Archives

কবিতার ভেতর-বাহির

কথা

ভিতরের মাটির রসায়ন অবচেতনায় ভেজা। চেতনায় উপ্ত অসদুপেয়মান হলে সময়ে ফুলের প্রকাশ। কতো বর্ণ-গন্ধ-শক্তি আয়ু আরো অজানিত সীমাহীন স্বপ্ন স্বরিভূক মানবিক বোধের। অনুভব জাগরণ তাই বাহির। তবু কি বাহির। যা বলা আছে শব্দে শব্দে। শব্দেরও নানা রঙ। ভিন্ন শব্দের সঙ্গ আবেশে ভিন্ন ভিন্ন মানে। এক ঝোঁকেও বদলে যায় কতো জীবনার্থ।

কবিতার পেঁয়াজ পরত আছে— খুলে খুলেও শেষ নেই। কবিতার হাজার দুয়ার। এক দরজা পেরুলে আরেক দুয়ার। আরেক। আরেক। নৈঃশব্দের ঝর্ণা।

এক কবিতা প্রতি মনে মনে আলাদা রঙ পায়। ‘বনলতা’ প্রতি মনে আলাদা, ভিন্ন নারী অজস্রের। ‘বনলতা’ যে পড়ে তার একার। একার অভিজ্ঞতা জারিত কল্পনার খুঁজে ফেরা মুখশ্রীর বিচূর্ণ আলোর পুনর্নির্মাণ।

কাল আকাশে অনেক রঙ ছিল। পুরো আকাশটাই কবিতা– পাখি ফেরা। আমার চোখ কতোটুকু পরিধি বা ধরলো এই অসম্ভব মেঘ রক্তিম আলোর বন্যার। একটা পাখির মনকেও কি বুঝলাম। নীড়ে কে এলো? ঝরে গেলো। এটাই কার শেষ রাত।

আকাশময় একটা না দেখা মেয়েকে দেখলাম, অন্তহীন মেঘের আঁচল উড়িয়ে বৃষ্টি হলো না। রঙ বৃষ্টিতে ধুয়ে আলেয়া হয়ে অন্তর্হিত। কবিতার ভাব এলো। সর্বস্ব শব্দের এ্যাসিড ধোঁয়ার নীচে নিখাদ গলিত অসহ্য দহন স্পন্দন সৃষ্টির সোনা— ভুল বোঝবার শব্দবন্ধে কবিতা হলো না। কবিতার প্রাণ আত্মা রহস্যময়। কোথা থেকে আসে জানা হলো না। উড়ছে পাখি কোন নীড় থেকে আকাশে এলো সোনালী ডানা জানা হলো না।

একটা শব্দের ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে অনুসরণে অনেক শব্দের আকাশে ভীড়। যথার্থ শব্দই ওড়ে দম পায়— বাকির ভোকাট্টা— চির আকাশে। মনটাকে জানা হলো না। ধারে ধারে কিছু ফুলকি উঠে আসে বুক চিরে শব্দে সেজে। এরা পাখি। কবিতার প্রেয়সী আমার হলো না।

খুব এলোমেলো ব্যথা। ভাবনাগুলো এমন এলোমেলো হয়। ধীরে ধীরে যথার্থ শব্দে আদল পেতে পেতে। কখনো কারো পায় অবিস্মরণীয়। এই তো কবিতা। ভেতর বাহির।

কবিতা

সেই তো মৌচাক

১.

কালো সূর্য, অন্ধকার নিঃসীম শিকড়

চুম্বকীয় টানে— কৃষ্ণবিবর ব্যাদান।

২.

সত্য আলো চেয়ে স্বপ্ন যদি

দীর্ঘ খরা তাপে তাপে অসহ্য চূড়ায়

অতীব দাহ্য হয়— হৃদয়ে হৃদয়ে একটি কাঠির ডগার ফসফরাস সর্প ফোঁস

বা বলা যায় সূক্ষ্ম ড্রাগনের আত্ম বজ্রবিদ্যুৎ নির্দোষ,

আগুন তো ছড়াবেই মিছিলের

পল্লবে পল্লবে আরণ্যক দাবানল।

শাহবাগ সেই তো মৌচাক

দিবানিশি অতন্দ্র পাখার হৃৎস্পন্দন গুঞ্জরণ

শক্তির সঞ্চিত চেতনার নিরন্তর মধু।

ঢিল ছুঁড়লেই বিলাশে উড্ডীন রাগিঝাঁক

প্রত্যেক প্রাণভোমরা অব্যর্থ গাণ্ডীব হুল।

মেধা ভেতরেই ছিল, প্রজন্মের—

‘জয় বাংলা’ প্রকম্পে শানিত হলো

মেঘ ভাঙা লক্ষমুখ আলোর বল্লম।

যে বীজে শালপ্রাংশু পাতার পতাকা

শাহবাগে সেই শব্দ। আপাত নিঃশব্দ

ঝড় এলে সত্তাজুড়ে শাল শব্দের প্রপাত

সংক্ষুব্ধ ধমণী মোহনায় সৌভ্রাতৃত্বের স্বোপার্জিত জাগরণ।

কবিতার ভেতর-বাহির

কথা

ভিতরের মাটির রসায়ন অবচেতনায় ভেজা। চেতনায় উপ্ত অসদুপেয়মান হলে সময়ে ফুলের প্রকাশ। কতো বর্ণ-গন্ধ-শক্তি আয়ু আরো অজানিত সীমাহীন স্বপ্ন স্বরিভূক মানবিক বোধের। অনুভব জাগরণ তাই বাহির। তবু কি বাহির। যা বলা আছে শব্দে শব্দে। শব্দেরও নানা রঙ। ভিন্ন শব্দের সঙ্গ আবেশে ভিন্ন ভিন্ন মানে। এক ঝোঁকেও বদলে যায় কতো জীবনার্থ।

কবিতার পেঁয়াজ পরত আছে— খুলে খুলেও শেষ নেই। কবিতার হাজার দুয়ার। এক দরজা পেরুলে আরেক দুয়ার। আরেক। আরেক। নৈঃশব্দের ঝর্ণা।

এক কবিতা প্রতি মনে মনে আলাদা রঙ পায়। ‘বনলতা’ প্রতি মনে আলাদা, ভিন্ন নারী অজস্রের। ‘বনলতা’ যে পড়ে তার একার। একার অভিজ্ঞতা জারিত কল্পনার খুঁজে ফেরা মুখশ্রীর বিচূর্ণ আলোর পুনর্নির্মাণ।

কাল আকাশে অনেক রঙ ছিল। পুরো আকাশটাই কবিতা– পাখি ফেরা। আমার চোখ কতোটুকু পরিধি বা ধরলো এই অসম্ভব মেঘ রক্তিম আলোর বন্যার। একটা পাখির মনকেও কি বুঝলাম। নীড়ে কে এলো? ঝরে গেলো। এটাই কার শেষ রাত।

আকাশময় একটা না দেখা মেয়েকে দেখলাম, অন্তহীন মেঘের আঁচল উড়িয়ে বৃষ্টি হলো না। রঙ বৃষ্টিতে ধুয়ে আলেয়া হয়ে অন্তর্হিত। কবিতার ভাব এলো। সর্বস্ব শব্দের এ্যাসিড ধোঁয়ার নীচে নিখাদ গলিত অসহ্য দহন স্পন্দন সৃষ্টির সোনা— ভুল বোঝবার শব্দবন্ধে কবিতা হলো না। কবিতার প্রাণ আত্মা রহস্যময়। কোথা থেকে আসে জানা হলো না। উড়ছে পাখি কোন নীড় থেকে আকাশে এলো সোনালী ডানা জানা হলো না।

একটা শব্দের ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে অনুসরণে অনেক শব্দের আকাশে ভীড়। যথার্থ শব্দই ওড়ে দম পায়— বাকির ভোকাট্টা— চির আকাশে। মনটাকে জানা হলো না। ধারে ধারে কিছু ফুলকি উঠে আসে বুক চিরে শব্দে সেজে। এরা পাখি। কবিতার প্রেয়সী আমার হলো না।

খুব এলোমেলো ব্যথা। ভাবনাগুলো এমন এলোমেলো হয়। ধীরে ধীরে যথার্থ শব্দে আদল পেতে পেতে। কখনো কারো পায় অবিস্মরণীয়। এই তো কবিতা। ভেতর বাহির।

কবিতা

সেই তো মৌচাক

১.

কালো সূর্য, অন্ধকার নিঃসীম শিকড়

চুম্বকীয় টানে— কৃষ্ণবিবর ব্যাদান।

২.

সত্য আলো চেয়ে স্বপ্ন যদি

দীর্ঘ খরা তাপে তাপে অসহ্য চূড়ায়

অতীব দাহ্য হয়— হৃদয়ে হৃদয়ে একটি কাঠির ডগার ফসফরাস সর্প ফোঁস

বা বলা যায় সূক্ষ্ম ড্রাগনের আত্ম বজ্রবিদ্যুৎ নির্দোষ,

আগুন তো ছড়াবেই মিছিলের

পল্লবে পল্লবে আরণ্যক দাবানল।

শাহবাগ সেই তো মৌচাক

দিবানিশি অতন্দ্র পাখার হৃৎস্পন্দন গুঞ্জরণ

শক্তির সঞ্চিত চেতনার নিরন্তর মধু।

ঢিল ছুঁড়লেই বিলাশে উড্ডীন রাগিঝাঁক

প্রত্যেক প্রাণভোমরা অব্যর্থ গাণ্ডীব হুল।

মেধা ভেতরেই ছিল, প্রজন্মের—

‘জয় বাংলা’ প্রকম্পে শানিত হলো

মেঘ ভাঙা লক্ষমুখ আলোর বল্লম।

যে বীজে শালপ্রাংশু পাতার পতাকা

শাহবাগে সেই শব্দ। আপাত নিঃশব্দ

ঝড় এলে সত্তাজুড়ে শাল শব্দের প্রপাত

সংক্ষুব্ধ ধমণী মোহনায় সৌভ্রাতৃত্বের স্বোপার্জিত জাগরণ।