অনীক মাহমুদের কবিতা

সুমিত্রাবন্ধন

জিজ্ঞাসা

কীভাবে তোমার কাছে যাই আর্যনারী সংহিতা,
আম্রপালী-সুজাতার মতো বুদ্ধের বিহনে রাত
সাক্ষী যতো তরুবল্লী বৈশালী বিদর্ভে সুপ্রভাত
রামশ্রেষ্ঠি ঢেকে দেবে স্বর্ণমুদ্রা অপূর্ণ পুষ্পিতা
কীভাবে তোমার কাছে যাই? করভাগে প্রণিপাত
দিবাযামে অবান্তর বাক্যালাপ সিদ্ধির সীমায়,
আর কতো বিপর্যয় লুফে নেবে খণ্ডিত নিমাই?
বিষ্ণুপ্রিয়া হতোদ্যম আশালোকে ঘাত-প্রতিঘাত।

দিন যায় রোদের বিবরে নেমে আসে সমুত্থান
নিস্তব্ধতা, ডানে ঝাড়ে ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ ড্যাম্পায়ার,
সমারুঢ় নচিকেতা নুপ্ত আশা সোনালি কারার
রাহুর মতোন চাঁদে ঝুলে দোলাচল প্রতিদান;
যেতে চাই শ্যামলতা বাউকুড়ি বাতাসের মতো,
অঞ্জনের সিদ্ধিলোকে তোমাকেই ডাকি অবিরত।

 

প্রসন্নের নচিকেতা

বড় ছোট হয়ে গেছে তোমার পৃথিবী নিবারণ
এইবার রিগ্রেশন, দুঃখমোচনের সামিয়ানা
ছিঁড়ে খুঁড়ে নিজের আখেরে সাজো মগ্ন সনাতন,
হাসিনা-খালেদা মহীয়সী এই ত্যক্ত বিবিয়ানা
আপদের কষ্ট ধরে, রাত্রিদিন শঙ্খের পীড়ন
বাঙালির আকন্দ ধুন্ধল হারিয়েছে মুন্সিয়ানা–
মাকালের ওজারতি দিশে দিশে নষ্ট শিহরণ,
আবরাহা হস্তীদল বুঝে নেয় আবাবিল ডানা।

এইসব ঘাসের ঘটনা আবিদের ছিলো মনে,
ধুকে ধুকে ঝিনুকের মুুক্তো খুঁজে গেলেন হাসান
দস্তিদার আকালের মুখে হাসলেন সম্মোহনে
এবার নাচের শব্দ ঢেউ দিয়ে মনসা ভাসান;
তুমি বাছা উটকো কবির চেলা চেলা বেশি নেই,
প্রসন্নের নচিকেতা নিশ্চয় কাঁদবে অচিরেই।

 

সান্নিধ্য

আবার উড়াতে পারি লিলুয়া বাতাসে কথাচূর্ণ
স্বপ্নের চাদর গৃহস্থের ফিনফিনে উত্তরীয়
সেবাব্রতী ধুমুল দুক্ষোভে, সময়ের নাটকীয়
নান্দীপাঠ মেখে দিয়ে হৃদয়ের স্নিগ্ধ উত্তমর্ণ
চিরল সান্নিধ্য যদি চাও সুলোভনা, অধমর্ণ
পরিণাম যা-ই আসুক না কেন অনির্বচনীয়
দায় নিয়ে বুক বেঁধে দাঁড়াবেই ত্যক্ত বরণীয়
আত্মবিক্রয়ের ধারাপট হয় হোক ছেঁড়া পর্ণ।

শুধু চাই ঘনিষ্ঠ আকাশ নক্ষত্র বাতির আলো,
অরুণোদয়ের স্বপ্নভাষ্য সুহাসিনী স্নিগ্ধভোর
যদি পাই কোকিল দাপানো বাসন্তিকা বাহুডোর
সেখানেই হবো দৌবারিক মুছাতে কষ্টের কালো,
সান্নিধ্য তোমার দীপ্র শ্যামলীনা সুদূরের ছায়া,
আলোর ঝরণা ধারা সারাবেলা অর্বাচীন মায়া।

 

সাজানো পুতুল

সাজানো পুতুল যদি অপরের হাতে তুলে দিবে
নিবারণ চকোক্তির হরিদ্বার কোনখানে রবে?
কষ্টের কিরীটে ঝলমলে দীপ্তি প্রিয়ংবদা যবে
সখি-সন্তাপে চিনোবে, শকুন্তলা দুষ্মন্ত শিবে
কতোটুকু আশালতা গজাবে নিঃসঙ্গ মোহন ক্লীবে,
হরিতকী বনে কাকভোর নিমেষেই সন্ধ্যা হবে
আনন্দের নদীগুলো হলুদিয়া ঢেউ খেলে তবে
একে একে বেদনার ছায়াবৃতা সঙ্গে করে নিবে!

রাখালিয়া রাখী পরে কুঁচকন্যা কঙ্কাবতী ভোর
আঁচলের খুঁটে পুদিনা পাতার মতো বেঁধে
হয়তো সহাস্যে পাবে সোনালি দিনের আঁখিলোর,
ভাদ্রনিশীথিনী জ্যোৎস্নাধরে একা একা যাবে কেঁদে;
অনীকিনী সংঘারামে শোনা যাবে মেঘদূতী খতে
যক্ষের বিরহ ধ্বনি রামগিরি উজ্জয়িনী ব্রতে।

 

দায়বদ্ধ ভালবাসা

গলে গেলো নিভৃতির দায় নিয়ে দালির ওয়াচ,
প্রেম নয়, শ্যাম নয়, কূলের কামিনী ব্যবসায়ী
স্বার্থের শেকলে বাঁধা, লক্ষ্যাভিসারিকা স্বপ্নগাছ
কেটে তার গোড়ায় ঢালে যে কাদাজল, পরিযায়ী
পাখিদের চঞ্চুতে লেপটে নিয়ে কথার সুহাস
ওস্তাদি কায়দা মতো সাজে মননের আততায়ী
অকালে বুঝিনি শুধু নিয়তির নিম পরিহাস
হিজলের গলাজলে স্বপ্নগুলো ব্যর্থ শয্যাশায়ী।

আশালতা কী পাবে সোনালি প্রাতে দৃষ্টি দাও ভূমে,
আলোকলতার জড়িমাটা কুলবৃক্ষে ডাঁটোয়ান,
পুরাতন অতীতের গালে সুবর্ণ মায়ায় চুমে
এখনো নিপাট কোহিনূর ঝিলিকের শুদ্ধ মান,
দায়বদ্ধ ভালোবাসা ফিকে হয় দায়হীন হলে,
শুভব্রত দুঃখগুলো ঝরে পড়ে মনের অতলে।

 

দেখা

চলো যাই নিধুয়া বনের শ্যামলতা হাতে ধরি,
সেখানে বিহঙ্গ জ্যোৎস্নামুখী নিরঙ্কুশ প্রেম
চাঁদের সারল্যে জড়িয়েছে স্নিগ্ধকাম আশাবরী,
জোনাকির ঝিলিমিলি শুদ্ধতম নিকষিত হেম,
ভেতেরর বধিরতা অস্ফূট কিংখাবে সাতনরী
হারের তিলকে খোঁটা দেয় অবলীন কৃশ মেম,
ছায়াহীন অপবশে রাত্রি হয় নির্বেদসঞ্চারী
হৃদয়ের লোধ্ররেণু হয়ে ওঠে ফাঁকির টোটেম।

উদ্ভাসনে নতজানু হও! আত্মত্যাগে হও বলী!
বিবসনে প্রিয়ংবদা–সম্ভাষণে আকণ্ঠ কিন্নরী,
কপট মনের গ্লানি ধুয়ে মুছে সন্ধ্যার গোধূলি,
যদি হতে পারো তোমার নিবিদে বয়ে যাবে তরী;
আকাশ গঙ্গায় রাত্রিদিন ভাসবো সহাস্যে একা,
থাকবে তবুও প্রেমার্ত প্রতিমা না হলো যদি বা দেখা।

 

অলকানন্দিনী

ক্লান্ত রজনীর তারাগুলো আধোঘুমে মুহ্যমান,
ভাববিলাসিনী বিহঙ্গের চক্ষুদৃষ্টি ক্ষীণতর
হে আলেয়া সুহাসিনী, চেয়ে দেখো শ্বেত অশ্বযান
অবসন্ন প্রেমিকের লাশ নিয়ে করছে সফর,
বড়াব প্রমীলা তেজঃস্বিনী, তার সম্বোধি সম্মান
দানবনন্দিনী সত্তা মধু কাব্যে হয়েছে প্রখর
দুশ্চর তপস্যা পটে শুধু নেই তোমার ভাসান
আলোকিত প্রহরের গানে কখনোই হওনি মুখর।

না ঘরকা না ঘাটকা হাল্কাচালে মদির যৌবন,
আলুথালু ভালোবাসা ছাই করে উড়ালে আকাশে,
বিষে বিষে জর্জরিত তপঃক্লিষ্ট দয়িত মৌবন–
আত্মসুখকামী প্রণয়ের রঙ দিলে প্রাতঃরাশে
নিজে হলে কালনাগিনীর ক্ষোভে পেটরাবন্দিনী,
দংশনে কামিনী ব্রতে মোচনে হওনি অলকানন্দিনী।


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা