Archives

করোটির যাবতীয় হাড়

করোটির যাবতীয় হাড়

খালেদ হোসাইন

 

স্বপ্নবিদ্ধ জলাশয় প্রতীক্ষায় মরে যেতে যেতে

দূর এক বনাঞ্চলে ম্রিয়মাণ ডানা ঝাপটায়,

যেখানে হরিৎ আলো শৈবালের অন্তরঙ্গে জ্বলে,

সেখানে ফড়িং-ঠ্যাং আটকে থাকে জিগার আঠায়।

গলনালি চেপে ধরে বাস্তবের বহুমাত্রিকতা

স্মৃতিশূন্য জলছাপ দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে তোলে

লবণাক্ত প্রতিবিম্ব— ঢোল-কলমির সারা গায়ে

মোহকে প্রণয় ভেবে দৈনন্দিন অগ্নিগর্ভে দোলে।

চৈতন্যের নদী-পাড়ে করোটির যাবতীয় হাড়

খুঁজে ফেরে মধুকাল, বটঝুরি, কর্পুরের ঘ্রাণ

শিরোনামহীন যত রাত্রির চোখের পাতা জ্বলে

কুক্ষিগত দানাপানি কখনও পায়না এই প্রাণ।

আদি-অন্তহীন বৃত্ত—অভ্যন্তরে জ্যামিতিক রেখা

সরীসৃপ-প্রতিচ্ছায়া প্রথম সত্তার মতো একা।

বৃষ্টিভেজা আলো

এই যে আমি বারবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি

তোমার হৃদয়ের অভিজ্ঞান থেকে এর কি কোনো মানে হয়?

জলভারাতুর মেঘ, আর আমার অন্তরে

তৃষ্ণার কোনো শেষ নেই। এই অগ্নিদাহ বুকে নিয়ে

জন্ম-জন্মান্তর আমি কি কেবল গুপ্ত ঘাতকের

প্রতীক্ষা করতে থাকবো?

 

যখন রোদ উঠবে, আমি বাতাসে শুনতে পাবো

অজস্র সুরের ঐকতান। আর তখন তুমি

অভ্যাসবশত আয়নার সামনে বিবসনা ও আত্মমগ্ন—

তারপর এক প্রহর পার হলে তুমি নৈমিত্তিক জ্যোৎস্নায়

পায়ে জড়াবে সোনার শিকল আর গুনগুন করে গাইবে

ইন্দ্র সভার আদিতম গান

 

বিস্মৃতির গহিন থেকে উঠে এসে মগ্ন-চৈতণ্যের অরণ্যানী

আমাকে ডেকে নেবে নিবিড় বিষণ্নতায়—

তার সুস্থির দ্বন্দ্ব ও অন্ধকারে। তার চোখের পাতার

মন্থরতার মধ্যে আমি লীন হয়ে যাবো

দীর্ঘতম নিদ্রার আবেশে। আর তুমি মাঝ রাতে

 

নিদ্রা ও জাগরণের বিপরীত আহ্বানে

বিস্ফোরিত রোমার স্প্রিন্টারের মতো

খানখান হয়ে ছড়িয়ে পড়বে— বারুদের ঝাঁজে—

ধোঁয়ার আচ্ছাদনে— তাজা রক্তের সংলগ্নতায়।

 

তারপর তোমরা বিখণ্ডিত সত্তা অঙ্কুরিত লতার মতো

হামাগুড়ি দিতে দিতে জড়ো হবে আমার ছায়ার ডানায়

কেননা, তখনো তার অজস্র জারুলের হৃৎপিণ্ডে এবং

অপরাজিতার ময়ূরকণ্ঠি বন্যায় ওড়ার আকাঙ্ক্ষাটুকু

দুর্নিবার ও অটুট থেকে গেছে।

আমার বুকের নিরবধি হাহাকারে

আর সপ্ত-মরুভূমির তৃষ্ণায় তখন স্ফুরিত হবে

বৃষ্টিভেজা আলোর স্পন্দন— কুণ্ঠাহীন মহা নাক্ষত্রিক ধ্বনি।