কবিতা

অতনু ভট্টাচার্য
হাগাগাছ

বংশলতিকায়
ঝুঁকে
তুমি জড়িয়ে
যাচ্ছো
পদ্মাপারের বাসা
মেঠোপথ
পুকুর
বাঁশবাগান
কলাবাগান
ঘাটে বাঁধা নৌকো
প্রপিতামহের হুঁকো
ছড়ি
ঘষা চশমা
জেব ঘড়ি
ঘণ্টাবাঁধা গাই
খেরোর খাতা
খোল
ছাতা
চকচকে কাঁশার ঘটি
খড়ম
নস্য ডিব্বা…
কল্পনা তুমি ফনফন বাইছো আর
জড়িয়ে ধরতে গিয়ে
খুঁজে পেলে
ছেঁড়াছুটো-আবছা-চিত্রার্পিত-বংশলতিকা
বা হাগাগাছ

 

 

 

অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়
দোটানার পাকদণ্ডী

গোপন শুনছে সূর্যাস্ত। সেই রোদ এইমাত্র ছেড়ে দিলাম।
আরেকটা কপাল উল্টো দিকে। ইয়ারিপাড়ায়।

নাখির আদর ছিল ইচ্ছেমত।

শব্দেরা এরকম একটা দোটানার ওয়েটিংভিলেজ।
মিস করছে খুলে যাওয়া
আর একটা লাটাই ওনলাইন খেলছে।

হুলিয়ায় মাতা জঙ্গলে উড়ে যাচ্ছে নাম্বার
তুমি ব্যারিকেড ভাঙছো যতনের জাহান্নামে।

যেটুকু আমার ছিল

পায়ের কটকি নিয়ে নিম্বাস এলা। জলাশয়ে
মাত হবে অন্ধপুরাণ। আকাশবর্ষণ।
বাউল পরিবারে বেজে ওঠে বাতি।
পাতানো ঠিকানায় হলুদ ঝুলে আছে। কাছাকাছি
ঘাসের বসন্ত। ডোবানো শিকড়।
গলা ভেজানোর পাঠশালায় ইশরা পিছল। ভাগ হলো।

পাড়ার পুকুরে তার ছায়া। যে চুল চলে যায় আমাকে
দমকা দিয়ে। তার রেশমে টাইলস পেরিয়ে যাবার শব্দ
ওষুধ অছিলায়।

এভাবেই একটা দিন
অবুঝ সন্ধ্যার দিকে
তাকাতে তাকাতেই

 

সন্ধ্যাসবিতা

এই শহর
যার কোথাও কোথাও লেগে আছে
স্বেচ্ছারিতা
বিলি কাটা মোহনার কাছে

আজ দারুণ রোদের পর
ডুবেছিল চোখের কৌতুক
ছিল বন্ধ ঘরের কোণে
ফেলে আসা আদরে উড়াল

দেখ ভাষাতেই বেজে ওঠে আমাদের মেয়ে
ছেলেতে ঢেলে রাখা দোহাই আবদার-এ

রাখো
এই শেষটুকু ধরে বেঁধে রাখো
শ্রাবণে শোনানো ওর জন্মের ফোঁটা

যতটা আমার তুমি

তফাতের পাড়ি
রোদভাষা আংটি উদাস

চাইছি মৃদু
এক জোতের প্রতিমা
স্টেশনের দিয়া দিয়া শুনে

হয়তো অবেলাই
চোখানো সেলাই-এ তুমি
ট্রেন ছেড়ে রেখে যাওয়া শাঁখের হলুদ

এটুকুই গান
জাল তোলা জেলেনির হাসি।

জলের আদরে চলো
ঘাস খুলি ভরাডুবি

এ র প র  একা কার পায়ের সরম

অন্ধকারের কিছু কথা

আলো জ্বাললেই
সবটা ঘর হয়ে ওঠে না
কিছু পুরোনো তার সামান্য দমকা ছড়ায়

তুমি অন্ধকারকে লিখতে চাও নি
মাঝের নাব্যতায়
গন্ধের আগে ও
পরে
উবু উবু নখের চি‎হ্ন বিরতি
নোয়ানো জলে
একলা সহবাসে
এইসব আমার
আদপে হুইলচেয়ার
বসলেই বাজতে থাকে।

একটা ফাতনা কত যতেœ বানাতে পারতাম
ছিপের প্রেমে পড়ে
কত রাত জেগেছি একটু বৃষ্টির জন্য
এইসব মাছের জন্য।

 

 

সোনালি বেগম
প্ল্যাকার্ড

শান্তির জল ছড়িয়ে পড়ে মাটির কণায় কণায়
সামনে স্লট ওয়াক মেয়েদের কুচকাওয়াজ :
যৌন উৎপীড়ন-এর বিরুদ্ধে জোরালো চপেটাঘা-
সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক-ও
সমর্থনে মেলায় হাত।
কানুনবিরুদ্ধ পাঁচটি পথ খবর দিতে থাকে-
ফোন হ্যাকিং, ব্ল্যাগিং, পিংগিং, পুলিশ সহায়তা,
কম্পিউটার হ্যাকিং।

সংবাদহীন সংবাদ আসে ‘মিস্ড কল’ প্রতিদিন।
দুর্ভিক্ষহীন করতে ইথিয়োপিয়া, সিরিয়া, তুর্কি, ইরান
মরক্কো, কেনিয়া ঘুরতে যাই…
‘প্রেমের পথে কোন চাতুর্য নয় ’—মৌলানা রুমি-র
কথা ডাকে….
এখন গভীররাতে  নিদ্রাহীন চোখ অ্যালার্ম শুনে যায়
বমব্লাস্ট রাতের শরীরে গলিত দিনযাপন
অশ্র“সজল প্ল্যাকার্ড-মিছিল নামে জনপথে—

 

 

আদালত

অ্যানোরেক্সিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শীর্ণ মডেলটির
মৃত্যু হয়ে যায়। ক্রমশ ইতিহাসনিবদ্ধ হয়ে যাওয়া
এই সময়। ফুলের তোড়া বাঁধতে বাঁধতে শিশির ঝরে
পড়ে। গোলাপ পাপড়ি ছোঁয় লিলির বিশুদ্ধ রং।
ধুলোর অস্তিত্ত্বও চোখে পড়ে কোথাও। চড়াই-উৎরাই।
কেউ কেউ উৎকৃষ্ট জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
কঠিন জীবনযুদ্ধে পথিকও গান গায়। দৃঢ় আত্মবিশ্বাস
গড়ে তোলে সাফল্যদ্বার। উৎসাহী জোয়ারে ধানের
শিষ দোলেÑঅন্তঃকরণ আদালত হয়ে যায়।

 

 

পদচি‎হ্ন

অসংখ্য ঘরের ভেতর ঘর, বারান্দার পর বারান্দা
ঝুলন্ত দোলনা, কাঠের দরজায় সূক্ষ্ম কারুকাজ
জানলায় লতানে গাছ সাপের তীব্র অবস্থান।
সাদামার্বেল কথোপকথন মেঝেয় পদচি‎হ্ন এঁকে যায়…

বলরুমে গানবাজনা নানান ভাষায় কথোপকথন চলছে
মায়াসভ্যতা, ইনকা, অ্যাজটেক…!
পাহাড়, প্রবালপ্রাচীর, সমুদ্রফেনা, কুমিরের আর্তচিৎকার…
রাত্রির অন্ধকার আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের দল এগাচ্ছে
ছিটকে পড়ছে আলো সজাগ বাতিঘর।

 

বন্ধ দরজা

চোখের কাপড় খুলে দেখে নিই সেই মানুষ।
বন্ধ দরজার ভেতর নাম-অজানা
বন্ধ দরজা ডিঙিয়ে এই সন্ধান। মুখোশের
আড়ালে থাকে যে মুখ তাকেই চিনে নিয়ে
এগিয়ে যায় গাড়ি! অ্যাক্সিডেন্ট!
পায়ের ওপর কোদাল-আঘাতে খান-খান
প্রজ্জ্বলিত মোমবাতি আর ফুলÑ

 

ব্লু-জোন

শব্দ মাপার যন্ত্র অসিলোস্কোপ মেলে ধরে হাত। বুদবুদ-এর
উপর বুদবুদ, বৃক্ষ থেকে সমগ্র সৃষ্টির অস্তিত্ত্বে সেই অদৃশ্য
শক্তির কারুকাজ। বিজ্ঞানীর অভিমতÑমানুষ ও শিম্পাঞ্জির
নিরানব্বই পারসেন্ট ডিএনএ একই রকম।
ঝিল-এ প্রস্ফুটিত পদ্মফুল, জলফড়িঙ-এর মত আলতো স্পর্শ
নিয়ে উড়ে যায় চাঁদ। কালো পাথর পড়ে থাকে। জ্ঞান-এর
বিবেকসম্মত প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়ে। শান্তিবন আরও
উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সূর্যের হলুদ রং ছড়িয়ে যায়।
দীর্ঘায়ু মানুষজন নিয়ে কোস্টারিকা-র নিকোয়া দ্বীপ,
ইটালি-র সার্র্দিনিয়া দ্বীপ, জাপান-এর ওকোনোভা
দ্বীপÑব্লু-জোন হয়ে ওঠে।


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা