Archives

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

জলপান

ঢলাঢলি করে ঢল নামালে নদীর
জলপান করো!
কার হাত ধরো?
লাবণ্যপ্রবাহ!
নাকি শুধু দাহ!
কোন্ অনুরাগে আজ হয়েছো বধির!

টলমল ভাব নিয়ে কামার্ত শরীর
পাত্রে তলা সরু!
ভূমি আজ মরু?
পাকা জামে রস!
নাকি শুধু কষ!
কলসীতে মধু নেই– অভাব দধির!

কোন বাতাসের কোলে আজ ঢলাঢলি
রূপ রস ছাড়া কেন হও শুধু বলি!

 

আরণ্যক জ্বর

রসগর্ভ পেয়ে মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে!
ধ্বনিপ্রধান ছন্দের মধ্যে দিয়ে
–শুধু যাতায়াত!
লিপিকুশলতা নেই– পর্ববিন্যাসও নেই
শুধু ডাকঘর আর আরণ্যক জ্বর
চিঠিপত্র প্রেরণের আকুলতা!

ব্যাকুলতা নিয়ে দেখি–
অলংকাশাস্ত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে
ধ্র“পদ সংগীত হারিয়ে যাচ্ছে
গলা ছেড়ে গান গাওয়া যাচ্ছে না
সুরজ্ঞান লুপ্ত হচ্ছে ধোঁয়ার ভেতর!
নাট্যমন্দিরের পাদপ্রদীপ কি নিভে যাবে?
তারপর কোন্ দৃশ্যপট?

 

 
মধুকোষে বরফের আস্তরণ

ফুরিয়ে গেলে যা হয়
শুধু কি ক্ষয়?
তার চেয়েও অপেক্ষা করে বিপর্যয়।

পাটিগণিতের সাহচর্যে
ডুবে যাও কি বর্জ্য?
মধুকোষে কোন্ দোষে বরফের আস্তরণ
বেদনা ও অনুতাপ নিয়ে আ-মরণ!

ভূগর্ভ খুঁড়ে বের করা যাবে কি
সেই পুরনো স্বর্ণমুদ্রা?
দা নেই–ধারও নেই, পড়ে আছো ধূলোয় বেহুদা!

ছিল দৃষ্টি আকর্ষণকারী পদ্ম ও জল
এখন তা নেই! মেঘ নেই! খরা করে টলমল!

দিশেহারা হওয়া এবং গা সওয়া
লুপ্ত লোকজ্ঞান! বনরাজ্যে এসে–
এলাকা চেনার ক্ষমতা হারিয়ে যায়;
ডিঙ্গিটা একা যায় কোনখানে ভেসে ভেসে!