Suvenir-2016

 পিপ

535

                                                লেখক-পাঠক-সম্পাদকের বৈশ্বিক সম্মিলন

৭-৮ মার্চ ২০১৬
শহীদুল্লাহ্ কলাভবন চত্বর ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ॥ বাংলাদেশ

55

 উজানের টানে …

১৩০ শহীদুল্লাহ্ কলাভবন ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ॥ বাংলাদেশ
chinnoprokashon@gmail.com, shiqbal70@gmail.com
www.chinnofoundation.org

সভাগত নবনীতা
অনেকগুলো রজনী পার করেছি বিনিদ্র তোমার অপেক্ষায়। তোমার আসার কথা থাকলে চোখে কী আর ঘুম আসে বলো! অপেক্ষার শেষ রাতে কাজলা গেইটে কুকুরের তাড়া খেয়ে ব্যাগ-পুটলা নিয়ে দৌড়ে ফিরেছি। আর বলো না সে কথা! ষষ্টিতলায় নাইমুল ভাইয়ের প্রেস থেকে ফিরছিলাম প্র“ফ দেখে। একে তো ব্যস্ততায় নাওয়া নেই, খাওয়া নেই ঠিকঠাক। চুল দাড়ি বড়ো হয়ে ঝুলে গেছে, সময় পাইনি কাটার। রাস্তার কুকুর, পাগল দেখলে কি আর ঠিক থাকবে বলো? দিলো তাড়া। আমিও পেলাম সুযোগ। দিলাম দৌড়। এতোক্ষণ ভীষণ ইচ্ছা করছিলো শেষ রাতের ভেজা জো¯œায় দৌড়াতে। ইচ্ছা না, প্রয়োজন ছিলো। রাত তিনটা বাজে। কোনো রিক্সা এতো দূরে আসতে চায় না। যারা চায় তাদেরকে দেওয়ার মতো পারিশ্রমিক আমার কাছে নেই। এদিকে তোমায় একটা চিঠি লিখতে হবে। ইচ্ছে করছিলো দৌড়ে ফিরি। পারিনি। পারিনি শহরের গার্ড-দারোয়ানগণ যদি চোর ভেবে ধাওয়া করে এই ভয়ে। পাগল না হয় হয়েছি, চোর তো হওয়া সাজে না। পাগলের আর দিক-বিদিক কী! দৌড়ে চলে যেতে পারতাম যেকোনো দিকে। কিন্তু যাওয়া হলো না। হলেই ফিরেছি। ফিরেছি তোমাকে লিখতে বসবো বলে যে, আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না। এক্ষুনি চলে এসো তুমি। এতোদিন তোমার কাছে যে চিঠিগুলো গেছে তার সবগুলোতে আমার স্পর্শ আছে, জানো? যেদিন থেকে হরকরার দায়িত্ব নিয়েছি সেদিন হতে তোমাকে, কেবল তোমাকেই চিঠি পাঠিয়ে চলেছি। আর তোমারই অপেক্ষা করেছি দিন-রাত একাকার করে। তুমি এখনও এলে না। চিঠিকর্তার সাথে তোমার কী কথা হয়!

হলে ফিরে দেখি এইমাত্র ট্রানেসমিটার বাস্ট হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। কেমন বিরক্ত লাগে বলো! তোমাকে আর লেখা হলো না হয়তো। পাশের রুমে মৃদু আলো দেখে সেখানে ঢুঁ মারতে ইচ্ছা করলো। দরজা ঠেলতেই ঝলকানি দিয়ে জ্বলে উঠলো এনার্জি সেভিং বাল্ব । বন্ধুরা বেশ কয়েকজন ঐ রুমে ছিলো। আমাকে দেখেই জড়িয়ে ধরে বললো, ‘তোর কল্যাণ হোক, তুই সু-কপালী’ এতো রাত জেগে ওরা আমার অপেক্ষা করছিলো! না, ওরা আমার অপেক্ষায় ছিলো না। নবনীতা, ওরা সরাদিন তোমার আগমনের সংবাদ সারা মতিহারে প্রচার করে, দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে, মোড়ে মোড়ে মাইকিং করে রাতে এসে এমএ থিসিস লিখতে বসেছে বিদ্যুৎহীন মোমের আলোয়। ওদের সিনোপসিস জমাদানের শেষ দিন কাল।

আজ সন্ধ্যায় যখন প্রেসে যাচ্ছিলাম, তোমার প্রিয় চিঠিকর্তার বিষণœ মুখ দেখে আমি দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সেই বিষণœতার সাথে কি তোমার আসা না আসার সম্পর্ক যুক্ত? নাকি পারিবারিক সঙ্কটের সময়ে তোমার আগমন তার বিড়ম্বনার কারণ হয়েছে? নাকি সবকিছু উল্টে দিয়ে তোমার আগমনকে আলিঙ্গন করার উষ্ণ নীরবতা পালন করছিলো। জানি না। তার সারথীদেরও ঠিক সুস্থ মনে হচ্ছে না, নবনীতা। তারাও দেখি হুড়োহুড়ি দৌড়াদৌড়ির মধ্যেই আছে। তোমাকে স্বাগত জানাতে এই ব্যস্ততা। তুমি কেনো এতো দেরি করছো, বলোতো? এতোগুলো প্রাণের প্রতীক্ষার নিশ্বাস তুমি কি শুনতে পাচ্ছো না— সাঁই, সাঁই, সাঁই।

চিঠিটির ইতি আমার লেখা হলো না!
তুমি চলে এলে—
ঠিক তিন বছর পর তুমি এলে
তুমি যখন এলে তখন ফাগুন মাস, ঝিরি ঝিরি বাতাস ঝরিয়ে দেয় পাতাগুলো । তুমি যখন এলে তখন কোকিল ডেকে ওঠে কুহু স্বরে, আমের মুকুল-বাতাবী নেবু ছড়ায় রাশি রাশি সুবাস। তুমি যখন এলে তখন মতিহার হয়ে ওঠে প্রেমময় স্বর্গ। তোমার আগমনে পতঙ্গ-পাখির মতো নেচে ওঠে বালকের মন।

তুমি যখন এলে তখন ০৭-০৮ মার্চ। অনেক ব্যস্ত সময় যাচ্ছে চিঠিকর্তার। কাদাজলে একাকার চিঠিসারথীরা। তুমি যখন এলে তখন চিহ্নমেলা-বিশ্বঙলা, লেখক পাঠক সম্পাদকের বৈশ্বিক সম্মিলন। অনেক গুণীর ভীড়। চিহ্নবকুলতলায় অনেক পদচারণা। অনেক বাণী অনেক অর্চনা। তুমি যখন এলে তখন আলাপে-আড্ডায়, কথা-কবিতায়, গানে আর সুরে মেতে উঠেছে মতিহার। উল্লোসিত রাজশাহী, উচ্ছাসিত বাংলাদেশ। একত্রিত বিশ্ববাংলা।

মেলা কোনো একক শব্দ নয়, নবনীতা। তোমাকে, আমাকে আগত লেখক-পাঠক-সম্পাদক, দর্শনার্থী, সারি সারি স্টল, বেচা-কেনা, দেখা-অদেখা, হাসি-ঠাট্টা, গল্প-আড্ডা সব মিলিয়ে মেলা। তুমি আছো আমি আছি, হাত ধরে কাছাকাছি আর বলে যাচ্ছি সবাইকে— ‘এসো লিখিয়ে সব লেখায় লেখায় ভাঙি মগজের কারফিউ’।দায়ভার
রফিক সানি

হাসান আজিজুল হক
স্থির চিহ্ন স্থায়ী চিহ্ন
[হাসান আজিজুল হকের সঙ্গে মিলিত হয়ে আমরা কয়েকজন মুক্ত আড্ডায় মেতে উঠি। কথা আমরা সবাই বলেছি। কিন্তু এই লেখায় দেখা যাচ্ছে হাসান আজিজুল হক একাই কথা বলছেন। আসলে এই লেখা প্রশ্নোত্তরের রিপোর্ট হওয়ার ফলে কথা স্ববিরোধিতায় আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু শিল্পসাহিত্য সংক্রান্ত প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা এখানে এলোমেলোভাবে হলেও পাওয়া যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।]
চলাচল যদি বন্ধ হয়ে যায়, তৃণের আচ্ছাদনে লুপ্ত হয় পথ। তোমাদের ‘চিহ্ন’ এখন পূর্ণ যুবতীর সিঁথির মতো অমলিন। অসম্ভবরকম চলতি এই শব্দটি—কিন্তু ব্যঞ্জনা তার শেষ হয় না। শিল্প-সাহিত্যে একেকজন একেকরকম ছাপ রেখে যাচ্ছেন— সেসব স্থায়ী চিহ্ন, কখনোই মুছবে না। ইলিয়াড মুছবে না, মহাভারত মুছবে না। সাহিত্যের কাগজ হিসেবে চিহ্নকে একেবারে শুরু থেকেই আমার পছন্দ। সতের বছর ধরে ছ’মাস পর পর পত্রিকাটি মাঝখানে কোনো ছেদ না দিয়ে নিয়মিত বেরুচ্ছে। এর গুণগত মান নিয়েও আমার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে— এর পরিধি ক্রমাগত কমছে নাকি বাড়ছে! ক্ষুদ্রতর পরিধি ছাড়িয়ে এটা বৃহত্তর পরিধির দিকে যাচ্ছে কি না? কথাটা এজন্যে বলা, আজকাল বাংলাদেশের তরুণ লেখকেরা সাহিত্যতত্ত্ব নিয়ে প্রচুর আলোচনা করে। সেইসব আলোচনা জায়গা পায় সাধারণত ‘চিহ্ন’র মতো পত্রিকাতেই। দেশে-বিদেশে যতরকমের তত্ত্ব আছে সেসব নিয়ে প্রচুর কথা বলে তারা। পোস্টমডার্নিজম, স্টাকচারালিজম, ম্যাজিক রিয়ালিজম নিয়ে কথাবার্তা বলে। অথচ একটা সাহিত্যতত্ত্বও আমরা নিজেরা তৈরি করিনি। এজন্যে আমার ভয়, এসব হজম হচ্ছে কি না! হজম না হলে যে কোন তত্ত্বই যেমন ঢুকবে ঠিক তেমনি বেরুবে। তত্ত্ব তো আপনা থেকে সৃষ্টি হয় না। একে আমদানিও করা যায় না। ড্যাফোডিল ফুলকে দেখো—খুব সাধারণ একটা বিলেতের ফুল। লক্ষ লক্ষ ফোটে। ড্যাফোডিল কবিতার প্রথম লাইনটা মনে করা যায়— wandered lonely as a cloud/ ten thousand saw at a glance,/ tossing their heads in sprightly glee.  নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গা তাঁর দেশের প্রেক্ষাপটে বলেছিলেন— আচ্ছা, আমাদের বালক-বালিকাদের ওয়ার্ডস্্ওয়ার্থের কবিতা পড়ানো হয়, টেনিসন পড়ানো হয়, এসব কবিতায় যে সমস্ত জায়গার নাম, খাদ্যের নাম আছে— তা কি কেনিয়ায় আছে? তাহলে তারা ওগুলো চিনবে কী করে, জানবে কী করে, বুঝবেই বা কী করে! দেশটাকে তো দেশের মতোন করে ভাবতে হবে। আমি চেষ্টা করলেই তো এটাকে আমেরিকা বানাতে পারছি না।
সেজন্যে বাংলা সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যই। বরং তুমি খুঁজতে পারো, আর কোথায় কোথায় বাংলা সাহিত্য লিখিত হচ্ছে। আগরতলার কথা ভাবতে পারো। পশ্চিমবঙ্গের কথা ভাবা যায়, তারা লিখছে; আমরাও লিখছি। ডায়াসপরা সাহিত্য, এমন জায়গায় বাস করে যেটা তার স্বদেশ নয়, অথচ স্বদেশকে ভুলতে পারে না, স্বদেশ নিয়েই বেড়ে উঠছে তারা। কাজেই আমি দেখি স্বদেশ নিয়েই চর্চাটা বেশি সাহিত্যের ক্ষেত্রে। এই তত্ত্বচর্চা এবং যে কচকচি, আমি যদি এটা অনুমোদন করি তাহলে তা মোটেও বিদ্যার পরিচয়, জ্ঞান বা বুদ্ধির পরিচয় হবে না। আধুনিক সাহিত্যে, এটাকে আমার কাছে মনে হয় একটা কীট, ভেতরে প্রবেশ করে সব নষ্ট করে দিচ্ছে অথচ নিজেদেরকে দেখতে দিচ্ছে না। তুমি যদি চশমাটা খুলে একটা নীল চশমা লাগিয়ে নাও তাহলে পৃথিবীটার সব জিনিস তখন নীল দেখতে থাকবে। বাস্তবে সেটা নীল নয়। ঠিক তেমনি করে সাহিত্যতত্ত্ব জিনিসটাও চশমার মতো। আমাদের দেশে সাহিত্যের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব জিনিসটার খুব প্রচলন হয়েছে। আমি তত্ত্বের বিরুদ্ধের কেউ নই, তত্ত্বের প্রয়োগ দরকার হলে নিশ্চয়ই করবো, বলা যেতে পারে যে, আমি তত্ত্বপ্রিয় মানুষ, এমনকি আমার নিজের অধ্যয়নের বিষয়ও তো তত্ত্বই। দর্শন আমার বিষয়। আমার মনে হয় অপ্রয়োজনীয় চর্চাটাই এখানে বেশি হচ্ছে বলে পুরনো সাহিত্য এতো দীন হয়ে পড়েছে। আমাদের পুরনো সাহিত্য পড়ে কিছু শিখতে পারা যায় না। এখনো দু’একজন প্রৌঢ় বৃদ্ধ আছেন, তাঁদের লেখাগুলিই পড়া যাচ্ছে। বর্তমান সাহিত্যের অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমানে লিখছে এমন কারো নাম করবো—  এমন নাম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আমার মনে হয়, পাশাপাশি না চললে সাহিত্য পিছিয়ে পড়বে বা ডিসকানেক্ট হয়ে পড়বে। বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে দেখো, তিনি উপযুক্ত বিষয় উপলক্ষ্য করেছেন বিড়াল, তারপর বিড়ালের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, বিড়ালটি খালি দেয়ালের ওপর ম্যাঁও ম্যাঁও করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারপরে যদি সে তোমার হাঁড়ি খায় তাহলে তুমি তাকে দোষ দিচ্ছ। তা যে বিচারক বিড়ালের এই অপরাধের জন্য ফাঁসির আদেশ দিল, আমি সেই বিচারককে এই রায় দেবার তিনদিন উপোষ করতে বলি। তারপরে সে যদি রাণি বা বাদির রান্নাঘরে ধরা না পড়ে, তাহলে আর কী বলেছি! এরকম করে লিখেছেন। ‘দেশের শ্রী বৃদ্ধি হইয়াছে, লৌহবর্ত্মে লৌহ নির্মিত গাড়ি চলিতেছে, তারপর সমুদ্রে সাতদিনের পথ একদিনে যাইতেছে, সব হইয়াছে, তাতে সন্দেহ নেই। তবে বল তো পাঠক— হাশেম শেখ আর রামা কৈবর্তর কী উন্নতি হইয়াছে?’ কত ভেতর থেকে ধরেছেন, দেখো। এও বলেছেন— ‘অতএব দেশের শ্রী বৃদ্ধি হইয়াছে বলিয়া যে যতই কথা বলুক আমি তাহাতে যোগ দিব না’। আমিও এ কথাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি সাহিত্যের ক্ষেত্রে। একজন সাহিত্যিক একটা দেশকে কতো ভেতর থেকে দেখতে পারেন, কতোভাবে দেখতে পারেন, তাতে তাঁর সফলতা। নীলদর্পণের মতো লেখা—  একজনের শাস্তি হয়ে গেলো, তাড়াতড়ি মারা গেলো আরেকজন। একটা বইয়ের, মানে সাহিত্যের কত প্রতাপ। আমাদের এখানে সাহিত্যের সামাজিক ফোর্সটা সেভাবে দেখতে পাচ্ছি না, নেই বললেই চলে। আমার লেখায় একটা জোর থাকবে তো, ওয়ালীউল্লাহর লালসালু পড়লে মানুষের চেতনার উদ্রেক হবে, এটাকে বলা যায় জ্ঞানশলাকা।
আমাদের সাহিত্যকে দূরে থেকে যদি দেখি, একটা প্রবাহ হিসেবে যদি ধরি, তাহলে এখন সাধারণভাবে সাহিত্য ক্ষীণ¯্রােতা হয়ে গেছে। এখন পৃথিবীব্যাপীই এমনটা হয়েছে বলে মনে হয়। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম—  আমেরিকান একজন কবির নাম বলো তো, সে নিজেও লেখে, কিন্তু একজন কবির নামও তার জানা নেই। মার্ক টোয়েন, স্টেইনবেক, হেমিংওয়ে, ফকনারের মতো লেখক কোথায়? মার্কিন সাহিত্য ভালোভাবে পড়ে বর্তমান সময়ের লেখালেখি নিয়ে আশাবাদী হতে পারি না। হেমিংওয়ে আমার খুব প্রিয় লেখক। হাতুড়িঠোকা গদ্য তাঁর। এ গদ্য লেখার ক্ষমতা সবার থাকে না। ছোট ছোট বাক্য। খটখট করে লিখেছেন। কোথাও একফোটা স্যাঁতস্যাঁতে ভাব নেই। আবেগের বা কল্পনার কোন জায়গা নেই। কোথাও কোনো উঁচু কণ্ঠে কথা বলা নেই। সাংঘাতিক নিষ্ঠুর ঘটনা আন্ডারস্টেটমেন্টে বর্ণনা করেছেন। আন্ডারস্টেটমেন্ট কী? ঘটনা বলতে যতোটুকু গলা উঁচু করতে হয় ততোটুকু। স্টেইনবেকের মতোন লেখক আমেরিকার পলিসির বিরোধিতা করে লেখেন দ্য পার্ল। একজন বোকাসোকা কৃতদাসের ওপর প্রচণ্ড নির্যাতনের উপন্যাস এটি। ক্রীতদাসটি কোথায় কাজ করতে যাবে, তার সাথে একটা মেয়ে। মেয়েটা যেমন করেই হোক নিজেকে ক্রীতদাসের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, মেয়েটিকে ঝুলিয়ে মেরে ফেলা হলো। দ্য পার্ল ব্ল্যাকদের নিয়ে লেখা, সমাজকে নিয়ে লেখা। তাঁরা সমাজ নিয়ে ভেবেছেন বলে এরকম লেখা সম্ভব হয়েছে। আজকে কী একটা আত্মসন্তুষ্ট একটা সমাজ গড়ে উঠেছে! তাদের আর কোনো সাহিত্য নেই। তাদের কোনো কবিতা নেই। সঙ্গীত নেই। যেটুকু আছে তাও অন্যদের, জার্মান বা ফ্রান্স বা ইউরোপের, তাও প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ কেমন করে বাঁচলে তাকে ভালো বেঁচে থাকা বলে? যদি বলি আমি প্রত্যেক দিন সকালবেলায় ভালো ব্রেকফাস্ট দিয়ে নাস্তা করি, সবচেয়ে ভালো বিছানাটায় ঘুমাই, ভালো জামাটা ব্যবহার করি, সবচেয়ে ভালো পেস্টটা ব্যবহার করি—  তাহলে কী বলা যাবে, এই লোকটি ভালো জীবন যাপন করছে? সেই সার্চটি তো হারিয়ে গেছে। এই সার্চটা এখন আমরা ইন্টারনেটে দিচ্ছি। এই সার্চকেই কী সার্চ বলে? একে বলে সমতলে দেখা। দেখার কতো কোণ যে আছে, কর্নার আছে! প্রতি কর্নারই একেকটি অ্যাপিয়ারেন্স, যে কোন জিনিসকেই ওখান থেকে দেখা যাবে, কিন্তু দেখার ভিন্নতা তৈরি হবে। তাহলে আমাদের দেখার ব্যাপার যেটা আছে সেটাকে সাহিত্যে নানা কৌণিকভাবে দেখতে হবে। হীরের কী কাজ? হীরে কীসে দামি হয়?  কতো সূক্ষ্ম করে কতটা কোণে কাটতে পারে তার ওপর হীরের দাম নির্ভর করে। যতোটা সূক্ষ্ম করে যতোটা কোণা তার থাকবে ততো আলো সেখান থেকে বেরুবে। আমাদের বিশ্বসাহিত্য থেকে নানা বিষয় হারানোর উপক্রম হয়ে গেছে। তেমনি সাহিত্যের নেতৃত্ব এখন ইউরোপে নেই। ইউরোপে যে কয়জন ইংরেজি লেখা সাহিত্যিক আছে তারা সবাই ইন্ডিয়ান বা বাংলাদেশি বা অন্য ভাষার লোক। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে। ফরাসি দেশে বাংলাভাায় লেখে এমন লোক নেই। ফরাসি দেশে সাহিত্যটা অন্যরকম। গোটা বিশ্বকে চিনিয়েছে, সভ্যতা শিখিয়েছে ফরাসিরা। ওরাই চিন্তাভাবনা, কল্পনা করতে শিখিয়েছে। সেখান থেকে শিখেছে রাশানরা। ওদের ভাষা ওদের সংস্কৃতি। সেখানেও বর্তমানে একধরনের মন্দা দশা। তার মানে পুরো ইউরোপেরই একটা মন্দা দশা। আমেরিকার কথা বললাম—  ওদের সাথে তুলনা করলে বোঝা যায় আমরা কোথায় আছি! আমাদের গর্ব ও অহংকার করার জায়গাটা কোথায়। তারপর আস্ফালন করা উচিত। আমরা যখন কেবলমাত্র হাত পেতে নিচ্ছি—  হয় ক্রেতা নয় গ্রহীতা, হয় পয়সা দিয়ে কিনছি নয়তো হাত পেতে নিচ্ছি। আমরা কাকে দিচ্ছি? আমরা কেবল নিচ্ছি, দিতে পারছি না। তাহলে আমরা ক্রীতদাসের মতো নিচ্ছি। এই এখন আমাদের সাহিত্যের অবস্থা। তাহলে কোন চেহারা আমাদের কল্পনায় আসে? পরক্ষণে মনে হবে ঢাকার জীবন নাগরিক জীবন, একটা গতিতে এগিয়ে যাবার জীবন। হতে পারে, কিন্তু সেটি ফল্স। ফল্স আওয়াজ। আওয়াজটা বাঘের মতো শোনাচ্ছে কিন্তু সেটা বাঘ নয়, টিনের বাঘ। টিন ড্রাম। তার বেশি কিছু হয় না। আমার কথা এভাবে শুনলে মনে হতে পারে আপনি এতো ডিসএ্যাপ্র“ফ করেন এই বাংলাদেশের সাহিত্যকে? এই কথাটার জবাব আমি কী করে দেব জানি না। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করি, যদি বলতে পারি, এই দেখো আমাদের লেখা, লেখার মতো লেখা। আমাকে খুব হিসেব করে কথা বলতে হয়। বইমেলায় তো অনেক বই বেরুবে। বুঝতেই পারা যাবে যে, বইমেলাতে ক’টা বই আছে, আর ক’টা বই থাকবে, টিকে যাবে। তুমি যদি মনে কর তোমার লাইব্রেরিটা বাংলাদেশের লেখকদের বই দিয়ে পরিপূর্ণ করবে, সেটা কী পারবে? পারবে না! এটা বলা কী হীনমন্যতা নাকি এটা বলা মানে নিজেকে কঠিনভাবে বিচার করা। ক’দিন আগেই মুরাকামির ক’টা লেখা পড়লাম। জুসাক নামের ভদ্রলোকের লেখা পড়লাম। তারপরে অ্যাটউড-এর হ্যান্ডমেডস্্ দেখছি। পছন্দ হোক আর না হোক। এদের লেখা পড়তে ভালো লাগে। রস ছিঁবড়ে লেখা। ওরা যে সভ্যতায় আছে সেই সেটা নিয়েই কিন্তু আছে। কেউ তো নিজের সভ্যতাকে এড়াতে পারবে না। হেমিংওয়ে আমেরিকা নিয়ে লিখতে পারেননি প্রায়। তিনি যা কিছু লিখেছেন তা হয় স্পেনে, নয় ইতালিতে বসে বা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যখন যোগ দিয়েছেন তখন। তারপর সিভিল ওয়ার হয়েছিল স্পেনে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একটা প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে লেখা তাঁর উপন্যাস ঞযব ঝঁহ অষংড় জরংবং-এ একটা-দু’টো এপিগ্রাফস রচনা করে লস্ট জেনারেশনকে জনপ্রিয় করেছেন। হেমিংওয়ে নিজেকেই ষড়ংঃ মবহবৎধঃরড়হ মনে করতেন। এমন একটা জেনারেশন, পুরোটাই হারিয়ে গেছে। তাদের আর কোন কণ্ঠ নেই। এই যে নষ্ট হয়ে যাওয়াটা ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার বেদনা হেমিংওয়ের লেখা পড়লে বোঝা যায়। আমরাও যে নষ্ট হয়েছি সেটা আমরা বুঝি নি। স্পেনযুদ্ধের মতো যুদ্ধকে বাইরে থেকে দেখেছেন তিনি। যুদ্ধ যারা করবে তাদের মনে অনেকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাধারণ গ্রাম, চাষিদের মতো লোক, তাদের একটা গ্রুপ আছে, তারা সব অন্য শ্রেণির লোক, পাহাড় বা গুহায় থাকে। সেখানে একজন গিয়ে উপস্থিত হলো। সে সাহেবের কাজ হলো একটা ব্রিজ উড়িয়ে দিতে হবে। সেখানে পাবলো নামের একটা লোক আছে, সে এটার বিরুদ্ধে, সে ওই সাদা চামড়ার লোকটাকে পছন্দ করে না। তার স্ত্রী বেশ শক্তসামর্থ্য, পিলার তার নাম, সে আবার এটার সমর্থন করে। এমন ঘটনা নিয়ে ছবিও হয়েছে। শেষপর্যন্ত তারা এটা উড়িয়ে দিতে পারলো। ‘ব্রিজ অন দ্য রিভার’, ছবির নাম খোয়াই। জন ডানের একটা কবিতা ‘প্রতিটি মুহূর্তে সাগর এগিয়ে আসছে, মহাদেশের একটুখানি করে ক্ষয় হচ্ছে, মহাদেশ ছোট হয়ে আসছে।’ ওই দেখো গীর্জায় ঘণ্টা বাজছে। ঋড়ৎ যিড়স ঃযব নবষষ ঃড়ষষং/ ঃরসব সধৎপযবং/ ড়হ ভড়ৎ যিড়স ঃযব নবষষ ঃড়ষষং কার জন্য এই ঘণ্টা বাজছে? এটি তোমার জন্য বাজছে। ঘণ্টা বাজলে অবসান, মৃত্যু, মুক্তি—  এইসব বোঝা যায়। হেমিংওয়ে বলেছেন, আমি এন্টি-ইন্টালেক্সুয়াল, এন্টি-ফিলোসোফিক্যাল, আই বিলিভ অনলি অ্যান এ্যকশান, ভায়োলেন্স। হেমিংওয়ের সব গল্পই ভায়োলেন্সে ভরা, কেবলই ভায়োলেন্স। দ্য ¯েœাজ অফ কিলিমানজারো-তে দেখবে বিরক্তি, মরতেও কতো বিরক্তি। এদিকে ফকনার আমাদের তারাশঙ্করের মতো, একটা নির্দিষ্ট এলাকার লোক, তারা যেমন রাঢ়ের—  প্রধানত ফকনার তেমন অক্সফোর্ড ডিস্ট্রিক মিসিসিপি নদী এলাকার। স্টেইনবেক অনেকটা শরৎচন্দ্রের মতো, প্লেইন লেখা। হেমিংওয়ে যখন একেকটা গল্প লিখতেন টাইপরাইটারের সামনে রেখে দিয়ে হি জাস্ট টাইপড ইট আউট। আর কিছু করতেন না। দ্বিধাহীনভাবে লেখা। তার দু’একটা গল্প অনুবাদ করেছি। ব্রিজের ধারের বৃদ্ধ-নামে, দু’পৃষ্ঠা হবে। এ ক্লাস ওয়েল লাইটেড প্লেস। ‘কানে যেই বধিরতা আছে/ যেই কুঁজ-গলগণ্ড মাংসে ফলিয়াছে/ নষ্ট শসা-পচাঁ চালকুমড়োর ছাঁচে/ যেসব হৃদয়ে ফলিয়াছে সেইসব — শিয়াল আর শকুনের খাদ্য হয় তাদের হৃদয়।’ ঠিক সেই জীবনটাই আসে প্রথম যুদ্ধের পরে। সে ইউরোপের জায়গায় জায়গায় ঘুরছে। বড় বড় বাড়ি ভেঙে পড়েছে, গুলির ছিদ্রগুলো রয়েছে, মাঠ-ঘাট নষ্ট, ফসল নাই— অসাধারণ বর্ণনা। কিন্তু চোখ ঝাপসা হয়ে আসার কোন কারণ নেই। ঠাস ঠাস করে লেখা। এমনটা আমারও পছন্দ। তবে আমি হেমিংওয়ে দ্বারা প্রভাবিত হইনি। তার ল্যাংগুয়েজের প্রভাবও আমার ভেতর নেই—  একটা জিনিস হয়তো হয়েছে—  আবেগের লেশমাত্র না রাখা, যে বর্ণনাই আমি করি আবেগের লেশমাত্র নেই। চোখে পানি চলে আসে এমন একখানা গল্পও আমি লিখিনি। তিক্ত, বেশ তেতো, গল্পগুলোর স্বাদ মিষ্টিমধুর নয়। দুই একটা প্রেমের গল্প লিখেছি, তা-ও তিক্ত। সুখের সন্ধানে নামক গল্পটি । একটি মেয়েকে নিয়ে লেখা।  কোথাও কিছু নেই, কিন্তু কীসে যে তার পাতালতুল্য শূন্যতা বুঝতেও পারছে না। উটপাখি বলে একটা গল্প, মর্বিড লেখা। খাঁচা গল্পটাও মর্বিড হবার কথা, কিন্তু কী করে কী হল! জয়া আহসানকে সিনেমা করার কথা। এতোদিনে হয়তো শ্যুটিংও হয়ে গেছে।
বাংলা সাহিত্যে আর যাই হোক যদি পারফেকসনের কাছাকাছি কিছু যায় তাহলে গল্পই গেছে—  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু কিছু কবিতা আর এই গল্পগুলো। শরৎচন্দ্র ছোটগল্প লেখেননি। তারাশঙ্কর অসাধারণ ছোটগল্প লিখেছেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছোটগল্পই মূলত লিখেছেন। দুর্দান্ত সব গল্প। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রহস্য উপন্যাস থেকে শুরু করে অভিযান কাহিনি—  সব লিখেছেন; লেখেননি কোন জিনিস নিয়ে! আরণ্যক নিয়ে লেখার কথা ভাবো, আর অপরাজিতর কথা বলো অথবা পথের পাঁচালির কথাই ভাবো। কেদার রাজা ও অন্যান্য লেখাগুলো পড়লে বোঝা যাবে যে এই লোকের ভাষা কী ওইটা? অনুবর্তনটা যে কী পরিমাণে কাঠখোট্টা ভাষা! এ লেখা এমন লেখা যে, লেখার দায়িত্বই হচ্ছে এ লেখা না পড়তে তোমাকে প্রবৃত্ত করা। ইছামতি তো শেষ করে যেতে পারলেন না।
লেখক কে? লেখকের একটা গুণ থাকা উচিত। আর সেটা হচ্ছে আপোস করবে না। এই জিনিসটা যদি না থাকে তাহলে লেখক হওয়া যাবে না। প্রয়োজনে জেল-জরিমানা হাজত খাটতে হবে, এমন মানসিকতা থাকতে হবে। লেখক যদি মনে করে সরকার তার লেখার জন্য অর্থ দেবে সাহায্য করবে তাহলে তো লেখা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের সর্বগ্রাসী ভাব এবং রাষ্ট্রের মধ্যে সত্যিকারের গণতন্ত্র না থাকা লেখক তৈরি হবার পেছনে অন্যতম কারণ। মনে হতে পারে যে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র আছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে তা নেই। পাঁচ বছর পর পর একটা ভোট দিতে পারো—  তবে তাও ফাঁকি হতে পারে। লেখককে তো বলতে হবে যে আমি তোয়াক্কা করবো না। লেখকরা তো পুরস্কার পায়, আমিও পেয়েছি। তবে আমি সবসময় বলি পুরস্কার আমার পায়ের নিচে। আমার মাথায় আছে আমার পাঠকরা। সৎ পাঠক যাঁরা তাঁরা আমার মাথায় আছে। আর তাঁদের মধ্যে যাঁরা আমার লেখা পড়ে বলছেন যে লিখে যাও, আমি সেই কারণেই হয়তো লিখে যাচ্ছি। একটা নিরপেক্ষ জায়গা থেকে লেখক এগুতে না পারলে লেখক নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে পারবে না। আমি তো তোমার কথা লেখবার জন্য লেখক হইনি! তুমি বলছো যে দেশের এই হয়েছে সেই হয়েছে, উন্নয়ন হয়েছে। আমি যদি বলি দেশের সম্পদ তুমি কীভাবে বণ্টন করছো? আর যা বানিয়েছো তা কার জন্য বানিয়েছো? রাস্তা বানালে বাসের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য! আচ্ছা ট্রেন কী দোষ করলো? মধ্যম আয়ের দেশ উত্তম আয়ের দেশ, পদ্মা সেতু হচ্ছে ইত্যাদি। আমি এতো কিছু জানি না। আমি কেবল জানি একদল খায় আর আরেকদল জোগায়। সমাজের একটা মর‌্যাল থাকা দরকা, কিন্তু সমাজের এই মর‌্যালটা ব্রেকডাউন হয়ে গেছে। এটা আমার ধারণা। এটা সমাজকে অ্যাফেক্ট করেছে। কবি যাঁরা তাঁরা মনে করেন আমার তো দায় নেই। আমাদের কাজ তো শুধু কবিতা লেখা—  সাদা কাগজ আর কলম হাতে কেবল কবিতা লেখার মধ্যেই আমার পরিচয়। ভুঁইচাপা গাছ দেখেছ? সকালে দেখবে মাটি ফুঁড়ে উঠেছে, সেখানে তিন-চারটা ফুল আছে। অন্য সময় দেখবে নেই। একদিনেই পঁচে গেছে। আমাদের দেশের লেখকেরা অনেকটা তেমন ভুঁইচাপা ফুলের মতো। তো এরকম হলে তো হবে না। কথা হচ্ছে, চিহ্ন যে মেলাটা করছে চিহ্নমেলা বিশ্ববাঙলা নাম দিয়ে, যে চিন্তা থেকে করছে— সেভাবে যদি করতে পারে তাহলে কাজে দেবে। আমারও মনে হয় এটা দরকার। পরস্পরের সাথে কথা বিনিময় শুধু ভদ্রতা বিনিময় নয়। তর্ক জিনিসটাকেও আনার দরকার আছে। এখনকার কবিতা, গদ্য সাহিত্য আলোচনার বিষয় হতে পারে। ওপেনলি ফেইস করলাম আমরা। এরকম সাহিত্য মেলাগুলোই তো মূলত কেন্দ্র, যেখান থেকেই চিন্তার বীজ আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি—  পাকা শিমুল ফল ফেটে যাবার মতো। মেলাও তাই। এটা তো সাহিত্যমেলা আর আমরা দেখেছি পণ্যের মেলা। এক দিকে মিষ্টি, এক দিকে ফল, অন্যদিকে মনিহারি. আর একদিকে চাষবাসের জন্য লাঙল, গরু, গরুর গাড়ির চাকা ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে। সব প্রয়োজন মেটাচ্ছে। মেলাটিও তাই করুক।
অনুলিখন : দীপ্ত উদাস

সলিমুল্লাহ খান
চট্টগ্রামের ইতিহাস
ও বাংলা সাহিত্য
ধন্য আজি দীনভবন ধন্য জননী চট্টলা।
শীর্ষে শোভে শৈলচূড়াবেষ্টিত বাহিনী মেখলা ॥
শত ইন্দুলেখা অলকে ঝলকে
জগত রঞ্জিছে তব প্রেমালোকে
তোমার মন্দিরে আছে থরে থরে
কত না গৌরব ডালা ॥
কণ্ঠে তব গীত ‘কুরুক্ষেত্র’ গাথা
‘প্রভাস’, ‘রৈবতক’ মঙ্গল-মাতা,
কবি দাসানুদাস মাঘ কালিদাস
কীর্ত্তি লীলা ॥
ঊর মা আসরে, কমলবাসিনী,
বরপুত্রগণে আশীষ জননী
পুণ্য জ্ঞানালোকে ভরিয়া পুলকে
ভুবন কর মা আলা ॥
পদপ্রান্তে তব আজি সমাগত
পূত অর্ঘ্য করে কৃতী পুত্র কত,
লও মা সবার প্রীতিবিকশিত
চন্দনচর্চ্চিত মালা ॥
(কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ২৮)
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মরহুম অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিতর্পন করিতে বসিয়া প্রায়ই একটি গল্প বলেন। আমি নিজে গোটা তিনবার গল্পটি তাঁহার মুখ হইতে শুনিয়াছি। এক জায়গায় গল্পটা তিনি মুখতসর লিখিয়াও ফেলিয়াছেন। ১৯৫০ সালের দশকের শেষ কি ১৯৬০ সালের দশকের শুরু ঠিক নাই। আনিসুজ্জামান সাহেব তখন মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিযুক্ত হইয়াছেন। কোনো এক সেমিনারে উপস্থিত করিবার জন্য একটা ইংরেজি প্রবন্ধ লিখিয়াছেন। ‘রাশভারী’ ঐ প্রবন্ধের সুনামটি যদি বাংলায় তর্জমা করি তো এরকম দাঁড়ায়: ‘উনবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ বিষয়ে অনুসন্ধান করিবার উপকরণ’।
মজলিশে যাঁহারা হাজির ছিলেন তাঁহাদের মধ্যে প্রবীণ অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক। অনেকখানি সাধাসাধির পর ইনি কিছু প্রশ্ন করিলেন। তবে আঙ্গুলে গুনিয়া দেখিলে মাত্র তিনটি। আনিসুজ্জামান কথিত সুসমাচার অনুসারে প্রশ্ন তিনটি ছিল এরকম: বাংলাদেশ (ওরফে বেঙ্গল) কোথায়? উনবিংশ শতাব্দী (ওরফে নাইনটিনথ সেঞ্চুরি) কখন? এবং বাংলাদেশের মুসলমান (অর্থাৎ মুস্লিম্স অব বেঙ্গল) কারা? অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক সঙ্গে যোগ করিলেন, ‘এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পেলে বাকি কথা আলোচনা করা যাবে।’ আনিসুজ্জামান মন্তব্য করিয়াছেন, ‘এরপর পুরো সভা পণ্ড হওয়ার অবস্থা।’ (আনিসুজ্জামান ২০১৫: ১২০)
মাস দুই আগে আমাকে যখন বলা হইল চট্টগ্রামে আসিয়া একটা বক্তৃতা শুনাইতে হইবে তখন স্থির করিলাম মহাজ্ঞানী ও মহাজনগণ যে পথে গমন করিয়াছেন আমিও না হয় সে পথের অনুগামী হই। আরো স্থবির হইয়া ভাবিলাম তিনটার বেশি প্রশ্ন তুলিয়া কাহাকেও বিব্রত করিব না। এই তিন প্রশ্নের উত্তর পাইলে বাকি কথা আলোচনা করা হয়তো কঠিন হইবে না। আমার প্রবন্ধের নামের মধ্যে এই তিন কথার আভাস কিছুটা আছে। প্রথম প্রশ্ন: চট্টগ্রাম কোথায়? দ্বিতীয় প্রশ্ন: ইতিহাস কখন? আর শেষ কথা: বাংলা সাহিত্যই বা কোন পদার্থ?

১.
ইংরেজি ১৮৭২ সালে ইংরেজ রাজকর্মচারী জন বীমস (১৮৩৭-১৯০২) কলিকাতায় ছাপা একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনুশীলন ও উন্নয়নের জন্য একটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ (একাডেমি অব লিটারেচর ফর বেঙ্গল) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রচার করেন। ইহার একুশ বছর পর ইংরেজি ১৮৯৩ (বাংলা ১৩০০) সালের ২৩ জুলাই (৮ শ্রাবণ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠা হয়। বীমসের লেখা ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি বর্তমানে বিলুপ্ত হইয়াছে। কিন্তু নানা সূত্র হইতে ইহার সার বক্তব্য ছাঁকিয়া লইয়া একশত বছর পরের একজন লেখক স্মরণ করিয়াছেন:
১৮৭২ খ্রীষ্টাব্দে বীম্স্ তাঁহার এই প্রস্তাবে বলিয়াছিলেন যে ভারতের অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষার সাহিত্য অপেক্ষা বঙ্গীয় সাহিত্য উৎকর্ষ প্রাপ্ত হইয়া ইউরোপীয় সাহিত্যের সদৃশ হইয়াছে; বঙ্গভাষাকে প্রণালীবদ্ধ করিয়া তাহার একতা সম্পাদন করিবার ও সাহিত্যে প্রয়োগযোগ্য ভাষা নির্ণয় করিবার কাল আগত হইয়াছে; বাঙ্গালা ভাষার অনুশীলন ও উন্নয়নের জন্য একটি একাডেমি স্থাপনের উপযুক্ত সময় উপস্থিত হইয়াছে; বাঙ্গালা সাহিত্যের ভাষার স্থিরতা বিধান জন্য সকল বাঙ্গালী মিলিত হইয়া সভা স্থাপন করিয়া ভাষার উন্নতি সাধন করা আবশ্যক; ক্রমবিকাশমান বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্যকে একটি আদর্শ ভাষা ও সাহিত্যরূপে প্রতিষ্ঠা দানের জন্য সংস্কৃত শব্দের অহেতুক-ভার-মুক্ত ও ইতর নিম্নশ্রেণীর গ্রাম্য-শব্দ-বর্জিত বাঙ্গালা ভাষার একখানি অভিধান রচনা প্রস্তাবিত একাডেমির প্রযতেœ করা প্রয়োজন; যথোপযুক্ত বিচার বিবেচনা ও তৌলায়নের পর একাডেমি কর্তৃক গৃহীত শব্দ একাডেমির অভিধানে সঙ্কলিত হইবে; একাডেমির অভিধান প্রকাশিত হইলে তাহাতে যে শব্দের স্থান নাই তাহা সাহিত্যে ব্যবহৃত হইবে না, এবং ইহাতেই ভাষা প্রণালীবদ্ধ হইবে; রাজধানী কলিকাতায় একাডেমির আদি সভা স্থাপিত হইবে; শতাধিক সুধী সাহিত্যসেবী বঙ্গ একাডেমির সদস্য হইবেন তন্মধ্যে ৩০ জন সদস্য কলিকাতার অধিবাসী হইবেন, অবশিষ্ট সদস্যগণ অন্যত্র নিবাসী সুধীমণ্ডলীর মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন। একাডেমিতে প্রবন্ধাদি পাঠ হইবে এবং সে বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হইবে; গ্রন্থকারেরা নিজ নিজ গ্রন্থ প্রকাশের পূর্বে সভায় পাঠ করিবেন এবং সুধী সদস্যমণ্ডলীর পরামর্শে তাহার উন্নতি সাধন ও সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করিবেন; সভায় সঙ্গীতের আলোচনা হইবে এবং প্রাচীন কবিগণের গীত ও নব্য গীতের সমালোচনায় বাঙ্গালা ভাষায় রচিত সঙ্গীতেরও উন্নতি লাভ হইবে। (মদনমোহন ১৯৭৪: ৩-৪)
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠার লাভের মধ্যে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলন অনুষ্ঠানের প্রেরণাকেও গণ্য করিতে হইবে। বীম্সের প্রস্তাবের সহিত সঙ্গতি রাখিয়া সিদ্ধান্ত হইয়াছিল সাহিত্য-সম্মিলন মধ্যে মধ্যে কলিকাতার বাহিরেও অনুষ্ঠিত হইবে। সেই সুবাদে পঞ্চম অধিবেশন হইয়াছিল হুগলি নগরে, আর ষষ্ঠ অধিবেশনের মোকাম নিরুপিত হয় চট্টগ্রাম।
আজ হইতে কিছু বেশি, একশ বছর আগের কথা চুঁচূড়া হইতে পঞ্চম অধিবেশনের সভাপতি সারদাচরণ মিত্রের পাঠানো প্রস্তাবানুসারে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের ষষ্ঠ অধিবেশন বসিয়াছিল চট্টগ্রামে। সম্মিলনের ‘কার্য্য-বিবরণ’ হইতে জানা যায়; ‘চট্টগ্রামে সাহিত্য সম্মিলনের প্রস্তাব প্রথমে দেশবাসী জনসাধারণের অজ্ঞাতসারে উত্থাপিত হইয়াছিল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসীগণ যখন এই কথা অবগত হইলেন তখনই ইহাকে কার্যে পরিণত করিবার জন্য কৃতসঙ্কল্প হইলেন। প্রথমে কোন কোন স্থান হইতে কিছু কিছু আপত্তিও হইয়াছিল। কারণ কয়েক মাস পূর্বে বহু অর্থ ব্যয়ে চট্টগ্রামে বঙ্গীয় প্রাদেশিক রাজনৈতিক সম্মিলন হইয়াছিল। আবার এক সম্মিলনের ব্যাপার সুসম্পন্ন করা দরিদ্র দেশের পক্ষে কঠিন হইবে বলিয়াই অনেকে মনে করিয়াছিলেন। কিন্তু সকল বাধা অতিক্রম করিয়া চট্টগ্রামের শিক্ষিত সমাজ সাহিত্য সম্মিলন সুসম্পন্ন করিবার জন্য অগ্রসর হইলেন।’ (কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ১-২)
সম্মিলনের ‘কার্য্য-বিবরণ’ অনুসারে স্থান ‘চট্টগ্রাম, ফেয়ারীহিল বা পরীপাহাড়ের পাদদেশ। মিউনিসিপেল উচ্চ ইংরেজী স্কুলের প্রাঙ্গণে নির্ম্মিত মণ্ডপ।’ অধিবেশন বসিয়াছিল পর পর দুইদিন— শনিবার ও রবিবার— যথাক্রমে ৯ ও ১০ চৈত্র ১৩১৯ (২২ ও ২৩ মার্চ ১৯১৩)।
সম্মিলনের উদ্বোধন হয় উপরে প্রবন্ধের মাথায় যে গানটি টোকাইয়া লইয়াছি তাহা গাহিয়া। ইমন কল্যাণ রাগে উহা গাহিয়াছিলেন চট্টগ্রামের বনিয়াদি অনুষ্ঠান ‘আর্য্য-সঙ্গীত সমিতি’। বলাবাহুল্য, ইহাতে অদূর অতীতে পরলোকগত কবি নবীনচন্দ্র সেনের (১৮৪৭-১৯০৯) স্মৃতিই যথাধ্বনিত ও প্রতিধ্বনিত হইতেছিল। প্রকাশ থাকে যে সম্মিলনে ‘নবীনচন্দ্র সেন’ নামে একটি ‘সুন্দর চতুর্দ্দশপদী’ কবিতাও পড়া হয়। পাঠক কবিটির নাম ছিল বড়ই মধুর: ললিতচন্দ্র মিত্র। ততদিনে চল্লিশ বৎসরের অধিক হয় ইঁহার পিতা স্বনামধন্য নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) গত হইয়াছিলেন। সম্মিলনের ‘কার্য্য-বিবরণ’ হইতে কবিতাটি নিচে তুলিয়াছি।

পুণ্য পূর্ব্বাশার দ্বার করি উদঘাটিত
কনক-কিরণ-পূর্ণ তরুণ তপন
নবীন আলোকে সবে করে পুলকিত
রজনীর অন্ধকার করিয়া মোচন;
সেইরূপ একদিন, — শুভদিন গণি —
পবিত্র সাহিত্যক্ষেত্র করি উদ্ভাসিত,
পুণ্য চট্টগ্রাম হ’তে, নব দিনমণি
মেঘের আঁধার ভেদি হয় প্রকাশিত।
গুঞ্জরি তরুণ কণ্ঠে, পলাশীর রণ,
দেখাইলে বঙ্গজনে রঙ্গমতী শিলা;
ত্রিধারায় পূজা করি নর-নারায়ণ,
শিখাইলে শেষতানে অবতার-লীলা
চারু চট্টগ্রাম! তোর সার্থক জীবন,
দিয়াছ সাহিত্য, চির নবীন কিরণ।
(কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ২৮)

‘কার্য্য-বিবরণ’ হইতে জানা যায়, ‘চট্টগ্রাম সাহিত্য সম্মিলনে চট্টগ্রামের সুকবি নবীনচন্দ্রের অভাব সকলেই অনুভব করিয়াছেন। তিনি লোকান্তরগত, সুতরাং দর্শনের অতীত হইলেও তাঁহার জীবন্ত প্রভাব সকল হৃদয়ের উপর নিপতিত হইয়াছিল। নবীনচন্দ্রের তৈলচিত্র সম্মিলন মণ্ডপে সভাপতির পার্শ্বে রক্ষিত হইয়াছিল, কিন্তু তাঁহার জাগ্রত স্মৃতি নিকটতর হইয়া সকলের প্রাণ স্পর্শ করিয়াছিল।’ (কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ২৮)

কার্য্য-বিবরণের’ আরেক জায়গায় লেখা হইয়াছে, ‘সাহিত্য সম্মিলন এখনও এদেশে নূতন ব্যাপার বলা যাইতে পারে। যাঁহারা উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত হইয়াছে কেবল তাঁহারাই ইহাতে যোগদান করিবেন এরূপ আশা করা কিছুই অসঙ্গত নয়। কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গিয়াছে জনসাধারণ মহা উৎসাহে এই সম্মিলনে যোগদান করিয়াছেন। সুদূর পল্লীগ্রাম হইতে অনেক কষ্ট স্বীকার করিয়া অনেকে আসিয়া সম্মিলন দর্শন করিয়াছেন। বহুসংখ্যক মহিলাও সাহিত্য সম্মিলনে যোগদান করিয়াছিলেন। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হইয়াছে চট্টগ্রামের দুইজন মহিলা কবির দুইটা কবিতাও পঠিত হইয়াছিল।’ (কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ৭)
শুদ্ধ মহিলারা নহেন, চট্টগ্রামের বৌদ্ধ এবং মুসলমানেরাও সম্মিলনে শরিক হইয়াছিলেন। কার্য্য-বিবরণে সামান্য একটু পরে আরো লেখা হইতেছে, ‘এই সম্মিলনের আর একটি শুভ লক্ষণ এই যে হিন্দু এবং মুসলমানের কোন মতভেদ এখানে দৃষ্ট হয় নাই। হিন্দুদের সঙ্গে বৌদ্ধ এবং মুসলমানেরাও ইহাতে আগ্রহের সহিত যোগদান করিয়াছেন। দেশের নরনারী এবং যুবকবৃন্দ, দেশের জনসাধারণ সকলেই সাহিত্যচর্”ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিলে বাস্তবিকই আনন্দ হয়।’ (কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ৭-৮)
এক্ষণে পাঠে আরেকটু মনোনিবেশ বা মনোযোগ করিলেই প্রশ্ন জাগিবে—  ‘হিন্দু এবং মুসলমানের মতভেদের’ প্রসঙ্গটা আদৌ উঠিল কেন? ভুলিলে চলিবে না— সবে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ হইয়াছে। সম্মিলনের ‘কার্য্য-বিবরণ’ আর একপাতা ঘাঁটিলে দেখা যাইবে ‘বিষয় নির্ব্বাচন সমিতি’ সেবার সাধারণ বিভাগে পাঠের জন্য ২৩ আর বিজ্ঞান বিভাগে পাঠের জন্য ১৪ প্রবন্ধ মনোনীত করিয়াছিলেন। কার্য্য-বিবরণের জায়গাবিশেষে আছে: ‘সম্মিলনের সাধারণ বিভাগে ১৩টি প্রবন্ধ পঠিত হইয়াছিল এবং ১০টি প্রবন্ধ পঠিত বলিয়া গৃহীত হইয়াছিল। অবশিষ্ট ১০টি প্রবন্ধ নানা কারণে মনোনীত হয় নাই। বিজ্ঞান বিভাগে ১২টি প্রবন্ধ পঠিত হইয়াছিল এবং ২টি পঠিত বলিয়া গৃহীত হইয়াছিল। তন্মধ্যে ৩টি কবিতা এবং ১টি প্রবন্ধ মহিলা লিখিত। দুইজন মহিলা কবির বাসস্থান চট্টগ্রাম।’ (কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ৬)
সম্মিলনে পঠিত মোট ২৫টি প্রবন্ধের মধ্যে একটির লেখক ছিলেন শ্রীযুক্ত মৌলবী আবদুল করিম। তাঁহার প্রবন্ধের নাম ‘বঙ্গ সাহিত্যে চট্টগ্রাম’। বলা বাহুল্য কিনা নিশ্চিত নহি, দেখিতেছি ২৫টি পঠিত এবং ১৪টি পঠিত বলিয়া গৃহীত প্রবন্ধের লেখকদের মধ্যে শ্রীযুক্ত আবদুল করিমই একমাত্র মুসলমান নাম বহন করেন। ‘বিষয় নির্ব্বাচন সমিতি’র মধ্যেও দেখিলাম তিনজন মুসলমানের নাম। ইঁহাদের মধ্যে ফরিদপুরের শ্রীযুক্ত মহম্মদ রওসান আলি চৌধুরীর সহিত চট্টগ্রামের শ্রীযুক্ত আবদুল করিম আর শ্রীযুক্ত কাজিম আলিও আছেন। চট্টগ্রাম সাহিত্য সম্মেলনের এই চিত্র জাতীয় সাহিত্য সম্মিলনেরই একটি পার্শ্বচিত্র বিশেষ। ইহাতে বিস্মিত হইবার কারণ নাই।
এই সম্মিলনের আরেকটি মজার জিনিশ ছিল নাম ‘প্রদর্শনী’। কার্য্য-বিবরণে দেখিতেছি লেখা আছে: ‘সভামণ্ডপের সম্মুখে, সরকারি রাস্তার অপর পার্শ্বে এক সুন্দর সুসজ্জিত গৃহে সাহিত্য প্রদর্শনী খোলা হইয়াছিল। উক্ত গৃহের বিবিধ প্রকোষ্ঠে নানাবিধ পুরাতন পুঁথি সংরক্ষিত হইয়াছিল। তন্মধ্যে চট্টগ্রামের প্রাচীন কবি বিরচিত বহুসংখ্যক গ্রন্থ সাহিত্য পরিষদের সহায়ক-সদস্য শ্রীযুক্ত মৌলবী আবদুল করিম কর্তৃক প্রদর্শিত হইয়াছিল। বহুকাল পূর্বের তালপত্রে এবং বৃক্ষত্বকে লিখিত গ্রন্থসকল সংগৃহীত ও প্রদর্শিত হইয়াছিল।’
বিবরণের ‘অধিকন্তু ন দোষায়’: ‘অভ্যর্থনা সমিতির চেষ্টায় চট্টগ্রামের কতগুলি প্রসিদ্ধ স্থান এবং দেবালয়ের আলোকচিত্র সংগৃহীত এবং প্রদর্শনী গৃহে সংরক্ষিত হইয়াছিল। তন্মধ্যে মহামুনি বৌদ্ধবিহার, চাঁদ সদাগরের দীঘি, সুলতান বায়জিৎ বস্তানি, সাহ সুজা নির্মিত মসজিদ, হিন্দুতীর্থ মেধসাশ্রম এবং শ্রীচৈতন্যের প্রিয় শিষ্য এবং সহচর মুকুন্দরাম দত্তের গৃহদেবতার প্রতিকৃতি উল্লেখযোগ্য। কতগুলি ঐতিহাসিক নিদর্শনও সংগ্রহ করা হইয়াছিল। নছরৎ বাৎসার নির্মিত মসজিদের ভগ্নাবশেষ হইতে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের ইষ্টক প্রদর্শিত হইয়াছিল, বুদ্ধদেবের প্রস্তরমূর্তি প্রদর্শিত হইয়াছিল। স্থানীয় উকিল শ্রীযুক্ত রজনীরঞ্জন সেন বি.এল. মহাশয় কর্তৃক সংগৃহীত আরঙ্গজেবের ফরমান বা আদেশপত্র প্রদর্শন করা হইয়াছিল।’ (কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ৬-৭)

২.
এক্ষণে প্রশ্ন করিবার অবকাশ হইতেছে, এই একমেবাদ্বিতীয়ম শ্রীযুক্ত মৌলবী আবদুল করিমটি কে? পরকালে তিনিই সাহিত্যবিশারদ পরিচয়ে মশহুর হইয়াছিলেন—  একথা বলা বাহুল্যবিশেষ। আবদুল করিমকে জড়াইয়া মজার একটি অধ্যায়—  ‘স্বপ্নভঙ্গ’ — পাওয়া যায় নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ পঞ্চম ভাগে।
নবীনচন্দ্র ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের ‘পার্সোনাল অ্যাসিসটেন্ট’ বা আজিকার কথায় ‘একান্ত সহকারী’। একদা তাঁহার আপিসের দুইজন ‘এপ্রেনটিস’ তদীয় হস্তক্ষেপে ‘কেরানী’ পদে উন্নতি লাভ করিয়াছিলেন। একজন আমাদের আবদুল করিম। ইঁহাকে চিনিবার পর নবীনচন্দ্রের যে মন্তব্য ‘আমার জীবন’ গ্রন্থে উৎকীর্ণ আছে তাহা পড়িলে মনে হয় স্বয়ং নবীনচন্দ্রও নিঃসন্দেহে একটি অমূল্য রতন। ললিতচন্দ্র মিত্রের চতুর্দ্দশপদী কবিতা মোটেও অপাত্রে পড়ে নাই।
নবীনচন্দ্র লিখিতেছেন: ‘সুলেখক মাত্র তখন আপিসে ছিল না। আবদুল করিম চট্টগ্রামের প্রাচীন কাব্যাবলির সংগ্রহের দ্বারা বঙ্গ-সাহিত্যের ও চট্টগ্রামের প্রভূত উপকার সাধন করিতেছিল। সে মুসলমান, অথচ সংস্কৃতে এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়াছে। বাঙ্গলা ভাষা জলের মত লিখিতে পারে। কলিকাতায় থাকিতে মাসিক পত্রিকায় তাহার প্রবন্ধাদি দেখিয়া আমি বিস্মিত হইয়াছিলাম যে, চট্টগ্রামের মুসলমানের মধ্যে এরূপ লোক আছে। চট্টগ্রামে আসিয়া দেখিলাম, সে একজন আদালতের এপ্রেনটিস মাত্র। বড় কষ্টে জীবন কাটাইতেছে।’ (নবীনচন্দ্র ১৪১৯: ৪৩০-৩১)
বিস্ময়ের কারণ আসলেই ছিল। চট্টগ্রামের মুসলমানের মধ্যেও এই রকম লোক তখন দুইটি ছিল না। আর ‘প্রাচীন কাব্যাবলির’ সংগ্রহের দ্বারা যতই বঙ্গসাহিত্যের ও চট্টগ্রামের উপকার হৌক না কেন, ইহাতে উঁহার প্রভূত অপকারও একবার ঘটিয়াছিল। নবীনচন্দ্র সেন সেই ঘটনার যুগপদ ভুক্তভোগী ও একনম্বর সাক্ষী।
আবদুল করিমের নিয়োগ যখন কার্যত একপ্রকার কায়েমমোকাম হইল তখনকার সময়ে নলিনী নামক এক যুবকের ‘জিদে’ পড়িয়া নবীনচন্দ্র সেন একটা সংবাদপত্র প্রকাশের কাজেও জড়াইয়া পড়িলেন। নবীনচন্দ্রের ভাষায়, ‘চট্টগ্রামে আর একটা কাগজ খুলিল। সম্পাদক রোজ সন্ধ্যার সময়ে পেন্সিল কাগজ লইয়া আমার গৃহে আসিয়া উপস্থিত হইত। আমি বলিয়া যাইতাম, আর সে লিখিয়া লইত।’
‘দেখিতে দেখিতে কাগজখানির বেশ একটুখানি প্রতিপত্তি’ হইবার পর ইংরেজ ‘কমিশনর’ সন্দেহ করিলেন ইহার পিছনে খোদ নবীনচন্দ্র সেন আছেন। আপিসে নবীনচন্দ্রের দুশমনের অভাব ছিল না—  একথা না বলিলেও চলে। তাহাদের কাহারো কাহারো সহায়তায় কমিশনর সাহেব তাঁহার ‘পার্সোনাল অ্যাসিস্টটেন্ট’কে ধরিয়া ফেলিলেন। এক্ষণে আবদুল করিমের নিয়োগই— ঠিক নিয়োগ নয় প্রাচীন কাব্যাবলির সংগ্রহে তাঁহার উদ্যমই নবীনচন্দ্রেরও বিপদ ডাকিয়া আনিল।
নবীনচন্দ্র লিখিতেছেন: ‘সে উক্ত কাগজে এক বিজ্ঞাপন দিয়াছে যে, প্রাচীন কাব্য যে তাহার কাছে পাঠাইবে, এই কাগজ বিনামূল্যে এক বৎসর পাইবে। তাহার প্রাচীন কাব্য-সংগ্রহের সাহায্যার্থ সম্পাদক এই বিজ্ঞাপন দিয়াছে। আমি তাহার কিছুই জানিতাম না।’ নবীনচন্দ্র অধিক লিখিতেছেন, ‘উহা যে আমার কাগজ আর প্রমাণ চাই কি? এই বিজ্ঞাপনই যথেষ্ট। কারণ, আবদুল করিম আমার লোক, এবং সে কাগজ বিনামূল্যে দিবে বলিয়াছে।’ (নবীনচন্দ্র ১৪১৯: ৪৩১)
‘কমিশনর তখন,’ নবীনচন্দ্রের বয়ানানুসারে লিখিতেছি, ‘এই গরিব দুটিকে বরখাস্ত করিলেন’। প্রকাশ থাকে যে নবীনচন্দ্রের নিয়োজিত দ্বিতীয় কেরানিটি হিন্দুধর্মীয় বান্দা ছিলেন। আর যাইবেন কোথায়! নবীনচন্দ্র উবাচ: ‘হিন্দুটি আমার এক আত্মীয়ের জামাতা কিনা, তৎক্ষণাৎ কৈফিয়ত তলব করা হইল।’
বাংলা ১৩৪০ (ইংরেজি ১৯৩৩) চট্টগ্রাম জেলা সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতির অভিভাষণ দিয়াছিলেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। এতদিনে দেখা যাইতেছে তাঁহার নামের আগে ‘শ্রীযুক্ত’ এবং ‘মৌলবী’ পদ দুইটি যুগপৎ লোপ পাইয়াছে। নিজের সাহিত্য সাধনার কৈফিয়ত উপলক্ষে অভিভাষণে তিনি দাবি করিলেন, ‘বাঙ্গলার যে যুগে মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক বাঙ্গলা সাহিত্য-চর্চার উন্মেষ হয়, আমরা সেই যুগেরই অস্ততারা। সেই যুগের শেষ চিহ্নস্বরূপ আমার মত এখনও যে কয়েকজন বাঁচিয়া আছেন, তাঁহাদের অন্তর্দ্ধানের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক মুসলিম বাঙ্গলা সাহিত্যের উন্মেষের যুগ যে নিশ্চিহ্ন হইয়া যাইবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই।’ তারপর খানিক অভিমানের অধীনে মাথা নোয়াইয়া ‘জলের মত’ বাংলায় আবদুল করিম উচ্চারণ করিলেন:
এই যুগে যাঁহারা বাঙ্গলা ভাষার সেবায় বিভিন্নভাবে আত্মনিয়োগ করিয়াছিলেন, তন্মধ্যে আমিই ছিলাম পাল হইতে পলাতক। আমার সহ-কর্মীরা কবিতা, সাহিত্য, উপন্যাস, প্রবন্ধ প্রভৃতি রচনায় মন দিয়াছিলেন। আমার সাহিত্য-সাধনা ছিল তাঁহাদের সাহিত্য-সাধনা হইতে একটু পৃথক। আমি ছিলাম বাঙ্গলা ভাষায় মুসলমানদের প্রাচীন অবদানের তথ্য উদঘাটনে তৎপর। (করিম ২০১৩: ২৫৬-৫৭)
আবদুল করিমের এই তৎপরতাও তাঁহার কোন কোন স্বজাতীয় ভাইয়ের খাতায় নিছক সাহিত্য-সাধনা পরিগণিত হয় নাই। তিনি ডানে-বামে না তাকাইয়া আপন কর্তব্য করিয়া গিয়াছিলেন। আবদুল করিম বলিতেছেন:
প্রাচীন বাঙ্গলায় মুসলমানের দান সম্বন্ধে আলোচনা করিতে গিয়া আমি যে সকল নূতন তথ্যের উদঘাটন করি তাহা জাতির পক্ষে সম্মান কি অসম্মানের, গৌরব কি অগৌরবের বিষয় ছিল, সে বিচার আমি করিতে চাই না; তবে তাহা প্রকাশ করিয়া আমি কোন কোন স্বজাতীয় ভ্রাতাদের নিকট তিরস্কৃত হইয়াছি। আমি সে বিষয়ে লক্ষ্য করি নাই, আপন মনে কর্ত্তব্য করিয়া গিয়াছি। এ সকল বিষয়ে মন দেওয়ার মত অবসর আমার ছিল না, এখনও নাই, কেননা আমি মুসলমানকেই দেখিয়াছি, তাহার ধর্ম্ম ইস্লামকে দেখি নাই।’ (করিম ২০১৩: ২৫৭)
আবদুল করিমের বাংলা যেমন জলের মত পরিষ্কার তাঁহার ধর্মবোধও তেমনই মৃদুমন্দগামিনী কুলুকুলু। তিনি লিখিয়াছেন, ‘আমার সহ-কর্ম্মীরা আরবী, ইরানী, তুরানী জাতভাইদের কীর্ত্তিকলাপ আলোচনা করিয়াছেন, বাঙ্গলা ভাষার ভিতর দিয়া তাহা আপনাদের সমীপে উপস্থিত করিয়াছেন; কিন্তু আমি করিয়াছি আমার পাশের বাড়ীর মুসলমানের, আমার দেশের জাতভাইদের সাহিত্যের ক্ষেত্রে কীর্ত্তিকলাপ সংগ্রহ।’
আবদুল করিম সাহিত্য বিষয়ে হিন্দুতে আর মুসলমানে প্রভেদ করেন নাই। মুসলমানদের তিনি বলিয়াছেন ‘স্বজাতীয় ভ্রাতা’ আর হিন্দুদের নাম রাখিয়াছেন ‘আমার দেশের জাতভাই’। কথা দুইটি মনে রাখিবার মতন। তাঁহার কথায়, ‘তৎসঙ্গে যদি প্রতিবেশী হিন্দু ভাইদের জন্যও কিছু করিয়া থাকি, তজ্জন্য আমি লজ্জাবোধ করি না; কেননা ইহাও আমার কর্ত্তব্যের মধ্যে অন্যতম। আমি সোজা কথায় ইহাই বুঝি, আমার দেশের জাতভাইরা দেশের ভাষার জন্য কি করিয়াছিলেন, তাহাই যদি জানিতে না পারিলাম, তবে পরের দেশের ও বিদেশীয় ভাইদের কথা জানিয়া কি হইবে?’ (করিম ২০১৩: ২৫৭)
করিমের সাধনার সারাংশ—  ১৩৪০ বাংলার এই অভিভাষণ অনুযায়ী— এই দাঁড়াইয়াছিল। ইংরেজি ১২০০ সালের পর মুসলমান তুর্কিরা বাংলাদেশ জয় করিবার অন্যূন দুই শত বছর পর—  মানে ১৪০০ পর্যন্ত বাংলার মুসলমানগণ দেশীয় ভাষায় সাহিত্য রচনায় মন দিবার মতন শক্তি অর্জন করিতে পারেন নাই। তাঁহার কথায়, ‘অন্তত এ পর্য্যন্ত তাহার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নাই।’ ইহা লইয়া আলোচনার জন্য আরো স্থান দরকার আছে।
ইংরেজি ১৫০০ সালের পর হইতে বাংলার মুসলমানগণ প্রত্যক্ষভাবে দেশীয় ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করিলেন। আবদুল করিমের মতে, ‘মনে হয়, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমার্দ্ধও, বাঙ্গলা সাহিত্য ক্ষেত্রে মুসলমানদের নিতান্তই “হাতে খড়ির” যুগ ছিল না। কেননা ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগের বহরাম দৌলত উজীর নামক কবির “লায়লি মজনু” নামক গ্রন্থে যেরূপ পাকা বাঙ্গলা রচনার নমুনা পাওয়া যায়, কিছু কাল পূর্ব হইতে সাহিত্যের ক্ষেত্রে মুসলমানদের হাত না থাকিলে এইরূপ বাঙ্গলার আমদানী করা ও তাহার প্রচলন হওয়া অসম্ভব।’
১৬০০ ইংরেজি সালের পর— আবদুল করিমের বিশ্বাস— বাঙ্গলার মুসলিম সাহিত্যের ইতিহাসে ‘একটি স্বর্ণময় যুগ’ শুরু হইয়াছিল। তাঁহার কথায়, ‘মহাকবি আলাওলকে সপ্তদশ শতাব্দীর রবীন্দ্রনাথ বলিয়া উল্লেখ করা যায়।’ তিনি লিখিয়াছেন, ‘এই যুগের বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানদের দান অতুলনীয় ও অপরিমেয়। দৌলত কাজী, আলাওল, মোহাম্মদ খান, সৈয়দ সুলতান, নসরুল্লাহ খাঁ প্রভৃতি অসংখ্য কবি অমর প্রতিভা লইয়া এই যুগে জন্মগ্রহণ করেন।’ (করিম ২০১৩: ২৫৯)
ইংরেজি ১৭০০ সালের পরের যুগ— সকলেই জানেন— বাংলার মুসলমানদের ভাগ্যবিপর্যয়ের যুগ। আবদুল করিম লিখিয়াছেন, ‘রাজ্য হারাইয়া, শক্তি খোয়াইয়া বাঙ্গলার মুসলমান ধীরে ধীরে অধঃপতনের চরমসীমার দিকে অগ্রসর হইতে থাকেন। এই সময়ে তাহাদের সাহিত্য-সাধনায় ভাটা পড়ে এবং অধঃপতন ঘটে। মুসলমানদের মধ্যে এই সময়ে যে কম কবি জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন তাহা নহে। সম্ভবতঃ রাজনৈতিক ভাগ্যবিপর্যয়ে তাঁহাদের পূর্ব্বশক্তি লোপ পাইয়াছিল; তাই সাহিত্যসেবায় যে তীব্র অনুভূতি ও গভীর সাধনার আবশ্যক, তাহারা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হইয়া পড়ায় তাঁহার পূর্ব্বসূরিদের সমকক্ষ হইতে পারে নাই।’ (করিম ২০১৩: ২৬০)

৩.
আবদুল করিমের আবিষ্কার কয়েকটি বড় বড় প্রশ্নেরও জন্ম দিয়াছে। যেমন অধ্যাপক আহমদ শরীফ জানিতে চাহিয়াছেন—  ‘আঠারো শতকের প্রথমার্ধ অবধি মুসলিম সমাজের বাঙলা সাহিত্যচর্চা আধুনিক চট্টগ্রাম বিভাগে বিশেষ করে চট্টগ্রাম জিলায় সীমিত কেন?’ আহমদ শরীফ দেখিতে পাইয়াছেন, ‘গোটা বাঙলাদেশে সেদিনেও অর্থাৎ পনেরো-ষোল-সতেরো শতকে দেশজ মুসলিমের অভাব ছিল না। অথচ সে সব মুসলিমের বাঙলা সাহিত্যাঙ্গনে বিচরণের কোন নিদর্শন মেলে না। এদিকে সতেরো শতক অবধি প্রায় পঞ্চাশ জন কাব্য-কবিতা রচয়িতার সন্ধান পেয়েছি আমরা কেবল চট্টগ্রামেই। আর পেয়েছি নোয়াখালিতে একজন, কুমিল্লায় তিনজন কবি। মুসলিম রচিত সাহিত্যের এ আঞ্চলিক বিকাশের নিশ্চিত কোন কারণ আমাদের জানা নেই।’ (শরীফ ১৯৮৩: ৩৮৮)
মুহম্মদ এনামুল হকের ধারণা কিছুটা ভিন্ন। তিনি মনে করেন বাংলার মুসলমান লেখকদের ‘সৃজনীপ্রতিভা’ ১৭০০ সনের পরেও পুরাপুরি নষ্ট হইয়া যায় নাই। তিনি লিখিয়াছেন:
এই সময়কার মুসলমান কবিদের দ্বারা রচিত বাংলা-সাহিত্যের কোন অংশ না দেখিয়া, অথবা বটতলা হইতে প্রকাশিত কয়েকখানি তথাকথিত ‘মুসলমানী পুথি’ দেখিয়া যাঁহারা বিজ্ঞের ন্যায় মত প্রকাশ করেন যে ‘মুসলমান কবিরা ধর্মমূলক বা আরবী-ফারসী-হিন্দী উপাখ্যানমূলক অনেক কাব্য রচনা করিয়াছেন বটে, কিন্তু সাহিত্য হিসাবে সেগুলি একান্ত মূল্যহীন,’ তাহারা বাংলার মুসলিম সাহিত্য সম্বন্ধে হয় একান্তই অজ্ঞ, নয় একেবারে উদাসীন, নয় সাহিত্যের রস গ্রহণ করিতে নিতান্তই অক্ষম। এ কারণে তাঁহারা সত্যই ক্ষমার পাত্র। (হক ১৯৯৪: ৪৭৪)
এনামুল হক তাই সিদ্ধান্ত করিয়াছেন: ‘বাংলা-সাহিত্যের এই সাধারণ অবনতির হাত হইতে বাংলার মুসলিম সাহিত্যও অব্যাহতি পায় নাই সত্য, তাই বলিয়া পলাশী যুদ্ধের (১৭৫৭) পরবর্তী আরও প্রায় পনের-বিশ বৎসর পর্যন্ত মুসলমানদের মধ্যে যেই সবল বাংলা-সাহিত্যের সৃষ্টি হইয়াছিল, তাহা উপেক্ষার বস্তু নহে। ইহার কোন কোন কবির কাব্য সাহিত্য-হিসাবে ভারতচন্দ্রের কাব্য, অথবা গান হিসাবে রামপ্রসাদের গান হইতে নিকৃষ্ট নহে, সে কথা জোর করিয়া বলা যায়।’ (হক ১৯৯৪: ৪৭৪)
মনে হয় বাংলা সাহিত্যের এই সংকট বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত কাটিয়া যায় নাই। ১৯১৩ সালের চট্টগ্রাম সাহিত্য সম্মিলনে সর্বসম্মতিক্রমে সর্বমোট আটটি প্রস্তাব গৃহীত হইয়াছিল। তাহার দ্বিতীয় প্রস্তাবটি পাঠ করিলে বুঝা যাইবে ততদিনে সংকটের প্রকৃতি কোন রূপ ধারণ করিয়াছিল। নিচে প্রস্তাবটি পুরা উদ্ধৃত করিতেছি :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙ্গলা সাহিত্যকে মোহম্মদীয় ভাবাপন্ন করিবার যে কথা তুলিয়াছেন, সে সম্বন্ধে বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষদের মাননীয় সভাপতি মহাশয় বাঙ্গালার গবর্ণমেণ্টের নিকট যে মন্তব্য প্রেরণ করিয়াছেন, এই সম্মিলন সর্ব্বান্তঃকরণে তাহার পোষকতা করিতেছেন এবং এ বিষয়ে বাঙ্গালার সাহিত্য-সেবিগণের মনে যে আশঙ্কার উদয় হইয়াছে, তাহা সত্বরে নিরস্ত করিবার জন্য গবর্ণমেণ্টকে সানুনয়ে অনুরোধ করিতেছেন।
প্রস্তাবক — শ্রীযুক্ত যাত্রামোহন সেন।
সমর্থক —  শ্রীযুক্ত মুন্সী রওসান আলী চৌধুরী।
অনুমোদক —  শ্রীযুক্ত মাননীয় ডা. দেবপ্রসাদ সর্ব্বাধিকারী
এবং শ্রীযুক্ত বিপিনচন্দ্র পাল।
সর্ব্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হইল।
(কার্য্য-বিবরণ ১৩১৯: ৪২-৪৩)
‘বাঙ্গালা সাহিত্যকে মোহাম্মদীয় ভাবাপন্ন’ করিতে হইবে কেন? আর ‘মোহাম্মদীয় ভাব’ই বা কি বস্তু? এককথায়, বাংলা সাহিত্য কোন পদার্থ? চট্টগ্রাম সাহিত্য সম্মিলনের গোটা দেড়যুগ আগে— ইংরেজি ১৮৯৬ সালে— নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যক্ষেত্রে প্রতিবেশী মুসলমান সমাজের আগমন দেখিয়া আশঙ্কায় মোটেও শঙ্কিত হন নাই। কায়কোবাদের (১৮৫৭-১৯৫২) কবিতা ‘অশ্র“মালা’ পড়িয়া আলিপুর হইতে নবীনচন্দ্র সেন কবিকে যে চিঠি লিখিয়াছিলেন—দেখা যাইতেছে— তাহার প্রাণধর্ম হইতেও চট্টগ্রাম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের নেতারা অনেক দূরে সরিয়া আসিয়াছেন। ‘শ্রীভগবানের কৃপায় ক্ষুদ্র স্বার্থের অন্ধকার’ তখনো তিরোহিত হয় নাই। চারু চট্টগ্রামের নবীন কিরণ সে অন্ধকার তখনো ভেদ করে নাই। মনে হইতেছে আজ একশ বছর পরও নবীনচন্দ্র সেনের চিঠিই হইতে পারে এই প্রবন্ধের উপযুক্ত উপসংহার।
বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের ষষ্ঠ বা চট্টগ্রাম অধিবেশনের উল্লেখ করিয়া এই প্রবন্ধ শুরু করিয়াছিলাম। শেষও করিব তাহার নমস্য নক্ষত্রের দোহাই দিয়াই।
প্রীতিভাজন,
আপনার ‘অশ্র“মালা’ পরম প্রীতিসহকারে পাঠ করিয়াছি এবং স্থানে স্থানে আপনার অশ্র“র সঙ্গে অশ্র“ মিশাইয়াছি। জাতিভেদে সকলই ভিন্ন হইতে পারে, অশ্র“ অভিন্ন। যাহার অশ্র“ আছে, তাহার কবিত্ব আছে। মানব রোদনমাত্রই কবিত্বময়; অতএব বলা বাহুল্য যে আপনার কাব্যখানির স্থানে স্থানে সুন্দর কবিত্ব আছে। মুসলমান যে বাঙ্গালা ভাষায় এমন সুন্দর কবিতা লিখিতে পারেন, আমি আপনার উপহার না পাইলে বিশ্বাস করিতাম না; অল্প সুশিক্ষিত হিন্দুরই বাঙ্গালা কবিতার উপর এরূপ অধিকার আছে। যেদিন মুসলমান সমাজ হিন্দুদের সঙ্গে এরূপ সুললিত কবিতায় বঙ্গভাষায় অশ্র“ বিসর্জন করিবে, সেদিন প্রকৃত প্রস্তাবে বঙ্গদেশের সুদিন হইবে। এমন দিন যদি শ্রীভগবানের কৃপায় ক্ষুদ্র স্বার্থের অন্ধকার তিরোহিত করিয়া কখনও উপস্থিত হয়, আপনার ‘অশ্র“মালা’ তাহার প্রভাত-শিশির-মালা-স্বরূপ বঙ্গসাহিত্যের ইতিহাসে স্থান লাভ করিবে। প্রীতিপ্রার্থী নবীনচন্দ্র সেন। ২.৪.৯৬, আলিপুর। (মোবারক ১৯৯৫: ৩১-৩২)
দোহাই
১. আনিসুজ্জামান, ‘র্সা,’ আনিসুজ্জামান সম্পাদিত, জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক স্মারকগ্রন্থ, ২য় সংস্করণ (ঢাকা: বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, ২০১৫)।
২. আবদুল করিম, ‘প্রাচীন মুসলিম সাহিত্যের ক্রমবিকাশ ও বৈশিষ্ট্য: চট্টগ্রাম জেলা সাহিত্য সম্মিলনে সভাপতির অভিভাষণ,’ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ রচনাবলী, আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত, ৩য় খণ্ড (ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ২০১৩) পৃ. ২৫৬-৬৪।
৩. আহমদ শরীফ, বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, ২য় খণ্ড (ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ১৯৮৩)।
৪. বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলন চট্টগ্রাম, ষষ্ঠ অধিবেশনের কার্য্য-বিবরণ (চট্টগ্রাম: মিন্টো প্রেস, ১৩১৯)।
৫. নবীনচন্দ্র সেন, নবীনচন্দ্র রচনাবলী: আমার জীবন, সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত, ৩য় খণ্ড, নতুন ২য় সংস্করণ (কলিকাতা: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ১৪১৯)।
৬. মদনমোহন কুমার, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ইতিহাস: প্রথম পর্ব (কলিকাতা: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ১৯৭৪)।
৭. মুহম্মদ এনামুল হক, ‘নূতন দৃষ্টিতে পুরানো বাংলা,‘ মুহম্মদ এনামুল হক রচনাবলী, মনসুর মুসা সম্পাদিত, ৩য় খণ্ড (ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ১৯৯৪), পৃ. ৪৫২-৮২।
৮. মোবারক হোসেন, নবীনচন্দ্র সেন (ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ১৯৯৫)।

তুমি যাবে না
মুহাম্মদ হাসান ইমাম
ওরা সুন্দর বিকেলের নরম আলোয় কাছে ডাকবে
সুস্পষ্ট উচ্চারণ আর শুদ্ধ সংগীতের কথা বলবে
জ্যোৎস্নার সুযোগ নিয়ে সম্মোহনী প্রলাপ বকবে
স্পর্শের জন্য নিবিড় চাষাবাদের গুণাগুণ করবে জাহির,
তুমি যাবে ন

ওদের কথায় পৃথিবীর মতো শরীরে নেবে না কোন বীজ
এসিড বৃষ্টিতে কাদাজলে খেলবে না পুরাতন খেলা
সাপের সোহাগের কাছে নত করবে না সুচারু ঘাস,
তুমি যাবে না

ওরা সংস্কৃতির নামে নিয়ে যাবে কুহক পাড়ায়
কামার্ত কাপালিকেরা খাওয়াবে পরকীয়া প্রসাদ
রাজনীতির নামে তোমার চোখে তুলে দেবে আগুন
গুরুবাদে সমর্পিত করবে তোমার সাহস,
তুমি যাবে না

সাহিত্যের বদলে রসায়ন
সিনেমার বদলে পর্ণো
শিল্পের বদলে অল্লীলতা
চিত্রের বদলে নগ্নতা আর সম্ভ্রমহীন সুন্দরের কথা বলবে,
তুমি যাবে না

ওদের স্বপ্ন তোমাকে সংজ্ঞাহীন করতে
চাইবেওদের প্রশিক্ষণ তোমাকে আভরণহীন করতে চাইবে
ওদের মতো করে তাকাতে গিয়ে তুমি বিজ্ঞাপণ হয়ে যাবে
ওদের জন্য তোমার রূপরসগন্ধ বিলি হবে সুপার মার্কেটে,
তুমি যাবে না

শুধু আমার আকাশ জুড়ে অপেক্ষমাণ যাবতীয় সহজ
তোমাকে কঠিনভাবে করতে পারে লালনীয় জেনো

বেনজামিন রিয়াজী
হেডলাইট
ট্রাকের ধাক্কায় নিমাই ছিটকে পড়লো রাস্তার ধারে। সারারাত তাড়ি খেয়ে ভোরবেলায় ভাটি থেকে বাটীর পথে হাইওয়ে পার হয়ে ঘন কুয়াশার ভেতরে মেথরপট্টির গলিটা খুঁজতে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলো নিমাই। ‘শালা এতো কুয়াশা’, ভাবছিলো। একবার মনে হলো সব কুয়াশা তার চোখে। বুঝতে, চোখ তুলে তাকালো চারদিকে। ঠিক তখনই চোখ থেকে সমস্ত কুয়াশা কেটে যেতে দেখলো নিমাই। উজ্জ্বল বড়ো বড়ো একজোড়া চোখ কুয়াশার আবর্তে যেনো মেলে ধরেছে মায়াবী এক লীলা। নিমাই হেডলাইটের সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে চোখে প্রত্যাদেশ নিয়ে হাত বাড়িয়ে তর্জনী উর্ধ্বমুখী করে হেঁকে উঠলো— ‘রুক যাও’। ঠিক তখনই ট্রাকটি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো তাকে রাস্তার পাশে।
রাগে চান্দি জ্বলে গেলো নিমাইয়ের। জীবনে এই প্রথম শালার গাড়ি শুনলো না তার হুকুম। ‘লটির ব্যাটা, এতো সাহস, নিমাই সন্ন্যাসীর হুকুম অমান্য!’ নিমাই একবার ভাবে উঠে তেড়ে ধরে শালা ড্রাইভারের পাছায় কষে দুই লাথি মারে। ‘যা মাপ করে দিলেম’— ভেবে নিমাই নিমগ্ন হলো আবার ঘন হয়ে গিয়ে আসা ভারী কুয়াশার সাদা অন্ধকারে জমে ওঠা অভূতপূর্ব খেলায়।
নেশা তার আগেও ধরেছে সহস্রদিন সহস্রবার। কিন্তু এমন নেশা জীবনে লাগেনি। এই আনন্দে সে ক্ষমা করে দিলো যার যতো অপরাধ—মগজের মায়ামদির মমতায়। ‘আজব কারবার’। কুয়াশার পরে কুয়াশার স্তর ছায়াছবির মতো উন্মোচিত হতে থাকে তার সামনে। জন্ম থেকে শুরু করে যতো স্মৃতি যতো কথা যতো মানুষ যতো দৃশ্য দেখা অদেখা যতো জগত যতো গল্প যতো গান পশুপাখি মাঠ ঘাট আকাশ নদী নালা ফুল ফসল সব একসাথে জীবন্ত হয়ে উঠলো তার চোখে। চোখ ছাড়া যেনো তার কিছুই নেই। হাত পা শরীর নেই। ধাক্কা খাওয়ার ব্যাথাও নেই। চোখ শুধু চোখ। যেনো সে ওই ট্রাকের হেডলাইট খুলে লাগিয়ে নিয়েছে তার চক্ষু কোটরে। শুধুই একজোড়া চোখ যেনো সে এখন। ‘হুঁ, হারামজাদা ট্রাক, হইচ খুব চালাক। একন বুজবি মজা। নিমাই ব্যাকা না সোজা। শালা তোর চোক আমি নিছি খুলে। বাপের নাম যাবি ভুলে। কানা শালা আন্দা শালা মরগে এবার আন্দারে।’ নিজের কবিত্ব শক্তি, কল্পনা শক্তি, স্মৃতি শক্তি দিব্যশক্তি সব খুলে যায়। তবে নিমাই অবাক নয় মোটেও। তার হেডলাইট চোখে ডার্করুমে ফটো-কাগজের উপর যেভাবে কুয়াশাচ্ছন্নতা ছিঁড়ে ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিতো হয় ছবি—  তেমনই শীতের নির্জন ভোরে শিবপুর বাজারের হাইওয়ের ধারে পড়ে থাকা নিমাইয়ের চোখে তার শৈশব হতে অদ্যাবধি যতো ছবি সব তেমনই জীবন্ত হয়ে ওঠে—
কুয়াশা চিরে ফুটে ওঠে পুরোনো শিবপুর বাজার— সারি সারি টিনের চালার দোকানপাট। রাস্তার দুপাশে বিশাল ছায়ার রেনট্রি, গাছ হতে ফুল পাতা, ফল ভাঙা সরু ডাল ধুলোবালি মরচে পড়া চালার উপর পড়ে। চাঁদসী ডাক্তরের ঘর, রমেশের মুদিখানা, গরুহাটা, ধানহাটা। পানহাটার বটগাছ-ডালপালা বেড়ে উঠছে—  ঝুরি নেমে নেমে ছেয়ে নিচ্ছে স্কুল-মাঠের এক পাশ। এই গাছ সেদিন লাগালো মেম্বার— তার চোখের সামনে। স্কুল পালানোর পথে তার সামনেই গাছটা লাগাচ্ছে মেম্বার— পানি দিচ্ছে— ডালপালা ছড়াচ্ছে— ঝুরি নামছে। জুড়ে নিচ্ছে স্কুল মাঠ— ভারি মজার ছায়াছবি আজ নিমাইয়ের চোখে। হা হা করে হাসে নিমাই—  ‘বাবু কি বুকা। তাক কিনা পাটায় ইসকুলে! নিমাই সন্ন্যাসীর নামে নাম রাকলো। আবার তাক পাটালো ইসকুলে—’, হাসির দমকে চারদিক লাফাতে থাকে।
স্কুলে গিয়ে বসেছিলো বেঞ্চে, ঠসা কাসেমের ছেলে বকুলের পাশে। বামে গোবিন্দ। ঢং ঢং টিন টিন ঘণ্টার ধ্বনি শুনতে পাচ্ছে নিমাই শুয়ে শুয়ে এই শীতের কুয়াশায়। ঐ দিনও ছিলো শীতকাল। হেডলাইট ফেলে নিমাই দেখে ক্লাশ শেষ হলো। গোবিন্দ বলে—  ‘শালা তুরা তো মেথর। কামের আগে তুরা নাকি মাল খাস যাতে গন্ধ না লাগে?’ নিমাই তখনও মেথরের কাজ ধরেনি। তবে বাবুর সাথে মাঝে মাঝে যেতো পায়খানা সাফ করতে। পাটকুয়ার মতো গর্ত ভর্তি মল। তার বাবু বালতিতে করে তুলে তুলে পাশের গর্তে ঢালছে। ‘তু যা নিমাই গন্দ লাগবে’, বলে বাবু। হেডলাইটের কী মহিমা—  ঐ গন্ধও মিষ্টি লাগছে এখন। ‘তুর লাগেনে?’ বলে নিমাই। বাবু হাসছে—  কী সুন্দর পানের দাগে সাদা কলো লাল লাল দাঁত, বলে, ‘ছোটলোকের পাইখানা, গোন্দ তো লাকবেই। একি আর রাজার পাইখানা’ নিমাই বিস্মিত হয়—  ‘রাজার পাইখানা তু দেকেচিস?’ বাবু গল্প শোনায় যে তার বাবা ছিলো রাজবাড়ির মেথর— ছোটবেলায় তার বাবার সাথে যেতো রাজবাড়িতে পাইখানা সাফ করতে। রাজা খেতো কস্তুরী দানার পান— তাই পাইখানার কী সুগন্ধ! এমনই কতো আশ্চর্য গল্প।
মুকুল বলে, ‘নিমাই, তু মালের ভাটিত গেছিস কোনোদিন? চ, আমরা যাই, মাল খাই।
নিমাই হেডলাইট চালায় বুড়ির ভাটিতে তার প্রথম সন্ধ্যার দৃশ্যপটে। ধূলিধূসর পটভূমি দানা দানা বালুকণার মতো ঘনীভূত হয়। পুঠিয়া রাজবাড়ির মন্দিরে দেয়ালের টেরাকোটার গ্রন্থিত দৃশ্যগুলো জীবন্ত হয়ে উঠলে যেমন দেখায় তেমনই। আসরের মাঝে রাখা গনগনে কেরোসিন কুপি, শীর্ষে কালচে কমলা জিহ্বা লকলকিয়ে ওঠে। যার চারপাশে ঘিরে বসে আছে লোকগুলো। গেলাস, ভাঁড়-বিড়ির ধোঁয়ায় আর তাড়ির গন্ধে ভারী হয়ে আসে চকচকে বাতাস। তারা তিনজন ঘরে ঢুকতে সাহস পায় না। ঘরের পেছনে অন্ধকারে গোপন জায়গায় বসে। ভাটির মালিক নামেই বুড়ি। কালো বিশালাকার জোয়ান মেয়ে মানুষ একটা ছোট অনুজ্জ্বল কুপি হাতে মাল দিয়ে যায়—  ওরা খেতে থাকে। খেতে থাকে। খেতে থাকে। গ্লাস গ্লাস, ভাণ্ড ভাণ্ড, মন মন, পুকুর পুকুর, নদী নদী তাড়ির স্রোতে ভেসে যায় স্কুল। আরো ইয়ার দোস্ত ওই স্রোতে ভাসে। কেউবা ভেসে ভেসে হারিয়ে যায় অজানায়।
বড়ো বুড়ির ভাটির অদূরে গড়েছে ছোট বুড়ি নতুন ভাটি— সেখানে পেছনের অন্ধকারে নয়— নতুন বাঁশের নতুন বেড়ার বড়ো ঘরের মরদ কাস্টমার এখন তারা। ভাঁড়ে কচি বুড়ির গেঁজে ওঠা উপচে পড়া ফেনা। ঘাড়ে সিংহের কেশর।
স্কুলের পাঠ কবেই গেছে চুকে। নিমাই হেডলাইটে ফোকাস মারে নিজের উপর। সিনেমার মতো স্লো মশানে দৌড়াচ্ছে সে। দৌড়াচ্ছে আর বড়ো হচ্ছে। গোঁফ দাঁড়ি গজাচ্ছে। চুলের লতা লকলকিয়ে নামছে। সারা বিকাল তেল লাগায় চুলে। সিঁথি কাটে। গোঁফ শানায়। গাল ফুরিয়ে দাড়ি চাঁচে। গলায় মাফলার পেঁচিয়ে ফুঁক ফুঁক বিড়ি ফুঁকে চক্কর মেরে সন্ধ্যা নামায় শিবপুর বাজারে; নামলেই বুড়ির ভাটিতে। ওরে কি আলোরে। বুড়ির ঘর ধাঁধিয়ে যায়। জ্বল জ্বল করে। শালার এমন পাওয়ার হেডলাইটের। সব দেখতে পায় নিমাই। পেটে মাল পড়লে আমি হলেম রাজা— নিমাই ভাবে। ‘রাজ-মেথরের বংশ, রাজা ছাড়া কী?’ মেজাজ রাজসিক। আলোর রশ্মি বল্লমের মতো উর্ধ্বভেদী সারিবদ্ধ সুতীক্ষ্ম—ছোটবুড়ির নাকফুলের ঠিকরে ওঠা দ্যুতি—হাতে স্বর্ণভাঁড় থেকে তাল-তমালের ছায়ামাখা অমৃতরসের তাড়ি ঢালছে— ‘খা নিমাই খা—  জলে ভেসে যা। রাজার মান কেউ রাকলো না!’ রাজারা কোথায় হারালো। রাজমন্দিরের দেবীর চোখ থেকে মনি মরকত পড়লো খ’সে। নিমাই সুইপারের বংশধর হলো মেথরপট্টির মেথর। হায়রে! এমন অচেনা হতাশায় হঠাৎ ‘মা মা’ বলে চিৎকার দিলো সে। চারদিকে তাকালো। বুড়ির কোমরে রূপোর বিছায় নামলো অন্ধকার। রাজসিক মেজাজে তামসিক তাড়ির তলানি।
ভাটি থেকে বেরিয়ে আজ মেথরপট্টিতে ফিরতে ইচ্ছে করেনি। সে তখন দুঃখরাজ। প্রাচীন প্রাসাদের গাঁথনির ঝরে পড়া সুড়কি দানার মতো কণায় কণায় ঝরছে তার কঠিন দুঃখরস। দুঃখের রক্তলাল সমুদ্রে ¯œান শেষে পাখা মেলবে সে নীলাকাশের নিরুদ্দেশে—
নেশার মৌজে রাস্তায় বুক চিতিয়ে হাত মেলে ধরে চলন্ত গাড়ি থামানোর চিরন্তন খেলায় আজ তার মন হয়তো পরিপূর্ণ সাড়া দেয়নি। সে মেথরপট্টির গলিমুখে দাঁড়িয়ে ফিরে যেতে চেয়েছিলো? তাই কি আজ থামেনি চলন্ত গাড়িটা? ফিরে যেতে চেয়েছিলো এমন কোথাও যেখানে আর কখনওই ফেরা যায় না। বাজারের লোকগুলো এসব বুঝবে কি করে? কুয়াশার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে একজন কাছে এসে দেখে পড়ে আছে নিমাই। দেখে চিৎকার দিলে আরো কয়েকজন জড়ো হয়। কেউ বলে—  ‘আহা’, কারো ভয় ধরে রক্ত দেখে। আঁশটে গন্ধে কারো বমি আসে। ‘জানতাম এমনই হবে, লাটসাহেব, রাস্তার গাড়ি থামাও!’ —  নিমাইয়ের ‘রুক যাও’ নামক মাতাল খেলায় যারা আজীবন মজে উঠতো তাদের কেউ কি তার এমন পতনে নিষ্ঠুর আনন্দে শিহরিত? তারা খুব কাছে গিয়ে ঝুঁকে পড়ে ডাকে, ‘নিমাই, এ নিমাই, শুনচিশ, ওট, ওট…’
নিমাই একপলক চোখ খুললে হেডলাইটের তীব্র ঝলকে আকাশ ধাঁধিয়ে যায় কিনা লোকগুলো বোঝে না। ‘পারবি, উটতে পারবি? ওট ওট’— তাদের চোখের পেছনে অন্ধকারে লুকানো নিরব নির্মম মমতাময় কোনো কৌতুক ছিলো কিনা কে জানে?
তবে নিমাইয়ের ঠোঁটে চিরায়ত মদমত্ত পতনের অহংকার-ভরা এক চিলতে বাঁকা হাসির আকর্ষণে সবাই ঘন হয়ে আসে। বলে—  ‘ওট ওট, নিমাই উটে দাঁড়া’।
নিমাই বলে—  ‘নিমাই উটতে পারে, লেকিন নিমাই উটপেনা।

শামীম নওরোজ
চিহ্নপাতায় প্রেমসমাচার
১.
ফারুক কী শুকনো পাউরুটি গিলতে কষ্ট পাচ্ছিলো? শফিক ফারুকের পাছায় লাথি দিয়ে বলে— হালাই, দে আমাগো দে। আমি তখন একবার ভেবে দেখি, একগাল হাসি, চা, সিগারেট আর অবশ্যই একটি নতুন বইয়ের নাম ফারুক। শফিক কিছুটা কাচা হলেও তার পড়ার ধার বেড়ে যাচ্ছে— খুব কষ্টে যোগাড় করে হুমায়ুন মালিকের গল্প পড়ে, যে ব্যাখ্যা ও দেয় তাতে আমাদের শরীরের সমস্ত চুল খাড়া হয়ে ওঠে। আমরা মেহেরচণ্ডী থেকে রেলপথ ধরে হেঁটে-হেঁটে রাজশাহী নিউমার্কেটের উত্তরে হকার্স মার্কেটে ফজলুল হক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। আজ দুপুরেই তো পাবার কথা ‘চিহ্ন’। পেলাম। কিন্তু কিছু টাকা বাকি রয়েছে। দেবার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নানা রকমের মিথ্যা বলে ‘চিহ্ন’ নিয়ে ফিরে আসি। কোথায় যাব, কার কাছে গেলে ‘চিহ্ন’ বেঁচে থাকবে। এ সব ভাবার সময় নেই। কোথাও রাখতে পারলেই বাঁচি। শেষ-মেষ রাশভারি প্রভাষক আমাদের জন্য তাঁর বাসার দরজা খুলে দিলে আমরা মুক্তির আনন্দ নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরি। পরদিনই যে যার মাতৃ-পিতৃ ঠিকানায় রওনা দিই।

২.
১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষে কোটচাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হলাম। এর আগে থেকেই কবিতা লেখার কাজটা করে আসছিলাম। কোটচাঁদপুরে এসে পেলাম কবি চঞ্চল শাহরিয়ার, মৃন্ময় মনির, শাজান শীলন, সরসিজ আলীম, শিশির আজমকে। সঙ্গে কোটচাঁদপুরের সমৃদ্ধ পৌরপাঠাগার। আমি থাকতাম কবি সরসিজ আলীমদের শহরস্থ বাসাতে। আমি আর আলীম ভাই দেদারচ্ছে কবিতা লিখি। এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ এর শেষ পর্যন্ত আমরা বেশ কিছু সাহিত্যের কাগজও সম্পাদনা করি। এর মধ্যে ‘নির্বাচন’ নামের একটি কবিতার ভাঁজপত্র সম্পাদনা করেছিলাম। মাত্র একটি সংখ্যা বেরিয়েছিলো ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’। তবে ‘হৃদয়’ নামের কাগজটির বেশ কয়েকটি সংখ্যা বেরিয়েছিলো। ‘কবিতা লিখতে হবে’ এরকম অকাট্য প্রত্যয় গ্রহণ করি এই সময় থেকেই। বলা যায়, ১৯৯১ সাল থেকেই।
১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মান প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। কী যেন হলোনা—  এরকমভাবেই সম্মান ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষ শেষ করি। সাহিত্যের একটি কাগজ করা হলো না। ইতোমধ্যে বন্ধু শফিক ও ফারুকের সঙ্গে হৃদ্যতা গলায়-গলায় তৈরি হয়ে গেছে। শফিককে দিয়ে গল্প লেখালাম। ফারুক কিছুই লেখে না। শুধু পড়ে আর পড়ে। এখন আমরা এম, এ ক্লাসের ছাত্র। ওদের দু’জনের সঙ্গে আলাপ করে, কোটচাঁদপুর থেকে টাকা সংগ্রহ ২০০০ সালের ১ এপ্রিল বের করে ফেললাম ‘চিহ্ন’। ‘চিহ্ন’ প্রকাশের পর ‘চিহ্ন’র সম্পাদক শহীদ ইকবালের ভাড়ার বাসায় একসঙ্গে (তখনকার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পশ্চিমে) রেখে যে যার বাড়িতে চলে গেলাম। কাগজটি বেরিয়েছিলো ছুটির ভেতরে। তখন ক্যাম্পাস ফাঁকা। সম্ভবত ছুটির শেষের দিকে সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তি যাচাই পরীক্ষা ছিলো।
আমাদের এম.এ. পরীক্ষা শুরু হলো ৭ জুলাই ২০০০-এ। ভাইভাসহ পরীক্ষা শেষ হলো ২ ফেব্র“য়ারি ২০০০-এ। পরীক্ষা শেষ করে ঐ দিনই আমি আর পার্বতী (স্ত্রী) চলে এলাম। ও গেল পাকশীতে। আমি ঝিনাইদহে। খুব কষ্ট পাচ্ছি। বারবার ‘চিহ্ন’র কথা মনে পড়ছে। ভাবছি, কাগজটা কেমন হলো। প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। আমার সাথে ক্যাম্পাসের কোনো যোগাযোগ নেই।  ‘চিহ্ন’র খোঁজ নেবার মতো ব্যবস্থা তখনো আমার ছিলো না। বিবাহিত। নতুন সংসার। টিউশনির উপর নির্ভরশীল। তবে কবিতা লেখা থেমে নেই। পড়াশোনাও এগিয়ে যাচ্ছে। মন কাঁদে, জানার ইচ্ছা হয়—  ‘চিহ্ন’ কেমন আছে! ‘চিহ্ন’র প্রথম সংখ্যার শেষ প্রচ্ছদে লিখেছিলাম—  ‘এর পরের সংখ্যাটি হবে গল্পসংখ্যা’। হয়েছে? জানি না। এভাবেই দু’বছর কেটে গেল। ২০০২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি কলেজে জয়েন করলাম। কলেজে যাই, আসি। টিউশনি করি। তখনো এম.পি.ও. হয় নি। হঠাৎ এর মধ্যে আমার কলেজের ঠিকানায় ‘চিহ্ন’-৬, ফেব্র“য়ারি ২০০৩ সংখ্যাটি হাতে এলো। সে আনন্দ বোঝানো যাবে না। কুরিয়ারে যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দিয়েছি। বাসায় ফিরে পার্বতীকে দেখালাম। ও আত্মহারা। স্যার তাহলে আমাদের কথা মনে রেখেছেন। সংখ্যাটি বারবার পড়ি। উল্টাই। গন্ধ নিই।

‘প্রাণের ভেতরে প্রাণ, তারও অধিক প্রাণের খেলাধুলা।’

সংখ্যাটি হাতে পাবার আগে অনেক চিন্তা করেছি। ভেবেছি, ‘চিহ্ন’ নামে একটি কাগজ শুরু করি। প্রস্তুতিও নিচ্ছি। কিন্তু হঠাৎ ‘চিহ্ন’র ৬ষ্ঠ সংখ্যাটি হাতে পেয়ে সব ভেস্তে গেল। ‘চিহ্ন’ তো হচ্ছে। আবার নতুন করে কাগজ কী দরকার? না, আর কোনো সাহিত্যের কাগজ করিনি। কবি শিশির আজমের অনুরোধে ‘তীর্থ’ করেছিলাম। এক সংখ্যা মাত্র। এর পর নতুন কোনো কাগজ করার চিন্তা মাথায় আসেনি।
৩.
কুদ্দুস খানের মেসে দুপুরে শুয়ে আছি। ফারুক এলো। উঠে বসলাম। গলা জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না। বুঝতেই পারছি না—  কারণ কী? ও আমাকে নিয়ে রিকসায় উঠে আমার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে ক্যাম্পাসে এলো। ভাড়া মিটালো। আমি বললাম ব্যাপার কী?
— দোস্ তপু টিটু নামের একটা ছেলের সঙ্গে গুরে।
— তাতে তোর কী?
— কোনো দিন বলেছিস
—  না। (আমি খুব হাসলাম)
ফারুক যে কাঁদলো উপরের অংশটুকু পড়লে যে কারো হাসি লাগবে। আসলে ওর মায়ার জায়গা ততদিনে তপুতে স্থির হয়েছে। কিন্তু যখন ‘চিহ্ন’ করা শুরু করলাম কোনোদিন ওর মুখে তপুর কথা শুনিনি। এই আমাদের ‘তপুপ্রেম’, এই আমাদের ‘চিহ্নপ্রেম’।
৪.
‘চিহ্ন’-৬ সংখ্যাটি হাতে পাবার পর স্যারকে চিঠি লিখি। এরপর শুরু হয় ‘চিহ্ন’র কারণে, স্যারের ডাকে মাঝে-মাঝেই রাজশাহীতে আসা-যাওয়া। তখন কখনো স্যারকে বলে, কখনো স্যারের অগোচরে আমার কাছে না-থাকা সংখ্যাগুলো সংগ্রহ করতে থাকি। কিন্তু ‘চিহ্ন’-৫ ও ৮ সংখ্যাদুটি আজ পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারি নি। পারলে ভালো হতো। প্রাণের জিনিস, দুটি সংখ্যা নেই, এ কষ্ট পীড়া দেয়। ‘চিহ্ন’র কোনো কর্মী যদি সংখ্যা দুটি আমাকে দেয়, তার প্রতি আমৃত্যু কৃতজ্ঞ থাকবো।
১ম সংখ্যাটি নিয়ে কোনো কথা নেই। দ্বিতীয় সংখ্যাটি গল্প সংখ্যা। অসুস্থ প্রচ্ছদ, সংখ্যাটি নিউজ প্রিন্টে ছাপা। এটাই সংখ্যাটির বিশেষত্ব। ফুটে বের হবার যন্ত্রণা সংখ্যাটির সর্বাঙ্গে। কিন্তু লেখক তালিকা চেনামুখের বাইরে বের হতে পারে নি। সমস্যাটি প্রথম সংখ্যাটিতেও ছিলো। ‘চিহ্ন’ ৩য় সংখ্যাটির ইনার পেজে লেখা ‘এসো লিখিয়ে সব লেখায় লেখায় ভাঙি মগজের কারফিউ’ এই একটি বাক্যে বলা হয়ে গেছে ‘চিহ্ন’ কী? ত্রিস্তান আনন্দের এই বাক্যটি বেঁচে থাক। সংখ্যা ৬-এ এসে হঠাৎ মনে হলো ‘চিহ্ন’ প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার দিকে যাচ্ছে। লেখকসূচী সে কথারই জবাব দেয়। বৈশিষ্ট্যটি ধরে রাখতে পারলে ভালো। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার নানা কচকচানি পড়েছি। এ ব্যাপারে কারো দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ নয়। তবে সবার কচকচানির ভেতরে তিনটি বিষয় প্রতিষ্ঠান বিরোধীদের অবশ্যই লালন করতে হবে এমন বলা হয়েছে। যা তাদের লেখাতেও প্রকাশ পাবে।
ক)        আপদ-মস্তক মার্কসবাদী;
খ)        প্রাতিষ্ঠানিক বুর্জোয়াবাদ বিরোধী সংক্রান্ত মৌলিক ধারণা অর্জন ও প্রয়োগ;
গ)         সাহিত্যের সকলবাদের বিপক্ষে বাদহীন চেতনার সৃষ্টিকরা;
সংখ্যাটি পূর্বোক্ত বিচারের মাপকাটিতে কোনো ক্রমেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী নয়। হয়ে ওঠার লক্ষণও অনুপস্থিত। এরকম বিচারে ‘চিহ্ন’ ৭, ১১ ও ১২ সংখ্যাগুলোতে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার প্রচেষ্টা ছিলো। ৮ নং সংখ্যাটি আমার সংগ্রহে নেই। যে কারণে সংখ্যাটি সংস্পর্কে আমার বলারও কিছু নেই।
এখানে ‘চিহ্ন’র প্রত্যেকটি সংখ্যা নিয়ে বিচারের অবকাশ নেই। ‘চিহ্ন’র সঙ্গে আমার প্রাণের যে সম্পর্ক, সেটাই দেখাচ্ছি মাত্র।
চিহ্ন’- ৯ থেকে ‘চিহ্ন’ একটু কেমন যেন হয়ে গেলো। কিছু গদ্য, পদ্য আমাদের কাতর করে তুললো। ‘কীর্তিকা’র পরের সংখ্যা থেকে ‘চিহ্ন’ হয়ে উঠলো সকল পাঠকের/ লেখকের। এ যাবৎ ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ‘চিহ্ন’র ৩০টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এক কথায় বলা যায় বাংলাদেশে এই সময়ে যেসব সাহিত্যের কাগজ বের হচ্ছে তার মধ্যে ‘চিহ্ন’র সমকক্ষ একটিও নেই। এ ব্যাপারে কেউ বিতর্ক তুলতে চাইলে আমি প্রস্তুত আছি। ‘চিহ্নে’র এই শ্রেষ্ঠত্ব এসেছে তাঁর শক্ত সাংগঠনিক ভিত ও নিজস্ব লেখকগোষ্ঠী থাকার কারণে। ‘চিহ্ন’ যত লেখক তৈরি করেছে অন্য কোনো কাগজ তা পারি নি। একথা হলফ করে বলা যায়।
৫.
কুদ্দুস খানের মেসে থাকতেই শফিক কাকন-বিষয়ে একটি গল্প লিখে ফেলে। গল্পটি মারুফ রায়হান সম্পাদিত ‘প্রকৃতি’তে ছাপা হয়েছিলো। শফিক যে কাকনকে ভালোবাসতো এটা সবাই জানতো। আমি জানলাম একটু পরে ও যে দিন মাদার বক্স হলের ২০৪নং রুমে এসে আমার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদলো। ভালোবাসা কী? তা আজও বোঝা হলো না। বুঝতে চাইও না। বুঝতে গেলেই ঝামেলা। দোস্ কাঁদছো ক্যান?
—  কাকন শুভ্ররে ভালোবাসে। আজ এক সাথে ঘুরতে দেখলাম।
—  তাতে তোর কী?
—  না, ও যে আমার জন্য পাগল।
— তাতে কি? ও এখন শুভ্রর জন্য পাগলী। কাঁদিস না। চল নিচে গিয়ে চা খাই।
‘চিহ্ন’ করতে গিয়ে এসব প্রেমের কথা শফিকের মুখে সত্যিই কোনোদিন শুনি নি। কি আশ্চর্য!
৬.
‘চিহ্ন’-৯ সংখ্যা থেকে ‘চিহ্ন’র সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হলেও আমার কবিতা ছাপা হলো ১৪, ১৬, ১৮, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ সংখ্যায়। উল্লেখিত প্রতিটি সংখ্যায় আমার কবিতা আছে। দুটি সংখ্যায় গদ্যও লিখেছিলাম। আসলে আমার ইচ্ছাটা একটু অন্য রকম। বলি, জাতীয় দৈনিকে যে লিখবো না তা নয়, তবে লেখার জন্য সাহিত্যের কাগজই যথেষ্ট। অন্য কোথাও লিখবো না। ঠিকও করে ফেলেছি ‘চিহ্ন’ তো প্রাণের কুটুম। বিশ্বাস করুণ, সারা বছর যত কবিতা লিখি সব ‘চিহ্ন’র জন্য। কিন্তু পাঁচটি কবিতা পাঠালে দেখা যায় স্যার তিনটি কবিতা ছেপেছেন। এতে মন-খারাপ হয় না। স্যারের ইচ্ছায় আমার ইচ্ছা পূরণ। এর বাইরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত শফিক সেলিম সম্পাদিত ‘মানুষ’ ও ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত সুমন সিকদার সম্পাদিত ‘বেগবতী’তে লিখি। যতœ করেই লিখি। ওপার বাংলায় রণবীর দত্ত সম্পাদিত ‘কবিতাআশ্রম’, শ্যামলকান্তি দাশ সম্পাদিত ‘কবিসম্মেলন’ ও নির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘মন্থন’-এ মাঝে-মাঝে লেখা পাঠাই। পশ্চিম বাংলায় নিয়মিত লেখা পাঠানো বেশ ঝামেলা পোস্টঅফিস, টিকিট, খামের ওজন, লেখা পেল কিনা, পেলেও ছাপা হলো কিনা—এসব কারণে ওপার বাংলায় খুব কম লেখা হয়। তবে, রনবীরদা, শ্যামলদা ও নির্বাণদা মাঝে-মাঝে ফোন দিয়ে লেখা চান। পাঠাই। ছাপা হলে ফোন করে জানান।
‘চিহ্ন’ এখন প্রাণ-স্বরূপ। বছরে খুব বেশি যে কবিতা লিখি তা না। যা লিখি তা বছরের ‘চিহ্ন’র দু’সংখ্যায় সব ছাপা যায়, কিন্তু তা হয়ে ওঠে না। এটা যদি হতো, তাহলে লেখা ছাপার চিন্তাটা আর থাকতো না। ‘মানুষ’ ও ‘বেগবতী’ নিয়ে চিন্তা করতে হয়। ওপার বাংলার তিনটি কাগজ নিয়ে ভাবি। সবাইকে লেখা দিই। সাধ্য মতো লিখি। কোনো লেখায় অবহেলা করি না।
‘প্রাণের পাতায় প্রাণ ছাপা হয়, প্রাণের ধুলোবালি।’
আবার অনেক কাগজ জোর করে লিখিয়ে নেয়।
৭.
বেশ কথা বলা হলো এবার স্যারের বিবেচনা ও ‘চিহ্নে’ লেখা ছাপা নিয়ে কিছু কথা না বললেই না।
‘সবুজপত্রে এমন লেখা ছাপতে চাই, যে লেখা চির সবুজ। ভালো লেখার অভাবে কখনো যদি দু’একটি হলুদ লেখা ছাপি তাহলে এমন লেখা ছাপাবো যা ঠেলা যাবে কিন্তু ফেলা যাবে না। (রবীন্দ্রনাথকে লেখা প্রমথ চৌধুরীর একটি চিঠির অংশ বিশেষ)
আমার স্যার নিশ্চয় এ চিঠি পড়েছেন। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কখনো-কখনো ছাড় দিতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘চিহ্ন’র দু’একটি সংখ্যার পাতা উল্টিয়ে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
আমি ১৬ সংখ্যা ‘চিহ্ন’ নিয়ে অন্য কোনো লেখার কথা বলবো না, বলবো কবিতা নিয়ে। সংখ্যাটি পঞ্চাশের দশকের কবি আবুবকর সিদ্দিকের কবিতা দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর কবি দিলওয়ার, মহীবুল আজিজ, গোলাম কিবরিয়া পিনু, হাফিজ রশিদ খান, মুহম্মদ হাসান ইমাম, সরোজ দেব, সিধার্থ শংকর ধর, কুমার দীপ, রকিবুল হাসান, নাসিমা আকতার, আসাদুজ্জামান খোকন, মাসুদ চৌধুরী, নিশীথ দাস, শামীম হোসেন, সুজন হাজারী, —এতগুলো কবির কবিতা আছে। আমার কথা হলো বয়োবৃদ্ধ হোক আর অতি তরুণতর হোক তাতে কোনো বাধা নেই। মূলত, আমাদের চোখ কেন পরিচিত মুখের বাইরে যাচ্ছে না। আবার ভালো কবিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যেন একটু শরম কাজ করছে। এরকম হতে থাকলে কাগজের ক্ষতি হবে। মনে রাখতে হবে, ভালো লেখার সমন্বয়ে একটি ভালো কাগজ তৈরি হয়। কথা হলো কার লেখা ছাপা হবে আর, কার লেখা ছাপা হবে না, এটা মুখ দেখে নয়, লেখা পড়ে লেখা ধার্য করতে হবে। জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীতে অহরহ লেখে এমন কবিদের কবিতা ‘চিহ্ন’-এ ছাপা বোকামি ছাড়া অন্য কিছু নয়। কারণ ‘চিহ্ন’ লেখকরা তো সারাজীবন ‘চিহ্ন’তেই লিখে যাবে না। তাদের লেখার জায়গা দরকার। এটা যদি কোনো কাগজ করতে না চায়, আমরা অবলীলায় সে কাগজ বাদ দেব। ‘শালুক’ বা ‘লোক’র মতো দলবাজ ঢাকা কেন্দ্রিক কাগজে লিখতে চাই না। আমরা এমন কাগজে লিখতে চাই যে কাগজ সারাদেশের মুখ তুলে ধরতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আমি পুলিন রায় সম্পাদিত ‘ভাস্কর’ ও ‘চৌধুরী বাবুল বড়–য়া সম্পাদিত ‘সমুজ্জ্বল সুবাতাস’ এবং খান নুরুজ্জামান সম্পাদিত ‘খেয়া’র কথা বলতে পারি। আমি ‘শালুক’ বা ‘লোক’-এর নিন্দা করছি না। অনেককাল ধরে দেখে আসা তাদের বৈশিষ্ট্যের কথা বললাম মাত্র। ‘চিহ্ন’ তো নিঃস্বদের কাগজ সেখানে ধনীদের লেখা ছাপা দেখলে প্রাণ পুড়ে যায়। ‘চিহ্ন’র ৩০টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। ১৮ সংখ্যক ‘চিহ্ন’র কবিতা নিয়ে কথা বলেছি। নাম একটু পরিচিত হলেই যে তাঁর লেখা ছাপতে হবে, এটা কোন্ বিশ্বাস? লেখা লেখা হতে হবে, তবেই তা ছাপা হবে। এরকম দৃষ্টান্ত দেখাতে পারলে ‘চিহ্ন’ আরো খানিকটা এগিয়ে যাবে। এবার ‘চিহ্ন’র ২৯তম সংখ্যা নিয়ে একটু বলবো। এমন বিষয়াদি নিয়ে বাংলাদেশে ইতোপূর্বে কোনো কাগজ বের হয়েছে বলে আমার জানা নেই। ঢাকা থেকে প্রকাশিত অসংখ্য পত্রিকার ইতিহাস ছাপা হয়েছে। এরকম চিন্তা স্যারের মাথায় এলো কী করে এটাই ভাবার বিষয়। সংখ্যাটিতে অন্যান্য নিয়মিত অংশও রয়েছে। ‘কী লিখি, কেন লিখি ’ মাঝে মাঝে চোখে পড়ে, এসব বয়ান শোনার ইচ্ছা আমাদের নেই। আপনি লেখেন, আপনার বইটা পড়বো- এটাই আমাদের ইচ্ছা। একটা কথা না বললেই না। অনুদিত কোনো কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস ছাপা হলে মূলভাষার লেখকের পরিচিতি, লেখাটি ঐ লেখকের কোন গ্রন্থ থেকে গৃহিত হয়েছে, এসবের উল্লেখ আবশ্যক। তা না হলে অনূদিত লেখাটির উৎস ও অনুবাদ বিষয়ে সন্দেহ থেকে যায়। কাপালিকের লেখাটি বিষয়ে বললাম। ঢাকাচন্দ্রিকা ও নিয়মিত অংশ মিলিয়ে এর আগে এতটা উপকারি ‘চিহ্ন’ আমরা হাতে পাই নি। স্যারকে ধন্যবাদ।
৮.
বিশ্ব বিদ্যা লয় করার আগেই আমি বিয়ে করেছিলাম। সেটা ১৯৯৮ সালের প্রথম দিকে। তখন সম্মান প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে যাবার প্রস্তুতি কাল। আমি একাই না, এদলে জুয়েরিয়া-কবির, কাকন-শুভ্র, অনেকেই ছিলো। আমরা সবাই এখনো সংসার করে যাচ্ছি। শুধু কাকন আর শুভ্র ভাগ হয়ে গেছে। তো মাঝে-মাঝে আমরা রাত্রি যাপনের জন্য শহরের সূর্যমুখী হটেলে যেতাম। ম্যানেজার লোকটি বেশ ভালো মানুষ ছিলেন। সে এক দিন গেছে বটে। কাকন অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির ছিলো। ও কিছু না হলেও ১০ বার আমাদের সঙ্গে শুভ্রকে নিয়ে ঐ হোটেলে থেকেছে। অথচ শেষ বেলায় কাকন অস্বীকার করে বসলো শ্রভ্রর সঙ্গে তার বিয়েই হয় নি। শুভ্র কাবিন দেখালে কাকন বলেছিলো টাকা থাকলে এরকম কাবিন করা যায়। আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। আমরা সবাই বিশ্ব বিদ্যা লয় করে যখন মাতৃ-পিতৃ ঠিকানায় ফিরছি তখন সবাই আনন্দে গেলেও শুভ্র গিয়েছিলো এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে। আমি এক শুভ্রর খোঁজ রাখি। শুভ্রদের এরকম শতশত দীর্ঘশ্বাসে ভরে উঠেছে, উঠছে, উঠবে ‘চিহ্ন’। শুভ্রদের দীর্ঘশ্বাসের পরিবর্তন হবে শৈল্পিক ভিন্নতার ভেতরে ভেতরে।
৯.
একটি সংখ্যা শুধু ‘চিহ্ন’র লেখকদের লেখা নিয়ে করলে কেমন হয়?- বিষয়টি স্যার ভাববেন নিশ্চয়। কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, বই আলোচোক, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সবই আমাদের আছে। আসলে দেখতে হবে, ‘চিহ্ন’ কতটা আত্মনির্ভরশীল। ‘চিহ্ন’ বেশ খানিকটা এগিয়েছে। এর রয়েছে প্রকাশনা সংস্থা। সেখান থেকে বই বের হয়। ২১ শের বই মেলায় স্টল মেলে। ‘চিহ্ন’ তার পসার সাজিয়ে বসে, তবে এক্ষেত্রে প্রথম থেকেই একটা সমস্যা ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে। বিষয়টি এরকম যে, টাকা থাকলেই ‘চিহ্ন প্রকাশনী’র নামে একটা বই প্রকাশ করা যায়। এটা বন্ধ না হলে ‘চিহ্ন প্রকাশনী’র মান ক্রমান্বয়ে কমে যাবে। ৫০ দশকে চট্টগ্রামে ‘বইপত্র’ নামে একটি প্রকাশনী ছিলো। সেই প্রকাশনী থেকে শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরীদের মতো কবিদের বই প্রকাশ পেত। তাহলে ‘চিহ্ন’র অসুবিধা কোথায়? লেখক নিজ খরচে বই বের করবে। তবে ‘চিহ্ন’র কিছু সদস্য’ এক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপি যাচাই করে দেখবে। টাকা থাকলেই বই বের হবে— এরকম সহজ পদ্ধতি বাদ দিলে ভালো হয়। আমি যতদূর জানি ‘চিহ্ন’র প্রতিটি সংখ্যা বের হয় স্যারের পকেট থেকে। মনে হয় অন্য একজন অধ্যাপক এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেন। প্রতিটি ‘চিহ্ন’ ‘চিহ্ন-পরিবার’কে সমৃদ্ধ করছে। কিন্তু এই মুহুর্তে ‘চিহ্ন’র অনেক কর্মী এখন আর লেখে না। শুধুমাত্র ‘চিহ্ন মেলা’য় অংশগ্রহণ করে মাত্র। আমার মনে হয় চিহ্ন’র ভেতরে একটি শুদ্ধি অভিযান চালানো দরকার। এতে ধান ধানই থাকবে চিটে উড়ে যাবে। উপকারটা হলো ‘চিহ্ন’ একদল সক্রিয় লেখক পাবে। যারা লিখবে, ‘চিহ্ন’র দায় মেনে নেবে। আমি আজ পর্যন্ত ‘চিহ্ন’র বই নিয়ে কোনো ‘চিহ্ন’ লেখকের লেখা আলোচনা পড়ি নি। পড়েছি, সেটা ‘চিহ্নে’। ‘চিহ্ন’কে ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে কিছু সমালোচক দরকার। এক্ষেত্রে আমি সবার আগে এগিয়ে আসতে রাজি। অন্য দিকে ‘চিহ্ন’ প্রকাশনীর বই বিক্রি হয় না। দেশময় এত ‘চিহ্ন’কর্মী তারা এককপি করে বই কিনলেই তো সব বই বিক্রি হয়ে যাবার কথা। ‘চিহ্ন’র বাৎসরিক গ্রাহক করা যায় কি না ভেবে দেখা যেতে পারে; যা বললাম তা কঠিন নয়। একটু কৌশল অবলম্বন করতে হবে মাত্র। বাকি-বর্গা অনেক তো হলো এবার একটু নগদে হয় কিনা দেখা যাক।
১০.
শফিকের হলের রুমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিইচ্ছু চারজন ছাত্র এলো। ওরা ওদের মতো থাকে, খায়। আমরা আমাদের মতো। ঘটনা হলো এই চার জনের মতো বেয়াদব আমি কোনোদিন দেখি নি। একরাতে আমরা ঘুমানোর জন্য বিছানায় গেলাম। সারাদিন ‘চিহ্ন’র গেটআপ, মেকাপ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। অর্ধপেট খাওয়া। ক্ষুধা আর রাগ একসঙ্গে কাজ করছে। ঐ চার ছাত্র পরের দিন ভর্তি পরীক্ষা দেবে। কিন্তু কোনো চিন্তাই নেই। সারারাত তাস খেললো। হাসাহাসি হৈচৈ করতেই থাকলো। আমরা ঘুমাতে পারছি না। শফিক চারজনকেই মারার জন্য ফারুক আর আমাকে বললো। আমি বললাম থাক। ওরা পরীক্ষা দিতে গেলে তখন ঘুমাবো। কিন্তু শফিক আর রাগ ধরে রাখতে পারলো না। ফারুকের অবস্থাও তাই। আমি চুপচাপ শুয়ে আছি। হঠাৎ শফিক মশারি টানানোর টানা দিয়ে মার শুরু করলো। ফারুক আর একজনকে। এভাবে পর্যায়ক্রমে চার জনই মার খেয়ে চুপচাপ বসে থাকলো। কী করবে ভাবছে। আমরা সকালে বেরিয়ে গেলাম। দুপুরে এসে দেখি তারা সব ভেগেছে, কেউ নেই। মনে পড়লে এখনো আমার হাসি পায়। এই চার জনের মতো অভিজ্ঞতা যেন আর কারো না হয়। খোদা, তুমি রক্ষা করো।
১১.
সালা-তারিখ মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে যে, শহীদুল্লাহ্ কলাভবনের ১৫০ নং রুমে ‘চিহ্ন’ বিষয়ক একটি আলোচনাসভা হয়েছিলো। তাতে আমরা যারা রাজশাহীর বাইরে থাকি তারা অনেকেই অংশ গ্রহণ করেছিলাম। মনে পড়ছে, ঐ সভাতেই হোসেনউদ্দীন হোসেন ও মামুন মুস্তাফা ‘চিহ্ন’ পরিবারের সদস্য হয়েছিলেন। সভাটি হয়েছিলো দ্বিতীয় ‘চিহ্নমেলা’ আয়োজন উপলক্ষ্যে। সেখানে কম-বেশি আমরা সবাই কথা বলেছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলাম কম। শুনেছিলাম বেশি। কথা বেশি শুনতে গিয়েই সমস্যাটা বাঁধলো। মঞ্চে উঠলো ‘চিহ্ন’র নির্বাহী সম্পাদক রহমান রাজু। রাজু উঠেই বলতে শুরু করলো— ‘স্যার (ড. শহীদ ইকবাল) তো দীর্ঘ দিন ধরে ‘চিহ্ন’র সমস্ত কাজ করে যাচ্ছেন। উনার নানা ব্যস্ততা। এত ব্যবস্ততার মাঝে সময় পাওয়াটাও বেশ কষ্ট। আমি মনে করি, ‘চিহ্ন-সম্পাদক’ হিসেবে স্যারই থাকবেন। তবে সমস্ত কাজ-কর্ম আমরাই করবো।’—কথাগুলো এরকমই ছিলো। রাজু কথা বলে যাচ্ছে। আমি মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছি এর প্রতিবাদ করার জন্য। কিন্তু তড়িঘড়ি মর্মরিত ঊষাপুরুষ (আবুল ফজল) মঞ্চে গিয়ে প্রতিবাদ করলো। ঊষাপুরুষ বললো— ‘স্যারের এমন কোনো বয়স হয়নি যে তাঁকে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে হবে। তিনি ক্লান্তও হন নি। আমি রাজু ভাইয়ের কথা মেনে নিতে পারছি না।’ আমি খুশি হলাম। কিন্তু একটা কথা পরে এসে মনে হলো— তাই তো—এমন কথা কেউ হঠাৎ বলতে পারে না। রাজু যা বলেছে তা কী একলা রাজুর কথা? এটা ‘তিন মাথা’ প্রসূত নয় তো! (‘তিন মাথা’ কথাটি আমাদের এলাকায় জটিল বিষয় বোঝাতে প্রবাদ রূপে ব্যবহৃত হয়)। আমাদের সামনে জীবন্ত উদহারণ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সত্তর বছর বয়সে এসে নতুন করে ‘কৃত্তিবাস’ শুরু করলেন। সত্তর বছরের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত সাগরময় ঘোষ ‘দেশ’ পত্রিকা সম্পাদন করে গেছেন। সিকানদার আবু জাফর ১৯৫৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ‘সমকাল’ সম্পাদনা করেছেন। ১৯৭৫ সালে তিনি মারা যান। দীর্ঘ বয়স, দীর্ঘ দিন ধরে সাহিত্যের কাগজ করার দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে আছে। এই দৃষ্টান্ত অনুসারে স্যার তো ছোট খোকা। তাহলে রাজুর ঐ কথাগুলো বলার কারণ কী ছিলো?
আমি মনে-প্রাণে চাই ‘চিহ্ন’র পাশাপাশি আর একটি সাহিত্যের কাগজ ক্যাম্পাস থেকে বের হোক। তারাও মেলার আয়োজন করুক। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়–ক সেই সাহিত্যের কাগজ। তা না করে ছেলেমি বুদ্ধির বলে স্যারের হাত থেকে ‘চিহ্ন’টা লুট করে নেবার চিন্তা করে লাভ কী? আমরা ‘চিহ্ন’র ছায়ায় বেড়ে উঠেছি। এখনো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছি। ‘চিহ্ন’ এখন প্রতিষ্ঠিত। স্যার যতদিন আছেন, আমরাও আছি, ‘চিহ্ন’ও থাকবে।
১২.
‘চিহ্ন’র সঙ্গে সম্পর্ক প্রেমের, ভালোবাসার। এটা নষ্ট হবার নয়। ‘চিহ্ন’ আছে বলেই যে আমি আছি তা নয়, আমি আছি বলেই ‘চিহ্ন’ আছে। এই ‘আমি’ সকল ‘চিহ্নকর্মী’। এখানে ‘চিহ্নকর্মী’ বলতে বোঝাতে চাচ্ছি যারা নিয়মিত লেখে এবং সবচেয়ে ভালো লেখাটা ‘চিহ্ন’কে দেয়। ‘চিহ্ন’ বছরে দুটি সংখ্যা বের হয়। দু’টি সংখ্যার জন্য একজন লেখকে দুটি গদ্য বা দশটি পদ্য লিখে রুচিশীল একটি সাহিত্যের কাগজে ছাপা সহজ নয়। কিন্তু ইদানিং মনে হচ্ছে ‘চিহ্ন’ সহজ হয়ে যাচ্ছে। অনেক অগদ্য, অপদ্য ‘চিহ্নে’ ছাপা হচ্ছে। নাম ধরে ধরে বলতে পারি। এই দা, কিরিচের যুগে তা থেকে সংযত থাকাই ভালো। আমি  ‘চিহ্নে’ প্রকাশিত লেখার মান যেন ইতিহাস হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে ‘চিহ্ন প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের মান নিয়ে গর্ব করা যায়, এ দুটি বিষয় সর্বান্তকরণে, প্রেমে ও ভালোবাসায় আশা করি।

রিঙকু অনিমিখ
পদক্ষেপে চিহ্ন থেকে যায়
প্রথম পদক্ষেপেই চিহ্ন থেকে গেলো। আক্ষরিক অর্থেই পদক্ষেপ অর্থাৎ ডান পায়ের একটি ছাপ দেখামাত্রই অনুধাবন করা যায় বাঁ পা সামনে ধাবমান। আর পদচ্ছাপের মধ্যভাগে ‘‘সেইসব শেয়ালেরা ঠোঁট চেটে ‘কিছুই হচ্ছে না’ রব তোলে তাদেরকে চিহ্ন থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে” ঘোষণায় চিহ্নর যে প্রথম পদক্ষেপ মূলত এই-ই প্রথম নয়, বরং এই পদচ্ছাপ পেছন থেকে হেঁটে আসাকেই নির্দেশ করে। অর্থাৎ হাঁটাটা অনেকদিনের তার চিহ্ন এই প্রথম দৃশ্যমান।

তখন ছিলো উন্মাদনার কাল। উন্মাদনা সাহিত্যের। আরো স্পেসিফিক করে বলতে গেলে ইনফ্যাক্ট ছোটকাগজের। তখনও ইন্টারনেট মহামারির মত ছড়িয়ে পড়েনি। বাড়েনি মোবাইল ফোনের আগ্রাসনও। মহামারি ও আগ্রাসন শব্দ দুটিতে কারো আপত্তি থাকলে থাকতেই পারে। তবে এ কথা তিনিও নিশ্চয় স্বীকার করবেন যে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন যোগাযোগ যত সহজ করেছে ততটাই ঠুনকো করেছে মানুষের সম্পর্ক। এ প্রসঙ্গে আমার একটি পদ্য আছে যার শেষ চার লাইন উদ্ধার করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না। —‘যোগাযোগের ফাঁক ঘুচেছে/ঘরের পাশে ঘর/দূরকে ডেকে কাছে এনে/আপন করছে পর।’ হিসাব সোজা, কিছু পেলে কিছু হারাতে হবে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক শান্তির বিনিময়ে আমরা প্রাযুক্তিক সুবিধা কিনেছি।

২০০০ সাল। তখনও প্রাযুক্তিক সুবিধার সাথে সবটুকু শান্তির বিনিময় করিনি আমরা। সুতরাং রাতে মোবাইল রিংটোনের বদলে ভেসে আসতো বাঁশির মোহনীয় সুর। কি-বোর্ডের বদলে কাগজ আর কলমেই লেখা হত কবিতা। ই-মেইল মেসেজের বদলে বিনিময় হত চিঠি। এই চিঠিই ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম, ডাকপিয়ন ছিলো পরমাত্মীয়। ফলে সম্পর্ক ছিলো গাঢ়, ভাবনা বিনিময় ছিলো বিস্তর ও সুসংহত। এই চিঠিতেই প্রথম জানতে পারি চিহ্নর পূর্ববর্তী পদক্ষেপের শব্দ। জানালেন আমারই প্রতিবেশী এক বন্ধুস্থানীয় অগ্রজ গল্পকার সৈকত আরেফিন। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র (পরবর্তীকালে তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগেরই শিক্ষক)। পোস্ট কার্ডের ছোট্ট চিঠিতে প্রথম জানতে পারি তারা জমে উঠছেন। শহীদ ইকবাল স্যারের ছত্রছায়ায় একদল শব্দ-সম্ভাবনাময় তরুণ দানা বাঁধছে। প্রতি রোববার বিকেলের জানু ছুঁয়ে বয়ে যাচ্ছে তাদের আড্ডা। ১৩০, শহীদুল্লাহ কলাভবন কিংবা কলাভবনের সামনের মাঠে—ঘাসের ওপর। বিকেল থেকে তারা সন্ধ্যা নামিয়ে ফেলছে। কিন্তু সে সন্ধ্যা কেবল অন্ধকার নয়, বরং প্রদ্বীপ জ¦ালবার প্রেরণা যোগানো আঁধার। লিটল ম্যাগাজিনের সাথে তখন আমাদের পরিচয়পর্ব চলছে। দূর থেকেই অনুভব করলাম কিছু চাপা বারুদের জ্বলে উঠবার প্রতীক্ষা। আমরা তখন পাবনার যমুনাতীরবর্তী কাশীনাথপুরে, আখের তরল রসে দানাদার চিনির আক্রোশে ভুগছি। আমরা—অগ্রজ রমন রসিক, শাফিক আনাম, আলাউল হোসেন, শফিউল শাহীন, খান নুরুজ্জামান, গোবিন্দলাল হালদার…ছোটকাগজ…আড্ডা; আমরাও তখন শব্দসম্ভাবী। আমাদেরই প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে সৈকত ভাই তখন রাজশাহী থেকে এসে আমাদের আড্ডায় সামিল হচ্ছেন। ফলে এই দুটি দূরবর্তী আড্ডার একটা যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে। তো আমরা তখন বারুদশালা বিষয়ে অবগত হচ্ছি। লিটলম্যাগ বা ছোটকাগজ যে শুধু করার জন্যই করা, এমনটা নয়। এটা যে একটা মুভমেন্ট যা মানুষের বিশেষত লেখক ও পাঠকের চেতনাকে নাড়িয়ে নতুন ধারণার উন্মেষ ঘটায়। সে সম্পর্কেও আমরা বিন্দু বিন্দু জানছি। লিটলম্যাগ মানেই একটা বিরোধিতা। আধিপত্যবাদী ডিসকোর্সের বিরুদ্ধে শিল্প-সাহিত্যের পালটা এক ডিসকোর্স দাঁড় করানো। নতুন সৃষ্টি পুরানো সৃষ্টিকে অস্বীকার না করে দাঁড়াতে পারে না। অস্বীকারের মাধ্যমে পুরাতনকে নবায়ন না করে, নতুনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন না করে বিরোধিতার ভিত্তি নির্মাণ সম্ভব নয়। এই হচ্ছে লিটলম্যাগের মোটামুটি ধারণা। তো নানা রকম ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞার কুয়াশা ভেদ করে যখন এই ধারণায় পৌঁছলাম, তখন চিহ্নর দু’তিনটি সংখ্যা বেরিয়ে গেছে এবং এপার-ওপারের মিলিয়ে শতাধিক ছোট বড় কাগজের সাথে ততদিনে আমাদের পার্সোনালি যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেছে। ফলে যেটা হল, অন্যান্য কাগজের সাথে চিহ্নর একটি কম্পারেটিভ পার্থক্য বা বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা গেল।

প্রথমত লিটল ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রে গোষ্ঠীবাদিতার যে প্রয়োজনীয়তা তা চিহ্নর ছিলো। এই গোষ্ঠীবাদিতা কিন্তু আবার মৌলবাদ নয়। চিহ্ন নিজেদের ছাড়াও সমমনা যে কাউকেই আহ্বান করেছে লিখতে। ছেপেছেও লেখা। এতে কিছু নেগেটিভ সাইড-ইফেক্টও তৈরি হয়েছে। নতুন চিন্তার পরিপন্থী লেখকদের লেখাও স্পেস পেয়েছে। ফলে কিছু গুণ থাকা সত্ত্বেও চিহ্নকে পুরোপুরি লিটলম্যাগ বলতে পারিনা আমি। কিন্তু নতুন চিন্তা, স্টাইল, প্রকাশের ভিন্নতা, প্রচল প্রথা ভাঙার উদ্যম—দৃঢ়তা, যৌক্তিক অস্বীকার—এইসব কারণে চিহ্নকে লিটলম্যাগ বলতে খুব একটা দ্বিধাও হয়না।

লেখক তৈরি লিটলম্যাগের অন্যতম ধর্ম। এ ক্ষেত্রেও চিহ্নর সফলতা নেহায়েত কম নয় কিছু। এমন অনেক লিটলম্যাগ আছে বেশ কয়েকটি সংখ্যা বেরিয়ে যাওয়ার পরও যাদের একজন লেখক-কবি তৈরি করার কৃতিত্ব নেই। চিহ্নর কল্যাণে আমাদের সাথে পরিচয় হয়েছে ত্রিস্তান আনন্দের মত সত্যিকারের প্রতিভাবান একজন কবি ও গদ্যকারের সাথে। পেয়েছি সৈকত আরেফিনের মত একজন নতুন ভাষার গল্পকারকে। পেয়েছি সজল সমুদ্রের মত প্রকৃত কবি, কুমার দ্বীপের মত বহুমাত্রিক প্রতিভাবান কবি ও গদ্যকার, তুহিন ওয়াদুদের মত কলামনিস্টকে…। এদের কেউ হয়তো থাকবেন, কেউ থাকবেন না। কিন্তু তাদের প্রতিভার যে চমক দেখতে পেয়েছি তা সমকালে প্রতিনিধিত্বের দাবী করে।

‘প্রধান সম্পাদক’ পদবীটির মধ্যে এক ধরনের সিংহাসনের গন্ধ আছে। তবে রাজ্য যদি শান্তির হয়, সিংহাসনে ক্ষতি কী? যদিও কনসেপ্টটা পুরনো। লিটলম্যাগের সাথে বেমানান। তবে এতে একটা অভিনবত্বও আছে। চিহ্নপ্রধান প্রতিটি সংখ্যা সম্পাদনার দায়ভার তাঁর টিমের একেক জনের উপর অর্পণ করতেন। ফলে প্রতিটি সংখ্যাই আবির্ভূত হত ভিন্ন ভিন্ন ইমেজ নিয়ে। এখনও এই একই ধারাবাহিকতা। যাদের উপর দায়ভার তাদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা হত কে কত ভালো করতে পারে, তার।

শুরুটা হয়েছিলো কবি শামীম নওরোজকে দিয়ে। এরপর একে একে রহমান রাজু, তুহিন ওয়াদুদ, ইফতেখার মাহমুদ, সৈকত আরেফিন, সজল সমুদ্র প্রমূখ কবি, লেখকগণ এই দায়িত্ব পালন করেছেন। করছেন এখনও। ফলে ভিন্ন সম্পাদনায় বিভিন্ন চিন্তার প্রতিফলনে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ আস্বাদন করা যেত।

সাড়ে তিন ফর্মার প্রথম পদক্ষেপে আবিভূত হওয়া চিহ্ন হঠাৎ করেই বড় কাগজের ঘোষণা দিয়ে বদলে গেল। যে কাগজ ঠিকঠাক ছোটই হতে পারলো না, সে কি করে বড় হয়? এ ‘ছোট’ নগণ্য অর্থে নয়, ভারমুক্ত অর্থে। ভার অর্থ দায়বন্ধতা, আপসকামিতা। যে মুক্তি বহু দূর উড়ে উড়ে ছড়িয়ে যাবার সাহস ও সাধ্য জোগায়। ছোট হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও না ছোট, না বড়—না বড়, না ছোট টাইপের ঢাউস কলেবরে বৃদ্ধি পেয়ে চিহ্ন স্থুলাকার হয়ে গেল। আমরা আহত হলাম। কিন্তু আশ্চর্য! এই স্থুলাকার শরীর নিয়েও সে দিব্যি উড়তে পারছে! উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে জড়ো করছে হাজারও দৃশ্যপট। আমরা আবারও কৌতূহলী হয়ে উঠলাম।

২০১১ সালে চিহ্নের দশকপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের ছোটকাগজ নিয়ে আয়োজন করে প্রথম ছোটকাগজ মেলার। উৎসবের আয়োজন করে চিহ্ন কর্তৃপক্ষ। বিশাল আয়োজন। না দেখলে বিশ্বাস হয় না। সত্যিকারের সাহিত্যসভা বলতে যা বোঝায়, চিহ্ন কর্তৃপক্ষ তাই করে দেখিয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে এতবড় মিলনমেলা আর কখনও দেখা যায়নি। তিনদিনব্যাপী এই উৎসবে অংশ নিয়েছিলো প্রায় ৫০টি ছোটকাগজের স্টল। শতাধিক লেখক কবিদের অংশগ্রহণ। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই ছোটকাজের লেখক, সম্পাদক।  কত প্রাণজ, কত আন্তরিক উৎসবমূখর ছিলো সেই আয়োজন। ইভেন্টগুলোও ছিলো চমৎকার! লেখক, সম্পাদক মুখোমুখী আড্ডা। লেখক পাঠক মুখোমুখী আড্ডা। সাথে স্বরচিত কবিতা পাঠ তো ছিলোই। ৬টি বিভাগ থেকে ৬টি ছোটকাগজকে দেয়া হলো সম্মাননা-পুরস্কার।

এরপর ২০১৩-তে দুই বাংলার শতাধিক লিটল ম্যাগাজিনকে একত্রিত করে চিহ্নমেলা এপার বাঙলা-ওপার বাঙলা আয়োজন করে। সেই উৎসবে সৃজনশীল ও মননশীল শাখায় দুটি গ্রন্থকে দেয়া হলো চিহ্নপুরস্কার। উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন সৈয়দ শামসুল হক, সৈয়দ আনোয়ারা হকসহ পশ্চিম বাংলার স্বনামখ্যাত সাহিত্যিকগণ। সেদিন আলাপে আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠেছিলো শহীদুল্লাহ্ কলাভবনের সামনের মাঠ। এই যে এতো আমন্ত্রিত অতিথি তাদের থাকা খাওয়ারও ব্যবস্থা করেছিলো চিহ্নপরিবার। রাজধানীর নামসর্বস্ব সাহিত্য আয়োজকদের ভণ্ডামীর তুলনায় চিহ্নর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মহতী। এই যে এতবড় আয়োজন, এসবই সম্ভব হয়েছেচিহ্নর প্রধান সম্পাদক, প্রাবন্ধিক ও কথাকার শহীদ ইকবাল ও চিহ্ন পরিবারের নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের কল্যাণে। এই ধারাবাহিকতা চলতেই থাকবে এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিহ্ন কর্তৃপক্ষ।

সমালোচনা অনেক থাকে; থাকবেই। কাজ করলে ভুল হবে এ বাস্তবতাই চিরকালীন। সমস্ত সমালোচনা ভেদ করে চিহ্নর পদক্ষেপ বহুদূর চিহ্ন রেখে যাক। যতদূর গেলে আগামীর কাছে ইতিহাস হয়ে যায়।

শহীদ ইকবাল সম্পাদিত
চিহ্ন-সূচি

এপ্রিল ২০০০ ॥ সংখ্যা ১
প্রবন্ধ : সালিম সাবরিন, শহীদ ইকবাল/ কবিতা : জুলফিকার মতিন, অসীম কুমার দাস, অনীক মাহমুদ, সফিকুন্নবী সামাদী, শিশির আজম, আক্তার হাসান/ গল্প : অশোক বিশ্বাস, শফিক আশরাফ/ কবিতা : মোস্তফা তারিকুল আহসান, চঞ্চল শাহরিয়ার, শামীম নওরোজ, অভীক বকুল/ বই আলোচনা : ড. সুলতানা মোসতাফা ॥

ফেব্র“য়ারী ২০০১ ॥ সংখ্যা ২
শিমুল মাহমুদ : বাংলাদেশের ছোটগল্প ঃ উত্তরণ ও বাঁক পরিবর্তন/ অতস আদিত্য : ভাসমান/ ফণীশ্বরনাথ রেণু : ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে/ আতিকুজ্জামান : আধুনিক ও উত্তর-আধুনিক বিতর্ক ঃ আমাদের অবস্থান/ সৈকত এম আরেফিন : সোনালী ডানার চিল/ মাসুদ-উর রহমান : শাহজাহান সিরাজ/ জুলফিকার মতিনের সাথে কথোপকথন/ মিজানুর রহমান খান : রাখ তোমার উদ্যত বাহু— একটি গল্পগ্রন্থের অন্তরঙ্গ নিরীক্ষা/ চিনুয়া আচিবি : নাগরিক শান্তি/ জাকির তালুকদার : আমি ও আমরা তিনজন/ মোহাম্মদ আমিনুর রহমান : মোমের পুতুল/ তুহিন ওয়াদুদ : নিসর্গ ঃ গল্প ও গল্পভাষা’র পর্যালোচনা/ সালিম সাবরিন : গ্রন্থপাঠ/ মোস্তফা তারিকুল হাসান : গ্রন্থপাঠ/ নরেন্দ্রনাথ মিত্র : রস ॥

নভেম্বর ২০০১ ॥ সংখ্যা ৩
কুমার দীপ : কবিতা ঃ এখনো কি সেই আকাশ ওঠে গো চাঁদ হেসে/ থমাস দ্য কোয়েলি : কে তুমি কোথায় ঃ দোহাই আর কড়ানেড়ো না, একান্ত ব্যক্তিক-অনুভূতিতে ‘ম্যাকবেধ’/ সৈকত এম আরেফিন : ফড়িং, দোয়েল অথবা ঘাইহরিণ/ আতিকুজ্জামান : আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি/ জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের সাথে কথোপকথন/ সাদ কামালী : চক্র পুরাণ/ আলবেয়ার কাম্যু : অতিথি/ কবিতাগুচ্ছ/ মাহফুজুল ইসলাম শামীম : কুয়াশার সঙঘর্ষজ শব্দ এবঙ তৎসৃষ্ট ভাবনার খসড়া/ রিচার্ড চেস : সাহিত্যে মিথ/ আখতার আরণ্যক : গ্রন্থপাঠ/ সালিম সাবরিন : আমাদের কবিতায় উত্তরবঙ্গের চিত্রপট ও ভাষা/ কান্তি তুষার : ছোটকাগজ মাঠ/ রহমান রাজু : মননশীল তিন ॥

এপ্রিল ২০০২ ॥ সংখ্যা ৪
প্রবন্ধ/নিবন্ধ ঃ পাবলো শাহি : বাংলা কাব্যের সাম্প্রতিক মেটাফোর/ রহমান হেনরী : জাকির তালুকদারের গল্প ঃ বাস্তবতার জাদুঘেরা এক আশ্চর্য অবিশ্বাস্য জগত/ সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া : কবি সুজন হাজারী ঃ হৃদয়ে কবিতার ক্ষত্রিয় আগুন/ আতিকুজ্জামান : আনবরত ক্ষয় হয় জীবনের হৃদয় ঃ কালিক ভাবনায় বাংলা ছোটগল্প/ কুমার দীপ : মননশীল তিন ঃ চৈতন্যের কথকতা/ গল্প ঃ শিমুল মাহমুদ : ভরৎকুমারী/ সৈকত এম আরেফিন : ইহা একটি ভালোবাসার গল্প/ অনুবাদ ঃ লুইস বার্নারডো হোনওয়ানা : ডিনার/ র‌্যানডেল স্টিভেনসন : বিশ শতকের ইঙলিশ উপন্যাস/ নরথ্রপ ফ্রাই : সাহিত্যের আদর্শ/ কবিতা ঃ আমিনুল ইসলাম : জলটুঙ্গি/ পারমিতা গুপ্ত : দুঃসাহসিক সূর্য/ ত্রিস্তান আনন্দ : ভোলানাথের ঝাঁকপদ্ম/ সাক্ষাৎকার ঃ কবি আবুবকর সিদ্দিক-এর সাথে আলাপচারিতা/ ছোটকাগজ আলোচনা ঃ মাওলা প্রিন্স : ছোটকাগজ আন্দোলনে দোআঁশ- একটি মূল্যায়ন/ কাব্যগ্রন্থ পাঠ ঃ সজল সমুদ্র : ঘামের ওজন কত ভারী : প্রশ্ন-প্রোথিত জীবনের দীর্ঘ উচ্চারণ ॥

অক্টোবর ২০০২ ॥ সংখ্যা ৫
ত্রিস্তান আনন্দ/ নূরুননবী শান্ত/ কামাল রাহমান/ তুহিন দাস/ সেলিম রেজা নিউটন/ সুজন হাজারী/ বদরে মুনীর/ সুস্মিতা চক্রবর্তী/ আমিনুল ইসলাম/ ইলিয়াস রহমান/ কুমার দীপ/ সজল সমুদ্র ॥

ফেব্র“য়ারি ২০০৩ ॥ সংখ্যা ৬
ত্রিস্তান আনন্দ/ তুহিন দাস/ বদরে মুনীর/ রাজা সহিদুল আসলাম/ ফজলুর রহমান বাবুল/ দীপক ভৌমিক/ শিশির আজম/ লিপি বিশ্বাস/ মাওলা পৃনস/ রমন রসিক/ অনিন্দ্য প্রভাত/ সজল সমুদ্র/ কুমার দীপ/ মাসউদুর রহমান/ নিত্য ঘোষ/ রানা ভিক্ষু/ শেডিষ্ট পাপন/ রাতুল আহমেদ/ শফিউল শাহীন/ রিঙ্কু অনিমিখ ॥

সেপ্টেম্বর ২০০৩ ॥ সংখ্যা ৭
আড্ডা/ গদ্য-১/ কবিতা-১/ গল্প-১/ ছবিঘর/ গদ্য-২/ গল্প-২/ কবিতা-২/ অনুবাদ/ গল্প-৩/ গল্প ব্যবচ্ছেদ/ ছোটকাগজ মূল্যায়ন… ॥

ফেব্র“য়ারি ২০০৪ ॥ সংখ্যা ৮
গদ্য ঃ তুহিন দাস/ মাওলা প্রিন্স্্/ কবিতা : মোস্তাক আহমাদ দীন/ রিষিণ পরিমল/ এমরান কবির/ সজল সমুদ্র/ তুহিন দাস/ শফিউল সাইন/ গল্প : মিনু মৃত্তিকা/ অনিন্দ্য প্রভাত/ রানা ভিক্ষু/ পিয়াল প্রত্যয়/ অন্যগদ্য ঃ যাকী ইসলাম/ পাঠ-অভিব্যক্তি : কুমার দীপ/ কাজী সোহেল/ পাঠ-বীক্ষণ ঃ অনুজ আদিত্য/ আড্ডা : মির্জা তাহের জামিল’র সঙ্গে একদিন সামান্যক্ষণ… ॥

অক্টোবর ২০০৪ ॥ সংখ্যা ৯
অন্যগদ্য : সৈকত এম আরেফিন/ গুচ্ছকবিতা : অভিজিৎ দাস/ এহসান হাবীব/ এমরান কবির/ সজল সমুদ্র/ আহমদ সায়েম/ তুহিন দাস/ সৈয়দ আফসার/ রবু শেঠ/ কাজী নাসির মামুন/ অদ্বৈত মারুত/ গল্প : অনিন্দ্য প্রভাত/ অনুজ আদিত্য/ পিয়াল প্রত্যয়/ গুচ্ছ কবিতা : সাইদ’রমান/ পাবলো শাহি/ অনুবাদ : পঙ্কজ চক্রবর্তী/ ইলিয়াস রহমান/ বিকল্প কাব্য : ত্রিস্তান আনন্দ ॥

ফেব্র“য়ারি ২০০৫ ॥ সংখ্যা ১০
আড্ডা : ফারুক সিদ্দিকী’র সাথে পুন্ড্রনগরে একদিন সারাদুপুর…/ গদ্য : মাওলা প্রিন্স/ কবিতা-চিন্তা ও গুচ্ছকবিতা : এমরান কবির/ তুহিন দাস/ তারয়িক টুকু/ লালন নূর/ গল্প : সৈয়দ এম আরেফিন/ অনিন্দ্য প্রভাত/ কবিতা-চিন্তা ও গুচ্ছকবিতা : পাবলো শাহি/ গুচ্ছকবিতা : সাইদ র’মান/ অনুবাদ : পঙ্কজ চক্রবর্তী/ গুচ্ছকবিতা : অভিজিৎ দাস/ মাহমুদ শাওন/ এহসান হাবীব/ আহমদ সায়েম/ রিঙ্কু অনিমিখ/ অরূপ কিষাণ/ রবু শেঠ/ অদ্বৈত মারুত/ তিথি আফরোজ ॥

ফেব্র“য়ারি ২০০৬ ॥ সংখ্যা ১১
গল্পভাবনা ও গল্প : অনিন্দ্য প্রভাত/ অনুজ আদিত্য/ ঈরণ/ কাজী সোহেল/ পিয়াল প্রত্যয়/ কবিতা : অদ্বৈত মারুত/ ত্রিস্তান আনন্দ/ রিষিণ পরিমল/ শফিউল সাইন/ সৈয়দ তৌফিক জুহুরী/ আলোচনা : ছালেহ নূর লিখন/ পুলক পারিজাত/ মাসউদুর রহমান/ শামঈম সাঈদ/ শেখ সাদী/ হাসান মুমিন/ বিপন্ন বাউলা/ আড্ডা…/ গল্প : সৃজন সামাদ/ সৈকত এম আরেফিন/ পাণ্ডুলিপি : অসুখময় দিনরাত্রি— তুহিন দাস ॥

জুলাই ২০০৬ ॥ সংখ্যা ১২
সৈয়দ তৌফিক জুহুরী/ রিষিণ পরিমল/ অদ্বৈত মারুত/ সৈকত এম আরেফিন/ শামঈম সাঈদ/ তানভীর চৌধুরী/ অনিন্দ্য প্রভাত/ শেখ নাজমুল হাসান/ হাসান মুমিন/ মেহেদী মিলন/ জুয়েল কিবরিয়া/ শেখ সাদী/ তানভীর দুলাল/ রুবেল আনছার/ যুক্ত সব্যসাচী/ ছালেহ নূর লিখন/ জহুরুল ইসলাম জয়/ শাহাদত চৌধুরী/ ইলিয়াস রহমান/ মনিরা ইসলাম মনি ॥

ফেব্র“য়ারি ২০০৭ ॥ সংখ্যা ১৩
পাবলো শাহি/ তুহিন দাস/ অদ্বৈত মরুত/ মুন্্সী মল্লিক/ খালেক মিঠু/ জামান আতিক/ অনিন্দ্য প্রভাত/ মুমিন হাসান/ হাবিব জাকারিয়া/ পিয়াল প্রত্যয়/ পাবলো শাহি/ সেলিম রেজা নিউটন/ অনুজ আদিত্য/ শেখ নাজমুল হাছান/ সৃজন সামাদ/ নীলিমা আফরোজ/ মেহেনাজ তাবস্্সুম/ আমিন মল্লিক/ আরিফ খান/ সৈয়দ জাকির হোসেন/ বর্ষা জহিন/ জুয়েল/ আখতার বাবুল/ রাসু/ ইসমাইল হোসেন কনক/ জাকির বিশ্বাস/ রাকিব উদ্দিন/ সুহৃদ আবু হুরায়রা/ পলাশ/ কাওসার আলম/ বিপন্ন বাউল/ শামসুন্নাহার/ আব্দুল্লাহ আল মামুন/ কাজী শুসমিন আফসানা ॥

সেপ্টেম্বর ২০০৭ ॥ সংখ্যা ১৪
প্রবন্ধ ঃ ত্রিস্তান আনন্দ- বিনয় মজুমদার : এ যুগের মার্টিনি আইডল/ আহমেদ ইউসুফ- বিনয় মজুমদার : পঞ্চাশের অনন্য স্বর/ সজীব সরকার- বদরে মুনীরের কবিতা : নিরন্তর নেতির বায়োস্কোপ/ অনুপম হাসান- পাবলো শাহি’র কবিতার অস্থিমজ্জা-পরিক্রম/ গুচ্ছকবিতা ঃ শামীম নওরোজ : কোলাহল, স্বজন, রাত্রি নিজেকে লিখছে, মালিকানা/ কুমার দীপ : সময়ে না পেলে জল মাটি মরে মরু পিপাসায়, ফিওে এসো কমল মজুমদার/ সাবর্ণী দাস : আজ কাল পরশু, নিস্তব্ধ একুশের গোধূলি/ ছোটগল্প ঃ শেখ নাজমুল হাছান : অপ্রতিবিম্বিত ছবি/ এস. এম. তিতুমীর : বিমূর্ত আর্তি/ কবিতা ঃ শহীদুজ্জামান চৌধুরী : দুরন্তপনায় পাষাণকায়া/ তুহিন দাস : ভারাক্রান্ত আত্মার আর্তনাদ/ পাবলো শাহি : সিঁকি ফর্মা শবরী বালি কথা/ প্রবন্ধ ঃ নিত্য ঘোষ- প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিশোর গল্প : গভীর কথার নামাবলী/ সৃজন সামাদ- দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প : মানবিক দলিল/ শামসুন্নাহার সুমি- শরবিন্দু’র বিষকন্যা ॥

ফেব্র“য়ারি ২০০৮ ॥ সংখ্যা ১৫
প্রবন্ধ ঃ সৈয়দ জাকির হোসেন : বাংলাদেশের নাটক ও সেলিম আল দীন/ রুবেল আনছার : বাংলাদেশের মঞ্চনাটক/ নাটক ঃ হাবিব জাকারিয়া : নামানুষ/ জুলফিকার নিউটন : ক্যামউড অন দ্য লীভড্্/ গুচ্ছকবিতা ঃ আবুবকর সিদ্দিক : অঙ্গারজ্বলন/ শামীম নওরোজ : মফস্বলের কবিতা/ গোলাম কিবরিয়া পিনু : জলপান, আরণ্যক জ্বর, মধুকোষ বরফের আস্তরণ/ সিদ্ধার্থ শঙ্কর ধর : ব্যক্তিগত কোলাহল একার উৎস থেকে/ তুহিন দাস : অষ্টাধ্যায়ী/ প্রবন্ধ ঃ সৈয়দ তৌফিক জুহুরী : দর্পণে দুই কবি/ সৃজন সামাদ : কবি মোহন রায়হান : এক দুঃসাহসের আগুন/ আমিন মল্লিক : কবন্ধ কালের সাক্ষী জাহিদ হায়দারের কবিতা/ সজল সমুদ্র : কবিতা, আধুনিকতা, বর্তমান নিয়ে/ গৌতম গোস্বামী : ছোটকাগজের ছোট কথা/ মাহ্্ফুজ হুমায়ূন রাশেদ : বিশ্ববিদ্যালয়— স্বচ্ছ ধারণার বিশালতা/ ছোটগল্প ঃ শেখ নাজমুল হাছান : পথ দেখানো পথিক/ সৈকত এম আরেফিন : সমূহ কাক ও গুল্ম/ তিতুমীর ঋষভ : বৈঠা/ মোস্তফা তারিকুল আহসান : পাবলো নেরুদা এবং একজন স্বপ্নবাজ রমণীর গল্প/ গল্পগদ্য ঃ ফারাহ ফাল্গুনী : বাস্তবতার আবহে আধুনিক ছোটগল্প/ রকিবুল হাসান : আতা সরকারের গল্প : কাহিনীগদ্যের সঙ্গত স্বর/ গুচ্ছকবিতা ঃ শেখ আতাউর রহমান : আমার সোনার হরিণ চাই, দর্পণ, সক্রেটিসের প্রতি প্রার্থনা, একটি শালিককে নিয়ে কবিতা/ অনীক মাহমুদ : সুমিত্রাবন্ধন/ মাওলা প্রিন্স : ধূসর পাণ্ডুলিপি, ছিন্নপত্র, নিশীথপ্রদীপে/ মেহেদী মিলন : অপেক্ষা, নগর সাঁওতার গাঁয়ে/ ছালেহা নূর লিখন : বিস্রস্ত ভাবনা/ গ্রন্থপাঠ ঃ কুমার দীপ : সাহিত্যের চিত্র-চরিত্র : প্রতিদর্পণে চিহ্নিত রূপ/ চিহ্নগদ্য ঃ রাশিদুল ইসলাম রাসু : চিহ্ন চতুর্দশ সংখ্যা : প্রত্যাশার দ্বার/ কাব্যপাণ্ডুলিপি ঃ আহমেদ ইউসুফ : মিথ্যে নয় চলেছি নরকে একাই/ ভিন্নগদ্য ঃ শহীদ ইকবাল : বিশ শতকের রূপকথার নায়কেরা (দ্বিতীয় কিস্তি) ॥

ফেব্র“য়ারি ২০০৯ ॥ সংখ্যা ১৬
কবিতা ঃ আবুবকর সিদ্দিক : হাঃ কবিতা! হাঃ কবিতাপিতা!/ দিলওয়ার : কবিতায় কবি, রাজধানী-এক, রাজধানী-দুই, রাজধানী-তিন, প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর বাংলাদেশ/ মহীবুল আজিজ : আমাদের সবটাই, দাসের সন্ধানে/ গোলাম কিবরিয়া পিনু : খোলা বাজারের বারভূত, মানদণ্ড আঁধিঝড়/ হাফিজ রশিদ খান : যোসেফ বাড়ৈর স্বপ্ন, রবীন্দ্রনাথের কাছে চিঠি, বেদেনী ও দুপুরের গল্প, ধবল ব্যবস্থাপনা, কামনার কাব্য/ মুহাম্মদ হাসান ইমাম : পঞ্চাশে এসে, দীর্ঘায়িত কৃষ্ণপক্ষের উপর আস্থাশীল কতিপয় আমরা, তুমি যাবে না/ সরোজ দেবের কবিতা : অঙ্গীকার, ছিন্ন বিচ্ছিন্ন-২২, যে দিন চলে যাবো, কেননা/ সিদ্ধার্থ শঙ্কর ধর : আর্কিটাইপ/ শামীম নওরোজ : মফস্বলের কবিতা/ কুমার দীপ : একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র বিজ্ঞপ্তি. যে তোমায় যাচি নিরন্তর, ঋণ/ রকিবুল হাসান : শাড়ি, কিশোরিকা কারফিউ, কফিনে বন্দী/ নাসিমা আক্তার : জলজ বন্ধনে, হয় না ফেরা, পারিনি, রোজনামচা, কাব্যজলে মোহন নদী/ আসাদুজ্জামান খোকন : জীবিকা-এক, জীবিকা-দুই/ মাসুদ চৌধুরী : একটি পরাবাস্তব গল্প/ নিশীথ দাস : বৈষ্ণব ও শামুকাবলী/ মেঘদূত : প্রবৃত্ত পিয়াসা/ শামীম হোসেন : পরীকুণ্ড, ভূতগ্রহণ, বাঁশিভাব/ সুজন হাজারী : ম্যাজিক শো/ গল্প : শেখ নাজমুল হাসান— পাখি গল্প হয়ে যায়/ হাসান অরিন্দম— কালোসাপের গল্প কিংবা সাপের কালো ( অথবা নঅল ওরফে ব্লু) গল্প/ সৈয়দ শরীফুল ইসলাম : নারী ও জীবন/ কবীর রানা : পাখী খেলা/ আবুল ফজল : অবাক সূর্যোদয়/ রফিকুর রশীদ : দুর্পিপাকের পেণ্ডলাম/ জুলফিকার মতিন : আত্মরক্ষা/ সাক্ষাৎকার : গল্প-আড্ডা-নস্টালজিয়ায় শওকত আলী : আলাগনে কিছুক্ষণ/ ভাষান্তর : হাবিব জাকারিয়া- পারগেটরী (ডব্লিউ বি ইয়েটস-এর ভাষান্তর)/ শেখ আতাউর রহমান- অভিশপ্ত টেলিফোন (জন আপডাইক-এর ভাষান্তর)/ বিশেষ সংযোজন : নস্টালজিয়া— অরুণ মুখোপাধ্যায় : বাংলা কবিতায় নস্টালজিয়া/ জয়ন্ত বন্দোপাধ্যায় : নস্টালজিয়া ও মহাকবি/ সুমন সাজ্জাদ : নস্টালজিয়া/প্রকৃতি, স্মৃতি, স্বপ্নপুরাণ এবং চারটি উপন্যাস/ শুভাশিস সিনহা : চরণরেখা তব যে পথে দিলে লেখি/ যে পথ দিয়ে গেল রে তোর বিকেলবেলার জুঁই/ শোয়েব শাহরিয়ার : জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নস্টালজিয়া/ মামুন মুস্তাফা : নব্বুইয়ের কবিদের নস্টালজিয়া/ সৈয়দ তৌফিক জুহুরী : নস্টালজিয়া— পোড়া উপাখ্যান/ রাহেল রাজীব— মৃত্যুহীণ কাব্যে নস্টালজিক আবহ ও শৈলাভাবনা ॥

আগস্ট ২০০৯ ॥ সংখ্যা ১৭
কবিতা : সুজন হাজারী, রকিবুল হাসান, শহীদুজ্জামান চৌধুরী, মামুন মুস্তাফা, শামীম হোসেন, রবু শেঠ, রনি অধিকারী, মুহাম্মদ হাসান ইমাম, সৈয়দ তৌফিক জুহুরী, গৌতম দত্ত, নিশীথ দাস, মাসুদ চৌধুরী, মাসুদার রহমান/ শিল্প-সাহিত্যে ঋতুবৈচিত্র্য : সুমন সাজ্জাদ— বারোমাসের বারোয়ারি কথা/ সৈকত আরেফিন— গহন মেঘের নিবিড় ধারার মাঝে/ মামুন মুস্তাফা— বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কাব্যে ঋতুবৈচিত্র্য/ আব্দুল্লাহ্্— খনার বচনে ঋতুবৈচিত্র্য/ মাহফুজ হুমায়ুন রাশেদ— রহমান হেনরীর কবিতা, প্রতীক ব্যঞ্জনায় ঋতুচ্ছবি/ শেখ আতাউর রহমান— কনফেশন/ মুহাম্মদ হাসান ইমাম— প্রকৃতি : সদরে-অন্দরে/ রাহেল রাজীব— রক্তে ঋতুচক্র/ অনুবাদ কবিতা : আব্দুল্লাহ আল মামুন : মেয়ের জন্য প্রার্থনা/ গল্প : শেখ নাজমুল হাসান— জীবনের নুন ধূসর/ সৈয়দ শরীফুল ইসলাম— সেসি-ডাবল খাট/ ফেরদৌসী সুলতানা— জীবন-জিয়নে/ রকিবুল হাসান— তোমাকে আনন্দপাপে/ হাসান অরিন্দম— বিষচক্র অথবা নির্বাণের সন্ধান/ তিতুমীর ঋষভ— ভাতুড়ে/ ছোটকাগজ পাঠ : তবিবুর রহমান— নির্মাণ কবিতার মিছিল/ কাওসার আলম— শাশ্বতিকী সাহিত্যকাগজের সূত্রধর/ লুৎফর— ফিরে দেখা চিহ্ন-১৬/ গ্রন্থপাঠ : আবুবকর সিদ্দিক— ঘাসের আঙ্গোট : একটি সুন্দর সুষম কাব্য/ গৌতম দত্ত— কবিতাসম্ভোগ : কবিতা নির্মাণে শরীরী উপমা ও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ/ তানভীর দুলাল— সুমিত্রাবন্ধন : কবি চেতনায় প্রেম ও প্রিয়ের নতুন ইন্ধন/ ড. সন্দীপন মল্লিক— সাহিত্যের বিত্তবৈভব : ধ্যানবিত্তের সৌরভ/ মর্মরিত ঊষাপুরুষ— সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া : কপোট্রনিক কষ্টাবৃত্ত কবিতৃষা/ শহীদ ইকবাল— এই বদ্বীপের কবিতাকৃতি : বদ্বীপের বাচ্য কবি ও কবিতা/ প্রতিবিম্ব : রহমান রাজু— পনিপূরক ¯œান অপরিপূরক কথা/ ধারাবাহিক : সদ্য সমুজ্জ্বল— রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা ২/ শহীদ ইকবাল— বিশ শতকের রূপকথার নায়কেরা (৪র্থ কিস্তি)/ পাণ্ডুলিপি : জুলফিকার মতিনের বারো বছরের কবিতা/ বারো বছরের কবিতার কবি-স্বীকারোক্তি/ বারো বছরের কবিতা/ মিন্টু দে— কবি জূলফিকার মতিনের এই (বারো বছরের কবিতা) পথ : ‘হয়ে ওঠা’র কালে ॥

ফেব্র“য়ারি ২০১০ ॥ সংখ্যা ১৮
সাক্ষাৎকার : ময়ূখ চৌধুরী, অভিজিৎ সেন, হরিপদ দত্ত, খোন্দকার আমরাফ হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক/ ছোটকাগজ পাঠ : পুষ্পকরথ, শূন্যমাতাল, নদী, অনুভূতি, অর্ক, দাগ, কুঁড়েঘর, পুনশ্চ/ গ্রন্থপাঠ : খায়রুল আলম সবুজ’র গল্পসমগ্র/ মাহবুবুল হক সম্পাদিত চর্যাগীতি পাঠ/ নূরননবী শান্ত’র গ্রামে প্রচলিত গল্প/ শিমুল মাহমুদ’র অধিবিদ্যাকে না বলুন/ নিতাই কুমার ঘোষ’র প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্পে মানবসম্পর্কের সীমানা ও সভ্যতা/ আমিনুল ইসলাম’র কুয়াশার বর্ণমালা/ আসাদুজ্জামান খোকন’র দরজা খোলো মেঘ/ তুহিন দাস’র বনসাই প্রকল্পের মানুষ/ খণ্ড কবিতা : হাসান ইমাম— অসুখ অসুখ করে/ মামুন মুস্তাফা— রোডম্যাপ : গাজা/ শহীদুজ্জামান চৌধুরী— দ্বীপদাঁড়/ কুমার দীপ— কোথায় যাবো/ ফজলুল হক তুহিন— সরাও তোমার বিজ্ঞাপন/ মঞ্জুর রহমান বাবু— খোদিত খণ্ডচিত্র/ নিশীথ দাস— সেশনজট/ বর্ষা জহীন— বৃক্ষ/ গল্প : শেখ নাজমুল হাসান— প্রহরে প্রহরে গল্প/ গুঞ্জন চৌধুরী— যখন বেলা শেষের ছায়া/ তসলিম খান (রানা)— মিভরাত্রি/ কবীর রানা— দীঘি/ ফেরদৌসি সুলতানা— চিরন্তন/ প্রবন্ধ : সৈকত আরেফিন— আমরা আমাদের সময়/ তবিব রহমান— তিন দশকের উপন্যাস : নিগূঢ় ভাষ্য/ তরুণ মুখোপাধ্যায়— কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্যের উর্ব্বর উর্ব্বশী কাব্যে ঋতুদ্বন্দ্ব/ শুভাশিস সিনহা— বুষ্টি আর কুয়াশার বঙ্গীয় লড়াই/ গুচ্ছকবিতা : শামীম নওরোজ, মহীবুল আজিজ, মুহাম্মদ লুৎফর রহমান, সরোজ দেব, মাসুদুর রহমান/ অনুবাদ : জাকির হোসেন— সাহিত্যের বর্ণনামূলক প্রথা/ ধারাবাহিক : রিপন রায় ও হুমায়ূন কবীর— রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা-৩/ শহীদ ইকবাল— বিশ শতকের রূপকথার নায়কেরা (পঞ্চম কিস্তি)/ হাবিব জাকারিয়া— থিয়েটার : নির্বাসিত পড়শীর আখ্যান/ পুনর্মুদ্রণ : অস্কার ওয়াইল্ড— শিল্পী ও সমালোচনা/ চিহ্ন ও¯œান পাঠ : ফারাহ্্ ফাল্গুনী— সমীক্ষার যূথবন্ধনে চিহ্ন/ রহমান রাজু— ¯œান সমাচার/ ¯œান’র পাতা থেকে মৃন্ময় মঞ্জীর ও গৌতম দত্ত/ আলোকচিত্রে চিহ্ন ॥

আগস্ট ২০১০ ॥ সংখ্যা ১৯
স্মরণ : শাহ আবদুল করিম, আবু রুশ্্দ, সাঈদ আহমাদ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, জিয়া হায়দার, খালেদা এদিব চৌধুরী, মাহমুদুল হক, আবদুল্লাহ আল মামুন, সেলিম আল দীন, শহিদুল জহির/ সাক্ষাৎকার : উপাংশু-উদার আলোর পথিক নূরুল ইসলাম/ প্রবন্ধ : মার্কস্বাদী প্রতিবেশতত্ত্ব— একটি পরিচিতিমূলক অনুসন্ধান : মুহাম্মদ হাসান ইমাম/ নাচোল কৃষক বিদ্রোহ ও কমিউনিস্ট পার্টির সশস্ত্র বিপ্লবের রাজনীতি : একটি মূল্যায়ন— মর্ত্তুজা খালেদ/ ছোটকাগজ পাঠ : ভাস্কর, ধমনি, মৃদঙ্গ/ চিহ্নপাঠ : অষ্টাদশ চিহ্ন-অন্তঃঅবলোকন/ গ্রন্থপাঠ : কোথাও কোনো মানুষ নেই, ঢুলকিপুরাণ, পিপাসার জলসত্র, মিথ্যে নয় চলেছি নরকে একাই/ গল্প : টানে— তিতুমীর ঋষভ/ সবাই গেছে বনে— শৌনক দত্ত তনু/ গুচ্ছকবিতা : শামীম নওরোজের কবিতা— বন্ধু, প্রিয়, প্রসঙ্গ, আত্মীয়তা, পরিবর্তন, ফেরা/ মাসুদার রহমানের কবিত— উত্তরবঙ্গ সিরিজ-৪/ ধারাবাহিক : বিশ শতকের রূপকথার নায়কেরা— শহীদ ইকবাল/ থিয়েটার : নির্বাসিত পড়শির আখ্যান— হাবিব জাকারিয়া/ কবিতা : খালেদ হোসাইন— ছেঁড়াদিয়া : হাজার বছরের নোনা অভিমান, সেন্টমার্টিনে এক মুহূর্ত/ কামরুল হাসান— ছিন্নমূল বেহালার দ্বৈরথে, নিমলিরিক পাখিদের/ শহীদুজ্জামান চৌধুরী— বৃষ্টিমৈথুন/ পুলক কুমার প্রামাণিক— মহুয়া বনে নিঝুম রাত/ ধারাবাহিক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা-৪/ শিল্পী ও সমালোচনা (দ্বিতীয় শেষ পর্ব)/ অনুবাদ : সা¤্রাজ্যবাদী গণতন্ত্রের তাৎক্ষণিক রসায়ন— মূল : অরুন্ধতী রায় [অনুবাদ : শামীম বিনতে রহমান] ॥

ফেব্র“য়ারি ২০১১ ॥ সংখ্যা ২০
গল্প : জঙ্গনামা— জাকির তালুকদার; বাড়ি ফেরার তাড়না অথবা একটি হারিয়ে যাওয়ার গল্প/ শিমুল মাহমুদ; সপ্রতিভ— মেহেদী ধ্র“ব/ বিশেষ গদ্য : এক্ষণের আনুপূর্বিক বা পূর্বাপর সাহিত্য নিয়ে অংশ-দুয়েক যৌক্তিকতা— শহীদ ইকবাল/ সাহিত্যের কাগজ প্রতর্ক-কারফিউ ভাঙার গান ও মূল-কাণ্ড-পাতাসূত্র— রহমান রাজু/ স্মরণ : ইউরোপ ও তরুণ রবীন্দ্রনাথ— জুলফিকার মতিন/ সমকালের কবি : মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান— হোসেনউদ্দিন হোসেন/ সমালোচক আবদুল মান্নান সৈয়দ : কয়েকটি বিবেচনা— সৌভিক রেজা/ কবিতা : উত্তরবঙ্গ সিরিজ-৫— মাসুদার রহমান/ স্বজন, যোজনগন্ধা, থির— পরিতোষ হালদার/ নসুবালাদের মৃত্যুর পরে, থেকে থেকে অন্ধকার— সুমন সিকদার/ আগুন ঘ্রাণে প্রজ্ঞা রমণী— মঞ্জুর রহমান বাবু/ হাইকু সিরিজ— মুহিত হাসান দিগন্ত/ অষ্টপদীমালা— পুলক কুমার প্রামাণিক/ প্রবন্ধ : আমাদের সমষ্টিগত স্মরণের রূপপ্রকৃতি— মুহাম্মদ হাসান ইমাম/ পাবনার হাণ্ডিয়ালের মেঠের বাংলা মন্দির : স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ও অলঙ্কার— উদয়শঙ্কর বিশ্বাস/ তসলিমা নাসরিনের কবিতা : সত্তার লড়াই ও সমতার আকাক্সক্ষা— মাহবুব অনিন্দ্য/ সাক্ষাৎকার : শিশির চাকমা/ ছোটকাগজ পাঠ : শাশ্বতিকী— পাঠোত্তর প্রতিক্রিয়া— তানভীর দুলাল/ ম্যাগ রিভিউ : স্বর— মোজাফফর হোসেন/ ত্রৈমাসিক গল্পপত্র পত্রিকার আলোচনা— আব্দুল্লাহ আল মেহেদী/ গ্রন্থপাঠ : বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতির লোকরূপের অবভাস— শহীদ ইকবাল/ সাধুর করের দুনিয়াদারি— আঞ্জুয়ারা খাতুন/ জন্মদাহ কাব্য পাঠের পর— রুকসানা রুমী মৌরি/ চিহ্নপাঠ : স্মরণপর্বের চিহ্ন : মরণোত্তর প্রণতি— সৈকত আরেফিন/ ধারাবাহিক : বিশ শতকের রূপকথার নায়কেরা— শহীদ ইকবাল/ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা-৫— কাওছার আলম/ অনুবাদ : সা¤্রাজ্যবাদী গণতন্ত্রের তাৎক্ষনিক রসায়ন— অরুন্ধতী রায়; অনুবাদ : শামীম বিনতে রহমান/ চিহ্নর বারো বছর : স্মৃতি-তর্পণ-মূল্যায়ন : চিহ্নবিষয়ক একটি কবিতার খসড়া— শামীম নওরোজ/ বিস্মরণের জলছাপ— তুহিন ওয়াদুদ/ রাতের সব তারাই আছে— সৈকত আরেফিন/ অন্তরে, চৈতন্যে, জাগরণে একটিই সুর বাজে : সময়ের বিরুদ্ধস্রোতে উজানের টানে— মাওলা প্রিন্স/ চিহ্নর আড্ডা থেকে— গৌতম দত্ত/ তর্পণ : বাংলাদেশের সাহিত্য ও চিহ্ন— তবিব রহমান/ চিহ্নর একযুগ : রৌদ্রে-মেঘে-ঝড়ে-গম্ভীরে— নিত্য ঘোষ/ আজকের সাহিত্যচর্চায় তারুণ্য…শূন্য দশকের সাহিত্য ও চিহ্ন— রনি অধিকারী/ শূন্যের বাঁপাশে চিহ্ন— রিঙকু অনিমিখ/ চিহ্ন : মননে মাতৃভূমির দায়— আহমেদ ইউসুফ/ মূল্যায়ন : চিহ্নর ছোটকাগজ প্রয়াস ও ¯œান— মর্মরিত ঊষাপুরুষ/ চিহ্নর অনুবাদ— মোস্তফা তারিকুল আহসান/ সাহিত্য-সংলাপের দেশে— কুমার দীপ/ একযুগের প্রচ্ছদ পাঠ— ড. হাসান রাজা/ শহীদ ইকবালের বিশ শতকের রূপকথার নায়কেরা : জীবনভর মানুষের পদচিহ্ন— সৈয়দ তৌফিক জুহুরী/ চিহ্নর কবিতা : কবিতার চিহ্ন— পুরনজিত মহালদার/ চিহ্নপ্রবন্ধের পূর্বাপর— মিন্টু দে/ সিসৃক্ষু চিহ্ন এবং প্রকাশিত কয়েকটি নাটকের বীক্ষণ— সুজা-উদ্্-দৌলা/ চিহ্ন : প্রাজ্ঞ প্রকাশনার দীপ্ত পদক্ষেপ— কাওসার আলম/ চিহ্ন : শুরু থেকে এ পর্যন্ত— নিশীথদাস/ চিহ্নর গল্প : শূন্যদশকের কণ্ঠস্বর— তৌহিদ ইমাম/ ফিরে দেখা : একযুগের সম্পাদকীয়/ একযুগের সূচি/ যে দুপুরবেলা আমরা তাঁর সাথে চা খেয়েছিলাম (অসীম কুমার দাসের সাক্ষাৎকার)/ বাংলা কাব্যের সাম্প্রতিক মেটাফোর— পাবলো শাহি/ রবিবারের আড্ডা; একুশ শতকে ভিখু টু—কামাল রহমান/ বৃত্ত ভাঙার দিন— অনিন্দ্য প্রভাত/ জলপোকা— অনুজ আদিত্য ॥

আগস্ট ২০১১ ॥ সংখ্যা ২১
শহীদ ইকবাল’র ধারাবাহিক রচনা বিশ শতকের রূপকথার নায়কেরা (শেষ কিস্তি)/ রিঙকু অনিমিখ’র কবিতা নন্দিত বিষাদ, শালিখদর্শন/ কামরুল ইসলাম’র বিহঙ্গচারিত্র্য তবু মৌলিক, নিরঙ্কুশ প্রেমেও আছে বৈধব্য/ প্রতীক মাহমুদ’র গোপনে ফেরা, অন্ধকার হয়ে যাই/ মাসুম সরকার’র গুয়ের্ণিকা/ সুজন হাজারী’র মগজের কারফিউ/ নিশীথ দাস’র ঝাপসা হু হু মন/ মাসুদার রহমান’র উত্তরবঙ্গ সিরিজ/ রাতুল পাল’র অনুবাদ প্রবন্ধ ‘কবিতার সত্তা’/ মোজাফ্্ফর হোসেন’র অনুবাদ গল্প ‘অন্ধকারে বসে থাকেন আমার বাবা’/ আবদুস সালাম জীবন’র অনুবাদ নাটক ‘ক্র্যাপস লাস্ট টেপ’/ কবি আসাদ চৌধুরী’র সঙ্গে আড্ডা/ সৈকত আরেফিন’র ‘নীলপাখির পালক’/ হাসান মাহবুব’র ‘মৃত বিড়ালের কাঁধে’/ হাসান অরিন্দম’র ‘রক্তমাংসকথন’/ রফিকুর রশীদ’র ‘একটি মুনাজাতের প্রস্তুতি পর্ব’/ মর্মরিত ঊষাপুরুষ’র মৌলিক প্রবন্ধ ‘গগনশিরীষের সিথানে : আমি ও আমাদের অসুখের ঘর’/ মোস্তফা তারিকুল আহসান’র কাব্যনাট্যের উপলব্ধি ও উপভোগ’/ সৈয়দ তৌফিক জুহরী’র ‘শূন্যের কবিতায় মৃত্যুচেতনা’/ সুজা উদ-দৌলা’র ‘বাংলাদেশের কবিতায় লোকজীবন’/ মাহফুজুল ইসলাম শামীম’র ‘ছোটগল্পের বর্ণনভঙ্গি ও প্রেমেন্দ্র মিত্র’/ শফিক আশরাফ’র ‘ছোটগল্পে মঙ্গাতাড়িত জনজীবন’/ মুহিত হাসান’র গ্রন্থ-আলোচনা ‘গল্পকারের ইশারা, গল্পকারের নিশানা’/

ফেব্র“য়ারি ২০১২ ॥ সংখ্যা ২২
বিস্ময়ের সমুদ্রদর্শন/ শহীদ ইকবাল ॥ তারেক রেজা ॥ নিত্য ঘোষ ॥ মর্মরিত ঊষাপুরুষ ॥ খোরশেদ আলম ॥ অনুপম হীরা মণ্ডল ॥ কুমার দীপ ॥ আহমেদ ইউসুফ ॥ কাওছার আলম ॥ পুলক পারিজাত ॥ রহমান রাজু/ পুনর্পাঠ/ আসা যাওয়ার মাঝখানে : নলিনীকান্ত সরকার/ কবিতা/ পাবলো শাহি ॥ অচিন্ত্য চয়ন ॥ সদ্যসমুজ্জ্বল ॥ দেবাশিস সাহা ॥ কায়সার আলম ॥ কামরুল ইসলাম ॥ মামুন মুস্তাফা/ অনুবাদ/ মাসউদ আখতার অনূদিত সাদাত হাসান মান্টো’র টোবাটেক সিং/ পুস্তক পাঠ/ শামীম নওরোজের পাখিদের বাংলাখাতা¬ ॥ খালেদ হোসাইনের পথ ঢুকে যায় বুকে ॥ সঞ্জীব নিয়োগীর সুদূরপ্রসারী লিপিস্টিক ॥ শিমুল মাহমুদের জীবনানন্দ দাশ : মিথ ও সমকাল/ পত্রিকা আলোচনা/ মলাট ॥ ধমনি ॥ বেগবতী ॥ সপ্তক; আলোচক : নূর মোহাম্মদ ॥ মশিউর রহমান ॥ আল মামুন ॥ কানিজ সুমি/ গল্প/ শেখ নাজমুল হাছান ॥ মেহেদী মিলন ॥ শাহেদুজ্জামান লিংকন ॥ তসলিম খান রারা ॥ মোল্লা মামন ॥ মেহেদী ধ্র“ব ॥ নূরুননবী শান্ত ॥ হোসেনউদ্দিন হোসেন/ সাক্ষাৎকার/ ‘আমাকে মানুষ থেকে পৃথক করেছে মানুষের ভালোবাসা’র কবি আসাদ মান্নান/ ভিন্নগদ্য/ মাহবুব অনিন্দ্য : বাউলা তোমার বায়োস্কপ; মানুষ কাছে গেলে প্রকুত সারস উড়ে চলে যায়(!) সৈয়দ জাকির হোসেন : ঞঐঊ চওঅঘওওঝঞ ধ্বংসযজ্ঞের সা রে গা মা ॥ মাসুদ চৌধুরী : জাতীয় স্বীকৃতি : শিল্পী ও শিক্ষক চতুষ্টয়/ ধারাবাহিক/ আসাদ সরকার লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা-৭ : প্রসঙ্গ রুডা

শ্রাবণ-ভাদ্র ১৪১৯ ॥ সংখ্যা ২৩
দুই প্রজন্মের দুই কবি/ লেখাপড়া সম্পর্কে যে দু’একটি কথা আমি জানি ॥ মামুন হুসাইন/ কিশোর রাঙা আকাশ ঘুড়ি/ তানভীর দুলাল ॥ রহমান রাজু ॥ মূর্তালা রামাত ॥ মোল্লা মামন ॥ অপূর্ব সোহাগ ॥ সৈকত আরেফিন ॥ রমন রসিক ॥ রিঙকু অনিমিখ ॥ মাসুদ রাফিদ/ গুচ্ছ কবিতা/ শামীম নওরোজ ॥ মাসুদার রহমান/ কবিদের গল্প/ মুজিব ইরম ॥ সুজন হাজারী ॥ মামুন মুস্তাফা ॥ কুমার দীপ ॥ সামন্ত সাবুল ॥ মাহী ফ্লোরা ॥ তুহিন দাস/ কবিতা/ মাসউদ আখতার ॥ ফজলুল হক তুহিন ॥ নয়ন তালুকদার/ প্রবন্ধ/ আতাহার আলী খান ॥ দীপায়ন ভট্টাচার্য ॥ মাসুদ রহমান ॥ তবিব রহমান/ সাক্ষাৎকার/ আঁধারকালের অরুণরেখা…অরুণদা/ চলচ্চিত্র/ যেভাবে তৈরি হলো দাবানল ॥ সাজ্জাদ বকুল/ পুস্তক পাঠ/ আবহাওয়াবিদগণ জানেন ॥ উত্তরবঙ্গ সিরিজ ॥ সুবীর সরকারের নির্বাচিত কবিতা ॥ ব্রিজ পেরোচ্ছি না স্বপ্ন পেরোচ্ছি ॥ নান্দনিক শামসুর রাহমান ॥ রণক্ষেত্রে সারাবেলা/ পত্রিকা আলোচনা/ ম্যাজিক লণ্ঠন ॥ নদী ॥ শালুক ॥ মলাট/ অনুবাদ/ জেলা শহরের ডাকাত ॥ ইভান তুর্গেনিভ/ পুনর্পাঠ/ ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ব ॥ মুখলেসুর রহমান/ ধারাবাহিক/ সমস্ত ধূসর প্রিয় ॥ শহীদ ইকবাল/ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা-৮

ফেব্র“য়ারি-মার্চ ২০১৩ ॥ সংখ্যা ২৪
[চিহ্নমেলা ২০১৩ সংখ্যা]
দুই প্রজন্মের দুই কবি/ কী লিখি? কেন যে লিখি!/ ৫ টি প্রবন্ধ/ হোসেনউদ্দিন হোসেন ॥ অনিরুদ্ধ কাহালি ॥ অনুপম হীরা মণ্ডল ॥ মাখন চন্দ্র রায় ॥ সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী ॥ তারেক রেজা/ ৭টি গল্প/ ফজলুল কবিরী ॥ তানিয়া গুহমজুমদার ॥ মতিউর রহমান সাগর ॥ শফিক লিটন ॥ তানজিম তামান্না ॥ ইবাইস আমান ॥ শেখ নাজমুল হাছান/ ৫টি পত্রিকা আলোচনা/ শব্দ ॥ আগুনমুখা ॥ রাজশাহী এসোসিয়েশন সাহিত্য পত্রিকা ॥ ম্যাজিক লণ্ঠন ॥ দেশলাই/ ৩টি বই আলোচনা/ ১৯৭১ অপারেশন সার্চ লাইট ॥ শিশিরে জীবন কল্লোল ॥ যাত্রাসংগীত/ ১টি অনুবাদ : মাহবুব অনিন্দ্য ‘অনিঃশেষ’/ ১টি অপ্রকাশিত নাট্যপাণ্ডুলিপি : সৈয়দ জাকির হোসেন/ প্রান্তিক প্রতিভার প্রাকৃতকথন : মুখোমুখি ॥ মনসুর রহমান/ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা-৯/ ময়ূখ চৌধুরীর লেখা থেকে পুনর্পাঠ ॥ কিঞ্চিৎ বঙ্কিম কথা/ শহীদ ইকবালের ধারাবাহিক উপন্যাস ॥ সমস্ত ধূসর প্রিয়/ শেষ পাতার আহ্বান ॥ রোদমাখা সেই দিন…/ নিশাদ নয়ন ॥ শিমন রায়হান ॥ মর্মরিত উষাপুরুষ ॥ মেহেদী মিলন ॥ তানভীর দুলাল/ চিহ্নমেলা আয়োজন/ শতকবির কবিতা ॥ চিহ্নগ্রন্থমালার মূল্যায়ন

আগস্ট ২০১৩ ॥ সংখ্যা ২৫
[আমার রবীন্দ্রনাথ সংখ্যা]
রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি থেকে/ রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত পঙ্ক্তিমালা/ সাইফুল্লাহ মাহমুদ কামাল ॥ খালেদ হোসাইন ॥ মাসুদ খান ॥ বায়তুল্লাহ কদেরী/ আমার রবীন্দ্রনাথ/ হাসান আজিজুল হক ॥ আনিসুজ্জামান ॥ আব্দুল্লাহ আল মামুন ॥ হারুন-অর-রশীদ ॥ মাসউদ আখতার ॥ তারেক রেজা ॥ অনুপম মুখোপাধ্যায় ॥ আব্দুল হালিম প্রামানিক ॥ সুপ্রিয়া রাণী দাস ॥ স্মৃতি রুমানা/ পুনর্পাঠ/ রবীন্দ্রনাথের নোবেল ভাষণ/ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা/ সনৎকুমার সাহা ॥ জুলফিকার মতিন ॥ হোসেনউদ্দিন হোসেন ॥ কামরুল ইসলাম ॥ খোরশেদ আলম ॥ মিথুন ব্যানজর্িী ॥ জফির সেতু ॥ ফখরুল ইসলাম ॥ কুমার দীপ ॥ মর্মরিত ঊষাপুরুষ ॥ ভবানী মুখোপাধ্যায় ॥ সুনীলকান্তি সেন/ সাক্ষাৎকার/ উইলিয়াম রাদিচের সঙ্গে কামাল রহমান/ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় স্মরণ/ সৈকত আরেফিন/ কী লিখি কেনো লিখি/ উম্মে মুসলিমা/ গল্প/ রফিকুর রশীদ ॥ নূরুন্নবী শান্ত/ স্মৃতিচারণ/ আবদুস সামাদ ফারুক/ অনুবাদ/ মাহবুব অনিন্দ্য/ আলোচনা/ গ্রন্থ/পত্রিকা/ চিহ্নমেলা নিয়ে/ সুবীর সরকার/ ময়ূখ চৌধুরীর কবিতা ও কবিতাভাবনা/ চিহ্নপুরস্কার ২০১৩

ফেব্র“য়ারি ২০১৪ ॥ সংখ্যা ২৬
[কথাশিল্পের কারুকর্ম সংখ্যা]
কথাশিল্পের কারুকর্ম/ শহীদুল জহিরের ভাষা : ‘রাইট টু পার্টিসিপেট’ ॥ সরকার আবদুল মান্নান/ হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসের ভাষা ॥ কুদরত-ই-হুদা/ ইলিয়াসের ‘উচিতবুদ্ধি’র ভাষা ॥ শহীদ ইকবাল/ মাহমুদুল হকের গদ্যশাসন ॥ আবু হেনা মোস্তফা এনাম/ হাসান আজিজুল হকের ভাষাচিন্তন ॥ সরিফা সালোয়া ডিনা/ শওকত আলীর কথাসাহিত্য : প্রসঙ্গ ভাষা ॥ ফখরুল আলম/ সাবল্টার্ন সমাজের ক্লাসিক কথাশিল্পী আবুবকর সিদ্দিক ॥ মামুন মুস্তাফা/ সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাসে ভাষা-প্রসঙ্গ ॥ মোস্তফা তারিকুল আহসান/ উপন্যাসের কল্পলোকে শ্যামলের কিছু শ্যামলিমা ॥ ইমতিয়ার শামীম/ সমরেশ বসুর উপন্যাসের ভাষা ॥ খোরশেদ আলম/ ওয়ালিউল্লাহ্র কথনশিল্প ও তাঁর ভাষাসৌকর্য ॥ কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর/ ভাষারীতি : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ॥ হাসান আজিজুল হক/ সতীনাথ ভাদুড়ী : বাণী তাঁর অচেনা রাগিণী ॥ মাখন চন্দ্র রায়/ তারাশঙ্করের ভাষারীতি ॥ মর্মরিত উষাপুরুষ/ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ॥ সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ॥ হুময়ুন কবির/ উপন্যাসের ভাষা ও রবীন্দ্রনাথ ॥ সনৎকুমার সাহা/ বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস : ভাষার ইন্দ্রজাল ॥ আলী অনোয়ার/ হাসান আজিজুল হকের একক বাচন/ উপন্যাসের ভাষা ॥ জাকির তালুকদার/ স্মরণ/ অদ্বৈত মল্লবর্মনের গল্প ॥ স্পর্শদোষ/ কমলকুমার মজুমদারের গল্প ॥ নিম অন্নপূর্ণা/ ময়ূখ চৌধুরীর রচনা/ নিয়মিত বিভাগসমূহ/ কী লিখি কেনো লিখি-৪ ॥ সেলিনা হোসেন/ কাঁটাতারে প্রজাপতি ॥ মেহেদী ধ্র“ব/ কবিরাজ ॥ তসলিম খান রানা/ বাণী বসুর মৈত্রেয় জাতক ॥ শামসুন নাহার/ আকবর হোসেননের প্রণিপাত : ‘আলোছায়া’র গম্ভীরতা ॥ রকিবুল হাসান/ বিয়ে একটি একান্ত বিষয় ॥ চিনুয়া এচেবে/ অনুবাদ : শরীফ আতিক-উজ-জামান/ প্রন্তিক প্রতিভার প্রাকৃত কথন/ [‘মনের নবাব’ সিরাজুদ্দৌলার মুখোমুখি]/ বিশেষ রচনা/ হুগো শ্যাভেজ : অনিরুদ্ধ জীবনের মশাল ॥ মীর মশাররফ হোসেন/ বই ও পত্রিকা আলোচনা/ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পসাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা—১০/ ধরাবাহিক [ট্রিলজি]/ চিহ্নপাঠাগার থেকে

আগস্ট ২০১৪ ॥ সংখ্যা ২৭
[সবুজপত্রের শতবর্ষস্মরণ সংখ্যা]
আনন্দে আন্দেলিত রাঙা শতদল/ লালকমল নীলকমল ॥ আলফ্রেড খোকন/ সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি-সা ॥ অলোক বিশ্বাস/ কাকতাড়–য়া রহস্য ॥ সৈয়দ তৌফিক জুহুরী/ আমি যেভাবে বড়ো হচ্ছিলাম ॥ অনুপম মুখোপাধ্যায়/ কুড়ানো পারকে বোনা দুঅক্ষর প্রতœপাণ্ডুলিপি ॥ মর্মরিত ঊষাপুরুষ/ মায়াবী প্রহর ছাড়িয়ে ॥ নূর-ই আলম সিদ্দিকী/ এ আমার একার গল্প ॥ মৌসুমী জাহান নিশা/ কী লিখি কেনো লিখি ॥ নূরুন্নবী শান্ত/ প্রবন্ধ/ অসম লেখক রবীন্দ্র গুহ অসাম লেখক/ দূরবীণে দ্রোহপুরুষের ছায়া লম্বা হচ্ছে, সূর্যাস্ত আসন্ন ॥ বারীন ঘোষাল/ তিতাস-এর শেকড় ও কারুণ্যশ্র“তি ॥ রকিবুল হাসান/ বুদ্ধদেব বসুর কথাসাহিত্য : ভাষার ভেলায় ভাসাই তরী ॥ তারেক রেজা/ তিন গল্পকারের গল্প/ শর্ষে ফুল ও কর্পোরেট ভালোবাসা ॥ সজল বিশ্বাস/ দলিত চাঁদ ॥ সোলায়মান সুমন/ একদিন রক্তের দিন ॥ মূর্তালা রামাত
স্মরণ/ কবিতা কী কেন কীভাবে সম্পর্কিত বৈঠক : ফারুক সিদ্দিকী ও চিহ্ন/ খোন্দকার আশরাফ হোসেন : একবিংশর সাহসী মাঝি ॥ কামরুল ইসলাম/ অনুবাদ/ ভারতীয় নারীবাদ ও যৌনতার ডিসকোর্স ॥ সরোজিনী সাহু/ ধারাবাহিক/ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালযয়ে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা—১১ ॥ দীপ্ত উদাস/ বিচিত্র সমাজতত্ত্ব লজ্জার সমাজতত্ত্ব ॥ মুহাম্মদ হাসান ইমাম/ ক্রোড়পত্র/ সবুজপত্রের শতবর্ষস্মরণ (১২৯১৪-২০১৪)

ফেব্র“য়ারি ২০১৫ ॥ সংখ্যা ২৮
[কবিতা বিশেষ সংখ্যা]
কবি ও কবিতার বিশেষ চিহ্ন/ আহমদ ছফা : কবিতার কথা/ ‘নতুন কবিতা’র সম্পাদকীয়/ পথ চলতি ধূপের গন্ধ : এদেশের কবিতা/ পঞ্চাশ থেকে শূন্য দশক ২১ জন প্রতিনিধিত্বশীল কবি/ কবিতা প্রসঙ্গে কথা ও কবিতা/ সাম্প্রতিক কবিতা/ কবিতা নিয়ে/ পুনশ্চ কবিতা পাঠ কবিতায় ও কথায়/ কবিতা সংখ্যার পরিশিষ্ট/ যথাসম্ভব সাম্প্রতিক/ কবি/ কবি ও কবিতা/ নিয়মিত অংশ/ ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস…/ ঈশানের বাতাসে ছিল কিছু নিশানা : শামীম সাঈদ/ হায়! সেদিনের ঝড়টা কি কখনো… : আসাদ সরকার/ আমাদের ঘুম ভাঙাবে পরজন্মের পাখিরা! : অমিতকুমার বিশ্বাস/ বাউলা ঝড়ে উদাস পথিক : রফিক সানি/ অনিঃশেষ রিলে-দৌড় : উমাপদ কর/ ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস : সুজন হাজারী/ পাঠক কহেন…/ কী লিখি কেন লিখি : সরকার মাসুদ/ স্মরণ/ বাঙালনামার বাকি কথা : মুহম্মদ মুহসিন/ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা ১২ ॥ সায়মা আলম নাজ/ প্রান্তিক প্রতিভার প্রাকৃতকথন ॥ আহসান হাবীব/ ধারাবাহিক/ বিচিত্র সমাজতত্ত্ব সঙ্গীতের সমাজতত্ত্ব ॥ মুহাম্মদ হাসান ইমাম/ [ট্রিলজি]/ সমস্ত ধূসর প্রিয় : শহীদ ইকবাল

আগস্ট ২০১৫ ॥ সংখ্যা ২৯
[ঢাকাচন্দ্রিকা সংখ্যা]
ঢাকাচন্দ্রিকা/ ঢাকার কাগজ ॥ অবতরণিকা/ ঢাকার কাগজ ॥ ১ম খণ্ড/ ঢাকার কাগজ ॥ ২য় খণ্ড/ ঢাকার কাগজ ॥ ৩য় খণ্ড/ ঢাকার কাগজ ॥ ৪র্থ খণ্ড/ নিয়মিত অংশ/ মুখ ও মুখোশের রোদ্দুর/ পাঠক কহেন…/ কী লিখি কেন লিখি : ইমতিয়ার শামীম/ গল্প : মাসুদ পারভেজ ও ইমরান কামাল/ কবিতা : রকিবুল হাসান  মাসুদার রহমান   শামীম নওরোজ/ স্মরণ : গুন্টার গ্রাস  নভেরা আহমেদ  অভিজিৎ রায়/ প্রবন্ধ : শরীফ আতিক-উজ-জামান/ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা ১৩/ বই ও পত্রিকা আলোচনা/ স্মৃতিগদ্য : তানভীর দুলাল/ অনুবাদ : কাজল কাপালিক/ ধারাবাহিক রচনা : বিচিত্র সমাজতত্ত্ব ॥ মুহাম্মদ হাসান ইমাম/ ট্রিলজি : সমস্ত ধূসর প্রিয় : শহীদ ইকবাল

ফেব্র“য়ারি ২০১৬ ॥ সংখ্যা ৩০
[বাঙালি মুসলমানের চিন্তা-চর্চার দর্শন সংখ্যা]
শ্রদ্ধাঞ্জলি/ উৎপল কুমার বসু ॥ ভূমেন্দ্র গুহ/ ক্রোড়পত্র/ বাঙালি মুসলমানের চিন্তা-চর্চার দর্শন/ জুলফিকার মতিন ॥ হাবিব আর রহমান ॥ মোস্তাক আহমাদ দীন ॥ গৌতম গুহ রায় ॥ শরীফ আতিক-উজ-জামান ॥ জাকির তালুকদার ॥ সালাহ্উদ্দিন আহ্মেদ ॥ আহমেদ ছফা/ নিয়মিত বিভাগ/ কী লিখি কেনো লিখি ॥ জাহাঙ্গীর ফিরোজ/ শেষ পাতার আহ্বান ॥ সৃজনের বিষ্ময় দুর্লঙ্ঘ দুর্জয়/ তারেক রেজা ॥ মামুন মুস্তাফা ॥ সবুজ মণ্ডল ॥ সাব্বির জাদিদ ॥ দীপ্ত উদাস ॥ সুবন্ত যায়েদ/ গল্প/ মুর্শিদ এ এম ॥ নূরুননবী শান্ত ॥ আনিফ রুবেদ/ কবিতা/ বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত ॥ খালেদ হোসাইন ॥ শশাঙ্কশেখর অধিকারী ॥ আভিজিৎ বিশ্বাস ॥ প্রণব ভট্টাচার্য ॥ কৌস্তুভ ইসলাম শ্রেয়া ॥ দেবযানী বসু ॥ আরেফিন অনু ॥ মাসুদ চৌধুরী ॥ মাহবুব বোরহান/ প্রবন্ধ/ মোহাম্মদ আজম ॥ মহীবুল আজিজ ॥ আমিনুল ইসলাম/ বই ও পত্রিকা আলোচনা/ তাসলিমা বেগম ॥ শহীদ ইকবাল ॥ প্রত্যয় হামিদ ॥ নাজমুল হাসান পলক/ চিহ্ন-২৯ পাঠক কহেন/ প্রান্তিক প্রতিভার প্রাকৃত কথন/ ফিরে দেখা/ অনুবাদ/ এসএম মামুনুর রহমান ॥ অমিতাভ চক্রবর্তী/ তুড়িতে ওড়াই ঘুড়ি বুড়ি বলে কই ৪ ॥ তানভীর দুলাল/ ধারাবাহিক রচনা/ মুহাম্মদ হাসান ইমাম/ ‘ঢাকাচন্দ্রিকা’-অনুস্মৃতি গাণ্ডীব ॥ অমিত্রাক্ষর/ ট্রিলজি : সমস্ত ধূসর প্রিয়

সকাল ০৮ থেকে রাত ০৮ পর্যন্ত স্টল খোলা থাকবে
স্টলে সার্বক্ষণিক একজনকে থাকতে হবে

তারিখ : ৭ মার্চ ২০১৬ ॥ সোমবার
সকাল ১০:০০ ॥ চিহ্নমেলা-বিশ্ববাঙলা শুভউদ্বোধন
উদ্বোধক ॥ আনিসুজ্জামান
॥ সেলিনা হোসেন
হাসান আজিজুল হক
সনৎকুমার সাহা
ড. মু. মিজানউদ্দিন
উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
চৌধুরী সারওয়ার জাহান
উপ-উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শহীদ ইকবাল
রহমান রাজু
সৈকত আরেফিন
বেলা ১১:০০ ॥ আড্ডা
বাঙালির চোখে শ্রেষ্ঠবাঙালি
আড্ডারু ॥ আনিসুজ্জামান, হাসান আজিজুল হক, সনৎকুমার সাহা, জুলফিকার মতিন, সেলিনা হোসেন, ইমানুল হক
সঞ্চালক : হাসান আজিজুল হক
দুপুর ১.০০ ॥ মধ্যাহ্নভোজ বিরতি
বিকাল ৩:০০ ॥ কবিতা
মার্চের কবিতা (ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে)
পরিবেশনা : স্বনন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঞ্চালক : তুহিন ওয়াদুদ
বিকাল ৪:০০ ॥ শিরোনামহীন আড্ডা-১
লেখক-পাঠক-সম্পাদক
সঞ্চালক : জাকির তালুকদার
বিকাল ৫:৩০ ॥ কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ-১
সঞ্চালক : শিবলি মুক্তাদির
সন্ধ্যা ৭:৩০ ॥ গান-আড্ডা
কাজী মামুন হায়দার রানা (বাউল গান)
কাঞ্চন রায় (ভাওয়াইয়া গান)
তারিখ : ৮ মার্চ ২০১৬ ॥ মঙ্গলবার
সকাল ৯:৩০ ॥ কথা প্রসঙ্গে
লেখক-সম্পাদকের অভিব্যক্তি
সঞ্চালক : আমিনুর রহমান সুলতান
দুপুর ১২:৩০ ॥ কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ-২
সঞ্চালক : শামীম নওরোজ
দুপুর ১.০০ ॥ মধ্যাহ্নভোজ বিরতি
বিকাল ৩:০০ ॥ শিরোনামহীন আড্ডা-২
সঞ্চালক : আরিফুল হক কুমার
বিকাল ৪:০০ ॥ কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ-৩
সঞ্চালক : গাজী লতিফ
গোধূলীবেলা ৬:৩০ ॥ চিহ্নপুরস্কার ও ছোটকাগজ সম্মাননা
অতিথি : নূহ-উল আলম লেনিন
হাসান আজিজুল হক
সনৎকুমার সাহা
জুলফিকার মতিন
ইমানুল হক
ড. মু. মিজানউদ্দিন
উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
চৌধুরী সারওয়ার জাহান
উপ-উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঞ্চালক : রহমান রাজু
সন্ধ্যা ৭:৩০ ॥ আনন্দ সন্ধ্যা
মীরাক্কেল রনি ও খুদে গানরাজ পায়েল
চিহ্নমেলা-বিশ্ববাঙলা ২০১৬ পরিচালনা পর্ষদ
আহ্বায়ক
শহীদ ইকবাল
চিহ্নপ্রধান
০১৭১৫ ৩১৯ ৩৬২
shiqbal70@gmail.com
সদস্য
রহমান রাজু
চিহ্ননির্বাহী
০১৯৭০ ০০০ ৮৪৭
rahmanraju77@gmail.com
তুহিন ওয়াদুদ
সহযোগী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
০১৭৩৫ ৫৮০ ৭৫৯
নিতাই কুমার ঘোষ
সহকারী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
০১৭১৮ ১৭০ ৯৫৪
সৈকত আরেফিন
সহকারী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
০১৭১৯ ১৩২ ৬৫১
পুলক পারিজাত
সহকারী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী
০১১৯৫ ৪০১ ৫১০
আবুল ফজল
প্রভাষক
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ডিসিপ্লিন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা
০১৭২১ ১০১ ২০০
জনাব খালেক মিঠু
সহকারী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
সরকারী মহিলা কলেজ, পাবনা।
০১৭১৮ ০৮৭ ৩৭৫
চিহ্নমেলা-বিশ্ববাঙলা উদ্যাপন উপ-পর্ষদসমূহ
প্রকাশনা উপ-পরিষদ
শহীদ ইকবাল
রহমান রাজু
সৈকত আরেফিন
রফিক সানি
প্রচার বিষয়ক উপ-পরিষদ
রহমান রাজু
আহমেদ নীলদীপ্ত উদাস
সাদ্দাম হোসাইন
অতিথি অভ্যর্থনা ও পরিবহন উপ-পর্ষদ
শেখ নাজমুল হাছান সুমন
নাসিমুজ্জামান সরকার
সায়মা আলম নাজ
নাজমা পারভীন নাজ
আবাসন উপ-পর্ষদ
তবিব রহমান
হাসিব হাসান রনি
রাশেদ এহসান
মিঠাই
আপ্যায়ন উপ-পর্ষদ
শফিক আশরাফ
খালেক মিঠু
মর্মরিত ঊষাপুরুষ
নূরে আলম সিদ্দিকী
মেলা-প্রারম্ভনা উপ-পর্ষদ
মর্মরিত ঊষাপুরুষ
মোল্লা মামন
সুবিদ সাপেক্ষ
রাশেদ এহসান
সেমিনার বিষয়ক উপ-পর্ষদ
তুহিন ওয়াদুদ
শামীম সাঈদ
রেজওয়ানুল হক রোমিও
আরিফা সুলতানা
শব্দআলোগান উপ-পর্ষদ
রহমান রাজু
নিত্য ঘোষ
কৌশিক আহমেদ
তন্ময় মুক্তাদির
চিহ্নপুরস্কার ও সম্মাননা উপ-পর্ষদ
শহীদ ইকবাল
রহমান রাজু
কুমার দীপ
সৈকত আরেফিন
পুলক পারিজাত
আইন-শৃঙ্খলা উপ-পর্ষদ
মর্মরিত ঊষাপুরুষ
রফিক সানি
দীপ্ত উদাস
সুবিদ সাপেক্ষ
অভ্যর্থনা ॥ আবাসন ॥ খাবার
তারিখ : ৬ মার্চ ২০১৬
অভ্যর্থনা
দুপুর ১.০০ হতে রাত ৮.০০
বিরহান্ত কৃষ্ণ (০১৭৫৩ ৩২৯ ০১৫)
বনানী নার্গিস (০১৭৭৩ ৬৮৬ ৬২৪)
নিঝুম সাহা (০১৭৯৬ ১৭৩ ২৫০)
রাত ৮.০০ হতে রাত ১২.০০
দীপ্ত উদাস (০১৭৫১ ৩০৪ ৪১৯)
অতন্দ্র অনিঃশেষ (০১৭৩৮ ০৬৯ ৮০৭)
তারিফ মুহাইমিন (০১৭৬৬ ৩১৪ ০১৮)
রাত ১২.০০ হতে রাত ৫.০০
নিখিলেশ রনি (০১৭৬৬ ৬১৯ ৫৪৬)
তানভীর আজমল (০১৭১৫ ৩০৪ ০৭৯)
তন্ময় মুক্তাদির (০১৬৮৮ ২৬০ ৬১০)
আবাসন
এসবি ইন্টারন্যাশনাল
হাসিব হাসান (০১৭৩৭ ০৩৬৮৬৩)
নাসিমুজ্জামান সরকার (০১৭১৩ ৭০২ ৫১৪)
রাশেদ এহসান (০১৯১৫ ৪৫৮ ০৪৬)
নাঈম (০১৬৭৪ ৪৮৭ ৫০৭)
মিঠুন রায় (০১৭৮৩ ১৮৩ ০৭৮)
সনেট (০১৭৯৭ ৭৪৮ ৯৪৮)
শিবলী (০১৭৪৩ ৯২২ ৪৭৮)
জুবেরী ভবন
অপু দাস (০১৭১০ ৬১৩ ৯৬৭)
নাজমুল পলক (০১৭২৪ ৮৬২ ০৬৯)
আইবিএস ভবন
চয়ন পাল (০১৭৩৯ ৯২৫ ২৭৭)
আহমেদ রনি (০১৭৪০ ০১৬ ০৪৩)
শহীদ মীর কাইউম ডরমেটরি
রোমিও (০১৭২২ ৬৮৩ ৭০৭)
হালিম (০১৭২২ ৭০৮ ৫০৮)
তারিখ : ৭ মার্চ
অভ্যর্থনা ও খাদ্য
সকাল ৬.০০ হতে দুপুর ২.০০
বিরহান্ত কৃষ্ণ (০১৭৫৩ ২৯১ ০১৫)
বনানী নার্গিস (০১৭৭৩ ৬৮৬ ৬২৪)
কোরাতুল মিতু (০১৭৮৬ ৯৩৩ ৩১৮)
নিঝুম সাহা (০১৭৯৬ ১৭৩ ২৫০)
দুপুর ২.০০ হইতে সন্ধ্যা ৮.৩০
দীপ্ত উদাস (০১৭৫১ ৩০৪ ৪১৯)
তানজুম (০১৭১০ ৪২৭ ৪০০)
সামান্তা তাপসী (০১৭৯৭ ৮৩৭ ০৫০)
সুমনা ইয়াসমিন (০১৭১৯ ৩২৭ ৭২৬)
ইমনা (০১৭৯২ ৩৮১ ৪০৩)
আবাসন
এসবি ইন্টারন্যাশনাল
হাসিব রনি (০১৭৩৭ ০৩৬ ৮৬৩)
পল্লব টপ্য (০১৭৪৭ ৮৩৯ ৩৭৪)
রাশেদ এহসান (০১৯১৫ ৪৫৮ ০৪৬)
জুবেরী ভবন
অপু দাস (০১৭১০ ৬১৩ ৯৬৭)
নাজমুল পলক (০১৭২৪ ৮৬২ ০৬৯)
আইবিএস ভবন
চয়ন পাল (০১৭৩৯ ৯২৫ ২৭৭)
আহমেদ রনি (০১৭৪০ ০১৬ ০৪৩)
শহীদ মীর কাইউম ডরমেটরি
রেজওয়ানুল রোমিও (০১৭২২ ৬৮৩ ৭০৭)
অব্দুল হালিম (০১৭২২ ৭০৮ ৫০৮)
তারিখ : ৮ মার্চ
অভ্যর্থনা ও খাদ্য
সকাল ৮.০০ হইতে দুপুর ২.০০
দীপ্ত উদাস (০১৭৫১ ৩০৪ ৪১৯)
সারাবাত সুমি (০১৭২৩ ১৪২ ৪৬৪)
আফরোজ কঙ্কন (০১৭৪১ ৮৯৬ ৮৭৮)
দুপুর ২.০০ হইতে ৮.৩০
দীপ্ত উদাস (০১৭৫১ ৩০৪ ৪১৯)
প্রীতম জাহান (০১৬৮৩ ৩৯৫ ৪০০)
শারমিন (০১৭৮৯ ৯০৯ ১০২)
আবাসন
হোটেল এসবি ইন্টারন্যাশনাল
হাসিব হাসান (০১৭৩৭ ০৩৬৮৬৩)
নাসিমুজ্জামান সরকার (০১৭১৩ ৭০২ ৫১৪)
রাশেদ এহসান (০১৯১৫ ৪৫৮ ০৪৬)
নাঈম (০১৬৭৪ ৪৮৭ ৫০৭)
মিঠুন রায় (০১৭৮৩ ১৮৩ ০৭৮)
সনেট (০১৭৯৭ ৭৪৮ ৯৪৮)
শিবলী সিহাব (০১৭৪৩ ৯২২ ৪৭৮)
জুবেরী ভবন
অপু দাস (০১৭১০ ৬১৩ ৯৬৭)
নাজমুল পলক (০১৭২৪ ৮৬২ ০৬৯)
আইবিএস ভবন
চয়ন পাল (০১৭৩৯ ৯২৫ ২৭৭)
আহমেদ রনি (০১৭৪০ ০১৬ ০৪৩)
শহীদ মীর কাইউম ডরমেটরি
রেজওয়ানুল রোমিও (০১৭২২ ৬৮৩ ৭০৭)
আব্দুল হালিম (০১৭২২ ৭০৮ ৫০৮)
ঢাকা বিভাগের পত্রিকা
অদ্রি- সম্পাদক ॥ অচিন্ত্য চয়ন ॥ ঢাকা ॥ ০১৭২১৫৬৫২১৮
অনুপ্রাণন- সম্পাদক ॥ আবু এম ইউসুফ ॥ ঢাকা ॥ ০১৭৬৬৬৮৪৪৩৬
অনুভূতি- সম্পাদক ॥ রনি অধিকারি ॥ ঢাকা ॥ ০১৭১২০২৪৬৫৫
অমিত্রাক্ষর- সম্পাদক ॥ আমিনুর রহমান সুলতান ॥ ঢাকা ॥ ০১৭৩১৭২৯৫০১
আটকুঠুরি- সম্পাদক ॥ সোহেল হাসান গালিব ॥ ঢাকা ॥ ০১৭১৫২৫৫২১৪
আড্ডাপত্র- সম্পাদক ॥ মনসুর আজিজ ॥ ঢাকা ॥ ০১৭১০৪৪২০৪৪
এবং মানুষ- সম্পাদক ॥ আনোয়ার কামাল ॥ ঢাকা ॥ ০১৭১২৫০২৩৪৫
কবি- সম্পাদক ॥ সজল আহমেদ ॥ ঢাকা ॥ ০১৭১৭২১৭৩৩৫
কবিতাচর্চা- সম্পাদক ॥ বদরুল হায়দার ॥ ঢাকা ॥ ০১৭৯৭২৮৮৩৯৯
কালের ধ্বনি- সম্পাদক ॥ এমরান মাহফুজ ॥ ঢাকা ॥ ০১৭৬৫৩০৭০৭০
কাশপাতা- সম্পাদক ॥ সোহেল মাজহার ॥ গাজীপুর ॥ ০১৭১২৯৫৮৯৯৬
চন্দ্রছাপ- সম্পাদক ॥ মজনু বৃদ্ধ বিশদ ॥ ঢাকা ॥ ০১৭৩৭৬১৪৪৬৭
চিরকুট- সম্পাদক ॥ তানজুম সানি ॥ জাহাঙ্গীরনগর ॥ ০১৭১২০৫৯৫৮৩
দ্বিবাচ্য- সম্পাদক ॥ মামুন রশীদ ॥ ঢাকা ॥ ০১৭১২০৮০৬৭১
ধমনি- সম্পাদক ॥ আবদুল মান্নান স্বপন ॥ কিশোরগঞ্জ ॥ ০১৭১০৬৭৫৫৬৯
পথরেখা- সম্পাদক ॥ নূহ-উল-আলম লেনিন ॥ ঢাকা ॥ ০১৭১৩০১৪৩২৩
মারমেইড- সম্পাদক ॥ তৌহিদ ইমাম ॥ ঢাকা ॥ ০১৭৩১৪৯৫৮৫৭
প্রকাশ- সম্পাদক ॥ শফিক হাসান ॥ ঢাকা ॥ ০১৯১৪৪৬৪২৫১
দাঁড়কাক- সম্পাদক ॥ সঞ্জীব পুরোহিত ॥ ঢাকা ॥ ০১৯২২৮০৫০৮০
দৃষ্টি- সম্পাদক ॥ বীরেন মুখার্জী ॥ ঢাকা  ০১৭১৮৮৪৬৮৬৭
হৃদয়ে চলন- সম্পাদক ॥ হাদিউল হৃদয় ॥ সিরাজগঞ্জ ॥ ০১৭১৫৬৫৯৯৭০
যমুনার ঢেউ- সম্পাদক ॥ মমিন হৃদয় ॥ সিরাজগঞ্জ ॥ ০১৭১৬৪৪১৭৯৬
সময়কাল- সম্পাদক ॥ গালিব রহমান ॥ ঢাকা ॥ ০১৯১৫৩৭৬৫৭৩
মলাট- সম্পাদক ॥ আঁখি সিদ্দিকা ॥ ঢাকা ॥ ০১৯১৬৫৭১৫৪৯
বিরাঙ- সম্পাদক ॥ অলী এহসান ॥ নারায়নগঞ্জ ॥ ০১৯১৩৪৯৩৪৫৮
দ্বীপজ- সম্পাদক ॥ সাব্বির আলম চৌধুরী ॥ ঢাকা ॥ ০১৯১৩৩৩৮৪৮৭
হস্তাক্ষর- সম্পাদক ॥ আবু জাফর সৈকত ॥ নারায়নগঞ্জ ॥ ০১৯২২২৯১৫১২
লেখমালা- সম্পাদক ॥ মামুন মুস্তাফা ॥ ঢাকা ॥ ০১৭২৬৭০২৮৪৬
উত্তরযুগ

রাজশাহী বিভাগের পত্রিকা
অতঃপর শব্দায়ন- সম্পাদক ॥ বাসুদেব পাল ॥ রাজশাহী ॥ ০৭০৫৮৭২১১১
উন্নয়ন সংকলন- সম্পাদক ॥ সুলতান মাহমুদ রানা ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭১৩৭৬৮৭৭৬
এবংবিধ- সম্পাদক ॥ সালিম সাবরিন ॥ রাজশাহী ॥ ০১৫৫৬৩১০৫৩২
কোমলগান্ধার- সম্পাদক ॥ রেজাউল করিম ॥ রাজশাহী
গল্পকথা- সম্পাদক ॥ চন্দন আনোয়ার ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭১৬১৯৫৭১৭
টোঙ- সম্পাদক ॥ মনজু রহমান ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭১৬৭২৬১৬৯
ধারা- সম্পাদক ॥ জুলফিকার হায়দার ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭৪৫৫৫৯৬৯৯
ধ্র“ব- সম্পাদক ॥ অমৃতলাল বালা ॥ রাজশাহী
নদী- সম্পাদক ॥ শামিম হোসেন ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭১২৮৫৩০০৫
নন্দন- সম্পাদক ॥ নাজিব ওয়াদুদ ॥ রাজশাহী ॥ ০১৫৫৬৩২০০৯৩
পুনশ্চ- সম্পাদক ॥ রবু শেঠ ॥ নওগাঁ ॥ ০১৭১৬২৪৮৮৬৮
মেন্টাল- সম্পাদক ॥ সাব্বির আহমেদ ॥ পাবনা ॥ ০১৭২৬৬৩৫৮১৮
মৃদঙ্গ- সম্পাদক ॥ কামরুলবাহার আরিফ ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭১৬১০৮৮৬৭
ম্যাজিক লণ্ঠন- সম্পাদক ॥ কাজী মামুন হায়দার ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭১৮৪০৮৭৫০
¯œান- সম্পাদক ॥ নিখিলেশ রনি ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭৬৬৬১৯৫৪৬
ঈক্ষণ- সম্পাদক ॥ ইসলাম রফিক ॥ বগুড়া ॥ ০১৭১২৬২৬৪২৬
দোআঁশ- সম্পাদক ॥ ইসলাম রফিক ॥ বগুড়া ॥ ০১৭১২৬২৬৪২৬
নিওর- সম্পাদক ॥ ইসলাম রফিক ॥ বগুড়া ॥ ০১৭১২৬২৬৪২৬
সিঞ্জন- সম্পাদক ॥ যতন দেবনাথ ॥ জয়পুরহাট ॥ ০১৭১২৫৫১৩৪৯
জট- সম্পাদক ॥ মুস্তাফা আনসারী ॥ জয়পুরহাট ॥ ০১৭১২৩৬২৮২১
অ আ- সম্পাদক ॥ রবিউল আলম অশ্র“ ॥ বগুড়া
হাইফেন- সম্পাদক ॥ প্রত্যয় হামিদ ॥ রাজশাহী ॥ ০১৭২৭২১৪৩৪৪
স্বপ্নচড়–ই- সম্পাদক ॥ ফিলিয়াপস হোসাইন ॥ রাজশাহী
চাক- সম্পাদক ॥ রবিউল আলম অশ্র“ ॥ বগুড়া
বামিহাল- সম্পাদক ॥ রনি বর্মন ॥ বগুড়া ॥ ০১৭৪৩৯১৮৯১৬
বরিশাল বিভাগের পত্রিকা
আড্ডা- সম্পাদক ॥ সানাউল্লাহ সাগর ॥ বরিশাল ॥ ০১৭২৪৭৬৮৯২০
প্রতিসর- সম্পাদক ॥ প্রণব আচার্য ॥ নোয়াখালী ॥ ০১৭১২২৫৩০৫৫
স্পর্ধা সমবসময়ে- সম্পাদক ॥ হাবিব ইমন ॥ নোয়াখালী ॥ ০১৭১৫৯১৩৭০৫

খুলনা বিভাগের পত্রিকা
আগামীর পথে- সম্পাদক ॥ হাসিবুল হাসান ॥ কুষ্টিয়া ॥ ০৭২২৬৬৯২৬৭
ঘরামি- সম্পাদক ॥ সদ্যসমুজ্জ্বল ॥ নড়াইল ॥ ০১৭৪০৬৩২৫৪৩
জংশন- সম্পাদক ॥ নাভিল মানদার ॥ যশোর ॥ ০১৭১৮১০০৭৬০
পড়শি- সম্পাদক ॥ সাফিয়ার রহমান ॥ যশোর  ০১৭১৬০৪৩৯৭৪
বেগবতী- সম্পাদক ॥ সুমন শিকদার ॥ ঝিনাইদহ ॥ ০১৯১৭৮৮৯৫১০
মরাল- সম্পাদক ॥ হোসেনউদ্দিন হোসেন ॥ যশোর ॥ ০১৯১২০৭০২০২
যাত্রী- সম্পাদক ॥ হোসাইন নজরুল হক ॥ যশোর ॥ ০১৭১২৪৮৫৩৪৪
বাকড়ার আলো- সম্পাদক ॥ আবুল কালাম আজাদ ॥ যশোর ॥ ০১৭১৮৭০১৯১০
রূপসী বাংলা- সম্পাদক ॥ শফিক সিমু ॥ যশোর ॥ ০১৭৮৩৬৪৩৫৯৭
দূর্বা- সম্পাদক ॥ গাজী লতিফ ॥ গোপালগঞ্জ ॥ ০১৭১১৯৩০৭১১
শিল্পধাম- সম্পাদক ॥ আবুল ফজল ॥ খুলনা ॥ ০১৭২১১০১২০০
সপ্তক- সম্পাদক ॥ শিকদার ওয়ালিউজ্জামান ॥ মাগুরা ॥ ০১৭৪০৬৩৫১৩৫
পলিমাটি- সম্পাদক ॥ নয়ন তালুকদার ॥ ঝিনাইদহ
রবীন্দ্রঘর- ফরিদপুর
হরকরা- কুষ্টিয়া
চট্টগ্রাম বিভাগের পত্রিকা
খড়িমাটি- সম্পাদক ॥ মনিরুল মনির ॥ চট্টগ্রাম ॥ ০১৭১১৯০৩২১২
তৃতীয় চোখ- সম্পাদক ॥ আলী প্রয়াস ॥ কক্সবাজার ॥ ০১৮১৯৪২৬২১৮
পষ্পকরথ- সম্পাদক ॥ হাফিজ রশীদ খান ॥ চট্টগ্রাম ॥ ০১৮১৬৯০৬৯০৪
মধ্যাহ্ন- সম্পাদক ॥ ওমর কায়সার ॥ চট্টগ্রাম ॥ ০১৮১৯৩১৪২২১
সমুজ্জ্বল সুবাতাস- সম্পাদক ॥ চৌধুরী বাবুল বড়–য়া ॥ বান্দরবান ॥ ০১৫৫৬৩৫৬৯২১
সিলেট বিভাগের পত্রিকা
চৈতন্য- সম্পাদক ॥ রাজিব চেীধুরী ॥ সিলেট ॥ ০১৭১৮২৮৪৮৫৯
ভাস্কর- সম্পাদক ॥ পুলিন রায় ॥ সিলেট ॥ ০১৭১৮১০৬৩০৮

রংপুর বিভাগের পত্রিকা
ক্ষরণ- সম্পাদক ॥ মাহমুদ আখতার ॥ দিনাজপুর ॥ ০১৭১০০৬০০৭৫
চালচিত্র- সম্পাদক ॥ রাজা সহিদুল আসলাম ॥ ঠাকুরগাঁও ॥ ০১৭৪০৮৪০০৯৯
নতুন সাহিত্য- সম্পাদক ॥ মহফিল হক, লুৎফর রহমান সাজু (সস) ॥ রংপুর
প্রয়াসী- সম্পাদক ॥ জলিল আহমেদ ॥ দিনাজপুর ॥ ০১৭১২২০৬৯৬৭
শব্দ- সম্পাদক ॥ সরোজ দেব ॥ গাইবান্ধা  ॥ ০১৭১৭৫১১৭৭৭
কোটিবর্ষ- সম্পাদক ॥ আযাদ কালাম ॥ দিনাজপুর
পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকা
কফি হাউস- সম্পাদক ॥ নীলমনি রোড, কলকাতা-২
কবিতা ক্যাম্পাস- সম্পাদক ॥ অলোক বিশ্বাস ॥ হাওড়া
এখন বাংলা কবিতার কাগজ- সম্পাদক ॥ অতনু বন্দ্যোপাধ্যায় ॥ জলপাইগুড়ি
জার্নি ৯০’স- সম্পাদক ॥ রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায় ॥ কলকাতা
তিস্তা- সম্পাদক ॥ তনুশ্রী পাল
কুবোপাখি- সম্পাদক ॥ অতনু ভট্টাচার্য ॥ দক্ষিণ কলকাতা
সমকালের জিয়নকাঠি- সম্পাদক ॥ নাজিবুল ইসলাম ॥ কলকাতা
আদম- সম্পাদক ॥ গৌতম মণ্ডল ॥
বাতিঘর- সম্পাদক ॥ রাতুল চন্দ্র রায় ॥ পশ্চিবঙ্গ, ভারত
তিতির- সম্পাদক ॥ সহদয় সাহা ॥ কোচবিহার
বিকল্প নির্মাণ- সম্পাদক ॥ অভিজিৎ বিশ্বাস ॥ কলকাতা
বিনির্মাণ- সম্পাদক ॥ সজীব নিয়োগী ॥ মুর্শিদাবাদ
কোরক- সম্পাদক ॥ তাপস ভৌমিক ॥ খালধার, কলকাতা
কৃত্তিবাস- সম্পাদক ॥ পিনাকী ঠাকুর ॥ হুগলি, পশ্চিমবাড্ডা
উত্তর দক্ষিণ- সম্পাদক ॥ সুরজ দাস ॥ দক্ষিণ দিনাজপুর
নিনি- সম্পাদক ॥ নিলিমা সাহা
প্রয়াস- সম্পাদক ॥ শঙ্কর ঘোষ
মল্লার- সম্পাদক ॥ শুভময় সরকার
অক্ষর- সম্পাদক ॥ বীরেন্দ্র দত্ত; স্বদেশরঞ্জন দত্ত ॥ বাঁশদ্রেবণী, কলকাতা
রিভিউ প্রিভিউ- সম্পাদক ॥ মারুফ হোসেন ॥ শীল লেন কলোনি, কলকাতা
এবং
পাখিরা ॥ বেলাভূমি ॥ কলকাতা ॥ রক্তমাংশ ॥ গ্রন্থসাথী ॥ স্বপ্নফেরী ॥ উজাগর ॥ মাসিক কবিতাপত্র ॥ কালকথা ॥ অঞ্জন

পিপ