কয়েকটি কবিতা

কবিতা
শুকনো পাতার মতো কবিতারাও এখন বাতাসে ওড়ে ঠিকানাহীন
এলোমেলো উড়তে উড়তে হয়তো কখনো চুলোর আগুন হয়ে যায়
বুকের আগুনে পুড়েই হয়তো তার জন্ম হয় রাতের নিস্তব্ধতায়
পোড়েতো জীবনই- জীবন পুড়ে পুড়ে যেভাবে বাঁচে—কবিতাও তাই

কবিতার বাইরে তোমাকে
কবিতার বাইরে তোমাকে আর কিছুই বানানো যায় না
কিন্তু তোমাকে এখন আর কবিতা বানাতে ইচ্ছে করে না
অথচ আমার ইচ্ছে-অনিচ্ছেকে দুমড়ে মুচড়ে
তুমি বারবারই লাবণ্যদুপুরের মতো কবিতা হয়ে ওঠো
কবিতার সাথে নিশুতিযাপন ছেড়েছুঁড়ে
যেনো কামরাঙা অসহ্যদুপুরের দখলে আমি
কবিতাশরীর আজ নিষিদ্ধচুম্বনে পূর্ণিমা হবে রাতভর
তোমাকে এ রাতে কবিতার বেনারশিতে সাজানো নয়
আমি আজ কবিতার কোনো কারিগর নই
বুনোচুম্বনে তোমাকে আজ রাত বানাবো নক্ষত্র আমি
স্বর্ণআলো ছড়ানো নগ্নিকাগোলাপ মধ্যরাত ভেঙে
নিজেই কবিতার অধিক কবিতা হয়ে ওঠে
কবিতার বাইরে একটুও নেয়া যায় না তোমাকে
মুগ্ধঘ্রাণে কী অদ্ভুতভাবে অবাধ্য ভোরের আবেগে
ছড়িয়ে পড়ো বুকে ছন্দমাত্রা উপমা অনুপ্রাসের মতো
কবিতার বাইরে তোমাকে আর কিছুই বানানো যায় না

পুতুলদাগ
আনন্দাশ্রু দুচোখে বালিকার। মহাকালী স্কুল-বিস্ময়ে দেখে সে। আহা! এই সেই বিদ্যানিকেতন। সোনামায়ের সোনাপায়ের কচি কচি দাগ যেনো শিশিরে টলমলো। বালিকা খোঁজে একদিন সেই শিশুতরু মা। এখানকার সবকিছুতে আজ যেন মা. যেন এক পুতুল মাথাভর্তি চুলে দুবেণি করে বই হাতে দৌড়াচ্ছে, কল্পনায় দৌড়াচ্ছে রৌদ্র চিকচিক চোখে আর এক অবুঝবালা। চোখে মেঘ-ভেজা মেঘ-মাকে দেখে— কাদামাটি মা…বালিকা হারায় স্মৃতির রামধনু মেঘে। অন্তরে অজস্র ঢেউ অব্যক্ত স্বরে বলে মা!
দেখো তোমার পুতুলপায়ের দাগ আমি কী পাগলের মতো খুঁজছি, ছুঁয়ে নিচ্ছি আমার সর্বস্বতায়। ও মেঘ আমি আনন্দে কাঁদি, তুমি কেন কাঁদো! মাকে তুমিও কী খুঁজে খুঁজে ফেরো!

ব্যর্থ ভয়ঙ্কর দৌড়ের কাছে
দাড়াশ সাপের পেছনে শুকনো মাঠ ভেঙে কী ভয়ঙ্কর দৌড়েছিলাম একদিন
কিছুতেই তাকে ধরতে পারিনি পুরো এক মাঠ শুকনো কাঠের মতো মাটি
ক্ষত-বিক্ষত পা নিয়ে ব্যর্থতার ঘামে সেই যে ফিরেছিলাম শৈশব শরীরে
আজো যেন সেই একইভাবে দৌড়াচ্ছি— আমার স্বপ্নরা
বড়ো বেশি মরীচিকা
কী ভয়ঙ্কর সাপ একদিন জড়িয়েছিল আমার শোবার খাটের পায়ার সাথে
কী ভয়ঙ্করভাবে একদিন ঘাস কাটতে হাতের মুঠোয় ঘাসের পরিবর্তে
মুঠোবন্দি করেছিলাম গোখরা সাপ-নিজের জীবন নিয়ে খেলছি তো
তখন থেকেই— আজ কেন খুঁজি পুরনো প্রাসাদে খসে যাওয়া জীবন
নতুন সূর্যের কাছে-একদিন তো বুঝিনি এ জীবন জীবন নয়—মৃতচোখ
লেগে থাকে শরীরে শুকনো মাঠে যেনো পড়ে থাকা খড় কিংবা নাড়া
পদ্মাতে ডুবেছি—ডুবেছি গড়াই নদীতে কীভাবে বেঁচে গেছি জানিনা হিসাব
কী এক অদ্ভুত– মরে মরে ফিরে আসা-কেন বেঁচে আছি— অনর্থক মনে হয়
কেন এখনো দৌঁড়াই দূরের পাখির কাছে- যে পাখি আমার নয়-আমার তো
ছিলো না পরাণ পাখি কোনো—যার চোখের দুকোণ ভেজে আমার বেদনা
নিজেকে ফেরাবো নিজের ভেতর-স্বপ্নগুলো কুচিকুচি করে কেটে ইচ্ছেমতো
উড়াবো বাতাসে-হাতের মুঠোয় বাঁধবো না লালশাড়ি কবিতা তোমার
তোমার পায়ের নূপুরে কখনোই বাজবে না আমার চুম্বনের শিশির শব্দ
তোমার কাঁচের চুরি প্রজাপতি আদরে আমার রক্তফোটায় পরবে না
লালটিপ
আমি ফিরে যাবো আমার ভেতর-ভয়ে ভয়ে ফিরে যাবো-যদি কোন ভুল
ভুল করে করে-ফেলি—ভুলের আগুনে যদি পুড়ে যায় প্রিয়তমা মৃত্তিকা রমণী
তোমার উজ্জ্বল সুন্দরে থাকবো বলে দূরে সরে নিয়ে যাবো নিজেকেই
তুমি নিজেও জানবে না কতোটা পথ আমি হেঁটে গেছি পেছনে একাকী
তোমাকে হারাবো না বলেই আমার এই চলে যাওয়া-ক্ষত-বিক্ষত কবিতা
সেই কবে থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে কতো উজানভাটি পেরিয়ে তোমার
জীবন-আঁচলে বেঁধেছি নিজেকে- নিজেকেই আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি
সেই শৈশবের ব্যর্থ-ভয়ঙ্কর দৌড়ের কাছে


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা