ঢাকাচন্দ্রিকা ॥ ঢাকার কাগজ ॥ ২য় খণ্ড [বিশেষ ক্রোড়পত্র]

ঢাকাচন্দ্রিকা
ঢাকার কাগজ ॥ ২য় খণ্ড
…………………………………………………………………………………

আহমদ মাযহার
ঢাকাকেন্দ্রিক লিটল ম্যাগাজিন চর্চা

ষাটের দশকের সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশে সাহিত্যপত্র বা লিটল ম্যাগাজিনের অতিপ্রজতার শুরু। ‘লিটল ম্যাগাজিন’ কথাটাও জনপ্রিয় হতে শুরু করে এ সময় থেকেই। ‘লিটল ম্যাগাজিন’ কী কিংবা তার স্বরূপ সম্পর্কে এদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল এবং আগ্রহের শুরু এ সময়েই। উনিশ শো সাতচল্লিশের দেশ বিভাগের পর থেকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্য-চর্চার বাইরে জীবনবোধের দিক থেকে ভিন্ন ধারার বাংলা সাহিত্য চর্চার শুরু হয় ঢাকায়। এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, বাংলাভাষায় ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্পসাহিত্যের চর্চা বর্তমানে একটি সার্বভৌম দেশের সাহিত্যের পরিমণ্ডল সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে এবং তা আবহমান বাংলা সাহিত্যের ঐত্যিহের মধ্য থেকে উত্থিত হয়েও নতুন একটি অবয়ব লাভে সমর্থ হয়েছে। এই নতুন অবয়ব গঠনে লিটল ম্যাগাজিনসমূহের রয়েছে বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এক কথায় বলা চলে রাজনৈতিক কারণে ভাষাভিত্তিক জাতির একটি অংশ সূচনা করল নতুন এক উজ্জীবিত ধারা।
বাংলাদেশে লিটল ম্যাগাজিনের জোয়ার এসেছে ষাটের দশকে। সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল ছাড়া ঠিক লিটল ম্যাগাজিন স্বাভাবের কোনো পত্রিকা ষাটের দশকের আগে প্রকাশিত হয়নি। আর সমকাল পঞ্চাশের দশক থেকে প্রকাশিত হওয়া শুরু করলেও এর প্রকৃত সমৃদ্ধি ষাটের দশক জুড়ে। তাই সমকালকে ষাটের দশকের পত্রিকা বললেও ভুল হবে না। অবশ্য সমকাল পত্রিকাকে লিটল ম্যাগাজিন আখ্যায় ভূষিত করা হলে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন। এই মতদ্বৈততা খুবই সংগত। কিন্তু এ-কথা স্বীকার করতেই হবে সমকাল ঠিক সর্ববহ পত্রিকা ছিল না। সমকাল-এ এমন সব লেখককেই আমন্ত্রণ জানানো হতো যে ধরনের লেখা ইতোপূর্বে প্রকাশিত সওগাত, মোহাম্মদী, মাহেনও ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত রচনাগুলোর চেয়ে আলাদা। সমকাল দিয়েছিল ভিন্ন রুচির স্পর্শ সমকাল ছিল প্রধানত প্রগতিশীল সাহিত্যের প্রতিভূ। সাতচল্লিশের দেশ-বিভক্তির পর পাকিস্তানবাদী সাহিত্যের অবিরল অব্যাহত ধারার বিরুদ্ধে মুক্তদৃষ্টির সাহিত্যের যে পৃষ্ঠপোষকতা সমকাল দীর্ঘ সময় ধরে করে চলছিল শুধু এই একটি মাত্র কারণে অন্যান্য সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অ¤িœবাস ম্যাগাজিনের মতো হওয়া সত্ত্বেও আমি সমকালকে সীমিত অর্থে লিটল ম্যাগাজিনই বলতে চাই।
তবে সত্যিকার অর্থে অর্থাৎ বুদ্ধদেব বসুর ব্যাখ্যার নিরিখে যেগুলোকে লিটল ম্যাগাজিন বলা যায় সেই লিটল ম্যাগাজিনের সূচনা সিকান্দার আবু জাফর বা মুস্তফা নূরউল ইসলামের চেয়ে বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণদের হাতে। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত সপ্তক, ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত বক্তব্য, ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত স্বাক্ষর, একই বছর প্রকাশিত স্যাড জেনারেশন, ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক, ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত কন্ঠস্বর, ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত ছোটগল্প প্রভৃতি পত্রিকার মাধ্যমে ঘটতে শুরু করে বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে লিটল ম্যাগাজিনের জোয়ার। সমকাল বা পূর্বমেঘ লেখকদের যে অংশক বা যে স্বভাবের রচনা ধারণ করে প্রকাশিত হতো তার বাইরে তরুণ প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে প্রায় অলক্ষ্যে জেগে উঠেছিল নতুন ও ভিন্ন সুরে কথা বলার প্রবণতা। প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে এসব লেখকরা অচিহ্নিত, অবহেলিত থেকে যাচ্ছিলেন। ফলে প্রচলিত সাহিত্য পত্রিকার বিরুদ্ধে প্রায় সবার অলক্ষে শুরু হল অঘোষিত বিদ্রোহ। একে একে প্রকাশিত হতে শুরু করল অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিন। বাংলাদেশের সাহিত্যে শুরু হল প্রথম বিদ্রোহের ঋতু; ঋতু নতুন পালাবদলের।
স্যাড জেনারেশন, বক্তব্য, সাম্প্রতিক, স্বাক্ষর প্রভৃতি লিটল ম্যাগাজিনের একটি বা দুটি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়া শুরু করতেই লক্ষীভূত হল যে দু একটি কণ্ঠ থেকে যেন ধীরে ধীরে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বৃহৎ কোরাসে। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হল কণ্ঠস্বরÑষাটের লিটল ম্যাগাজিন কোরাসের নেতৃকণ্ঠ। ষাটের সাহিত্যে যে নতুন সুর শোনা যাচ্ছিলতাকে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর কণ্ঠস্বর অবগাহন করল এভাবে :
যারা সাহিত্যের সনিষ্ঠ প্রেমিক, যারা শিল্পে উন্মোচিত, সৎ, অকপট, রক্তাক্ত, শব্দতাড়িত, যন্ত্রণাকাতর; যারা উন্মাদ, অপচয়ী, বিকারগ্রস্ত, অসন্তুষ্ট, বিবরবাসী; যারা তরুণ, প্রতিভাবান, অপ্রতিষ্ঠিত, শ্রদ্ধাশীল, অনুপ্রাণিত; যারা পঙ্গু, অহঙ্কারী, যৌনতাস্পৃষ্ট কণ্ঠস্বর তাদেরই পত্রিকা। প্রবীণ, মোড়ল, নবীন অধ্যাপক, পেশাদার লেখক, মূর্খ সাংবাদিক, পবিত্র সাহিত্যিক এবং গৃহপালিত সমালোচক এই পত্রিকায় অনাহূত।
লিটল ম্যাগাজিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা প্রধানত ও সাধারণত ক্ষণস্থায়ী হয়ে থাকে। কণ্ঠস্বর পত্রিকা কিন্তু ক্ষণস্থায়ী ছিল না। প্রায় বারো বছর একটানা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রায় বারো বছর ধরে অবশ্য বিনা বিরতিতে নির্দিষ্ট তারিখ ধরে কণ্ঠস্বর সব সময় প্রকাশিত হতে পারেনি। একই সাথে নিয়মিত ও অনিয়মিতের দ্বন্দ্বই কণ্ঠস্বরকে তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলেছিল। দীর্ঘদিন ধরে একটানা প্রকাশিত হওয়ায় এর প্রধান লেখকেরা তাঁদের আত্মকণ্ঠকে তীব্র ও স্পষ্ট করে তুলতে পেরেছেন; পেরেছেন লেখকের সৃজনদ্যুতিকে উজ্জ্বল করে তুলতে। এক যুগ ধরে প্রকাশিত হতে গিয়ে এর চরিত্র বদল ঘটেছে। সম্পাদক যখন যে ভাবনা দ্বারা তাড়িত হয়েছেন পত্রিকাকে করে তুলতে চেয়েছেন সেই ভাবনার প্রতিভূ। সম্পাদকের ভাবনা গড়ে উঠত তাঁর আশেপাশের লেখকদের প্রবণতাকে কেন্দ্র করে।
ষাটের দশক ছিল বাঙালির জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থানের সময়, পাকিস্তানিদের স্বার্থে বেনিয়া বুর্জোয়াদের বিকাশের সময়। এ দেশে বামপন্থী রাজনীতি একটি শক্তিশালী অনুষঙ্গ হিসেবে বিকাশ লাভ করতে শুরু করে এ সময়ই। এ দেশের সাহিত্য সমাজ রাজনীতির এই অভিঘাতগুলো ষাটের দশকে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। এইসব প্রবণতাকে বিচ্ছিন্নভাবে ধারণ করে রাখছিল ষাটের লিটল ম্যাগাজিনগুলো। কণ্ঠস্বর পত্রিকা তার দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং এর সম্পাদকের উদার ও মুক্ত গ্রহণদৃষ্টির জন্য সক্ষম হয়েছিল সমাজ-রাজনীতির স্পষ্টভাবে অনুভূত এই দ্বিমুখী প্রবণতাকে ধারণ করতে। বাংলাদেশের সাহিত্যের রূপতাত্ত্বিক এবং চেতনাগত বিকাশ যা ষাটের লিটল ম্যাগাজিন স্রোতের প্রধান অনুষঙ্গÑতাকে সবচেয়ে সম্পন্নভাবে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল কণ্ঠস্বর।
সেই সময় অধিকাংশ লেখকই ছিলেন হয় সরাসরি পাকিস্তানবাদী সাহিত্যিক, আর না হয় তাঁরা ছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর যাবতীয় পদক্ষেপের প্রশংসায় ঘনিষ্ঠভাবে নিয়োজিত। এই দুই ধরনের লেখকদের একটি দল কেবলমাত্র রূপতাত্ত্বিক ধারায় শিল্পচর্চা করে চলছিল। তাদের প্রধান উপজীব্য ছিল মনোবিকলন ও শব্দের ঘ্রাণ বা আলো নিয়ে চর্চা; আর অন্যদল ছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্তুঙ্গ বিস্ফোরণের প্রতিভূ। রাজনৈতিক ধারণাটিও ছিল প্রধান দুটি ভাগে বিভক্ত। একদল তীব্র জাতীয়তাবাদী আর অন্যদল তীব্র বামপন্থী, বামপন্থী ধারণাটিও ছিল আবার রুশ এবং চীনের প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত। কণ্ঠস্বর পত্রিকা এই সবেরই নানান অনুষঙ্গ ধারণ করে রেখেছিল সম্পন্নভাবে। লিটল ম্যাগাজিনের বিক্ষিপ্ততা সম্মিলিত হয়েছিল কণ্ঠস্বর এর মোহনায়। ষাটের দশকের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে তাই কণ্ঠস্বর পত্রিকার ভূমিকা প্রধানতম বলে স্বীকৃত।
কণ্ঠস্বর প্রকাশিত হয়েছিল ষাটের দশকে। কিন্তু এর বিস্তার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে তিন দশক ধরে। তবে ষাটের দশকেই কণ্ঠস্বর ছিল সবচেয়ে রক্তিম যখন তা ছিল তার প্রথম প্রজন্মের তারুণ্যের ধারক। তখন কণ্ঠস্বর ছিল ক্ষীণ কলেবর, অস্থির। এ কথা বোঝা যাবে এর বিভিন্ন সংখ্যার সাইজ দেখে, এর প্রচ্ছদে নিরীক্ষার ধারণ দেখে, মুদ্রিত রচনার বিভিন্নমুখীতা দেখে। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ এই তিনটি মাধ্যমেরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে কণ্ঠস্বর এর পাতায়। ষাটের পর্বে কণ্ঠস্বর পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাগুলো ছিল সত্যিকার অর্থে নতুন এবং সে সময়ের অনুষঙ্গস্পর্শী। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সম্পূর্ণভাবে। মুক্তিযুদ্ধোত্তর কালে কণ্ঠস্বর প্রকাশিত হতে শুরু করে কিছুটা নতুন উদ্দেশ্য নিয়ে। তখনকার কণ্ঠস্বর দুটি প্রজন্মকে ধারণ করে প্রকাশিত হতে শুরু করে। দুটি প্রজন্মের মধ্যে অগ্রজেরা ইতোমধ্যেই কিছুটা পরিণত হয়ে উঠেছেন। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই তা ঘটার কথা। সত্তর দশকের নব্য তারুণ্যকে আবহন জানাল কণ্ঠস্বর-এর দ্বিতীয় প্রজন্ম। এই পর্বে কণ্ঠস্বর স্ফীত আকার লাভ করতে শুরু করে এবং ত্রৈমাসিক-এ রূপান্তরিত হয়। কণ্ঠস্বর-এর দ্বিতীয় পর্বের প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল :
কণ্ঠস্বর এই পরিবর্তন কেবলমাত্র কলেবর-গত স্ফীত বা ত্রৈমাসিক রূপান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বর্তমান সংখ্যা থেকে কণ্ঠস্বরের এতকালের চরিত্রেরও কিছু লক্ষণযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। এক কথায় বলতে গেলে এই সংখ্যার সাথে কণ্ঠস্বর তার অগ্রযাত্রার প্রথম পর্যায় ছেড়ে দ্বিতীয় পর্যায় পা দিচ্ছে। খুব স্পষ্টভাবে অনুভবগম্য না হলেও, আমরা নিকটতরেরা অনুভব করছি আমাদের সাহিত্য গত দশকের বিক্ষিপ্ত, অস্থির ও লক্ষহীন মানসিকতার পর্যায় ছেড়েÑঅন্ধকার বন্দনার ক্লেদাক্ত পাপ ও পচন থেকে এবং আকাশব্যাপী নৈরাজ্য, বিভ্রান্তি ও অর্থহীনতার আবর্ত থেকে মুক্তি নিয়ে সুস্থ সংহত এক অম্লান জীবনগ্রহে জেগে উঠেছে।
কিন্তু কিছুকালের মধ্যেই অনুভূত হতে লাগল যে সত্তর দশকের প্রথম ভাগের লেখকেরা ঠিক নতুন কোন ধারার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। তবে ষাটের দশকে কবিতা বা কথাসাহিত্যে যে ধারার সূচনা ঘটেছিল তার অগ্রযাত্রাই তাদের হাতে ঘটে চলেছে। কিন্তু সত্তরের মধ্যভাগ পার হতে না হতেই সাহিত্য এগুতে শুরু করে তরলতার দিকে। অধিকাংশ রচনার বিষয় হিসেবে প্রাধান্য পেতে থাকে আশাভঙ্গের যাতনা। শিল্পের বন্ধুর পথ পরিহার করে অন্ত্যসত্তরে উত্থিত লেখকেরা ধূসরতা আর ভাবালুতায় আচ্ছন্ন হতে শুরু করেন। সেই সাথে দ্রুত খ্যাতিমোহ আচ্ছন্ন করতে শুরু করে তাঁদের। দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকার পাতায় অন্যান্য অগভীর রম্যতার সাথে স্থান দিতে শুরু করে সৃজন-মননশীল সাহিত্যিক। এ ধরনের পত্রিকার পাতায় যাঁরা উপস্থিত হতে শুরু করলেন রাতারাতি তাঁরা লেখকখ্যাতি পেতে শুরু করলেন। কবিতা আর কথাসাহিত্য স্থান পেলে মঞ্চের ঝলমলে রোস্ট্রামে। যাঁরা দৃষ্টি ও শ্র“তিকে আচ্ছন্ন করতে সক্ষম তাঁরাই যেন পেতে শুরু করলেন খ্যাতি। এমন একটা অবস্থা যখন আগতপ্রায় তখন বন্ধ হয়ে গেল কণ্ঠস্বর। কণ্ঠস্বরের মৃত্যুর প্রায় সাথে সাথেই লিটল ম্যাগাজিনের জোয়ার পরিণত হল সুদীর্ঘ ভাটিতে।
আশির দশকে আবার পুরুজ্জীবিত হয়েছিল কণ্ঠস্বর। কিন্তু তা আর তেমন উজ্জ্বলতা অর্জন করতে পারেনি। এবারে আর স্বভাবের দিক দিয়ে তা লিটল ম্যাগাজিন হয়নি। তবে এবারে তা আর তেমন সফলতা লাভ করেনি; কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা প্রকাশিত হলেও তা আর সৃষ্টি করতে পারেনি কোনো তরঙ্গ।
ষাটের দশকে কণ্ঠস্বর পত্রিকার সহযাত্রী আরো কিছু পত্রিকার নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। এ পত্রিকাগুলো ষাটের সাহিত্য-স্রোতকে গতি দিয়েছিল। এগুলো কথাসাহিত্যের যে ধারাটি রূপতাত্ত্বিক নন্দনবাদের বিরোধী কামাল বিন মাহতাব সম্পাদিত ছোটগল্প ছিলো তাদের ধারক। পত্রিকাটি অর্জন করেছিল একটি খাঁটি লিটল ম্যাগাজিনের চরিত্র। এটিও প্রকাশিত হয়েছিল কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি সংখ্যায় বিস্তৃত হয়ে। আমাদের কথাসাহিত্য ছোটগল্প পত্রিকাটি নানা কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। পত্রিকাটি ছিল একটি সুস্পষ্ট ধারার পৃষ্টপোষক। ছোটগল্পের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। মোট ষোল সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পত্রিকাটি। দীর্ঘ বিরতির পরে আশির দশকের প্রান্তে এসে পুনরুজ্জীবিত হবার চেষ্টা করেও সফল হয়নি ছোটগল্প। কারণ লিটল ম্যাগাজিনের ধর্মই এই। লিটল ম্যাগাজিন সাধারণত একটি সময় খণ্ডের সৃষ্টি আকাক্সক্ষা অবলম্বন করেই চলতে থাকে। এরপর তাকে চালানোর অর্থ হচ্ছে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার কাজে শামিল হওয়া।
আবদুল মান্নান সৈয়দ ও আবদুস সেলিম সম্পাদিত শিল্পকলা ছিল আর এক ভিন্নধর্মী লিটল ম্যাগাজিন। প্রধানত কবিতা এতে স্থান পেলেও শিল্পকলা চেয়েছিল শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমকে ধারণ করতে। সাহিত্য, চিত্রকলা, চলচ্চিত্র ও নাটক প্রসঙ্গ একযোগে স্থান পেয়েছিল এই লিটল ম্যাগাজিনে। মোট আটটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল এর। প্রথম প্রকাশ সত্তর সালে হলেও মেজাজ-মর্জির দিক থেকে এ ছিল সম্পূর্ণই ষাটের চরিত্রের।
এছাড়াও পুরো ষাটের দশক জুড়ে আরো অনেক একেবারেই ক্ষণস্থায়ী পত্রিকা বেরিয়েছে প্রচুর। প্রায় একশোর মতো। ষাটের লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে আবদুল মান্নান সৈয়দ একটি জরিপ চালিয়ে মতো নাম বের করেছিলেন তাঁর সম্পাদিত চারিত্র পত্রিকায়। হয়তো বা আরো কিছু পত্রিকার নাম বাদ পড়ে গিয়ে থাকবে তাঁর তালিকা থেকে। তবে ষাটের লিটল ম্যাগাজিনের প্রবল জোয়ারের চিত্র আবদুল মান্নান সৈয়দের তালিকা থেকেই ফুটে ওঠে।
ষাটের দশকে যেমন বেশ কিছু লিটল ম্যাগাজিনের নাম পাওয়া যায় যেগুলো সত্যিকার অর্থে আমাদের সাহিত্যে নতুন কিছু সংযোজনের চেষ্টা করেছিল তেমন লিটল ম্যাগােিনর নাম সত্তর দশকে খুব একটা পাওয়া যায় না। যদিও ষাটের তুলনায় এই সময়ে বিজ্ঞাপন পাওয়া সহজতর হল, প্রচুর সাহিত্যকর্মীও পাওয়া গেল কিন্তু পাওয়া গেল না সাহিত্য-প্রেমিদের যথেষ্ট উদ্যম। অল্পতেই হতাশ হয়ে যাওয়া, গভীরতা সন্ধানে অনীহা, চাকচিক্যের দিকে আগ্রহ, সহজে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা ইত্যাদি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সামাজিক প্রবণতার প্রভাব লিটল ম্যাগাজিনের অঙ্গনকেও প্রভাবিত করেছিল। যেন লিটল ম্যাগাজিনের অঙ্গনকে ক্লেদাক্ত করে তুলল অন্যান্য অঙ্গনের মতো। উল্লেখযোগ্য যেসব লিটল ম্যাগাজিন এ সময় বেরিয়েছে তার অধিকাংশের গায়েই ছিল ষাটের মেজাজ। সত্তরের দশকে আমাদের নবীন লেখকরা যখন পাণ্ডুরতার পূজোয় ব্যস্ত তখন প্রতিভূ কোনো লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন দানা বেঁধে উঠতে পারেনি যেন। কয়েকটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম অবশ্য রয়েছে। সেগুলোর ভূমিকা আবার একটু অন্য রকম। কারণ সত্তরের নবীন লেখকেরা তাঁদের প্লাটফর্ম নির্মাণের জন্য লিটল ম্যাগাজিন বের করেননি। তাঁরা প্রধানত প্রতিষ্ঠিত দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকী বা সাপ্তাহিকে তাঁদের সৃজনচিহ্ন প্রকাশে আগ্রহী ছিলেন। ফলে জমাট বেঁধে উঠতে পারেনি লিটল ম্যাগাজিনের ষাট-সত্তর ধারা। তবে নানান অসৎ উদ্দেশ্য প্রচুর সংকলন বেরিয়েছে; এই সংকলনগুলোর লক্ষ ছিল প্রধানত বিজ্ঞাপনলব্ধ অর্থ আত্মসাৎ করা।
এবারে আসা যাক ব্যতিক্রম প্রসঙ্গে। মফিদুল হক সম্পাদিত গণসাহিত্য সত্তরের অন্যতম প্রধান উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। কিন্তু এই গণসাহিত্যকেও আমি সীমিত অর্থে লিটল ম্যাগাজিনই বলতে চাই। কারণ গণসাহিত্য অনেকটা পঞ্চাশের সমকাল পত্রিকার মতো ভূমিকা পালন করেছে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিগত তিন দশক ধরে উত্থিত অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখক। শুধুমাত্র প্রগতিশীল লেখকদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গণসাহিত্যর দায়িত্ব পালনের জন্যই একে লিটল ম্যাগাজিন বলা যায়। সত্তরের দশকে গণসাহিত্য-এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গণসাহিত্যর বেশ কটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় এক দশক ধরে।
গণসাহিত্যের উত্থানের প্রায় সমসাময়িককালে উত্থিত হয়েছিল মোহাম¥দ কামরুল ইসলাম সম্পাদিত কালস্রোত পত্রিকা। সত্তরের দশকে প্রকাশিত হলেও প্রকাশিত রচনাগুলোর চরিত্রের দিক থেকে তা ছিল ষাটের অনুবর্তী। খুব বেশি সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি পত্রিকাটির। সত্তর দশকের একেবারে শেষদিকে প্রকাশিত হয়েছিল বিপক্ষে। বিশেষত কথাসাহিত্যকেই অবলম্বন করেছিল পত্রিকাটি। যদি সত্তরের দশকে কথাসাহিত্যিকেরা কোনো সামান্যতম বৈশিষ্ট্য অর্জন করে থাকেন তাহলে বিপক্ষে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিল সেই বৈশিষ্ট্যকে। সত্তরের দশকে তরুণদের মধ্যে ছড়িয়েছিল হতাশার অনুষঙ্গ। ভেঙ্গে যাচ্ছিল মূল্যবোধ। ক্রমভগ্নমান মূল্যবোধের বেদনা যেন মূর্ত হয়ে উঠেছিল সে সময়ে তরুণ লেখকদের রচনায়। সত্তরের সমগ্র কথাসাহিত্য যেন হয়ে উঠল বিবমিষার প্রতিভূ। বিপক্ষে এই ধারাকে অঙ্গীভূত করতে সক্ষম হয়েছিল।
প্রায় বিপক্ষের সমকালেই প্রকাশিত হচ্ছিল একটি আক্ষরিক অর্থেই লিটল লিটল ম্যাগাজিন কবি। প্রায় এক দশক ধরে কবিতা ও কবিতা-বিষয়ক পত্রিকা কবি প্রকাশিত হয়েছে। রম্য পত্রিকার আংশিক করুণার হাত থেকে কবিতাকে ছোট্ট অথচ মর্যাদার আসন দিয়েছিল কবি। আবিদ আজাদ সম্পাদিত কবি সত্তরে প্রকাশিত হলেও আশির দশকে মনোভাবাপন্ন কবিরাই কবির পাতায় চিহ্নিত হতে পেরেছেন বেশি। রম্য পত্রিকার যুগে কবির ভূমিকা অকিঞ্চিৎকর নয়।
শুধুমাত্র নাটক এবং নাটক সংক্রান্ত বিষয়ে এ সময়ই প্রকাশিত হয়েছে রামেন্দু মজুমদার সম্পাদিত থিয়েটার। থিয়েটার নাট্যচর্চার ব্যাপারে করেছে প্রভূত সহযোগিতা। বিষয়ভিত্তিক লিটল ম্যাগাজিনের মধ্যে থিয়েটারের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের গ্র“প থিয়েটারের আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে থিয়েটার-এ। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অধিকাংশ নাটকই থিয়েটার এর পাতায় প্রকাশিত। বাংলাদেশের নাট্যসাহিত্যের সমৃদ্ধিতে থিয়েটার-এর ভূমিকাকে উচ্চমূল্য দিতেই হবে।
সত্তরের দশকে প্রকাশিত আরো কিছু পত্রিকার কথা উল্লেখ করতে হয়। যেমন ওবায়দুল ইসলাম ও মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ সম্পাদিত (জানুয়ারি ১৯৭২) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম লিটল ম্যাগাজিন মুখপত্র, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর সম্পাদিত বক্তব্য, হারুন রশিদ সম্পাদিত নতুন কবিতা প্রভৃতি।
আর দুটি পত্রিকার কথা এ সময়ের প্রেক্ষিতে উল্লেখ করতে হযে। পত্রিকা দুটি হচ্ছে যথাক্রমে আনওয়ার আহমদ এবং বেবী আনওয়ার সস্পাদিত রূপম ও কিছুধ্বনি। ষাটের দশকের চেয়ে সত্তর ও আশির দশকের নবীন লেখকরা রূপম, কিছুধ্বনির পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন বেশি। বিশেষত আশির দশকে পত্রিকা দুটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল কাক্সিক্ষত মান। প্রায় তিন দশকে বিস্তৃত এই পত্রিকা দুটির ভূমিকাও নেহাত কম নয়। রূপম মূলত ধারণ করেছে ছোটগল্প তথা কথাসাহিত্যকে আর কিছুধ্বনি কবিতা ও কবিতা প্রসঙ্গকে। কিছুধ্বনির সম্পাদক ছিলেন ষাট ও সত্তর দশকে বেবী আনওয়ার, পরে আশির দশক থেকে আনওয়ার আহমদ।
সত্তর দশকের শেষ ভাগেই লিটল ম্যাগাজিনগুলো পতিত হয় সংকটে। সংকটের কারণ ত্রিবিধ। একটি কারণ লিটল ম্যাগাজিনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম ও সততার অভাব, দ্বিতীয় কারণ মুদ্রণব্যয়ের গগণচুম্বিতা এবং তৃতীয় কারণ বিজ্ঞাপন প্রাপ্তির দুরুহতা। বলা চলে সত্তর দশকের শেষভাগে এসে লিটল ম্যাগাজিনের অবক্ষয় চূড়ান্ত হয়ে উঠেছিল। এ অবক্ষয়ের ধারা চলেছিল মধ্য আশি পর্যন্ত।
তত দিনে রম্য পত্রিকার প্রতি তরুণ লেখকদের মোহমুক্তি ঘটতে শুরু করেছে। তাঁরা আর তুষ্ট নন রম্য পত্রিকার তাঁবেদারী করা সাহিত্যের চর্চা। একটি দুটি করে শুরু হয় লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের চেষ্টা। ফলে আশির দশকে এসে আমরা পেয়ে যাই বেশ কটি লিটল ম্যাগাজিন। এর মধ্যে পারভেজ হোসেন ও শহিদুল আলম সম্পাদিত সংবেদ, হাবিব ওয়াহিদ সম্পাদিত অনিন্দ্য, তপন বড়–য়া সম্পাদিত গাণ্ডীব, সাজজাদ আরেফিন সম্পাদিত নান্দীপাঠ, শিরিন সুলতানা সম্পাদিত সাহিত্য সাময়িকী, নবরূপে প্রকাশিত রূপম, কিছুধ্বনি, আবুল কাশেম ফজলুল হক সম্পাদিত লোকায়ত, খোন্দকার আশরাফ হোসেন সম্পাদিত একবিংশ, কবীর হুমায়ন সম্পাদিত অর্ক, লিয়াকত আলী সম্পাদিত প্রেক্ষিত, শেখ আবদুল বাতেন সম্পাদিত বীক্ষণ, মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ সম্পাদিত সমালোচনা, তানভীর মোকাম্মেল সম্পাদিত মন্তাজ, মুহাম্মদ খসরু সম্পাদিত চলচ্চিত্রপত্র, মোহাম্মদ শাকেরউল্লাহ সম্পাদিত ঊষালোকে, মারুত রায়হান সম্পাদিত কম্পাস, মো. খোরশেদ আলম সম্পাদিত বিতর্ক, আবু ইউসুফ সম্পাদিত আত্মপ্রতিকৃতি, সাইফুল্লাহ ম্হমুদ দুলাল সম্পাদিত ছোট কাগজ, সাদাতউল্লাহ খান সম্পাদিত প্রতিবুদ্ধিজীবি, মঈন চৌধুরী সম্পাদিত প্রান্ত উল্লেখযোগ্য।
পত্রিকাগুলো একটু মনোযোগের সাথে পাঠ করলেই অনুভব করা যাবে যে, উল্লিখিত পত্রিকাগুলোর অধিকাংশেরই উদ্দেশ্য নতুন কিছু করা। এর লেখকেরা অস্থির। রম্য পত্রিকার গ্রাস থেকে সাহিত্যকে মুক্ত করতে এরা আপ্রাণ সচেষ্ট। এদের অধিকাংশেরই লক্ষ্য সৎসাহিত্য সৃষ্টি। অর্ডারি লেখা দিয়ে নিয়মিত পাতা ভরানোর ব্যাপারে এদের আগ্রহ কম। এদের লেখায় ফুটে ওঠে রক্তক্ষরণের চিহ্ন। এসব পত্রিকায় যারা লিখেছেন তারা প্রধানত বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত। আরো একটি বিষয়ে এই লিটল ম্যাগাজিনের লেখকদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তা হচ্ছে, সাহিত্যে যে তরলতার জয়যাত্রা চলছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। সাহিত্যিক অসততার বিরুদ্ধে কঠোর ধিক্কার ফুটে ওঠে এসব পত্রিকা লেখকদের কলমে। অগ্রজেরা এখানে মূল্যায়িত হন নির্মম কষাঘাতের মধ্য দিয়ে। যে কটি পত্রিকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে সংবেদ, একবিংশ, গাণ্ডীব, সাহিত্য সাময়িকী, অনিন্দ্য, ঊষালোকে, কম্পাস, রূপম এবং কিছুধ্বনি, নান্দীপাঠ মুখ্যত সৃজনশীল সাহিত্য এবং সাহিত্য বিষয়ক ভাবনাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। পরম নিরীক্ষাধর্মী অনেক লেখা মুদ্রিত হয়েছে এসব লিটল ম্যাগাজিনে; যুক্ত হয়েছে অনেক উচ্চাভিলাষী হঠকারী মন্তব্য। সব মিলিয়ে যেন তীব্র অসহিষ্ণুতার ভাব ফুটে উঠেছে এসব লিটল ম্যাগাজিনে। এগুলো বাংলাদেশের সাহিত্যকে কতোটা সমৃদ্ধ করেছে তা বিচার করবে উত্তরকাল। তবে এ পত্রিকাগুলো যে এ সময়ের অবধারিত ফসল সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ কোনো পতনই বিনা চ্যালেঞ্জে ঘটতে দেয়া যায় না। এ দশকে লিটল ম্যাগাজিনগুলো অন্তত সাহিত্যের পতনরোধের জন্য রুখে দাঁড়িয়েছিল। আর এখানেই এর সাফল্য। আরো কয়েকটি ধারা বহমান ছিল এ দশকে। যেমন রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি সম্পর্কিত চিন্তামিশ্রিত লিটল ম্যাগাজিনের ধারা। লোকায়ত, বীক্ষণ, অর্ক, সংস্কৃতি, বিতর্ক, মুক্তির দিগন্ত, প্রসঙ্গ, প্রেক্ষিত প্রভৃতি নিয়োজিত ছিল একাত্তর পরবর্তী কালের বিপুল অবক্ষয়ের যন্ত্রণার কারণ সন্ধান, বিশ্লেষণ এবং মুক্তির অন্বেষণে। আমাদের সমাজ-রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে এদেশের তরুণ বুদ্ধিচর্চাকারীদের মধ্যে এসব লিটল ম্যাগাজিনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মুক্তচিন্তা চর্চার আধা সংগঠিত সংগঠন। কারণ এ সময় পুরোপুরি সংগঠিত হবার ক্ষেত্রে ছিলো প্রচুর বাধা।
আরেক ধারার লিটল ম্যাগাজিনও সচল ছিল এই দশকে। যেমন সমালোচনা বিষয়ক একমাত্র পত্রিকা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ সম্পাদিত সমালোচনা, আবদুল মান্নান সৈয়দ ও আবদুস সেলিম সম্পাদিত চারিত্র, মুহাম্মদ খসরু সম্পাদিত চলচ্চিত্রপত্র, তানভীর মোকাম্মেল সম্পাদিত মন্তাজ, বদরুদ্দীন উমর সম্পাদিত থিয়েটার ইত্যাদি বিষয়ভিত্তিক পত্রিকা। এ লিটল ম্যাগাজিনগুলোও আমাদের মুক্তচিন্তা ও শিল্পসাহিত্যের জগতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়েছে।
নাঈম হাসান সম্পাদিত নিরন্তর, মনজুরে মওলা সম্পাদিত শ্রাবণ জাতীয় কিছু সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে আশির দশকে। সেগুলোকে ঠিক লিটল ম্যাগাজিন আখ্যা দেয়া যায় না। অথচ এগুলো পাশাপাশিই চলছে। এ ধরনের পত্রিকা বা সংকলনে যে সব রচনা প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো সাধারণত নিরীক্ষাধর্মী নয়, এগুলোর অভিপ্রায় উচ্চ মানকে স্পর্শ করে। সেই সাথে এ ধরনের পত্রিকা চেয়েছে কাগজের মানে ও মুদ্রণ পারিপাট্যে অসাধারণ হয়ে উঠতে, লিটল ম্যাগাজিনের পক্ষে যা বিলাসিতার পর্যায় পড়ে।
রম্য পত্রিকার আশ্রয়ে আমাদের সাহিত্য যখন দূষিত হয়ে উঠছিল তখন কেউ কেউ রুচিশীল নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশে সচেষ্ট হয়ে উঠেছিলেন। আশির দশকের প্রায় এই চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। মীজানুর রহমান সম্পাদিত মীজানুর রহমান ত্রৈমাসিক পত্রিকা, কবি শামসুর রাহমানের অভিভাবকত্বে অধুনা, আবদুল মান্নান সৈয়দের অভিভাবকত্বে প্রকাশিত এখন, আবদুল মান্নান সৈয়দের অভিভাবকত্বে ও কবি আবিদ আজাদের সম্পাদনায় শিল্পতরু, খালেদা এবেদ চৌধুরী সম্পাদিত অতলান্তিক, হারুন হাবিব সম্পাদিত জীবনানন্দÑএগুলোকে পরিপূর্ণ অর্থে ঠিক লিটল ম্যাগাজিন বলা যায় না কোনও ভাবেই; তবে লিটল ম্যাগাজিন সুলভ স্বভাবও এদের রয়ে গেছে বেশ কিছুটা। রম্য পত্রিকার হাত থেকে শিল্পসাহিত্যের গভীরতা অভিমুখী ধারার চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে এ পত্রিকাগুলোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এক অর্থে এ সাময়িকীগুলোও পালন করেছে শিল্পসাহিত্যের অভিভাবকের ভূমিকা। অধুনা বা এখন লুপ্ত হলেও শিল্পতরু বেশ কিছুকাল চলেছে।
নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে অতি সাম্প্রতিক কালেও প্রকাশিত হয়ে চলেছে বেশ কিছু লিটল ম্যাগাজিন। প্রতি বছর একটি করে সংখ্যা প্রকাশিত হয় মারুফ রায়হান সম্পাদিত একুশের সংকলন, শাহিদ উল ইসলাম সম্পাদিত কবিধ্বনি, সোহেল মাজহার সম্পাদিত কাশপাতা, সোহেল হাসান গালিব সম্পাদিত ক্রান্তিক, পুলক হাসান সম্পাদিত খেয়া, সরকার আমিন সম্পাদিত মঙ্গলসন্ধ্যা, পাপড়ি রহমান সম্পাদিত ধূলিচিত্র, মজিব মোহম্মদ ও সালাউদ্দিন টিটো সম্পাদিত চারবাক, মোজাফ্ফর হোসেন সম্পাদিত বিজ্ঞান চেতনা, তারেক মাহমুদ সম্পাদিত পথিক, ফেরারী খন্দকার সম্পাদিত প্রতিপদ, অনিকেত শামীম সম্পাদিত লোক, আমিনুর রহমান সুলতান সম্পাদিত অমিত্রাক্ষর প্রভৃতি লিটল ম্যাগাজিনের কথা তাৎক্ষণিকভাবে মনে পড়ছে।
উল্লিখিত পত্রিকাগুলো প্রধানত সাহিত্য-আশ্রিত পত্রিকা। তবে কখনও কখনও দর্শনের অঙ্গনে পা দিতেও পারে।
বলা যেতে পারে যে, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পূর্ব থেকেই বাঙালির সৃষ্টিশীল সাহিত্য ও চিন্তা চেতনার জগতে এসব লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। আজকের বাংলাদেশে যাঁরা ভাবুক হিসাবে তাঁদের অবদান রেখে চলেছেন তাঁদের অনেকেরই উত্থান এই লিটল ম্যাগাজিনের পাতা থেকে। আমাদের সাহিত্য ও মননজগতের এই গুরুত্বপূর্ণ ধারাটির দিকে আরও মনোযোগ দেয়া দরকার।
পুনর্মুদ্রণ : বাংলাদেশে লিটিল ম্যাগাজিন চর্চা অতীত ও বর্তমান, মিজান রহমান সম্পা., ফেব্র“য়ারি ২০০৭, কথাপ্রকাশ, ঢাকা

১৯৬০-১৯৬৫ ঢাকার সাহিত্যপত্র
…………………………………………………………
সপ্তক
পত্রিকার ধরণ : গদ্য ও পদ্য ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬২
সম্পাদক : জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও হায়াৎ মামুদ-এর তত্ত্বাবধানে
প্রকাশ সংখ্যা : চার
বক্তব্য
পত্রিকার ধরণ : গদ্যরচনা ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৩
সম্পাদক : সম্পাদকের নাম নাই ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
যুগপৎ
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৩ ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
স্বাক্ষর
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৩
সম্পাদক : প্রথম সংখ্যার সম্পাদক রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক, দ্বিতীয় সংখ্যার সম্পাদক ইমরুল চৌধুরী ও প্রশান্ত ঘোষাল, তৃতীয় সংখ্যার সম্পাদক প্রশান্ত ঘোষাল ও আসাদ চৌধুরী, চতুর্থ সংখ্যার সম্পাদক রফিক আজাদ ও রণজিৎ পালচৌধুরী
প্রকাশ সংখ্যা : চার
নতুন বাঁকে নতুন আলো
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৩
সম্পাদক : শাহজাহান হাফিজ ও কাজী আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ সংখ্যা : এক
স্যাড জেনারেশন
পত্রিকার ধরণ : ইংরেজি ও বাংলা গদ্য-পদ্য রচনা সংবলিত
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৩ ॥ প্রকাশক: বুলবুল খান মাহবুব ॥
প্রকাশ সংখ্যা : ১৯৬৩
সাম্প্রতিক
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৪
সম্পাদক : শাহজাহান হাফিজ, পরে সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বেদু
প্রকাশ সংখ্যা : এক
প্রতিধ্বনি
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৪
সম্পাদক : ফারুক আলমগীর ॥ প্রকাশ সংখ্যা: দুই
কণ্ঠস্বর
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৫
সম্পাদক : আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ॥ প্রকাশ সংখ্যা : তিরিশ
কালবেলা
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৫
সম্পাদক : জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও হায়াৎ মামুদ
প্রকাশ সংখ্যা : তিন
সুন্দরম্
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৩ ॥ সম্পাদক : আবুল কাসেম ফজলুল হক
প্রকাশ সংখ্যা : দুই
সৃজনী
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র
প্রথম প্রকাশ : ষাটের দশকের প্রথমে, বিভিন্ন উপলক্ষে প্রকাশিত
সম্পাদক : শুভ রহমান
রূপম
পত্রিকার ধরণ : প্রথমে পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য এবং পরে গল্প-পত্রিকা
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৫
সম্পাদক : আনওয়ার আহমদ ॥ প্রকাশ সংখ্যা : অনিয়মিতভাবে চলমান
১৯৬৬-১৯৭১ ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাহিত্যপত্র
……………………………………………………………………………………
উল্কা
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৬
সম্পাদক : শশাঙ্ক পাল ॥ প্রকাশ সংখ্যা : চার
ছোটগল্প
পত্রিকার ধরণ : গল্প-পত্রিকা ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৬
সম্পাদক : কামাল বিন মাহতাব ॥ প্রকাশ সংখ্যা : ষোলো
শ্রাবস্তী
পত্রিকার ধরণ : গল্প-পত্রিকা ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৭
সম্পাদক : শশাঙ্ক পাল ॥ প্রকাশ সংখ্যা : চার
এই দশক
পত্রিকার ধরণ : গদ্যপত্রিকা ॥ প্রথম প্রকাশ: ১৯৬৬
সম্পাদক : প্রশান্ত ঘোষাল
প্রকাশ সংখ্যা : এক ॥ প্রকাশস্থান : ঢাকা
ধ্বনি প্রতিধ্বনি
পত্রিকার ধরণ : সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৭
সম্পাদক : রওশন সালেহা ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
কপোত
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৭
সম্পাদক : রফিক সন্যামত (সেরনিয়াবাত) দুবছর চলবার পরে
দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পত্রিকায় পর্যবসিত
আসন্ন
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৯
সম্পাদক : মুহম্মদ মুজাদ্দেদ ও সৈয়দ ইকবাল রুমী
প্রকাশ সংখ্যা : এক
না
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৭ ॥ সম্পাদক : রবিউল হুসাইন
নিবেদিত কবিতাগুচ্ছ
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৯
সম্পাদক : হুমায়ুন কবির ও মাহবুব সাদিক ॥ প্রকাশ সংখ্যা : দুই
হে নক্ষত্রবীথি
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : হুমায়ুন কবির ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
সুন্দরম
পত্রিকার ধরণ : গদ্য ও পদ্য ॥ সম্পাদক : ফেরদৌস সাজেদীন
প্রকাশ সংখ্যা : চার
স্বরগ্রাম
পত্রিকার ধরণ : গদ্য ও পদ্য ॥ দ্বিতীয় পর্যায়ে- কবিতাপত্র
প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : প্রথম ও তৃতীয় সংখ্যার সম্পাদক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ
দ্বিতীয় ও চতুর্থ থেকে সপ্তম সংখ্যার সম্পাদক হাবীবুল্লাহ সিরাজী
প্রকাশ সংখ্যা : সাত
বহুবচন
প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০ ॥ সম্পাদক : মুহম্মদ নূরুল হুদা
প্রকাশ সংখ্যা : এক
আধোরেখ
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : মুহম্মদ নূরুল হুদা ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
নিষঙ্গ
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৯
সম্পাদক : অরুণাভ সরকার ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
চিরকুট
পত্রিকার ধরণ : গদ্য-পদ্য ॥ সম্পাদক : হুমায়ুন কবির
প্রকাশ সংখ্যা : এক
স্বদেশ
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৯
সম্পাদক : আহমদ ছফা ॥ প্রকাশ সংখ্যা : চার
অরণি
পত্রিকার ধরণ : প্রবন্ধ-পত্রিকা
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৯ ॥ সম্পাদক : রমেন্দ্রকান্ত ঘটকচৌধুরী
প্রকাশ সংখ্যা : এক
শিল্পকলা
পত্রিকার ধরণ : প্রবন্ধ-পত্রিকা ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : আবদুল মান্নান সৈয়দ ও আবদুস সেলিম
প্রকাশ সংখ্যা : আট
শব্দশিল্প
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : ইউনুস আলি ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
শব্দের বিবৃতি
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৯
সম্পাদক : দাউদ হায়দার ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
স্বরূপ
পত্রিকার ধরণ : সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : নূরুল করিম নাসিম ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
পূর্বলেখ
পত্রিকার ধরণ : কবিতাপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৬
সম্পাদক : ভুঁইয়া ইকবাল ॥ প্রকাশ সংখ্যা : তিন
সূচীপত্র
পত্রিকার ধরণ : গল্প-পত্রিকা ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : রফিক নওশাদ ॥ প্রকাশ সংখ্যা : তিন
মুখপাত্র
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : ওবায়দুল ইসলাম ও মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ
মনীষা
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৬, একুশে ফেব্র“য়ারি
সম্পাদক : মাসুদুজ্জামান ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক
বালার্ক
পত্রিকার ধরণ : পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্র ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৮
সম্পাদক : আরেফিন বাদল
পাণ্ডুলিপি
প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৯ ॥ সম্পাদক : মাহমুদ আবু সাইদ
প্রকাশ সংখ্যা : দুই
ইদানীং
সম্পাদক : আজীজুল হক এরশাদ
কিছুধ্বনি
পত্রিকার ধরণ : কবিতা-পত্রিকা ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৬৬
সম্পাদক : বেবী আন্ওয়ার (১৯৮২ থেকে আনওয়ার আহমদ সম্পাদক)
কবিতা
পত্রিকার ধরণ : কবিতা-পত্রিকা ॥ প্রথম প্রকাশ : ১৯৭০
সম্পাদক : আন্ওয়ার আহমদ ॥ প্রকাশ সংখ্যা : এক


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা