ফারাহ ফাল্গুনী’র প্রবন্ধ

বাস্তবতার আবহে আধুনিক ছোটগল্প

সময়ে সবকিছু বদলায়। বদলায় মানুষের জীবন, সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সভ্যতা। মানুষের জীবন যাপনের ধরন যেমন পাল্টে গেছে তেমনি যোগ হয়েছে কত বিচিত্র সমস্যা। জীবন এত বিচিত্র যে একে একটি নির্দিষ্ট ছকে বাধা দুষ্কর। জীবনের এই বিচিত্র দিকগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে সাহিত্যের পাতায়। বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছোটগল্প। এটি যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়ও বটে। এসব গল্পে উঠে এসেছে সমাজের উচ্চশ্রেণী থেকে নিুশ্রেণী, শাসক-শোষক, বঞ্চিত মানুষ, শ্রমিক, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, জীবনের বাস্তব অবস্থা এবং অপ্রকাশিত দিকগুলো প্রতিবিম্বিত হয়ে উঠেছে।
দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আত্মজা’–গল্পটিতে দেখতে পাই একটি নারীর নীরবে, নিভৃতে অবহেলিত, উপেক্ষিত হবার চিত্র। গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পাই রানুকে। তাঁর জীবনটা ছোট ছোট ভালবাসার অনুভূতি দিয়ে সাজানো। তার ভাললাগার মাঝে একটা উন্মাদনা ছিল কিন্তু এখন সেটা থিতিয়ে আসছে সেটা হতে পারে সময়, বয়স কিংবা একঘেঁয়ে জীবন-যাপনের গ্লানি। গল্পে দেখতে পাই রানু মাঝে মাঝে ফ্লাস্ক থেকে চা ঢেলে পানীয়ের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে। সন্ধ্যার অন্ধকার ঘন হয়ে আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সে অতীত স্মৃতি হাতরিয়ে ফিরছে। একটা সময় ছিল যখন সূর্যের লাল আভা তার মনে গোধূলির রং ধরাত। বাবার সাথে বই পড়া, আকাশ দেখা; মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ানি গান শোনাত বাবা। কতশত যে ভালবাসার আনন্দময় স্মৃতি। আপাদমস্তক শিল্পিত নান্দনিক এক পুরুষের ছবি ভেসে ওঠে রানুর চোখের সামনে সে তার বাবার ছবি। তার এই একাকিত্ব বাবার মৃত্যুর পর। আর তার সাথে মায়ের স্মৃতি জড়ানো দিনের কথা মনে পড়ে। মায়ের শূন্যতায় তার বুক হাহাকার করে ওঠে। আমরা শেষ পর্যন্ত দেখতে পাই বাবার উপরে রানুর যত রাগ, ক্ষোভ, অভিমান। সে মনে করে তার বাবা যদি মায়ের সব খোঁজ-খবর দেখাশুনা করতো, অসুখে ভালভাবে ডাক্তার দেখাত, মাকে সময় দিত তাহলে তার মাকে অকালে হারাতে হত না। তার মা সব অভিমান চেপে রেখে, সব কিছু মেনে নিয়ে নীরবে নিঃশেষ হয়ে যেত না।
শেষে গল্পটা খুব ব্যঞ্জনাময় হয়ে ওঠে। রানুর চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে–“বাবা তুমি আমার জীবনে সব থেকে প্রিয় পুরুষ। তোমাকে ভীষণ ভালবাসি আমি। মার অসুখটা হয়ত তোমার দেয়া নয় কিন্তু অবহেলাটা তোমার। মার প্রতি উদাসীনতা, অবহেলার জন্য তোমাকে আমি কিছুতেই ক্ষমতা করবো না। গলা দিয়ে শব্দ বের হয় না তার। ঝাপসা দৃষ্টির সামনে এক নারীর অস্পষ্ট ছায়ামুখ ভেসে উঠে। সে মুখের সঙ্গে মিলে যায় পৃথিবীর সব অবহেলিত, উপেক্ষিত, বঞ্চিত নারীর মুখ।”
এখানে দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফলতা হচ্ছে সহজ, সরল, আর নান্দনিক বর্ণনার মাধ্যমে পাঠকদের একটি বাস্তব আবহের মধ্যে নিয়ে যাওয়া। আমাদের সমাজ বাস্তবতায় নারীরা সমাজে, পরিবারে, স্বামীর কাছে সর্বদাই উপেক্ষিত। নারীরা আজ তিলে তিলে শেষ হয়ে যেত না যদি তারা পরিবারে, স্বামীর কাছে ভালবাসা পেত। তাহলে রানুর মত কেউ একাকিত্বে ভুগত না।
রফিকুর রশীদ অসামান্য বর্ণনা ভঙ্গিতে–‘তবুও অরুন্ধতী’ ও ‘তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর’–গল্প লেখেন। ‘তবুও অরুন্ধতী’গল্পের নায়ক বলে গেছেন তার আত্মকথন। প্রেমের গল্পই বলতে হবে। দু’টি মনের কত স্বপ্ন বোনা, আকাশ দেখা, একসাথে পথচলা। দীর্ঘ দু’বছর তার পরিপূর্ণ প্রেমের আবেগঘন বর্ণনা। অবশেষে তাদের এই প্রেমের পরিণতি ঘটে বিয়েতে। তারপর তার সেই আবেগ, ভালবাসা, ভাললাগা আর তাকে টানে না। সবকিছু তার পীড়ন মনে হয় এখন। একমাত্র কারণ তার বেকার জীবন। বেকারত্ব কত যে দুর্বিষহ, অসহ্য, সন্দেহপ্রবণ করে তোলে নিজেকে। গল্পকার এই গল্পের মধ্যে দেখাতে চেয়েছেন যে বেকার যুবকের কাছে সবকিছু ফ্যাকাশে এবং কোন অনুভূতি তাকে স্পর্শ করে না। কিন্তু তার অরুন্ধতী মানে মৌলি সবকিছু মেনে নিয়েই চেয়েছে তাকে নিয়ে স্বপ্ন বপন করতে। এই গল্পে আর একটি বিষয় ফুটে উঠেছে সেটি হল পতীব্রতা। মেয়েরা সবকিছুর বিনিময়ে চায় স্বামীর ভালবাসা। এই গল্পের ভাষা, বর্ণনা খুব আবেগঘন এবং গোছালো। একটি মানুষের স্বপ্ন দেখা এবং সেটি ভেঙ্গে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। বেকারত্ব তাকে ব্যর্থ নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তার অপর গল্প ‘তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর’–এ পাই অতি বাস্তব একটি উদাহরণ। গল্পের শুরু নিখিলেশের ভাগ্নি হারিয়ে গেছে। অরুণিমা তার ভাগ্নি। এ তথ্যটি নিয়ে সে যখন থানায় যায় ডায়েরি করতে তখন পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও কলুষিত চেহারা দেখে। তাকে অনেক বিশ্রী প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় এবং অনেক কথা শুনতে হয়। দারোগার সহানুভূতিশূন্য কথা, মন্তব্যে নিখিলেশের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। থানা পুলিশের কাছে মানুষ কতটা অসহায় তা এখানে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে
“ক্ষোভে-দুঃখে-ক্রোধে নিখিলেশের মাথায় চুল পর্যন্ত খাড়া হয়ে ওঠে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সে দারোগার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু টেবিলের উপরে পড়ে থাকে অরুণিমা সম্পর্কিত তথ্যাবলী লেখা কাগজটি”।
এরপর গল্পের মাঝামাঝি পর্যায়ে রাজনৈতিক বিষয় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক দ্বিমতের কারণে ক্ষেতের সমস্ত পাকা ধান কেটে নেয়ার কথা আমরা জানতে পারি। অরুণিমার বাবা নিত্যানন্দ বর্মণ নির্বাচনের ডামাডোলে অংশগ্রহণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য। তার আক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে নি বলে এই নির্বাচনে সে পরিপূর্ণ যুদ্ধ করবে। কিন্তু এর ফলে তাকে কঠিন খেসারত দিতে হয়েছে। সে হয়েছে নিখোঁজ। তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে ধর্ষিত হওয়ার অপমানে। ভেঙ্গে গেছে তার সোনার সংসার। গল্পের শেষের দিকে নিখিলেশের স্ত্রী সুনন্দা ও মেয়ে লোপা থানায় যায় সম্ভাব্য অরুণিমার লাশ সনাক্ত করতে। যখন দেখতে পায় লাশটি অরুণিমার নয় কিন্তু তার অন্য একটি মেয়ের তখন সুনন্দার পূর্ণ মাতৃত্ব জেগে ওঠে। সে অবাক বিস্ময়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ সে জানে নিরাপত্তাহীন সমাজে অরুণিমা কিংবা লোপারও এই অবস্থা হতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটের থানা-পুলিশ, রাজনৈতিক অবস্থা, খুন, ধর্ষণ এই নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়গুলো সুনিপুণভাবে বর্ণনা করেছেন গল্পকার।
মঞ্জু সরকারের ‘ডুবে যাওয়ার অপেক্ষা’–গল্পটিও বাস্তবনির্ভর একটি কাহিনী। চাকুরিতে সৎ লোকের প্রাধান্য নেই সেটিই ফুটে উঠেছে। অফিসের গোলমাল, বসের সঙ্গে বিরোধ, অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্যে মানিয়ে নিতে পারে না আবুল কালাম। সত্য কথা বলার অপরাধে অফিস তাকে বরখাস্ত করে। কিন্তু এতে এতটুকুও ভাবান্তর হয় না বরং মনে হয় সে মুক্তি পেয়েছে এই নোংরা জায়গা থেকে। মাথা গোজার ঠাঁইটুকু নিয়েই সে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। অবশেষে সে একটা বিকল্প চাকুরির সন্ধান পায়। সম্পর্কে মামা সোলেমান সাহেবের টেক্সটাইল মিলে। সেখানেও সে আশাহত হয়। কারণ সে এলাকায় মিলটি যাতে ভালভাবে চালু করতে পারে সেজন্য কালামকে দায়িত্ব দেয় স্থানীয় মাস্তানদের খোঁজ-খবর রাখতে। কিন্তু যেদিন দেখল সেই মাস্তানরাই তার বাড়িতে এসে চাকুরি বাবদ চাঁদা দাবি করে। তখন কালাম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে ভাবে– “সত্যিই কি তবে কালামের চেয়েও এসব মাস্তানরাই তবে অধিক বিশ্বস্ত ও নিকটজন।”
আমাদের দেশে এরকম লোকের কোন মূল্যায়ন নেই। তাদের সবসময়ই অবমাননা করা হয়। অপমৃত্যু হয় সত্য, স্বপ্ন, আশা-আকাক্সক্ষার। এসবের কি অবসান হবে না কখনো? তবে আবুল কালামের পরিবারের ভার কে নেবে? তার পরিবারকে বাঁচতে হলে কোন বিবেকবান মানুষের দরকার আছে।
এরপর আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘আউলা বাতাস’–শুরু হয়েছে গ্রাম্য প্রকৃতির বর্ণনা দিয়ে। সহজ-সরল, রতন তরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। সে ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়েছে। সে তার মায়ের একমাত্র অবলম্বন। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন অনেক আশা তার মায়ের। অন্যের বাড়িতে কাজ করতে করতে মা ভাবে আর তো কদিন তারপরই তো তাকে আর মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হবে না। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল কিন্তু এক আউলা বাতাস এসে সব ওলোটপালট করে দেয় রতনকে। গল্পকারের বর্ণনায়–“নির্জন বনভূূমি অধ্যুষিত এই রোদ্দুরি প্রত্যুষ হঠাৎ করে কি যেন এক রহস্যময় বার্তা নিয়ে এল রতনের কাছে। ইউ লিভ হিয়ার, বয়? লোকটা এবার প্রশ্ন করে এগিয়ে গেল রতনের কাছে। তার শরীর থেকে অপূর্ব এক ঘ্রাণ বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ল বাতাসে। সুখী মানুষের ঘ্রাণ। সুখী ও সচ্ছল মানুষের ঘ্রাণ। সুখী, সচ্ছল ও সমৃদ্ধশালী মানুষের ঘ্রাণ। বিহ্বল রতন এই ঘ্রাণ বুকে টেনে নিতেই তার ভেতরে যেন আলোড়ন শুরু হলো।” সেটা ভয়ের কি উত্তেজনার সে জানে না। লোকটা যখন চলে গেল সে তার পথের দিকে চেয়ে থাকলো। কিন্তু গরীব রতন কি করে। সে যে গ্রামে বাস করে সেখানে কোন বিদ্যুৎ, টেলিভিশন, মোটর গাড়ি, নেই কোন আধুনিকতার ছোঁয়া। সে যে গণ্ডীর মধ্যে বাস করছে তার বাইরেও যে এক বিশাল পৃথিবী আছে সেটা তার অজানা। আশার ব্যঞ্জনায় ভরে উঠতে লাগলো তার বুক। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হয় না তার। সে কেবলি উদাস হয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। কেউ যদি তাকে সেই অজানা পৃথিবীর সন্ধান দিতে পারে এই আশায়। এমন অনেক রতন আছে আমাদের সমাজে যারা সুযোগের অভাবে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হয়।
শিশু মনস্তত্বের সম্পূর্ণ পরিচয় ফুটে উঠেছে মাহবুব তালুকদারের–‘পাখি আমার পাখি’ গল্পটিতে। খ্যাতনামা পাখি-বিশারদ হাবীব হাসান পাখিকে খুব ভালবাসে। সে কোনভাবে মেনে নিতে পারে না পাখি শিকার করাকে। তারই মেয়ে নায়না বায়না ধরেছে তাকে পাখি কিনে দেবার জন্য। হাবীব হাসান তাতে রাজি না হলে তার স্ত্রী চায়না গিয়ে তার মেয়েকে একটি ময়না পাখি কিনে দেয়। সেই ময়না পাখিকে ঘিরেই ছোট্ট মেয়েটির কত কথা, কত আনন্দ। সারা বাড়িটাই সে মেতে রাখে। এই পাখিকে নিয়ে সে অদ্ভুত সব কথা বলে। পাখিকে ঘিরেই তার একটি চিন্তার জগত তৈরি হয়। সে তার বাবাকে বলে পাখির খাঁচার কাছে কয়েকটা টবের গাছ এনে দিতে। তার মনে হয় পাখি গাছ দেখলে আনন্দ পাবে আবার কখনো পাখির কষ্ট বোঝার চেষ্টা করে। তাই সে পাখিটিকে খাঁচা থেকে মুক্ত করে দেয়। পাখিকে সে এত বেশি ভালবাসে যে যেন তার সাথে ময়না কথা বলে। পাখির প্রতি ভালবাসা, পাখিরা যে বন্ধ খাঁচায় থাকতে চায় না, মুক্তির আস্বাদ পেতে চায় তা এতটুকু মেয়েও বোঝে। একটি শিশু যখন একটি সুন্দর পরিবেশ পায় তার ভাবনার বিস্তার তত বেশি প্রসারিত হয় এবং উদার চিত্তের অধিকারী হয়। গল্পকার অত্যন্ত চমৎকার ভাষা-শৈলীতে নির্মাণ করেছেন এই গল্পটি। যা পাখিপ্রেমীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।
সমাজ বাস্তবতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে হুমায়ূন মালিকের–‘ও এখনো যুদ্ধে’ গল্পটি। দীর্ঘ এ গল্পে আছে ইতিহাস আর তাহলো পাহাড়ি এবং সমতটিদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের ইতিহাস। যার জ্বলন্ত সাক্ষী হচ্ছে মেন্টাল হসপিটালের এক রোগী। তার যথাসাধ্য ট্রিটমেন্ট চলছে তার মাঝে সে প্রলাপ বকে যাচ্ছে–“ভাইয়ের খুনের উপরে বউরে রেফ করতে করতে আমারে নির্যাতন করতাছ নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে।” এই রোগীটি হচ্ছে প্রজ্ঞা প্রসাদ। সে তার ভাইকে হারিয়েছে, স্ত্রীকে হারিয়েছে। তার বড় ভাই উপল প্র“ পাহাড়িদের প্রত্যক্ষ ভোটে জয়ী হয়েছে। এ্যাডভোকেট উপল প্র“ যখন পাহাড়িদের পক্ষে কথা বলে তার উপর প্রেসিডেন্ট ক্ষেপে যায়। পাহাড়ি দুর্গত এলাকায় প্রেসিডেন্ট তার সফর সঙ্গীসহ পাহাড়ি সৌন্দর্য অবলোকন করে। তাদের সমস্যার কথা কানেই নেন না প্রেসিডেন্ট। এক পর্যায়ে সমতটিদের হাতে নিহত হয় উপল প্র“ তার ছোট ভাই প্রজ্ঞা প্রসাদের সামনে। এতে প্রজ্ঞা প্রসাদ পণ করে যে করেই হোক তার ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ সে নেবে। এর ফলে সে একটি সেনাবাহিনী গঠন করে। অবশেষে প্রজ্ঞা প্রসাদ হেরে গিয়ে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। সবকিছুর বিনিময়েও সে প্রতিশোধ নিতে পারলো না। ৩ মাস পর স্পেশাল ফোর্সের কম্বিং অপারেশনে দল সশস্ত্র জওয়ানসহ ধরা পড়ে যায়। তাকে পাঠানো হয় মেন্টাল হসপিটালে। সে মানতেই চায় না এটা মেন্টাল হসপিটাল।
“আমার যুদ্ধ শেষ হয় নাই…ও এমন এক সশস্ত্র ভঙ্গি নেয়, তরুণ সাইকিয়াট্রিস্টের মনে হয়, এস্কাল্পচার সর্বকালের সেরা মুক্তিযোদ্ধার।”
হুমায়ূন মালিক তার দীর্ঘ গল্পে খুব সুন্দরভাবে ঘটনার বর্ণনা করেছেন। যা একজন সার্থক গল্পকারের পক্ষেই সম্ভব।
শেষে বলা যায় অনেক গল্পকার আছেন যাদের গল্পের মেসেজ অনেকখানি দুর্বোধ্য থেকে যায়। তারপরও আধুনিক অনেক গল্পকারদের গল্পে সমাজের যাবতীয় সমস্যা, ব্যক্তির একাকিত্ব, অসহায় বোধ, পশুত্ব সবকিছুই অবলীলায় প্রকাশিত হয়েছে এবং বাস্তব অবস্থাগুলো এত সক্রিয়ভাবে উঠে এসেছে যে গল্পগুলো আমাদের মনে গভীর দাগ এঁকে দিয়ে যায়। শুধু বাস্তব অবস্থাই নয় গল্পের চরিত্রগুলো সমাজের নানান মানুষের প্রতিনিধি। এসব গল্পের শিল্পশক্তি বাংলা আধুনিক ছোটগল্পকে অনেক সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা