়িতে চলে গেল। সকালবেলা দুজনই উঠে আকাশ সবুজকে বিদায় জানাল। কয়েকদিন পর দুজনের আবার দেখা হলো তখন আকাশ সবুজকে তার বাড়িতে নিয়ে গেল।

jy

                                                           ভোলা এবং বাদল

এক শহরে এক বাচ্চা ছেলে থাকে তার নাম ভোলা। ভোলা খুব ভালো ছেলে। সবাই তাকে খুব পছন্দ করে। ভেলা আর বাদল দুই ভাই। তাদের মধ্যে ভোলা বড়। ভোলা আর বাদল এক সাথে স্কুলে যায়। তাদের মধ্যে সবসময় ঝগড়া বাঁধে এবং রাতে সবাই একসাথে খেতে বসেছে। তখন বাদল একটা রিমোট কন্ট্রোল কার চাইল। তার বাবা মা তখন বলল, “পরীক্ষায় আগে ভালো রেজাল্ট কর তারপর নিও।” বাদলের মনটা তখন খুব খারাপ হলো। তখন সে শুধু রেজাল্টের দিনের অপেক্ষা করতে থাকল।

কিছুদিন পর রেজাল্ট হলো। সেই রেজাল্টে ভোলা খুব ভালো রেজাল্ট করল কিন্তু বাদল খুব ভালো রেজাল্ট করেনি। তখন বাদল মনে মনে ভাবল, যে দিনটার জন্য আমি এতোদিন অপেক্ষা করে থাকলাম, সে দিনটাই আজকে আমার জন্য এতো খারাপ দিন হলো। তখন বাদলের তার বড় ভাইয়ার উপর খুব হিংসা হলো। তখন ভোলা ও বাদলের মা-বাবা ভোলাকে অনেক কিছু জিনিস কিনে দিলো। যেমন- জামা, রিমোট কন্ট্রোল কার ইত্যাদি অনেককিছু। তারপর যখন রাতে ভোলাকে এসব কিনে দিয়ে সবাই বাড়িতে এলো, তখন বাদল তার মা-বাবাকে বলল, “যখন আমি চাইলাম রিমোট কন্ট্রোল কার, তখন তো আমাকে দিলে না, আর যখন ভাইয়া ভালো রেজাল্ট করল তখন তোমরা তাকে এতো কিছু কিনে দিলে।” এ কথা বলে বাদল কেঁদে দেয়। তখন বাবা বাদলকে বলল, “আমরা তো তোমাকে বলেছিলাম যে তুমি যদি ভালো রেজাল্ট কর তাহলে তোমাকেও দেব কিন্তু তুমি তো ভালো রেজাল্ট করনি, করেছে তোমার বড় ভাই ভোলা। এজন্য আমি ওকেই সব খেলনা, জামা কাপড় দিলাম।” ভোলা বলল, “আমাকে এসব দিয়েছে তাতে কী হয়েছে? আমি তোকেও দেব। আমার মানেই তো তোর তাই না? তুই কোনো চিন্তা করিস না।” তখন বাদল বলল, “থাক ভাইয়া তোমাকে আর দয়া দেখাতে হবে না” — একথা শুনার পর বাদলের মন খুব খারাপ হয়ে গেল। এ কথা শোনার পরও কিন্তু ভোলা রাগ করেনি। বরং বাদলকে বুঝিয়েছে যে ওদের দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। দুই ভাই-ই তাদের বাবা-মার কাছে সমান, কিন্তু বাদল অবুঝ। এতো বোঝানোর পরও যখন বাদল বোঝেনি তখন ভোলা এই সিদ্ধান্ত নিল যে সে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে তখন ভোলা একটি ব্যাগে তার সব জামা-কাপড় গুছিয়ে চলে গেল তাদের বাড়ি ছেড়ে। সকালে উঠে সবাই দেখে যে ভোলা নেই। সবাই তখন পাগলের মতো ভোলাকে খুঁজতে থাকে। এভাবে তিন-চার দিন কেটে যায়। ভোলা বাড়ি থেকে চলে গিয়ে উঠেছে একটি বস্তিতে। বাদল বাড়িতে তার ঘরে একা একা বসে আছে। তার ভাবার কথা যে ভাইয়া চলে গেছে ভালোই হয়েছে কিন্তু বাদলের শুধু তার ভাইয়া ভোলার কথাই মনে পড়ছে। একদিন বস্তিতে হঠাৎ করে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় অনেকেই মারা গিয়েছে একটি বস্তিতে হঠাৎ করে এভাবে আগুন লেগে যাওয়ার কারণে তা খবরে দেখায় টেলিভিশনে। তখন বাদল দেখে তার ভাই চিকিৎসা কেন্দ্রে পড়ে আছে। তখন বাদল তার মা-বাবা সবাইকে ডাকল। ডাকার পর সবাই দেখে যে হ্যাঁ সত্যি ভোলা। তখন ভোলাকে নিতে সবাই সেই চিকিৎসা কেন্দ্রে যায়। আর তখন বাদলও যায় তার ভাইকে আনতে। তারপর ভোলাকে সবাই বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন বাদল তার ভুল বুঝতে পারে এবং বাদল ভোলার কাছে ক্ষমা চায়। তারপর থেকে মিলেমিশে ও সুখে-শান্তিতে এবং আনন্দে ওরা দুই ভাই একসাথে তাদের জীবন কাটাতে থাকে।

d

                                                                   বর্ষাকাল

এখন বর্ষাকাল। বৃষ্টির সময়। মাঠ-প্রান্তর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময়। আমার বর্ষাকাল সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। কারণ, এ সময় বৃষ্টি পড়ে, আকাশে গুড়ুম গুড়–ম আওয়াজ। মেঘের গর্জনে মাঝে মধ্যে বুক কেঁপে ওঠে। বৃষ্টি হওয়ার অনেক লাভও আছে আবার ক্ষতিও আছে। যেমন- লাভ হচ্ছে বৃষ্টিতে গাছের পাতাগুলো ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়। আরও অনেক লাভই রয়েছে বৃষ্টির কারণে। আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন কেউ গাড়ি নিয়ে রাস্তা দিয়ে যায় তখন কাদা-পানি একেবারে ছিটকে দিয়ে যায়। তখন মনে হয় যেন লোকটা খুবই অসভ্য। আর যদি মানুষের গায়ে সেই কাদা-পানি ছিটায় তাহলে তো অবস্থাই খারাপ।

jyf

                                           আমি এবং আমার বন্ধু ফারিহা

আমর নাম রুমানা। আমি অনেক সময়ই বাসায় একাই থাকি। এখন যেন তা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন বাসায় একা থাকতেই ভালো লাগে। মনে হয় যেন আমি স্বাধীন। কিন্তু এমনই কোনো সুন্দর সময় যদি একের পর এক ফোন টেলিফোনে বাজতে থাকে তাহলে মনে হয় যেন ঘোর সমস্যায় পড়েছি। আবার যখন কোনো বন্ধু ফোন করে তখন আমার বেশ ভালো লাগে। আমাদের যখন স্কুল বন্ধ হয়ে যায় তারপর বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে আরামে সময় কাটাই তখন স্কুলের বন্ধুদের সাথে অনেকদিন দেখা হয় না। ওরাই যখন কেউ ফোন করে তখন মনটা যেন ভালো হয়ে যায়। অবশ্য সবারই কোনো বন্ধুর সাথে যদি অনেকদিন পর কোথাও দেখা হয় বা কথা হয় তখন বেশ ভালো লাগে। আচ্ছা যাই হোক, একদিন হঠাৎ দরজায় ঠকঠক শব্দ। অবশ্য আমার বাবা-মা বাইরে থাকায় সবসময়ই দরজায় তালা

মারা থাকে। কিন্তু তালা মারা থাকলেও আমাদের দরজায় অনেকটা ফাঁক রয়েছে। আমি প্রথমে তাকে চিনতে পারিনি। কিন্তু পরে দেখি আমার এক বন্ধু। যাই হোক, এখন তালা মারা, তাই আমি আমার সেই বন্ধুকে আর আমাদের বাসায় স্বাগতম জানাতে পারলাম না। আমি আমার সেই বন্ধুকে শুক্রবারে আসতে বললাম। আর আমি ওকে সেদিন আমাদের বাসায় খাওয়ার জন্য দাওয়াতও দিলাম। কারণ, শুক্রবারে বাবা-মা সবাই থাকবে। ওইদিন আর দরজায় তালা মারা থাকবে না। আমার সেই বন্ধুটা কেন জানি আমাকে কিছু না বলেই চলে গেল। আমার মনে হয় ও বাসায় ঢুকতে পারল না বলে ওর সামান্য হলেও মন খারাপ হয়েছে। শুক্রবারে আমার বন্ধু আসল। আর সেদিনকার জন্য আমি আমার বন্ধুর কাছে ক্ষমা চাইলাম। আমার মা সবরকম খাবার তৈরি করে আমাদের খেতে দিলেন। গপ্ গপ্ করে খেলো আমার সেই বন্ধু। কিন্তু ওকে দেখে মনে হচ্ছিল ও অনেকদিন যেন কিছু খায়নি। ও হ্যাঁ আরেকটা কথা তো আমি বলতেই ভুলে গেছি। আমার সেই বন্ধুর নাম ফারিহা। ফারিহা বর্তমানে অনেক কষ্টে আছে। তার কষ্টের কথা আমরা শুনতে চাইলাম। সে আমাদেরকে প্রথমে বলতে চায়নি। কিন্তু আমরা ওকে এতো বেশি অনুরোধ করছিলাম যে ও আর তা ফেলতে পারল না। যাই হোক, তারপর ফারিহা আমাদেরকে বলল, “অনেকদিন আগের কথা একদিন আমার বাবা অফিসে গিয়েছিলেন। অফিসের কাজে তিনি অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ। এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন। একদিন বাবার অফিস থেকে আসতে অনেক দেরি হচ্ছিল। আমরা বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমার মা তখন বাবাকে ফোন করল। বাবা তখন ফোন ধরে বলল, এখন আমি একটা কাজ করছি। আমার আসতে একটু দেরি হবে। তারপর বাবা অনেক রাতে বাড়িতে এলেন। আমি তখন ঘুমিয়ে পড়েছি। বাবা অফিসের কোনো কাজ নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলেন। একদিন হঠাৎ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বাবা মারা যান। এর ফলে আমার মায়ের মনে অনেক বড় আঘাত লাগে। কিছুদিন পর আমার মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর খুব কড়া জ্বরে ঔষধ না দিতে পেরে আমার মা মারা যান। তারপর আমি কোথায় যাব না যাব কিচ্ছু জানি না। আর বর্তমানে এখন আমি রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষে করে বেড়াই, আর যে টাকা পাই তাতে কোনো রকমে পেট চালাই। তারপর হঠাৎ করে মনে হলো একদিন তোমার কথা। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আমি তোমার ঠিকানা পেয়েছি। ব্যাস, তারপর এখন আমি তোমাদের সামনে।” আমরা সবাই ওর করুণ কাহিনী শুনে খুবই দুঃখিত হলাম। আমরা তখন ভাবলাম যদি ওকে ভালো কোনো জায়গায় রেখে আসা যেত। তখন হঠাৎ করেই আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। আমি ভাবলাম যদি ফারিহা আমাদের সাথেই আমাদের বাসায় থাকে। আমি এ খবর আমার বাবা-মাকে বললাম। তখন আমার মা প্রথমে একটু আপত্তি করলো তারপর রাজি হয়ে গেল। তারপর ঠিক হলো আমাদের বাসায় থেকে ফারিহা আমার সাথে পড়াশোনা করবে। আমরা সবাই একসাথে বসবাস করতে লাগলাম।

fh

                                            শীতের পরে আরামদায়ক রোদ

আমাদের দেশে মোট ছয়টি ঋতু রয়েছে। এর মধ্যে পৌষ ও মাঘ হলো শীতকাল। প্রথম কয়েকদিন বেশি কড়া শীত পড়েনি। অবশ্য শীতের প্রথমে বেশি শীত পড়ে না। ধীরে ধীরে সোয়েটার পরা শুরু করলাম। শীতের দিন নিচে খেলতেও বেশ আরাম লাগে। একটু দৌড়ালে ঠা-ার কারণে শরীরটা গরম থাকে। আজকাল তো এতো বেশি শীত আর কুয়াশা পড়ছে যে ঠা-ায় বরফ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এই ঠা-ার মধ্যে গোসল করা বড়ই বিরক্তিকর একটা বিষয়। এজন্য যেদিন সকাল সকাল রোদ ওঠে সেদিন গোসল করি। অর্থাৎ অবস্থা দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাকে বলে। আর যদি সকালে খুব ঠা-া আর কুয়াশা থাকে তাহলে সেদিন আমি গোসল করি না। যাই হোক, যেদিন রোদ ওঠে সেদিন বারান্দায় পাখিদের মতো রোদ পোহাতে আমার বেশ ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে আমার মনে হয় আমাদের ঠা-া লাগলে তো আমরা সোয়েটার পরে থাকি, কিন্তু পাখিদেরকে কী ঠা-া লাগে না? ওদের কাছে তো আর আমাদের মতো জামা-কাপড় থাকে না। আমার কুকুরের বাচ্চাকে দেখলে খুব মায়া লাগে। কারণ ছোট্ট বাচ্চা কুকুরদের সত্যিই ঠা-া লাগে, আমি তা দেখেছি। ছোট্ট কুকুরের ছানা ঠা-ায় কাঁপতে দেখেছি। আরামে ওরা ঘুমাতেও পারে না। বেচারা কুকুরদের কতো কষ্ট। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি ওদের জন্য কোনো কিছু করতে পারতাম। কিন্তু আমি নিরূপায়। কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীদের যে লোমগুলো রয়েছে সেগুলো প্রাণীদের ঠা-া লাগতে সামান্য হলেও প্রতিরোধ করে। কিন্তু তবুও ওদের শীত লাগে। ওরা ঠা-ায় কাঁপতে থাকে। সকালবেলা যদি একটু রোদের আভা দেখা দেয় তাহলে মানুষও আরাম পায় এবং পশু-পাখিরাও। কারণ, পশু-পাখিরাও তো মানুষের মতোই জীব। তাদেরও প্রাণ আছে। অনেক সময় শীতকালে সকালের দিকে একটু ঠা-া হয় ধীরে ধীরে ১২টা ১টার সময় দুপুর বেলার দিকে রোদ ওঠে। আমি অনেক সময় দেখি যে আমাদের বারান্দায় একটা অনেক বড় ছবি রয়েছে। সেই ছবির ডান পাশে প্রতিদিন একটা টিকটিকি দাঁড়িয়ে থাকে। আমার মনে হয় টিকটিকিটাও হয়তো রোদ পোহায়। শীতের সময় রোদ উঠলে খুব আরাম লাগে। মনে হয় যেন সবসময়ই রোদে বসে থাকি। আর আমরা তো দুপুরবেলা সবাই মিলে এক সাথে বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে একটা টেবিলে খাবার খাই। এভাবে খাবার খেতে আমার এবং আমার মা-বাবারও বেশ মজা লাগে। শীতের রোদ বলে কথা এর চেয়ে আরামের আর কী বা হতে পারে। এই রকম কড়া রোদের মধ্যে ছাদে থাকতেও কিন্তু বেশ আরাম লাগে। কয়েকদিন আগে যখন ঠা-া পড়েছিল, সামান্য রোদও নেই। সেই দিনগুলোর মধ্যে একদিন আবার সামান্য বৃষ্টিও পড়েছিল। সেদিন রাতে যা ঠা-া পড়েছিল তা আর বলার মতো না। যেদিন বৃষ্টি হয় সেদিন রাতে কিন্তু বেশ ঠা-া পড়ে তা কিন্তু মানতেই হবে। আমার কেন জানি সবসময় মনে হয় যে যেদিন রোদ ওঠে না সেদিন আমার পুরো দিনটাই খারাপ যাবে। রোদ না উঠলে আমার কিছু ভালো লাগে না। সেটা শীতকালই হোক বা গরমকালই হোক। রোদ না উঠলে আমার ভালোই লাগে না। অবশ্য গরমকালে যদি সকালে রোদ উঠে, দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শুধু ঝমঝম বৃষ্টিই চলতে থাকে তাহলে আমার খুব ভালো লাগে। আমার সবচেয়ে প্রিয় ঋতু শীত ও বর্ষা দুটোই। কারণ বর্ষাকালের সৌন্দর্যটা হলো সারাদিন শুধু বৃষ্টি। ছাতি ফাটা গ্রীষ্ম ও তার রোদ যাওয়ার পর এমন বর্ষাকালের বৃষ্টি সত্যিই অতুলনীয়, অনন্য। আর শীতকালের আলাদাই বিশেষত্ব রয়েছে আমার কাছে। কারণ শীতকালে লেপ-কম্বল নিয়ে শুয়ে থাকার একটা আলাদাই মজা রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠতে অনেকটাই অলসতা বোধ করি। অবশ্য আমার মনে হয় এই অলসতা সবারই হয় সকালে ঘুম থেকে উঠতে। অমন আরামদায়ক লেপ থেকে বের হতে কার-ই বা ইচ্ছে করে। এই মজা ছাড়াও আরও একটা মজা রয়েছে শীতকালে, তা হলো বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি আমরা খেতে পারি। তার মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু হলো ভাপা পিঠা। ভাপা পিঠা এজন্যই মজা কারণ ঐ পিঠাটি শুধুমাত্র শীতকালে খেতেই ভালো লাগে। আরও বিভিন্ন পিঠা যেমন- তেল পিঠা ইত্যাদি গরমকালেও খাওয়া হয়। কিন্তু ভাপা পিঠা গরমকালে খেতে মোটেই মজা লাগে না। এসব ঋতুর চেয়ে বসন্তও কিন্তু পিছিয়ে নেই। কোকিলের ডাক, রঙ বেরঙের বিভিন্ন ফুল যেন চোখ ও মন দুই-ই জুড়িয়ে যায়। বস্তুত সময়টা গরম বলে আমার অতটা ভালো লাগে না। কারণ গরমকাল আমার মোটেই পছন্দ নয়। শরীর থেকে সারাক্ষণ শুধু ঘাম ঝরে। ঘাম থেকে যেন ফুরসতই পাওয়া যায় না। গরমকাল কেন যে আসে? সেটাই বুঝি না। অবশ্য আমার গর্বও হয় এসব ঋতুর প্রতি। কারণ বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে দেশে ছয়টি ঋতু রয়েছে। প্রত্যেক ঋতুরই একটা আলাদা আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন- গ্রীষ্মকালের প্রথম দিনে অনেক সময় কালবৈশাখী ঝড় হয়, আবার কোনো কোনো সময় প্রথম দিনই বেশি গরম। বর্ষাকালে শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি। শরৎকালে আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। কি যে সুন্দর দেখেতে। হেমন্তে নতুন ধান ওঠে। কৃষকদের নবান্নের মেলা হয়। ঘরে ঘরে নতুন চালের পায়েস হয়। আর শীতে পিঠা-পুলি এবং বসন্তকালে কোকিলের ডাকাডাকির আওয়াজ এবং আরও অনেক সুন্দর সুন্দর ফুল। এভাবেই প্রতি দুমাস পর পর ঋতু পাল্টায় এবং ঠিক ঋতুর মতোই আবহাওয়ারও কিন্তু বদল হয়।

mm

                  হরতাল ও অবরোধে
                  মানুষের জীবনে ঝুঁকি
আমাদের দেশে বর্তমানে চলছে, হরতাল-অবরোধ। অবরোধ তো প্রতিদিনই আর হরতাল মাঝে মধ্যে। আবার, এখন তো প্রায়ই প্রতিদিন হরতাল। এসব হরতাল-অবরোধে অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। দুর্বৃত্তরা বাসে বা ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে। এতে পুড়ে অনেক মানুষ আহত ও নিহত হচ্ছে। কেউ কেউ বার্ন ইউনিটের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। কিন্তু হরতাল ও অবরোধ তাও চলছেই। সেদিন পেপারে দেখলাম এক লোকের শরীরের অনেক শতাংশ পুড়ে গেছে। আর তার ছোট বাচ্চা তাকে খাবার খাইয়ে দিচ্ছে। তার মুখ এতই ভয়ংকার ও বিভৎস যে মুখ দেখেই ভয় লেগে যাচ্ছে। সে লোকটির পুরো শরীর ব্যান্ডেজ করা। তার মতো এরকম অনেক মানুষেরই একই অবস্থা। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ এসব ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। কোনো কোনো মানুষের দেহ তো পুড়ে গেছেই তার সাথে সাথে শ্বাসনালীও। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কী আর করা যাবে! আমরা তো আর এসব হরতাল-অবরোধ থামাতে পারব না। আমাদের স্কুল অনেকদিন থেকে বন্ধ। আমরা আমাদের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনার সিলেবাসও পাই নি। কে জানে কবে হরতাল শেষ হবে আর আমাদের স্কুল আবার খুলবে। অনেকদিন বন্ধুদের সাথে দেখা হয়নি। বন্ধুদের সাথে মজা করিনি। কারণ স্কুল বন্ধ। আর ফেব্রুয়ারির দুই তারিখ থেকে আমাদের বড় ভাইয়া ও বড় আপুদের এসএসসি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তাও এখন বার বার হরতালের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ রকম হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতা আরও কতদিন চলবে তা আমরা জানি না। যাদের ছেলেমেয়ে গরীব তারা কীভাবে পরীক্ষা দেবে। কিন্তু যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে তাদের শিক্ষকরা ভেবে চিন্তেই ও লেভেল এবং এ লেভেল পরীক্ষার তারিখ দিচ্ছে। ট্রেনে পেট্রোল বোমা, বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়া হচ্ছে। এতে অনেক মানুষ দগ্ধ হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। কিন্তু তাতে করে কি যায় আসে! আমাদের স্কুল এতদিন ধরে হরতালের জন্য বন্ধ হয়ে আছে। আমরা আমাদের সিলেবাস পাচ্ছি না। কীভাবে প্রশ্ন হবে তারও শিক্ষকদের মাধ্যমে কোনো জ্ঞান পাচ্ছি না। ভালো রেজাল্ট করতে হলে এসব বিষয় সম্পর্কে জানা ও জ্ঞান রাখা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু তা মোটেই ঘটছে না শুধুমাত্র এই হরতালের কারণে। হরতাল-অবরোধের কারণে সবকিছু অচল হয়ে পড়েছে। বাসে করে যখন কেউ কোথাও যাচ্ছে, তখন পেট্রোল বোমা মেরে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। আমাদের দেশে এরকম অবস্থা হবার কারণে আমরা অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ছি। অর্থনৈতিক দিক থেকেও আমাদের দেশের ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে আমরা আমাদের প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশ থেকে সুনাম নয়, দুর্নাম অর্জন করব। যদি এরকমভাবেই চলতে থাকে আমাদের দেশের অবস্থা তবে বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। আমাদের দেশকে রুখে দাঁড়াতেই হবে নইলে বিপদ। আমাদের দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ কিন্তু যদি এ রকম অবস্থা চলতে থাকে তাহলে এ দেশের অবনতি ঘটবে। যদি এ অবনতি থেকে দেশকে বাঁচাতে হয় তাহলে হরতাল-অবরোধ, সহিংসতা এগুলো বন্ধ করতে হবে। আর যদি না করা হয় তাহলে বাংলাদেশকে একটি অনুন্নয়নশীল দেশ বলতেও কারো মুখে আটকাবে না। কারণ, সবাই ভাববে যে, সত্যিই তাই, যে দেশে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়, যে দেশের কোনো আইন নেই, সে দেশ কোনো দেশ নয়। তাই, বাংলাদেশকে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে এবং সুশৃঙ্খল একটি দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

yr

                                            আজকাল কী সব আজব Add

সেদিন টিভি দেখতে বসে দেখলাম যে একটা Add দেখাচ্ছে। রাতের বেলা দুই ভাই ডাকাত মানুষের বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়েছে, বলছে যে, সে একই dialogue- ‘যা কিছু আছে সব দিয়ে দে’। ভয়ে সবাই থরথর করে কাঁপছে। এমন সময় সে বাড়ির একটি মেয়ে diploma গুড়া দুধের তৈরি ঘন পায়েস নিয়ে এলো। তারপর ডাকাতদের মধ্যে যে দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় যে সে আগে পায়েসটা খেল। পায়েস খেয়ে তারা দুজন মুগ্ধ হয়ে গেল। মাদুরের ওপর বসে দুই ভাই পায়েস খাচ্ছে। তারপর বড় ভাইয়ের যখন পায়েস খাওয়া কিছুটা শেষের দিকে তখন ছোট ভাইয়ের বাটি থেকে কিছুটা পায়েস নেওয়ার চেষ্টা। আর সাথে সাথেই বাটি সরিয়ে নিলো কিপ্টে ছোট ভাই। diploma এর এই Add খুবই হাস্যকার বলে অন্তত আমার মনে হয়। তবে হ্যাঁ এর মধ্যে কিন্তু কোনোরকম বাস্তবতা নেই। শুধুমাত্র diploma গুড়া দুধ যে কতো সুস্বাদু তা দেখানোর জন্য এটি করা হয়েছে। আমি মাঝে মাঝে ভাবি যে, সত্যি যদি কখনও বাড়িতে ডাকাত ঢুকে পড়ে তাহলে কী diploma দুধের তৈরি পায়েস খাওয়ালেই তাদের মন গলে যাবে? অবশ্যই না। তারা যা নিতে এসেছে তা তারা অবশ্যই নিয়ে যাবে। এটি আমার কাছে একটি আজব Add অবশ্য Add এর তো আর কোনো বাস্তবতা থাকে না। এটি শুধুই ব্যবসা।

আরেকটা এড আছে যেটা কিছুটা ইমোশনাল। তবে সে Add এ কোথাও না কোথাও কিছুটা বাস্তবতা রয়েছে। আর একজন সৎ ব্যক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে এই অফফ-এ। একজন মেয়ে তার বাবার কাছে আবদার করেছে যে এবার ঈদে তার কিছুই চাই না, শুধু একটা স্মার্টফোন চাই। তার সাথে সাথে আবার মাও বলছে, ‘মেয়েটা তো কখনও কিছু চায় না, চায়?’ তখন বাবা গেল হচ্ছে অফিসে। অত্যন্ত উচ্চপদস্থ অফিসার মেয়েটির বাবা। ঐদিকে মেয়ে আবার সব বন্ধুকে বলে বেড়াচ্ছে এবার বাবা মনে হয় ফোনটা নিয়েই আসবে। বাবা বাসে করে অফিসে যাওয়ার সময় দেখেন, বাসে একটি মেয়ে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট চালাচ্ছে। বাবা অফিসে পৌঁছানোর পর তার একজন সহকর্মী তাকে নিয়ে একটা জায়গায় গেল আর দুজন লোক তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করে টাকা দিলো। আর একটা পেপারে সাইন করতে বলল। তখন মেয়েটির বাবা সাইন ব্যাস করলেন কলম এক্কেবারে ঠেকিয়েই দিয়েছেন। তখনই বললেন, ‘নো, আমি সই করব না’। উঠে চলে গেলেন। রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। মাথা একেবারে ভিজে গিয়েছে। বাসে করে ফিরে এলেন বাড়িতে। ওদিকে মেয়ে পথ চেয়ে বসে আছে কখন বাবা মোবাইল আনবে। আর তখনই দরজায় বাজল কলিং বেল। মেয়ে গেল খুলতে। দরজা খুলল, বাবা ভেতরে এলেন আর বললেন, ‘মা তোর মোবাইলটা!’ তখন মেয়ে বলল, ‘একটা মোবাইলের জন্য মরে যাব না বাবা। আপাতত মাথাটা মুছে দেই।’ তারপর মেয়ে আর বাবা আলিঙ্গন করল। আসলে এটা ছিল ‘রবির’ অফফ। শেষের ডায়ালগ হলো, ‘জ্বলে উঠুন স্বপ্নের আলোতে, রবি’। এই অফফ টি মূলত রবির হলেও, এতে একজন মানুষের সততার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তার মেয়ের খুশির চেয়েও বেশি তিনি তার সততার কথা ভেবেছেন। মোবাইল কিনে দেওয়ার জন্য তিনি কিন্তু ঘুষ নেননি। এরকম কিছু কিছু অফফ ব্যবসা হলেও সেসব Add থেকে অল্প হলেও কিছু শিখতে পারি। অফফ যদিও বা একটা ব্যবসা কিন্তু কিছু কিছু অফফ আছে যেগুলো মানুষকে নতুন কিছু করতে সাহায্য করে। নতুন যদি কোনোকিছু বের হয় তাহলে আমরা তা অফফ এর মাধ্যমেই জানতে পারি। যেমন- বিকাশ করা। এখন প্রায় সবাই বিকাশ করে টাকা পাঠাচ্ছে। এতে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়, আর টাকা পাওয়ার কাজটি খুব তাড়তাড়ি হয়ে যায়। বিকাশ করার এই নিয়মটা কিন্তু এই অফফ এর মাধ্যমেই প্রচার হয়েছে। শহরে এসব তথ্য খুব তাড়াতাড়ি এবং দ্রুত পৌঁছায়। কিন্তু কিছু কিছু তথ্য আবার গ্রামে খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছায় না। কারণ, সেখানে অনেক মানুষরই সার্মথ নেই যারা টাকা দিয়ে টেলিভিশন কিনে দেখতে পায়। তাদের তো বেশিরভাগের জীবিকাই কৃষি। ৬ মাস পেট পুরে খেতে পায়, আর বাকি ৬ মাস যেমন তেমন করে চলে। যারা ঠিকমতো খেতেই পারে না, তাদের পক্ষে টাকা দিয়ে টেলিভিশন কিনে দেখা দূরের কথা, এসব মানুষেরাই কষ্টে ভোগে। তাই এদেরই এ সুবিধাটা আগে পাওয়া দরকার। তাই বলা যায়, অন্যান্য Add-র মতো বিকাশ কিন্তু আজব নয়। কিছু কিছু অফফ আছে যা কাজেও লাগে।

ds

                         ভ্রান্ত ধারণার অন্ধকারে আজও মানুষ

ভ্রান্ত ধারণা অর্থ হলো ভুল ধারণা। আগেকার মানুষ তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তাঁরা নিয়মিত তাদের ধর্মের ধর্মচর্চা যেমন- পূজা করতেন। কিন্তু সমস্যা হলো, কেউ কেউ এতো বেশী ধর্মচর্চায় আবদ্ধ হয়ে পড়েন যে সব জায়গায় তারা শুধু দেবী, দুর্গা মা, পবিত্রতা এসবই দেখতে পান। তারা অন্ধবিশ্বাসী হয়ে পড়েন। আজকে সন্ধ্যায় সত্যজিতের লেখা একটি ছবি দেখলাম যার নাম ‘দেবী’। যেখানে কাহিনী হলো— বাবা জোর করে ছেলের অর্থাৎ উমার বিয়ে দেন একটি সুন্দর ফুটফুটে মেয়ের সাথে। যার নাম দয়া। বাবার চরিত্রে ছিলেন ছবি বিশ্বাস। আর উমা অর্থাৎ তাঁর ছেলের চরিত্রে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আর উমার বউয়ের চরিত্রে ছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। বাবা তার সে বউকে পূজা—পার্বণের কিছু দায়িত্ব দিলেন। আর অন্যদিকে ছেলে উমা গেছে কলকাতায় পড়াশোনা করতে। একদিন রাতে বাবা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখলেন যে, তার বাড়িতে যে বউ হয়ে এসেছে, তিনি আসলে মানুষ নন, দেবী। আর সে স্বপ্ন দেখে তিনি আর পুত্রবধূকে দেবীর আসনে বসালেন। আর গ্রামের সবাইকে জানালেন যে, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন তাঁর এ পুত্রবধূ বাড়িতে দেবী হয়ে আগমন করেছেন। যেহেতু, তিনি ছিলেন জমিদার তাঁর কথা সকলে বিশ্বাস করল। আর সবাই পূজো করা শুরু করল উমার বউকে। অনেক বৃদ্ধ লোক তাকে মা ভেবে প্রণাম করছেন। এতো বড় অন্ধবিশ্বাস! কোনো প্রতিবাদই করতে পারে না দয়া। শুধু একা একা কেঁদে যায় আর কেঁদে যায়। কারণ তার কাছে কোনো রাস্তাই খোলা ছিল না। সে তো বড়ো সম্মানিত বৃদ্ধ বাবার প্রতি কীভাবে সেই মেয়ে প্রতিবাদ করতে পারে! তাই চুপচাপ সবকিছু সহ্য করে গেল। আর প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে, সবসময় সে শুধুই কাঁদে আর কাঁদে। এসব কিছু আর সহ্য করতে না পেরে সে তার জা-এর কাছে অনুরোধ করল যাতে সে কলকাতায় একটা চিঠি লেখে উমাকে। আর তারপর চিঠি পেয়ে উমা বাড়ি ফিরে এলো। বাড়ির কা-কীর্তি দেখে তো উমা অবাক আর তার সাথে সাথে উমার মনে ক্ষোভও জেগে উঠল। সে দেখল যে, তার বউকে দেবীর আসনে বসানো হয়েছে। আর তার সামনে একটি লোক মরা ছেলেকে নিয়ে পড়ে রয়েছে। সে ছেলেটিকে দুধ খাইয়ে দিলো আর বলল, ‘বাবা চোখ খোল, চোখ খোল’। এসব কিছু দেখে আর নিজেকে সামলাতে না পেরে সে বাবার কাছে গেল। কিন্তু এতো রাগের মধ্যেও কিন্তু উমা বাবাকে সম্মান দেখাতে অর্থাৎ তার আশীর্বাদ নিতে ভুলল না। তারপর সে তার বাবাকে বলল, ‘বাবা তুমি পাগল হয়ে গেছ, অন্ধবিশ্বাসের কারণে তুমি কিছুই বুঝতে পারছ না’। কিন্তু তার বাবা তা মানতে রাজি নন, আর মানলেনও না। ঠিক এমন সময় মৃত বাচ্চাটি অর্থাৎ কঠিন ব্যমতেভুক্ত বাচ্চাটি ঠিক হয়ে উঠল। সবার এ দেবীর প্রতি আরও বিশ্বাস হয়ে গেল। একদিন হঠাৎ উমার জার ছেলের প্রচ- জ্বর চলে এলো। তখন ডাক্তার বাবু আসলেন আর বললেন, ‘ঔষধ তো আমি দিয়ে দিতাম তবে বাড়িতে দেবী থাকতে ডাক্তারের ঔষধের আর কী দরকার। উমার ভাই এসে দেখল জ্বর বেশী হয়ে গেল। বলতে গেল বাবাকে, তার স্ত্রী তাকে থামানোর অনেক চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। বলল যে, ‘দোহাই তোমার তুমি যেওনা’। এ সব কারণে খোকা সকাল থেকে এক গ্লাস পানি পর্যন্ত খায়নি। নিয়ে গেল দয়ার কাছে। দয়া বলল তার জাকে, ‘আজ রাতটা ও আমার সাথেই থাকুক। আর সকালেই খোকা চলে গেল, সারা জীবনের মতো চলে গেল, মারা গেল। আবার কলকাতা থেকে নৌকায় করে ফিরে এলো উমা। বাড়িতে ফিরে উমা দেখল যে, তার বাবা কালি-মা এর মূর্তির সামনে বসে কাঁদছে। আর বলছেন, “চলে গেল, চলে গেল আমার দাদু ভাই সারা জীবনের জন্য”। আর তখন উমা বলল যে, ‘খোকা’। তখন বাবা উমাকে বললেন যে, ‘আমি ভেবেছিলাম দেবী খোকাকে সুস্থ করে দেবে’। কিন্তু আপনার এই অন্ধবিশ্বাসের কারণে খোকা মারা গেল। আমি কতবার বললাম দয়া মানুষ ও কোনো দেবী নয়। “কিন্তু আপনি আমার কথা শুনলেন না। আপনিই খোকার খুনী, আপনিই খোকাকে মেরে ফেলেছেন” — বলল উমা। উমার বাবা উমাকে বলল, ‘এ তুমি কী বলছ বাবা’? তারপর মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন ছবি বিশ্বাস। উমা দৌড়াতে দৌড়াতে সব জায়গায় দয়াকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। তারপর সে তার বৌদির ঘরে ঢুকতেই তিনি বললেন, ‘নিয়ে গেল ওই রাক্ষসিটা আমার ছেলেকে’। (অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে কাঁদতে কাঁদতে) তারপর নিজের ঘরে গিয়ে উমা দেখল যে, দয়া পাগল হয়ে গেছে। সে তার গলার একটি হার নিয়ে এসে উমাকে তা দিয়ে বলল, ‘আমাকে পরিয়ে দাও এটা। লক্ষ্মীটি পরিয়ে দাওনা! আমরা তো যাব, তাড়াতাড়ি করো!’ তখন উমা জিজ্ঞেস করল, ‘কোথায় যাব?’ দয়া বলল, ‘পালিয়ে যাব’। তারপর ধানের ক্ষেত দিয়ে দৌড়ে একেবারে হাওয়ার বেগে ছুটতে ছুটতে চলে গেল। পেছন থেকে উমা অনেকবার ডাক দিলো কিন্তু কিছু না শুনেই দয়া চলে গেল।

এভাবে সমাপ্ত হলো ছবিটি। এ ছবিতে দেখানো হয়েছে যে, অন্ধবিশ্বাসের কারণে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়। তখন কেউ কেউ মানুষকে আর মানুষ দেখতে পায় না। সব জায়গায়ই শুধু দেবীকেই দেখতে পায়। ঠিক তেমনই যেমনভাবে উমার বাবা অন্ধবিশ্বাসী হয়ে পড়ার কারণে তিনি তার পুত্রবধূকে দেবী ভাবতে শুরু করেন। এমন কিন্তু নয় যে, আজ মানুষ এতোটা নেই, আজও এমন অনেক মানুষ সংস্কৃতিবান আছে যারা কুসংস্কার ও কিছু ভ্রান্ত ধারণার প্রতি বিশ্বাস রাখে। আজও অনেক সংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ যেমন— হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে তাদের ভগবান বা দেবী মানুষ রূপে পৃথিবীতে আসতে পারে। আবার আজকাল অনেকেরই খাদ্য সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। যেমন— পরীক্ষার আগে ডিম খেলে পরীক্ষাতেও ডিম মানে শূন্য পাবে। মেয়েদের জোড়া কলা খাওয়া যাবে না, তাহলে জোড়া বাচ্চা হবে। কিন্তু ছেলেরা আবার ঠিকই জোড়া কলা খেতে পারবে। এরূপ কিছু ভ্রান্ত ধারণা আজও অনেক মানুষের মধ্যেই আছে। আমাদের সবার মনেই কিছু না কিছু অন্ধবিশ্বাস বা ভ্রান্ত ধারণা অবশ্যই লুকিয়ে আছে। যা সময় হলেই সামনে আসে। তাই, এতো আধুনিক যুগে অন্ধবিশ্বাসী না হয়ে বিজ্ঞানের প্রতি বিশ্বাস করতে হবে। আর অনেক সময় এসব অন্ধবিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণার কারণে অন্যের ক্ষতিও হয়।

fj

                                                   বনস্পতির ছায়া

গ্রিক এক চলচিত্রকারের নাম কনস্টানটিন। তিনি একটি সিনেমা পরিচালনা করেন। সে সিনেমায় দেখানো হয়েছে যে, একটি ছেলে পার্কের একটি বেঞ্চে বসে বই পড়ছে। তার বাবাও সেখানে ছিলেন। হঠাৎ করে একটি পাখি সেখানে এসে বসল। তার বৃদ্ধবাবা বললেন, “ওটা কী?” তখন তার ছেলে বলল, “ওটা একটা চড়–ই পাখি।” কিছুক্ষণ পর বাবা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “ওটা কী?” তখন তার ছেলে আবার বলল, “ওটা একটা চড়–ই পাখি।” কিছুক্ষণ পরপর বার বার বৃদ্ধ বাবা একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন। তখন ছেলে বিরক্ত হয়ে বলল, “বার বার বলছি এটা একটা চড়–ই পাখি, তবুও কেন বার বার একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছ?” বাবা কোনোকিছু না বলে ঘরে চলে গেলেন। তিনি তাঁর ছেলের স্মৃতিভরা একটি পুরনো ডায়েরী নিয়ে এলেন। তিনি তাঁর ছেলেকে সেটা পড়তে দেন। তার ছেলে ডায়েরীটা হাতে নিয়ে পড়তে থাকল, “আমার ছেলের তখন মাত্র তিন বছর বয়স। আমি তাকে পার্কে বেড়াতে নিয়ে যাই। সে একটা চড়–ই পাখি দেখে আমাকে ২১ বার জিজ্ঞাস করে, “ওটা কী?” আমি ২১ বারই স্নেহ-মমতা, ভালোবাসার সাথে উত্তর দিতে থাকি, “এটা চড়–ই পাখি” এ গল্প শুনে ছেলের চোখে একেবারে জল চলে আসল।

আমাদের বাবা যখন বৃদ্ধ হয়ে যায়, তখন তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের অসুখে কাবু করে ফেলে। আমরা যখন বড় হয়ে যাই তখন হয়তো আমরা আমাদের বাবা-মার খুব একটা প্রয়োজনীয়তা বোধ করি না। বৃদ্ধ হয়ে গেলে কেউ কেউ জিমনশিয়া বা আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হয়। এতে তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এরা বেশি কিছু মনে রাখতে পারে না। একই কথা বার বার বলতে থাকে। বার বার একই কথার উত্তর দিতে হয়। কিন্তু তবুও তারা বুঝতে পারে না। এসব বিভিন্ন রোগের আক্রমণে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাদের এরূপ আচরণের জন্য ছেলে-মেয়েরা অনেক সময় তাদের ওপর বিরক্ত হয়ে খারাপ আচরণ করতে থাকে। অনেকে তো আবার এতো বেশিই বিরক্ত হয় যে, তাদেরকে শারীরিকভাবেও কষ্ট দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় তাদের সাথে এরকম খারাপ ব্যবহার না করে তাদের সাথে আরও মমতার সাথে আচরণ করতে হবে। নাহলে তিনি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আমরাও ছোটবেলায় তাদের এরকমই বিরক্ত করেছি। কিন্তু তারা তো কখনই আমাদের কথায় বিরক্ত হননি। তারা তবুও স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাদের এতো বেশি ধৈর্য্য ছিল। কিন্তু এখন তারা যখন বৃদ্ধ হয়ে আমাদের মতোই সেই ছোটবেলার মতো আচরণ করছেন, তাহলে আমরা কেন বিরক্ত হচ্ছি? আমরা কেন ধৈর্য্য ধরতে পারছি না? কেন মমতার সাথে ঠিক সেভাবেই ধৈর্য্য ধরে তাদের সেবা করতে পারছি না?

mgjm

                                  কাঠঠোকরাটা কী বেঁচে আছে?

দিনটা ২৪ ডিসেম্বর, ভালোই শীত, তবে কিছুটা মৃদু রোদ যে নেই তা নয়। ঐদিন আমার মাও বাড়িতে ছিল। যেহেতু শীতকাল তাও আবার পরীক্ষা-টরীক্ষা শেষ, তাই আমি আবার একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠি। এতোটাই আলসেমি চলে আসে যে লেপের ভেতর থেকে বেরোতেই ইচ্ছে করে না। তবুও আমি আমার ঘরের দরজাটা খুলে দেই। যে দরজাটা আমার ঘরের বারান্দার দরজা। কারণ, আমার প্রকৃতির আলোই বেশি পছন্দ, সে যতই ঠা-া বাতাস আসুক না কেন। আমার ওইসব ঘরের লাইটের আলো একদম পছন্দ নয়। বারান্দার দরজাটা না খুললে মনে হয় একেবারে বদ্ধ জেলখানার মধ্যে বসবাস করছি। যাই হোক, আমার পছন্দ-অপছন্দের বিশ্লেষণ পরে দিলেও চলবে। আমি ঐদিন ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ-হাত ধুয়ে ব্রেকফাস্ট করে একটা গল্পের বই পড়ছিলাম। গরম পানি দিয়ে গোসলও সেরে ফেললাম। হঠাৎ একটা ফোন এলো, আমার মা ফোনটা ধরল। ধরার পর আমার মা আমাকে বলল, তোমার এক বন্ধু ফোন করেছে। তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম। সামনে পরীক্ষার রেজাল্ট দেবে। কার কেমন রেজাল্ট হবে, কী মনে হচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা একটু আলোচনা করলাম। ব্যস কথা শেষ। বিকালবেলায় আমরা একটু বাইরে গিয়েছিলাম একটা অনুষ্ঠানে। সেখানে আমরা সেই বন্ধুটিকেও দেখলাম। আমি তো তাকে দেখে মহাখুশি। সেখানে অনেক গানবাজনাও হচ্ছিল। শুনলাম মানে আমার বন্ধু আমাকে বলল ওর মা নাকি গান গাওয়ার জন্য ওর নাম দিয়েছে। শুনেই তো আমার মাথা খারাপ হয়ে গেল। তার মানে নিশ্চয়ই আমার নামও দিবে আমার মা। আমি তো বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম আমার সেই বন্ধুটির নাম হলো জাফরিন। কিছুক্ষণ পর আফাতুল্লাহ নামে সেখানে একজন পিয়ন আসলেন। তিনি আমাকে অনেক আগে থেকেই চেনেন। তো তিনি আমাদের দুজনকেই ডাকলেন ভিতরে যাওয়ার জন্য এবং সেখানে গিয়ে গান গাওয়ার জন্য। আমি ভাবলাম উনি হয়তো মজা করছেন। শুধু শুধু আমাদের টেনশন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আসলে তা নয়, আমার মা ভেতরে ঢুকতেই আমাকে বলল, “যখন তোমার নাম ডাকবে তখন গান গাইতে যাবে।” তখন আমার মনে সন্দেহ হলো নিশ্চয়ই আমার নাম দিয়েছে। তারপর গম্ভীর মুখে গিয়ে বসলাম পেছনের চেয়ারে। আমার পাশে জাফরিনও বসেছিল। গান-টান গেয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম আমি আর জাফরিন। তারপর আমরা বাইরের একটা লম্বা রাস্তা ধরে গল্প করতে করতে হাঁটতে থাকলাম। তারপর হাঁটতে হাঁটতে ডানপাশে একটা খোলা জায়গার মতো দেখলাম উপরে একটু একটু ঘাস। আমরা একটু ভেতরে ঢুকলাম। একেবারে সবুজে সবুজ। হঠাৎ দেখি একটা গাছের নিচে একটা কাঠঠোকরা পাখি পড়ে আছে। আমি জাফরিনকে বললাম, “ইশ্রে পাখিটা মরে গেছে মনে হয়!” আর তখনই জাফরিন বলে উঠল, “বেঁচে আছে।” আমিও দেখলাম পাখিটার ডানাগুলো নড়ছে। আমার কোনভাবে ওকে ওড়ানোর জন্য, ওকে একটু সাহায্য করার ইচ্ছা করছিল। কিন্তু কীভাবে করব, এই ভেবে হাল ছেড়ে দিলাম। তারপর জাফরিন বলল, “এই লাঠিটা দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে দেখতো!” আমি সেটা নিয়ে পাখিটাকে একটু নেড়েচেড়ে দেখলাম। এমন করুণ আওয়াজ করল পাখিটা যা আর বলার মতো নয়। তবুও ও চোখ বন্ধ করে আছে, ওর ওঠার শক্তি নেই। ওকে দেখে মনে হচ্ছিল ও নিশ্চয়ই কোথাও থেকে পড়ে গেছে। তাই আজকে সকালে উঠে ভাবছি পাখিটা কী বেঁচে আছে না মারা গেছে? ওকি উড়তে পেরেছে? জানি না। ওর সাথে অন্যকোনোভাবে কখনও দেখা হতে পারে? কে জানে। আমিও একটা পাগল মেয়ে সব মাছরাঙা পাখিতো একই রকম দেখতে। তাহলে আমি কীভাবে বুঝব ওটাই সেই মাছরাঙা? ওকি আর কথা বলতে পারে। আমি আর ঐ জায়গায় যাইও নি। যাই হোক, মাছরাঙা পাখিটা দেখতে ছিল অনেক সুন্দর। আসলে সব পাখিরাইতো দেখতে সুন্দর। শুধু মাছরাঙা নয়। আমার এখনও মনে হয় যদি কোনোভাবে ওই পাখিটার সাহায্য করতে পারতাম, কোনোভাবে ওকে উড়তে দেখতে পারতাম তাহলে খুবই ভালো হতো। কে জানে এখন ওর কী অবস্থা। এখনও সে কী আধমরাভাবে পড়ে আছে?

dth

                                     বাংলাদেশের রেললাইনের পরিস্থিতি

আজকাল বাংলাদেশের রেললাইনের অবস্থা খুব খারাপ। সেদিন পেপারে দেখলাম, রাজধানীর জুরাইনে রেলের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। দুইপাশে স্থাপনার মাঝে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে ট্রেন। আমি তো অবাক! ট্রেনের ডানে বামে অবৈধ স্থাপনা। মাঝখান দিয়ে ট্রেনের চলাচলের ব্যবস্থা। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক বেশি। টিনের বাড়িগুলোর যে টিনের ছাদ, তা একেবারে ট্রেনের ছাদের ওপর উঠে এসেছে। আবার জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ট্রেনের ছাদের ওপর মানুষ বসে যাতায়াত করছে। শুধু তাই নয়, ট্রেনের সামনেও মানুষ বসে আছে যা অত্যন্ত বিপদজনক। এভাবে ট্রেনে যাতায়াত করা একদমই ঠিক নয়। এসব সমস্যার একমাত্র কারণ হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে এরকম অপরিকল্পিত বস্তি গড়ে উঠেছে। যার কারণে রেলপথের সমস্যা তো হচ্ছেই, তার পাশাপাশি মানুষের জীবনব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই, আমরা যদি সঠিক শিক্ষা অথবা কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে এই অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে না পারি তাহলে আমাদের দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে অসফল হবে। চীনের জনসংখ্যাও অনেক বেশি, প্রায় ১৩৫ কোটি। কিন্তু চীন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করার জন্য জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পেরেছে। আমাদেরকেও তাই করতে হবে, এদেশে উন্নয়নের জন্য। এই জনসংখ্যাকে আমরা যদি সম্পদে পরিণত করতে না পারি তাহলে আজ যেমন রেললাইন ঝুঁকিপূর্ণ, ভবিষ্যতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে। দুইপাশে ভর্তি ঘরবাড়ি আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর তার মাঝখানে এতোটুকু পর্যন্ত জায়গা নেই যে ট্রেন যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু তবুও যাতায়াত করছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে। আমি পেপারে এটাও দেখেছিলাম যে, ট্রেন হেলে পড়েছে। রেললাইনের দুই পাশে অপরিকল্পিত টিনের ঘর এসব মোটেও আমাদের দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যায় না বরং আমাদের দেশ অন্যান্য দেশ থেকে পিছিয়ে পড়ছে। এভাবে রেলের জমি বেদখলে যাচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে এরূপ ঘটনা ঘটছে। তাই, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলে তাদের অন্তত এতটুকু জ্ঞান থাকবে যে, যেখানে সেখানে অবৈধভাবে এবং অপরিকল্পিত বাড়ি, বস্তি, মার্কেট গড়ে তোলা যাবে না। বছরের পর বছর চলে গেলেও এসব জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেগুলো পৃথিবীতে দরিদ্র দেশ নামে পরিচিত। যেসব দেশ ভৌগলিকভাবে বেশ বড়, আবার তাদের জনসংখ্যাও খুব বেশি নয়। তবুও এসব দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত। যেমন— মালি, শাদ, সেন্ট্রাল আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, নাইজার প্রভৃতি। এসব দেশের মানুষ অর্থাৎ জনগণ সম্পদে পরিণত না হয়ে অদক্ষ জনসম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ যেন মালি, শাদের মতো অদক্ষ জনসম্পদের কারণে পিছিয়ে পড়ে কোনো দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিতি না পায়। তাই, আমাদের দেশের জনগণকে জনসম্পদে বা দক্ষ জনগণে পরিণত করতে হবে। তখন আর এসব রেলের জমি বেদখলেও যাবে না।

hvn

                                                 নিলয়ের সাহসিকতা

ঘটনাটা মুক্তিযুদ্ধের। তবে সেই ছেলের জন্মের অনেক পরে শুরু হয় সেই রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ। ছেলেটির নাম নিলয়। তার জন্ম গ্রামের একটি গরীব পরিবারের ছোট্ট কুঠুরীতে। ছোট হলেও খড়ের বেশ সুন্দর একটি বাড়ি। তার বাবা একজন কৃষক। অন্যের জমিতে সারাদিনের কাজ করে দিন কাটায়। এভাবেই সংসার চলে ওদের অভাব—অনটনের মধ্য দিয়ে। যাই হোক, ছোট্ট নিলয় গ্রামের স্কুলে পড়তে যায়। ভালোই পড়াশোনা করে। মাকে বলে স্কুলে থেকে এসে যে, ‘মা বড় হয়ে ডাক্তার হবো, মানুষের চিকিৎসা করব বিনামূল্যে।’ কথাটা শুনে মায়ের মন গর্বে ভরে ওঠে। বাবা সারাদিন কাজ করার পর যখন বাড়িতে ফেরে তখন সে তার সব কথা সমানে বাবাকে বলতে থাকে, সে আজ ইশকুলে গিয়ে কী কী করল, কী কী পড়ালো সেখানে। তার কথা যেন শেষই হয় না। সে বাবার সাথে একদিন রাতে খেতে বসে। সবাই একসাথে খেতে বসেছিল। সে বাবার কানে কানে চুপি চুপি বলল, ‘আজ না আমি একটা ইয়ে খেয়েছি’। নিলয়ের বাবা বলল, ‘ইয়ে মানে আবার কীরে বাবা। কী খেয়েছিস সেটা বলত তাড়াতাড়ি বলে ফেল’। নিলয় ভয়ে ভয়ে বলল, ‘আবার বকা দেবে না তো! খুব তো তাড়াতাড়ি শুনতে চাইছ; শোনার পর বকলে কিন্তু বুঝবে ঠেলা। আর কিন্তু তোমার সাথে আমি কথা বলব না।’

‘আরে বাবা আচ্ছা মুশকিলে পড়লাম তো! খারাপ কাজ করলে তো বকবই তাই না?’

‘না, না, না তুমি আমায় বকবে না ব্যাস। নাহলে কিন্তু আমি তোমায় বলব না।’

‘আচ্ছা ঠিক আছে, নে বকব না। এবার বল দেখি!’

‘আচ্ছা তাহলে শোনো, আমি না আজকে একটা বরফ পানি খেয়েছি।’

‘আরে আশ্চর্য, বরফ পানি মানে?’

‘আশ্চর্য তো, বরফ পানি মানে তুমি বোঝো না? আরে কী যেন ওটার নাম, আরে কী যেন নাম? হ্যাঁ মনে পড়েছে, আইসক্রিম।’

‘আচ্ছা আপনি এতো ঠা-ায় আইসক্রিম খাইছেন। আর কাম পাননি। বাহ! ভালো কথা খুবই ভালো কথা। তো তুই আইসক্রিম খাওয়ার টাকা কোথায় পাইলি?’

‘আসলে না আমার বন্ধু খাওয়াইছে।’

ওদিক থেকে মা সবকিছু শুনছেন। তারপর খাবার নিয়ে এলেন। আর নিলয়কে বললেন, ‘তুই তো বড় লোভী দেখছি। তোরে তোর বন্ধু খাইতে দিলো আর তুই খেয়ে নিলি!’

নিলয় বিরক্তির সাথে বলে, ‘আহ, মা এটা কী ভাষায় কথা বলছ তুমি? সুন্দর চলিত ভাষায় কথা বলো। এটা কী গ্রাম্যভাষা? বাবা তবুও মাঝে মধ্যে ভালোভাবে একটু কথা বলতে পারে ওই জমিদারের বাসায় কাজ করে করে কিছু শিখেছে। তুমি তো দেখছি একেবারেই গ্রামের ভাষায় কথা বলছ।’

মা বললেন, ‘দেখো তোমার পোলার মুখে কেমন বুলি ফুটতাছে।’ বাবাকে নিলয়ের নালিশের মতো এ কথা বললেন।

তারপর নিলয়কে তার মা বললেন, ‘দেখ বাপ আমি তো আর তোর মতো পড়াশোনা করি নাই! এখন তোর কাছ থেকেই আমি শিখব। বুঝলি বাপজান?’

মায়ের কথায় কেমন একটা নিরবতার পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ল সারা বাড়িতে। নিলয় বলল তার বাবা-মাকে যে, ‘সে আর কখনও এরকম করবে না। এভাবেই ধীরে ধীরে নিলয় বড় হতে থাকল তাদের ছোট্ট সংসারটিতে।

তখন নিলয়ের বয়স প্রায় ২০ বছরের কাছাকাছি হবে। নিলয় শহরে গিয়ে একটি উন্নতমানের কলেজে পড়তে চায়। কিন্তু তাদের মা-বাবার সামর্থ্য নেই যে, ওকে কলেজে ভর্তি করবে। বড় কষ্টে দিন কাটে ওর। নিলয়ের সেই ছোটবেলার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা এখনও একেবারে জীবন্ত রয়েছে। সে মনে করে তার মনে হয় আর ডাক্তার হওয়া কোনোদিনই হবে না। তার স্বপ্ন আজীবন স্বপ্নই থেকে যাবে। খুব কষ্ট হয় নিলয়ের। সে ভাবে শুধুমাত্র কয়েকটা টাকা-পয়সার জন্য তার ইচ্ছা, তার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। তার মা-বাবারও ঠিক সেরকমই কষ্ট যেমন তার ছেলের বরং বলতে গেলে তার চেয়েও বেশি। তারা তো মুর্খ্য, কিন্তু তাদের ছেলে যেন মুর্খ না হয় তার জন্য তাদের আপ্রাণ চেষ্টা ছিল। তা মনে হয় শেষ পর্যন্ত আর সফল হলো না।

একদিন হঠাৎ তার বাবা খবর নিয়ে আসলেন যে পাকিস্তানিরা তাদের অত্যাচারের জন্য অনেক মানুষকে ঢাকায় মেরে ফেলেছে ২৫শে মার্চের রাতে। অনেক নিমর্ম আর অসহায় বাঙালিদেরকে তারা হত্যা করেছে। কাউকেই ছাড়েনি তারা না কোনো নারী, না কোনো শিশু আর না কোনো বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে। সবাইকে মেরে শেষ করে দিয়েছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ আতঙ্কিত। নিলয়ের মা এসব শুনে অনেক ভয় পেলেন। তার বুকটা যেন ধ্বক করে উঠল। তিনি নিলয়ের বাবাকে বললেন, ‘ওই বেয়াদবগুলো আবার আমাদের গেরামে আসবে না তো? মনটা বড় আনছান করতাছে। নিলয় বাপ সাবধানে থাকোস। কোথায় কোথায় যে ঘুরে বেড়াস। বাড়িতেই থাকবি বুঝলি?’

বাবা বললেন, ‘আসতেও পারে কোনো ঠিক নাই তবে নিলয়, তোর মা কিন্তু ঠিকই কইছে মানে বলসে। তুই সাবধানে থাকিস।’

নিলয় বড় চুপচাপ হযে শুধু কথাই শুনে যাচ্ছে। তার মনে হলো ওদের মনে কী এতটুকুও দয়া-মায়া নেই? ওরা যে এতোগুলো মানুষ হত্যা করছে। বেয়াদব, পাষ-দের মনে কী এতোটুকু দয়াময়া নেই। ওদের জন্য এখন প্রত্যেকটা মানুষকে ঘরে বসে ভয়ে ভয়ে থাকতে হবে।

পরের দিন ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, যার কারণে অধিকাংশ মানুষই ধীরে ধীরে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকল। সে কথা নিলয়ের বাবা তাদের এসে বলল। সে রাতেই নিলয় ঠিক করে নিলো যে সে যুদ্ধে যাবে এদেশকে স্বাধীন করার জন্য। কিন্তু যদি সে তার মা-বাবাকে বলে তাহলে তার মা-বাবা আর তাকে কিছুতেই যেতে দেবে না। কারণ তারা তাদের একমাত্র ছেলেকে কিছুতেই হারাতে চায় না। ওর বাবা-মা খুব ভালোভাবেই জানে যে পাকিস্তানিদের সাথে যুদ্ধ করা মানে বাঘের মুখের সামনে পড়া। তাই নিলয় কাউকে কিছু না বলে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আর সকালে উঠে যা হওয়ার কথা তাই হলো। শুরু হয়ে গেল দুশ্চিন্তা আর খোঁজা-খোঁজি। তাদের রাতের ঘুম যেন উড়ে যায়। হঠাৎ একদিন তাদের গ্রামের এক মুচি নিলয়ের বাবা-মার তিনি পরিচিত। তাদের এসে বলে যে, ‘কয়েকদিন আগে রাতের বেলা নাকি ও নিলয়কে কোথাও চলে যেতে দেখেছে। শুনেই তাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেল। তারা ভাবল, কোথায় হঠাৎ তাদের ছেলে চলে গেল ওদের না বলে। কোথায় কোথায় ওরা আর খোঁজা-খুঁজি করবে। ওরা খুব অসহায় বোধ করল। তার মা একদিন নিলয়ের ঘরে গেল আর তার টেবিলের ওপর বইয়ের নিচে চাপা দেওয়া একটা কাগজ পেল তাতে কিছু একটা লেখা আছে। এতোদিন তিনি সেটা খেয়ালই করেননি। নিলয়ের বাবা আসার পর নিলয়ের মা চিঠিটা তাকে দেখালেন। চিঠিটা পড়লেন নিলয়ের বাবা আর তা শুনে দুজনের মাথার ওপরই যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তারা জানতে পারল যে, নিলয় যুদ্ধ করতে গেছে। এভাবেই চলে গেল অনেকদিন।

একদিন গ্রামে হঠাৎ পাকিস্তানিরা আক্রমণ করল। যেটা নিয়ে সবারই খুব ভয় ছিল সেটাই ঘটল শেষ পর্যন্ত। তারা মানুষও মেরেছে বটে কিন্তু খুব বেশি নয়। তারা বেশিরভাগ বাড়ি পুড়িয়ে ফেলেছে। পুরো গ্রাম দাউ দাউ করে জ্বলছে। সবার অবস্থা খুবই খারাপ। সবাই তাদের প্রিয় বাড়ি আর কেউ কেউ তো প্রাণও হারিয়েছে ঐ পাষ-দের হাতে। নিলয়ের বাবা-মার বাড়িতে গেল পাকিস্তানিদের কিছু সৈন্য। তাদের শুধু একটা জিনিসই তো আছে সেই ছোট্ট কুটির। তারা তা কোনোমতেই হারাতে চায় না। তারা পাকিস্তানিদের আটকালো। কিন্তু তারা কিছুই শুনতে রাজি নয়। তারা নিলয়ের বাবা-মাকে ঝামেলা বলে মনে করল। তারপর কোনোকিছু না বলেই সৈন্যরা তাদের হাত আর চোখ বেঁধে দিলো। আর তারপর তাদের গুলি করল। কী করুণ দৃশ্য! সাথে সাথে তাদের ছোট্ট কুঠুরীর মাটিতে লুটিয়ে পড়ল তাদের দেহ। আর তারপর তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিলো। নিলয়ের বাবা-মার রক্তাক্ত দেহের সাথে সে ছোট্ট তাদের প্রাণের কুঠুরীটাকেও জ্বালিয়ে দিলো সৈন্যরা। আর অন্যদিকে নিলয় গেছে যুদ্ধ করতে। সে এখন যুদ্ধের ট্রেনিং নিচ্ছে। সে বরিশালে যাবে কয়েকজন সহকারী যোদ্ধাদের নিয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে।

দিনটা ছিল ৯ই এপ্রিল। সেদিনই পাকিস্তানিদের অনেক সৈন্য মারা গেল। ঝোপ-ঝাড় থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মাইন, বোমা ও গুলি ছোড়ে। আর এতে অনেকটাই ছাত্রভঙ্গ হয় পাকিস্তানি সৈন্যরা। কিন্তু হঠাৎ একটা গুলি এসে লাগে নিলয়ের পায়ে। সে প্রচ- আহত হয়। তার সঙ্গী-সাথীরা তাকে ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল। কিন্তু যদি সবাই মিলে তাকে ক্যাম্পে রাখতে যায় তাহলে তারা এ যুদ্ধে হেরে যাবে। তাই সে সবাইকে মানা করল আর নিজেই কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে চলে গেল ক্যাম্পে। সেখানে তার অনেক চিকিৎসা করা হলো। তারপর নিলয় সুস্থ হলো। শেষ পর্যন্ত আসল সেই দিন ১৬ই ডিসেম্বর। ওরা বিজয় অর্জন করেছে। কিন্তু যোদ্ধা ছিল ৭ জন হয়েছে ৩ জন। তারা বাকিদেরকে হারিয়েছে।

কয়েকদিন পর নিলয় বাড়ি ফিরে আসে। দেখে যে জায়গাটা অর্থাৎ গ্রামটা পুরোপুরি বদলে গেছে। সে গ্রামে মুচিটা অনেক কষ্টে শত্রুদের হাত থেকে লুকিয়ে বেঁচে আছে। সে তার সেই মুচি কাকাকে জিজ্ঞেস করে এ কী অবস্থা কাকা গ্রামের! মুচি কাকা বলে, ‘বাবা ওই পাষ-রা আমাদের গ্রামের প্রত্যেকটা বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। তোদের বাড়িটারও তো সেই হাল হয়েছে’।

‘কী বলছ কাকা! আমার মা-বাবা কই? ঠিক আছে তো? কোথায় ওরা?’

মুচি কাকার মাথাটা নিচু হয়ে যায়। তারপর নিলয় চিৎকার করে বলে, ‘কী হলো কাকা? বাবা-মা কোথায়?’ নিলয়ের চোখে পানি চলে আসে। তারপর মুচি কাকা বলে, ‘তোর বাবা-মা আর নেই বাবা’। ‘নেই মানে?’ ‘মারা গেছে রে বাপ। ওই বেয়াদবগুলো তোর বাবা-মাকেও মেরে ফেলেছে’।

নিলয় বিজয়ের খুশি পেলেও তার মনে হয় সে যেন সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। সে শুধু কষ্ট পেতে থাকে। সে দেশ স্বাধীন করার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছিল। তার সাহসিকতা দেখার মতো। সে অনেক কম বয়সে এ রকম সাহসিকতার পরিচয় দেয়।

nv

                                                                   Lizard

Lizard is an animal. It is animal who is stand on the wall. It’s main food is worm and insects. I am very scared to see the animal. I think, it is also dirty animal. There are many types of lizard. Some is small some is big. Lizard is a common animal in Bangladesh. There are so many lizard in our house. I hate this animal, because it scared me so much. The lizard is like a crocodile. The lizard is safe our crop because, so many poisaned worm are loss our crop. So, we take care of these lizard.

mh

                                                        About Hitlar

Once upon a time Hitlar was a president of German. When some guests are visits their house Hitlar cared him very much. Hitlar loves his wife very much. But when was Hitlar the president of German then he was a very disshonest, cowerd man. He always hit and kill the blaneless and helpless men. They were not happy to have such bad president. Hitlar always wanted to won. But he is not cowerd in everything. He is very bad in political things. He wanted to had all power to win in political things. He killed the human without any reason. In every war he always wanted to win and he never lost any war. When his wife died he become very sad and he thinks like that he lost everything. His heart was totally broke for this tragedy. Every time Hitlar was not a bad man. If he lost his very important a thing then he feel so lonely. As he feel that to his wife’s death.