কবিতা, আরোগ্য হাসপাতাল

কথা

কবিতা কী প্রার্থনার সঙ্গীত? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার থেকে বরং এটাই মেনে নেয়া শ্রেয় যে, মানুষের মনের ভেতরে আনন্দ-বেদনা, দুঃখ-কষ্টের না বলা গুমরে ওঠা কথার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি হলো কবিতা। মূলত সমাজ, রাষ্ট্র এবং এর চারপাশের পরিবেশ-প্রতিবেশ আর মনোজাগতিক ক্রিয়া থেকেই কবিতার উদ্ভব। বলা যায়, কবি তাঁর অন্তর্গত তাগিদ থেকে কবিতা লেখেন। আর কবিতা বোঝার ক্ষেত্রে কবিতাই যথেষ্ট। এতে কবির কোনো দায়বোধ থাকে না। কেননা পূর্বেই বলেছি কবিতা গড়ে ওঠে চারপাশের আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সাযুজ্যে।

তবে এ কথা সত্য যে, কবিতা আমাকে শুশ্রƒষা দেয়। সকল প্রকার অবসাদ, হতাশা আর বেদনা থেকে সে আমাকে মুক্তি দেয়। সেরকম একটি কবিতা লেখার পর সংসারযাত্রার সমস্ত গ্লানি থেকে যেন অবমুক্ত হই, এমনকি জীবনের ভার থেকেও। আসলে কবিতা বিমূর্ত, তাকে মূর্ত করতেই কবির যত প্রচেষ্টা। একথা অস্বীকারের উপায় নেই যে, মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কবিতার অধিবাস। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের না বলা অংশটুকুই কাব্যভাষায় প্রতিফলিত হয় সনতারিখের নির্দিষ্ট সীমারেখায়। সৃষ্টিশীল মানুষ তার মৌলিকত্ব নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। কবিও তার ব্যতিক্রম নয়। তেমনই আমার কবিতার পশ্চাতে কাজ করে মৌলিকত্ব। আর তাই প্রচলিত রীতিনীতি, আচার-প্রথা, বিশ্বাসকে অস্বীকার করে নয় বরং এগুলোর হাজার বছরের ঐতিহ্যকে সাক্ষী করেই গড়ে ওঠে আমার কবিতা। সর্বোপরি ব্যক্তি আবেগ, উত্তাপ, অনুভূতি-বোধ থেকে কবিতা জন্ম নিলেও সৃষ্টিশীল কবিতা চিরকাল মুক্ত মানবতার সপক্ষে, এ এক আরোগ্য হাসপাতাল।

কবিতা

বিষাদের আঙুলগুলো

                তখনো তুমি ঘুমোচ্ছো

অথচ জাগরণে শিথিল হলো ঘুমের বালিশ।

কোথাও কোনো প্রাণের সাড়া নেই

না ছিল নাইটগার্ডের বাঁশি;

ওরা কী তবে চোলাই মদে চূর!

জানালার কাঁচ সরিয়ে দেখি— দুর্ধর্ষ

ডাকাতের পায়ের ছাপে শীতরাত্রির

মাটি কাঁপে। ভাঙা দেয়ালের পাশে

উচ্চকিত মাতাল গণিকা রাত্রি।

এভাবেই নেমে গেছে ঘুমের শহর

ঘুমের ভেতরে তুমিও ক্রমেই হয়ে গেছ অন্ধকার,

ওই আঁধারের পাশে উঁকি দেয় আমারই পরাজয় স্তম্ভ

ও ধূসর, ও রাত্রির ক্যাম্প,

এখন কীভাবে মেলে ধরবো বিষাদের আঙুলগুলো?


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা