নার্গিস

লেখক : জুলফিকার মতিন

সাকি-সুরা-শ্লোক নিয়ে যে কবি কাটাত দিন ধ্যানের বিলাসে
সে-ও কবে মরে গেছে — তবু তার সুন্দরীরা গালে তিল নিয়ে
এখনও রয়েছে বেঁচে মৃত্তিকাতে বেড়ে ওঠা নার্গিসের সজীব ঝাড়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে।
তারই সেই তাজা ফুল আবার কি নারী-মূর্তি ধরে
সবুজের এই দেশে এসেছিল
নতুন কবিকে এক আপন প্রেমের রঙে আবির মাখাতে।
সেই ফুল এক দিন
পায়ের ছন্দ দিয়ে ভরে দিত ঘাসের নূপুর
কিশোরীর উচ্ছ্বলতা মেখে নিয়ে স্বপ্ন মাখা চোখে
গোমতীর ঢেউয়ে ঢেউয়ে পাতার নৌকায় চড়ে কোথায় হারিয়ে যেত দিগন্ত-সুদূর।
তারও কি কপোলে ছিল কালো তিল লাবণ্য-সুরভিতে স্নিগ্ধ-উজ্জ্বল?
না কি সেই কবি তার মনের আয়নায় খুঁজে পেয়েছিল তারই প্রতিভাস?
আঙুলের ছোঁয়া দিয়ে সেই নারী জ্বরতপ্ত দেহে তার রেখেছিল মধুর পরশ
কপালে কিসের যাদু ছেনে দিয়ে নিয়তিকে বলেছিল, এ আমার ইচ্ছা-মরণ,
ভুঁরুতে ভ্রুকুটি হানা অমঙ্গল হেসেছিল খুব,
উৎসবের বাঁশরীতে সব ঢাকা পড়েছিল সে মুগ্ধ রাতে।
বেদনার দীর্ঘ নদী তার পর ধুয়ে-মুছে দেয় সব প্রবল জোয়ারে,
অবুঝ হৃদয়ে শুধু তারই হাহাকার ধ্বনি তুলে দেয়া কালের খেয়ায়।
কবিরাই প্রেম দেয়, কবিরাই আঘাতে আঘাতে
হৃদয় চূর্ণ করে চলে যায় — তাকায় না ফিরে,
যার যায় সেই ব্যথা তারই শুধু থাকে,
তা নিয়ে ছন্দ গেঁথে
এটাও কি ভাবে কবি প্রেমের মহিমা লিখে সব দেনা শোধ করা গেল!
তাই নিয়ে ভক্তরা বিরহের গভীরতা মেপে মেপে বলে সব ভালবাসা পৃথিবীর নয়,
কামনা-বাসনাহীন অপার্থিবলোকে তার মূল্য ধরা আছে।
এ সব তত্ত্বকথা — কেবলই আড়াল খুঁজে ফেরা!
তা বলে তোমার স্মৃতি আনবে না ডেকে বিস্মরণ,
যে হৃদয় এক দিন মেলে দিয়েছিলে তুমি মানবের কাছে যেতে দ্বিরুক্তিবিহীন
তার কোন দায় নেই,
কিন্তু আছে সুন্দরের শোভা অমলিন।


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা