Love’s bite/love bites

টিপ… টপ… ট্যুপ… ট্যাপ… জ্যিপ… জ্যপ… জ্যু… জ্যুপ। কোথাও কাক ডাকিতেছে। পাশের ফ্ল্যাটের কার্নিশে ভোর, হয়ে এসেছে। মূলরাস্তা থেকে সুর উঠতে শুরু করেছে, ক্ষিণতর থেকে ক্ষিণ… দূরে… দূরে… দূরে… দউ উড়ে। শোবার ঘরের দেয়ালে ঘড়িটার সেকে-ের কাটা ঘুরছে পাঁচুনষাট। মাথার চুল খামচে ধরে কমোডে বসে আছে সে। ব্যথা। নাভির উৎসমূল থেকে মগজের অন্তিম শিরাটা পর্যন্ত নাড়ায়ে ফেলতেসে। শালার বারবিকিউ… বারবি ক্যু! পেটে এমন কামড়! ভুল হয়ে গেসে। রাতেই ফ্লাজিল খাওয়া দরকার ছিল। এর মধ্যেই কোথাও ফড়্ ফড়্ ফড়্ ফড়্… বেজে যাচ্ছে, সেকে-ের কাটা ঘুরছে মিনিটের কাটাকে ঠেলছে, মিনিট টানছে ঘণ্টার কাটাকে, একটার পর একটা ‘ভায়ব্ব্রেশন’ মানে নৈশাব্দিক পরিক্রমণ ছ(এ)কের মধ্যেই একটা কিছু… কিছু কোথাও বিলকুল যান্ত্রিক কায়দায় ফড়্ ফড়্ করে যাচ্ছে। একটা সদ্য জন্ম নেওয়া বেওয়ারিশ মথ। কোকুন থেকে সদ্য নিষ্ক্রান্ত, প্রজাপতি হইতে গিয়া ব্যর্থ, খাটেই কোথাও চুপটি ঘাপটি মেরে থেকে থেকে… ফড়্ ফড়্… ফড়্ ফড়্… ফড়্ ফড়্… করে যাচ্ছে… আ-মা-শ-য়ানন্দে আচ্ছন্ন নিম্নদেশ। তাঁর ঘরে এসো… তাঁর ঘরে… এসো তাঁর ঘরে, দূরে… দূরে… দূরে… দূরে। নাইট ট্রাউজারে ঢেকে পায়ের পাতা। গায়ে উলেল সোয়েটার। তার আ-ারে ডানাকাটা গার্মেণ্টস। শরীর কুঁকড়ে যাচ্ছে। উদম পেটের পশম দাঁড়িয়ে…। বসে থাকতে থাকতে ঢেকে থাকা পদপত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়েছে। ব্যথা শীত ব্যথা। শীত… শীত… শিইট… শীতগন্ধ… টক্ টক্ চুকো তেতুলের। আচানক থেমে গেলে শব্দ বসে থেকে থেকে সকাল হয়ে যাচ্ছে এভাবেই। ভায়ব্ব্রেশন… লেপের ওয়ারের তল থেকে ঊরুর রোমকূপে। তাকে উঠতেই হলো পাছার মুখ পরিষ্কার না করে, কপাল কুচকে, হাফ প্যারালাইজড বৃদ্ধের মতো… ন্যুজ হয়ে, দেয়াল ধরে ধরে। যেন কন্টিনিউয়াস ভায়ব্ব্রেশন থামাতেই হবে। কনফার্ম মহানায়িকার ফোন… রিলেশন… সংসার… বাল… মেনটেন করাই উচিৎ না…। ঘরে পঞ্চাশ ওয়াটের সাশ্রয়ী আলো। বাথরুম আর ঘর in between two lights… in between two states তাকে দাঁড়িয়ে পড়তে হলো। জানালাটার পর্দা সরানো। ওপারে অপরকারো ঘর, অপরের বারান্দা। আচানক যদি কেউ, সবার হাতেইতো ক্যামেরা, যদি কেউ… ধ্যুর শালা, কি ভাবতেসি, পুরুষ মানুষের এতো কি? যা ঠা-া, দাঁড়ালেই খামচাচ্ছে। অতঃপর কিঞ্চিত স্ব-ছন্দে ঘর নিকটে এসে বিছানায় সফেদ সমুদ্রের গভীর গহিনে কোথাও গোপন সিন্দুকে লুকিয়ে থাকা আট মিসকল, ফেসবুকে তিন ম্যাসেজ, মেইলে গোটা দুই… বাহ্ (কি চমৎকার দেখা গেলো, কি চমৎকার)। ওরে এতো মিসকল দিয়েই গেসে, কার সাথে সংসার করি?… সিলি… উফ্… পেটটা ব্যথার ইন্ডাস্ট্রি হয়ে গেলো।

বলেন জনাব

সরি জান। ঘুমাচ্ছিলা?

নাহ্

তো

ভাবছিলাম

কী?

তুমি, অর্ধেক ঈশ^রী

যাও!… ফোন ধরো নাই কেন?

ফোন ধরলে ভাবা যেত?

ফাজলামী করো না!

নো ম্যাডাম, নট এ্যাট অল

তুমি কবে আসবা? আর কতদিন

তুমি জানো

তারপর কবে যাবা?

তুমি জানো

রবিবার কখন আসবে?

তুমি জানো

আর আমার সাথে কখন দেখা হবে?

তুমি জানো

কতদিন দেখা হয় না বলতো… রাতে ঘুুম হচ্ছে না আমার। এইসব কাজ আর নিবে না। এরপরে আমাকে রেখে গেলে মাথা ফাটায়ে ফেলবো।

তুমি জানো

কি তুমি জানো, তুমি জানো করতেস… কি ভাবতেস

তুমি জানো

আশ্চর্য মানুষ তুমি

তুমি জানো

তুমি কি আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছ না?

না

কেনো?

আমার পেটখারাপ, ব্যথায় মাথার শিরা পর্যন্ত টন টন করতেসে কিন্তু তার মধ্যেও আমার মাথায় শুধু তুমি, তুমি, তুমি… হলো… এখন খুশি!

…এতোক্ষণ বলো নাই কেন?

বললেই তো জিজ্ঞাস করতে এতোক্ষণ বলো নাই কেন।

দাঁড়াও দেখি, তুমি এখন কোথায়?

একটু আগে হাটতেসিলাম… এখন গালে হাত দিয়ে কমোডে বসে তোমাকে নিয়ে ভাবতেসি

কমোটে?

হ্যাঁ, আর কমোডটা বাথরুমে

ইইই… ছি,

সত্যিই… ছি… ছিছিছি

যাও ফাজিল, পরে ফোন দিব

ওকে বাই

ওষুধ ঠিক মতো খায়ো

হ্মু…

আর বাথরুমে আমাকে নিয়ে ভাববার দরকার নাই… ভাবার কি নমুনা… ছিহ!

তুমি দয়া করে ফোনটা রাখলে আর জিন্দেগিতে ভাববো না। ভাবলে তোমার গায়ে যেনো গন্ধ লাগে।

হ্যাঁ হ্যাঁ বাই

আ… আচ… ছা বাই

বাথরুমের রুপালি নীলাভ আলো ওয়ালটাইলসে পিছলে যাচ্ছে। পায়ের কয়েকটা লোমের তলানিতে সোনা রং জমে আছে। কমোডে বায়ে, ওপরে শক্ উইন্ডোতে কুয়াশাঘনধূসর স্থির হয়ে আছে। স্মার্টফোনটা তার বা-হাতের তালু থেকে খুলির ভেতরকার জৈবিক বৈদ্যুতিক লাইনের বেদনাজটকে পাশকাটিয়ে থক্থকে নরম গদিতে জায়গা করে নিয়ে ভাবছে— বস্তু বিচারে আমাশা আর তোমার উপর শোয়া—পার্থক্য কই? একইতো জ¦ালা। নাভি থেকে ওঠে। তারপর শিরায় শিরায় বেয়ে মগজ পর্যন্ত খালি টন্ টন্ টন্ টন্। উর্ধ্বগমন উর্ধ্বে গো মন উবংরবৎ রিঃযড়ঁঃ যড়ঢ়ব এইতো। চটাস! গালে লেপটে গেলো। তিনটা পা লেগে থাকলো হাতের সাথে। বাকিটা শরীর ঊরুতে। একটা ছোট্ট মশা। একটা ছোট্ট নারীকীট। তার তিন পা ছাড়া শরীর ঊরুর সাথে চটকে আছে। নাশকের বেষ্টনির মধ্যে একটাই এতক্ষণ বেঁচে ছিল। টিপ… টপ… টুপ… ট্যাপ… জ্যিপ… জ্যপ… জ্যু… জ্যুপ। হুহ… হ… হুহ… আফ¥হহ… আর কতো? বারবি… ক্যু!

ইন্ডিভিজ্যুয়াল হিস্ট্রিতে রীতিমত মহা বিপর্যয়। তোমায় রাখি কি নিমগ্ন করি… ংযড়ঁষফ নব ড়ৎ ংযড়ঁষফ হ’ঃ- এ ঝুলে থাকা বিরক্তিকর নিশ্চই। সে ঝুকে পড়ে পা পেঁচিয়ে থাকা ট্রাউজারের পকেটে মোবাইলটা রাখলো। সাবানদানিতে রাখা মিনিপ্যাক সাবানটার রং সাদা। আচ্ছা বউ থাকলে এখানে কি সাদা সাবান থাকতো নাকি গোলাপী? সাবান গোলাপী, দাঁতের ব্রাশ গোলাপী, বাথরুমের টাইলস গোলাপী, ওয়াশার গোলাপী। কি আশ্চর্য তিন বছরের সংসার… রংটা এখোনো বোঝাই গেলো না। উফ! বরফঠা-া পানি। জ্বলে যাচ্ছে। ক্যান যে এইসব বাসায় গ্রিজার লাগায় না? বা দিকটা ফোলা লাগে কেন গোটা-টোটা হলো নাকি আবার? আচ্ছা! মানুষের নির্গমনের ছিদ্রটা যদি না থাকতো কি হতো? ওপারে নিশ্চই এই ছিদ্রের কোনো প্রয়োজন হবে না। ঘাম হয়ে সব বেরিয়ে যাবে যেহেতু। কিন্তু নাভীর কি প্রয়োজন থাকবে? অদ্ভুত! ছিদ্রহীন সে কি মানুষ? একথা এক্ষেত্রেও খাটে যখন আদম ইডেনে ছিল, ঈভ ইডেনে ছিল… এসব ছিদ্রের কি প্রয়োজন ছিল তাদের? তাহলে মানুষ ইডেনে ছিদ্রহীন ছিল। ছোটবেলায় আম্মা বলতেন বেহেস্তে মানুষের শরীর নাকি নখে ঢাকা ছিল। আম্মা তাই বিশ্বাসকরতেন। কি বিশ্বাস আম্মার! মানুষ ছিল বড়-সড় নখ! তারপর জ্ঞানফলের জরিয়ায় ছিদ্রান্বেষণ বিদ্যা শিখে নখ থেকে মানুষ চামড়া হয়ে গেল। আর সাপ? সাপের কি নাভী আছে? আমার আছে, জ¦লছে। তাকে উঠে দাঁড়াতে হলো। স্লুশশ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্শ্। ঘূর্ণিপাক, বালিহাসের মতো ডুবোজলে থাকা দেহের উচ্ছিষ্টসকল মুহূর্তে যেন কেউ গিলে ফেললো…উদম ঢেকুর। সাপ এভাবেই শরীর গিলে থাকে। বা-হাতে ঠা-া পানি কফের মতো লেগে। ট্রাউজারের বা-পকেটটা হেলে পড়া পিসা টাওয়ারের ঊরুসন্ধির নিকটবর্তী, বাদুড়ের মতো পড়ি পড়ি করেও ঝুলে আছে ছিন্নাঙ্গের গ্রাভিটেশনাল ইফেক্ট আর সুতি কাপড়ের জড়ানো-প্যাঁচানো সমস্যা হয়ে। পকেটের ভার নাভীর নিচ থেকে কোমরের ইলাস্টিককে ক্রমশ নিচের দিকে টানছে। তাকে পুনরায় ট্রান্সপাস করতে হলো। বাথ টু বেড, বেড টু ড্রইং কাম ডাইনিং কাম কিচেন কাম স্টাডি (মাল্টিপারপাস)। বেডরুমের এই ওয়ালটা না থাকলে কি হতো? ঝঢ়রৎরঃ ড়ভ ঢ়ধৎঃরঃরড়হ ভাবতেই ভেতর থেকে ব্যথার সাথে হাসিও উগরে এলো। আড়াল? আবডাল? আমার আগে যারা ছিল তাদের বোধহয় দরকার ছিল। ওষুধের বক্সটা কোথায়? হাতড়াতে হাতড়াতেই সে সুইচটা টিপে দিলো। নিমিষেই ঊহষরমঃবহসবহঃ। সহজ কা-। ওষুধের বাক্সটা? গোল ডাইনিং টেবল। গোল গোল প্লেট দুটি। একটা ছোট আর একটা বড়। একটা হাফ আর একটা ফুল। ঠিক গোলও নয়, অনেকটাই কমলার মতো। সিরামিকের কমলা। ওগুলোর ওপর হাড়গোড় পড়ে আছে। দাঁতে পেষা বারবিকিউড চিকেনের ছাবা ছাবা হাড়। পাশে হাফ লিটার ফিগার সচেতন কোল্ড ড্রিংসের প্লাস্টিক প্যাক। সাদা ঝাঁঝাঁলো গ্লুকোজের তরলে অর্ধেক পূর্ণ, অর্ধেক শূন্য। পাশে সিগরেটের দুটি প্যাকেট। একটিতে শুধুই ছাই আর ফিল্টার। ওটা ডানজেন। একটিতে চারখান জীবিত শলাকা। ওটা হেভেন অথবা কজ¦্ অব ডানজেন। দুটোরই মুখ খোলা। মুখের নিচে—smoking kills। টেবলের মাঝখানে পানির জগ। ট্রান্সপারেন্ট রেড। ভেতরে দৃষ্টি গেলে মনে হয় গ্যালাপাগাসের জমাট তরল ম্যাগমা। ম্যাগমার রিফ্লেকশন স্ট্যাপল করা কাগজ, পিপড়ের সারির মতো ছাপা… শব্দ শব্দ শব্দ সব শব শব দ এ… শব্দে। কিন্তু ওষুধের বাক্সটা কোথায়?… ওটা পাওয়া গেলো? চার র‌্যাকের ব্রাউন শোকেসটার শেষ তাকের ভেতরে ঘাটতে ঘাটতে। ফ্লাজিলের ইনট্যাক পাতা। সে জগের পাশে থাকা ম্যালামাইনের গ্লাসটাতে ম্যাগমা ঢেলে নিল। এখানে পানির রং এমনতেই লালচে চাঁদের মতো। আয়রণ বেশি। আমাশার এও এক কারণ হতে পারে। গলনালী দিয়ে শীতল  শ্রোত টেবল্যাটটাকে ঠেলে নিয়ে গেলো। আইস্ক্রিম খাওয়ার ভালো সময় নাকি শীত কাল। কারণটা কি? টেস্ট নাকি গ্লুকোজ? ট্যাবলেটটা কোল্ডড্রিংক দিয়ে গিললেই ভালো হতো। ভেতরটা গরম। থাকতো। কতক্ষণে ওষুধ কাজ শুরু করবে? পেটটা শিন্ শিন্ করেই যাচ্ছে।

কাকে তুমি প্রেম বলো, বলো ইতিহাস, বারুদ গন্ধম নাকি ফুলের সুবাস… কাকে তুমি… দুম করে অন্ধকার। আলো আধারের পার্থক্য স্পিল্ট সেকে-… অন্ধকারে যাই… হুউহুহু… হু… উহুউহ্হুহুহুম… হুউহুহু… উহুউউঊউহুম… হুকহুহু হেইই… হুহহুউউঊউহে… উহুহে… উহুহুমমম্… heart of the mountain… heart… of the mountain… mountain hearts| বেডরুমের আলো অন্ধকারে শুধু বাথরুমের লাইটটাই জ¦লে আছে… haven’s blue। ইতিমধ্যেই শরীর লেপের নিচে। আর একটু এ্যরাসল দিয়ে নিলে ভালো হতো। কিন্তু আর না। ঘুমাতে হবে। ভাগ্যিস ছুটি আছে। প্রপার রেস্ট দরকার। পেটের কথা একদম মনে আনা যাবে না। রেস্ট দরকার, রেস্ট নাও শরীর… স্থির হও… প্রশান্ত… রেস্ট… রেস্ট… in peace|

কালো ধূসর পাহাড়ের গায়ে ভেনিলার আস্তরণ। গা বেয়ে সরু বাঁকা পথ। কানের কাছ দিয়ে চিল উড়ছে। এগারো বামন…হাটছে। বিপ বিপ বি বিপ বি বিপ বিপ বি বি হাটছে বিপ বিপ বি বিপ বিপ বি বিপ বি বি

kono khoj nai… achen kemon

apnar chat box dudin theke bondho keno?????

dekha korte chaini tai rag korlen naki!!!!!!!

ek mase ekta monush etobar rag korte pare janachilo na

ami to boli nai dekha korbo na

amito sleeping beauty

amar sob kichutei ektu deri hoe

apnake bole chilam bodhhoe vule gechen

Kal dekha korben?

Iccha thakle janaen

Ami bykale free achi. Rag korben na.

derite response kochi. Soooorry

পরশু চলে যাচ্ছি। আজ ফেসবুক চেক না করলে তো

জানাই হতো না আপনি সত্যি বিউটি কিনা। বিকালে

কোথায় আসতে হবে জানিয়েন। আসবো।

কালো ধূসর পাহাড়ের গায়ে ভেনিলার আস্তরণ। গা বেয়ে সরু বাঁকা পথ। কানের কাছ দিয়ে চিল উড়ছে। এগারো বামন… হাটছে। পা শিন্ শিন্ করছে। সুরটা এমন কেন? সুখ না বিষণœতা বোঝাই যায় না…

২.

যখন কথা বলবেন একটু হিসাব করে বইলেন। আপনিতো আমারে ফাসায়েই দিসিলেন। জায়গাটা এমনই ভালো না। পা হড়কায়ে কখন খাদে পড়বেন, বুঝবেনও না…আরে আম্মা কখন আসলেন! তুই ফোন ধরিস না ক্যান? ফোন দিসিলেন? কখন?… তোর আব্বার শরীর আবার খারাপ হইসে। টাকা লাগবে। কখন থেকে ফোন দিতেসি… তোর কোনো পাত্তাই নাই। আব্বার কী হলো? তুই মনে হয় জানিস না? আশ্চর্যতো, আপনি কীভাবে আসলেন? উড়ে আসসি। আই ছেলে আই… এদিক আসোতো।… আরে তুমি কোথ থেকে আসলা। আমিতো এখানেই ছিলাম। তুমি আমাকে ছেলে ছেলে বলতেস কেনো? তোমার না রেস্টুরেন্টে আসার কথা। এখনো বিছানায় শুয়ে আসো কেনো? আম্মা কই আরে আম্মা কোথা থেকে আসবে? এ্যাক্ষণই বসে ছিল? দূর কোথায় বসে ছিল?… ঘরে চেয়ার আসে, বসবে? কিন্তু আম্মাতো ছিল। আম্মা না আমি… আমি ছিলাম… তোমার সামনে, দাঁড়ায়ে। কি তাজ্জব কা-। তাজ্জব টাজ্জব বুঝি না। এখন ওঠো। চলো রেস্টারেন্টে যাই। দেরি করতেস কেনো? ওঠো। আরে ওঠো না। ওঠো… ওঠো… কই… ওঠো! কিন্তু আমারতো খুব ব্যথা। ধ্যূর ব্যথা!… ওঠোতো। বিশ্বাস করো আমার ভীষণ পেটে ব্যথা করছে…। তুমি উঠবা!

মোবাইলটা থেমে থেমে কাঁপছে। বোবা মথের পাখা ঝাপটানোর শব্দ। তার কপাল কুচকে আছে, কোচের ভাজে কালো ঘাম। চোখ এখনো ঝাপসা। জীবনে প্রথম চোখ খোলার জ¦ালার মতো… শূন্যমাথায়।

উহ… হ্যালো

এখনো ঘুমাচ্ছ

হু

কখন উঠবে

জনি… না

দুপুর হয়ে গেছে কিন্তু

হু

খাবা না

খাবো

কখন

একটু পরে

উঠে পড়ো… এমনইতো শরীর খারাপ… শুয়ে থাকলে আরো খারাপ লাগবে

হ্মু

হু কি ওঠো

একটু পরে

একটু পরে কখন

দশ মিনিট

আমি কিন্তু আবার ফোন দিব

আচ্ছা

আম্মা সকালে তোমার কথা বলতেসিলেন।

তাই

তোমাকে ফোন দিয়ে পাচ্ছেন না। উঠে ওনাকে ফোন দাও।

আম্মাকে ফোনটা দাও…

আমি পারবো না…

…আচ্ছা

আমি রাখলাম

ওকে… বাই

বাইই্ই্বাইই্

কেউ কি বোঝে কতদূর করলে বিষয়গুলো বাড়াবাড়ি হয়ে যায়? ড়িৎষফ রং ভঁষষ ড়ভ ফঁঢ়বং। তার চোখ সিলিঙের দিকে দাঁত বের করে থাকা বন্ধ ফ্যানে নিবদ্ধ। কপালের ভাজ গাঢ় হয়েছে। আমার শরীর? আমার জীবন?… সংসার? কি কা-! উহ! এক-টা বাজে।… নাহ! উঠতেই হবে। উঠতে উঠতেই চোখের মনিতে মোবাইল স্ক্রিনের ভেসে ওঠা:

shantidhame love’s bite name

resturent ache chenen? Na chinle

chine neben. apni amake dekhle

chinben to? amar chobiteto like

dye vore rekhechen. Ami kintu

dekhte chobir motoi. Thik 6tay.

buyyyyyyy

উত্তর লেখা কি ঠিক হবে? কেমন ছ্যাবলামি হয়ে যায় না? কিন্তু কিছু না লিখলে যদি ধরে নেয় আমি যাচ্ছি না? তাহলে শুধু লেখা যাক, ‘ওকে’। কিন্তু তার আগে পানি খেতে হবে। পানি খাওয়াটা পৃথিবীর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রথম কাজ অবশ্যই ত্যাগ করা। বিছানা থেকে সে যখন উঠে এলো, মোবাইলটা বালিশের পাশেই পড়ে। ট্রাউজার হাঁটু পর্যন্ত উঠে এসেছে। কালো লোমের তলে সোনারং দেখা যাচ্ছে। তার সেদিকে বিশেষ ভ্রুক্ষেপ আছে বলে বোধ হচ্ছে না। খাটের পাশে দাঁড়িয়ে হাতদুটো টানটান করে বেশ আড়মোড়া ভাঙলো সে। তারপর শরীরটাকে একবার ডানে একবার বামে বাঁকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো। মুখে হাত রাখতেই—দাড়িটা কাটতে হবে। দাড়ি কি বয়সের কারণে পাকে। দাড়ি রেখে দিলে কেমন হয়। দাড়িটা রেখে দিলে কেমন হয়? মানাবে কি?… দাঁড়াও… কি যেন দেখছিলাম না? কি যেন? ঠিক স্মরণ হচ্ছে না। বাথরুমলাইট এখনো জ¦লছে। দিনের বেলা এই এ’কা-, ঘরে লাইট জ¦ললে কেমন যেন অন্ধকার মনেহয়। ঘরের আলো বাইরের আলোর কাছে ম্লান হয়। ছোট দুর্বল প্রবলের সামনে আরো বেশি দুর্বল মনে হয়। কিন্তু এ  আলো এই আলো নিউট্রন র‌্যাট আর প্রোটন র‌্যাটের রেসটাইতো সিভিলাইজেশন আখেরে মিনিংলেস যেমন নেচারও যদিও প্রবল তা। তাকে কমোডের সামনে দাঁড়াতে হলো, আড়ামে… দু পা ফঁ-আ-ক্ করে। মানুষ কেনো দু পা জোড়া লাগিয়ে মুতে না? এমন নয় যে সেটা অসম্ভব। মেয়েদের ক্ষেত্রে হাস্যকর অবশ্যই কিন্তু ছেলেরাতো পা-রেই। নিশ্চই এর সায়ন্টিফিক ব্যাখ্যা আছে। আগার নেহি হেয় তো ব্যাপারটা অভ্যাসের ঘাড়ে চাপানো যাবে।… আচ্ছা একটা দেশের মাটিতে রক্তে পরিমান বেশি না গু-মুতের? মানুষ মাটিতে কোনটা বেশি ঢালে রক্ত না গু-মুত? তারপরও একটা জাতির ইতিহাস মানে শুধুই রক্ত— কলিজা না, ফুসফুস না, হাড্ডি না, যৌনাঙ্গ না, ঘিলু না, চুল না, নখ না আর গু-মুততো নাই… শুধু রক্ত, শুধুই রক্ত? বস্তুর কি অনাদর!

শুধু ডাম্প করো, ডাম্প করে রাখো

কাওকে দেখিও না, কারো কাছে বোলো না

তোমারও শরীর পঁচে, তুমিও হাগো

এ্যাকচ্যুয়াল থার্ডক্লাস কন্ডিশান। কিন্তু যদি দেশের সবগুলো সেফটিট্যাংকের বন্দিরা একসাথে সিদ্ধান্ত ন্যায় আমরাও আলো দেখতে চাই, যদি হাড্ডি, মাংস, ঘিলু, কলিজা, নখ, চুলেরা একসাথে চেঁচাঁতে শুরু করে মাটির তলের ডেথচেম্বারে থাকবো না, ইতিহাসে আমাদেরও আলাদা জায়গা চাই? তাহলে? তাহলেই—ব্ল্য-আ-স্ট ব্যস খাড়ানাক শুদ্ধ সাহেবগিরির গুষ্টিউদ্ধার। Humpty dumpty had a great fall, dumpty dumpty du…| হু হু এতো সোজা? নাহ! বড্ড বেশি ক্লিশে, বংংবহঃরধষষু যরংঃড়ৎরপধষ… কমোডের পানিতে হলুদ মিশে গেছে…শুদ্ধ উপলব্ধি। বেসিনের আয়নায় দাঁত দেখাচ্ছে হনুমান। সে ব্রাশে পেস্ট গলিয়ে নিলো। কালারটা চমৎকার, নীল-সাদা স্ট্রাইপ। ক্যান্ডি ক্যান্ডি একটা ভাব আছে। বা গালে ছোট্ট জায়গা জুড়ে মাংস গোল জমাট বেধে আছে। এটা আবার কখন হলো? ব্রণ কি? তার গাল বসা। চোয়ালের ধার দেখা যায়। পনেরো আগে কিন্তু মুখটা বেশ সুডল ছিল। বাসায় কেউ আসলেই গাল ধরে টানাটানির হিড়িক পড়ে যেতো। বিশেষ করে মেয়েরা। অমন টানাটানি থেকে বাঁচতেই বোধহয় গালটা অমন চুপসে গিয়ে থাকবে। শরীর যখন ভাঙে তখন থেকে শুরু। ইন্টারমিডিয়েটে আসতে আসতেই একেবারে উল্টানো সম-দ্বি-বাহু ত্রিভুজ হয়ে গেলো। ব্যাপারটা কেমন? গোলগাল ছোট্ট চুপো বেলুনকে হুট করে টেনে লম্বা করার মতো। কিন্তু এটা ঠিক ব্রণ না। কোনো কারণে খোচাটোচা লেগে মাংস ক্লট করেছে। বাড়তে বাড়তে শেষে হিমালয় না হলেই হয়। ছোটবেলায় আম্মা বলতেন,‘মুখের গোটায় হাত দিবি না। হিঙ্গুল লাগা… বসে যাবে। হিঙ্গুল বিরাট ওষুধ।’ গ্লগ্ল.. গ্লগ্ল… গ্লগ্লগ্লগ্লগ্লগ্লপ… সারা মুখে দু ঝাপটা পানি ছিটকে সে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো ফ্ল্যাশ না করেই। পেটের ব্যথাটা বোধহয় গায়েব হয়েছে। কার দোষে? ফ্লাজিল না ঘুম?

দাড়ি কাটা যাবে না। গোটাটা আরো বেশি এক্সপোস হয়ে যাবে। তবে ফেসটা ওয়াশ করা নিশ্চই যায়। বেডরুমে তবু আলো ঢোকে কিন্তু যে জায়গাটাকে মাল্টিপারপাস বলা হচ্ছে তা এই ভর দুপুরেও অন্ধকারই। চতুর্দিক বন্ধ, একটা ইট-সুড়কির বাক্স। তাকে আলো জ¦ালতে হলো। ইউনিভার্সতো অন্ধকারই প্রায়, তবু কিছু আলো থাকা জরুরী। তাতে প্রাণ আরাম পায়। অনন্ত অন্ধকার ব্যাপারটা খারাপ না তবে মনোটোনাস বটেই। প্রাণের আরাম… আরামইতো… আরামের জন্যই তো নিয়ম… আলাদা আলাদা নিয়ম… বাঘের জন্য এক, হরিণের জন্য আরেক। অবশ্য আলাদা সব নিয়মের তলে গোপন একক কোনো নিয়মও নিশ্চই আছে। তা না হলে সব প্রাণই খায় কেনো? মরে কেনো? কিন্তু আলাদা নিয়মগুলো না থাকলে আরামটা কি থাকতো… প্রাণের আরাম। বেহেস্তে বোধহয় ছিল। কিন্তু আলাদা তারা… আলাদা আলো… আচ্ছা নক্ষত্র তারা হয়ে গেলো কি করে… ইংরেজির প্রভাব! সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা কাল জেগে উঠেছিল—আকাশে একতিল ফাঁক ছিল না… বটে। তারপর কি হলো, নক্ষত্রগুলো সব মরামুখ মানে তারা হয়ে গেলো। আর তোমার তুমি বসে রইলে মশারি খাটায়ে। এসবের সান্নিধ্য তুমি চাও কিন্তু মশার হুল ছাড়া… মধ্যবিত্ত… কি বিচিত্র, কী বিচিত্র… পারোও তুমি জীবনদাশ। সে চেয়ারে বসে আছে, একদৃষ্টিতে রান্নাঘরের দিকে চোখ বেসিনে দুইদিনের ময়লা কটা বাসন জমে আছে। ধোয়া দরকার ওগুলো… বিশ্রী একটা গন্ধ হয়েছে ঘরটায়… কিছুতো খাওয়া দরকার। যদিও ক্ষুধা নেই তবুও কেনো? অভ্যাস তাই? কি খেলে প্রাণের আরাম হবে? ছসসস্… কাঠিটা পুড়তে শুরু করেছে…। সে একটা সিগরেট জ¦ালিয়ে নিলো… প্রাণের আরাম। লাইটের আলোয় ধোয়া কেমন নীলচে দেখাচ্ছে। নীলমেঘ। দার্জিলিঙে নাকি এমন হয় জানালা খুললেই ঘরের ভেতর মেঘ ঢুকে যায়… ঘর ভেজায়, অথবা ঘরই ভেসে বেড়ায় মেঘে… বোধহয়। বিয়ের পর যখন দেখলে আমি দুপুরবেলা খাবারঘরে বসে বসে নীলমেঘ বানাচ্ছি… সহ্য হলো না। আমি চাইলাম ঘরটা এলোমেলো থাকুক আমার মতো আর তুমি আমাকে সুদ্ধ ফিটফাট বানাতে চাইলে। আম্মা যেমন চাইতেন। আব্বা চাইতেন না। তাদের সংসার সিরাতপুলে ঝুলে রইলো। এক ঘরে, এক আলোর নীচে, এক বেডরুমে, এক বিছানায় কতদিন হলো এ্যানী? যখন ছোটছিলাম আব্বার উপর রাগ হতো… ভীষণ, মনে হতো উনি একটা ভীষণ পাপ করেছেন… আম্মাও। আমরাও তো… চা খাওয়া দরকার অন্তত।

৩.

আমি, অন্যের বানানো গুম্ফায় বইসা আসি। আমি, একজন ইতর। শরীরে টক্ টক্ গন্ধ, শুকনা খড়খড়া চামড়া, কুত্তার ল্যাজের মতো চুল ইতরবৎ… আমি বইসা আসি ভাবতেসি কি করলে দুনিয়াটা সত্যি সত্যি চুপসায়া যাবে কি করলে আস্ত মানবজাতি ইট কাঠ জামা কাপড় বই খাতা অস্ত্রপচারের ছুরি লাঠি চশমা অনুবিক্ষণ যন্ত্র ইলেক্ট্রিকের তার ল্যাপটপ গর্ভাশয়ের ভ্রুণ পায়খানা ডাল ভাত শাক সমেত জড়ায়া প্যাঁচায়ে হাশ ফাশ হাশ ফাশ হাশ ফাশ করতে করতে শ্যাষ হয়া যাবে তারপর পৃথিবী শুধুই পিঁয়াজ পয়দা করবে সেইসব পিঁয়াজের রস খায়া বাইচা থাকবে এক কোষি ব্যাকটেরিয়ারা, বাইচা থাকবে কয়েকটা কৃমি আর কেঁইচো আর আমি, অন্যের বানানো গুম্ফায় বইসা আসি আমার চোখের ওপর ল্যাপটপ, পাছার তলে চেয়ার। সিলভার স্টিলের অক্ষয় হাড়িতে পঁচতেসে জানের নির্যাস বাটিতে কারো সিনা থিকা খুবলায়া লওয়া গোস্ত কারো খ্যাতের শাক… সব… পঁচতাসে… টক্ টক্ গন্ধ… পাঁকি আমি বইসা আসি আমার পাশে খাট, খাটে তিনি উদম হয়া পইড়া আসেন তবু তারে বেশ্যা বলা যাইতেসে না প্রিয়তমাসু মনে প্রাণে অন্তরের অন্তর্স্থল থিকা তোমার মৃত্যু কামনা করি। মরো। সম্ভব হইলে আইজ রাতেই এর চাইতে সৎ নিরাবরণ ভালোবাসার ইজহার আর কি হইতে পারে বলো? শ্যাষ পর্যন্ত আমরা সবাই আবর্জনা, কেইচো আর কৃমিগণের আহার তারাই আখেরতক আমাদের পূর্ণ্যটুকু বহন করবে কাজেই তাদের হেলা ফেলা করা যাবে না তাদের বুঝতে হবে বৈজ্ঞানিক ভাবে তাদের দেখতে হবে ঐতিহাসিক এবং বস্তুবাদী দৃষ্টিতে এরাই থার্ড স্টেট, সভ্যতার ভবিষ্যত যদি কেউ চান ধর্মতত্ত্ব দিয়াও বিচার করতে পারেন দ্যাখবেন এদের মধ্যেই সেই বুদ্ধু (আমার ধারণা মহাত্মা গৌতম মরসিলেন না খায়া, কারণ উনি জানতেন ভবিষ্যতে কেচো হয়া জন্মাইতে হবে অথবা কৃমি) লুকাইয়া আসে যার অনেক অনেক বৎসর পর আবার পুণর্বার আসার কথা আসে মাগার বেরাদারগণ তার আগে, তার আগে আমাদের ইট কাঠ জামা কাপড় বই খাতা অস্ত্রপচারের ছুরি লাঠি চশমা অনুবিক্ষণ যন্ত্র ইলেক্ট্রিকের তার ল্যাপটপ গর্ভাশয়ের ভ্রুণ পায়খানা ডাল ভাত শাক সমেত জড়ায়া প্যাঁচায়ে হাশ ফাশ হাশ ফাশ হাশ ফাশ করতে করতে শ্যাষ হয়া যাইতে হবে

ছায়ড়ে দিতে হবে স্থান

ছায়ড়ে দিতে হবে স্থান

এই পর্যায়ে মেহেরজান প্রশ্ন কইরা বসেন— ক্যান, ছাড়বো ক্যান সাধের আসন?

আমি প্রবর্তক বলতেসি— আমরা ছাড়বো না, আমাদের ছাড়তে হবে। আমি আপনি আমরা পয়দা হইতেসি খাইতেসি হাগতেসি পয়দা করতেসি মরতেসি আবার শরীর হইতেসি আপনি নিবর্ত এককালে প্রবর্তক আসিলেন আপনার গোস্ত খায়া আমি প্রবর্তক হইসি আমার এইযে কথার মাইর প্যাঁচে আমি আপনারে কামড়াইতেসি, আপনি কামড়াইতেসেন আমারে এর ভিতর দিয়া আমার ভিতর আপনার কথা আপনার শব্দ আপনার ফটোগ্রাফ আপনার বাল-বাচ্চা আমার মধ্যে ঢুকতেসে, আমারগুলান ঢুকতেসে আপনার মধ্যে এই হইলো মানব জনম আপনারে খায়া আমি মহাবলি আমারে খায়া আপনি রুস্তম মাগার ভাইবা দেখেন আমাদের নিঃশেষ করতেসে কারা? তাদের কি আপনি সাফ করতে পারবেন? আরেকটা বিগবয়, চ্যাটম্যান ফাটান দেখবেন আপনি শ্যাষ হইসেন তারা বহাল তবিয়তেই আসে মানুষ অনেক কিছু বুঝিসে শুধু বোঝে নাই হজম শক্তিই আসলে আসল শক্তি বুদ্ধি ফুদ্ধি সব ফাও হজমই হইল আসল কথা হজমের শক্তিটা দেখেন— রক্ত বর্ণ জাত ধর্ম কোনো ভেদ নাই আর্টিস্টিক কাল্ট নাই মগজবৃত্তির ঝাল্ট নাই খালি আসে খাওয়া আর হাগা আর পয়দা পুনরায় ফের পুনরায় আসে খালি দুনিয়ার শুরু থেইকা শ্যাষতক একই নো প্রগ্রেস নো রিগ্রেস খাও হাগো পয়দা করো হারায়া যাও আবার হাজির হও এইভাবে বাড়ো ভৌতিক ভাবে বাড়ো এই সরল অতি সরল চাইরটা কাজ… তাই… করতে গিয়া… কি ফাইদা বসসি আমরা… তারা কিন্তু বাড়তেসে। আসলে বিকাশ-বৃদ্ধি তাদেরই আসে। আমরা ¯্রফে দাঁড়ায়া…

তারপর… তারপর… হিস্ট্রি মানে হিস্টিরিয়া মানে হাসি মানে হাসি পাগল পাপী মুনাফিকের হাসি আর হাসি…

৪.

সে ধূসর সোয়েটারটা গায়ে চড়িয়ে নিয়েছে। জিন্সের নীল বেগি, সাদা-কালো স্ট্রাইপ মুজা, চারদিন আগে কেনা কালো । মোবাইল-মানিব্যাগ-চাবি… মোবাইল-মানিব্যাগ-চাবি। মূলদরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে সিঁড়ি। রাতের লাইট এখনো জ¦লছে। অবশ্য সিঁড়িটাও ওর মাল্টিপারপাস স্পেসের মতোই অন্ধকার। অভিজ্ঞতাটা দমবন্ধ কোনো গুহায় ওঠা-নামার মতো। দু জোড়া জুতার খট্ খট্ শোনা যাচ্ছে। কারা যেনো নামছে। নামতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো কাজের কথা নয়। জুতার শব্দে তার পা-ও শামিল হলো।

মেইন গেট দুটো। দুটোতেই তালা… এখানে বাসাবাড়ির এই এক যন্ত্রণা, একশো একটা তালা খুলতে হবে। কেনো যে সিকিউরিটির এতো বাড়াবাড়ি? আচ্ছা যদি কখনো ভূমিকম্প হয় কিনবা দানবীয় বিস্ফোরণ এরা কি করবে? বারান্দাগুলোওতো গ্রিল দিয়ে আটকানো। ছাদ থেকে লাফ দেবে! প্যান্টের ডান পকেটটা কাঁপতে শুরু করেছে।

হ্যালো… দাদা, কি খবর

তোর খবর কি? তুই কই?

আমিতো এখনো খুলনায়

তোর না গত সপ্তাহে আসার কথা

হ্যাঁ… এই রোববার আসছি, গাট্টি-বোচকাসহ

কয় মাসের প্রজেক্ট ছিল

তিন মাস প্রায়

রোববার কখন পৌঁছাবি

দুপুরেই ঢাকায় ঢুকবো… আপনার খবর বলেন… বৌদি কেমন আছেন… পিচ্চি?

এইতো চলতেসে

বই’র খবর কি?

কাজতো শেষ… প্রেসে চলে গেসে

তার মানে এই মেলায় আসতেসে

সবঠিক থাকলে শেষের দিকে আসবে

ওহ্…

তোর সাথে জরুরী আলাপ ছিল

কি বলেন?

বিনুর শরীর আবার খারাপ হইসে

আবার খারাপ! ডাক্তার না দেখাইলেন

বুঝতেসি না

কেনো ডাক্তার কি বলতেসে?

ডাক্তারতো খালি টেস্ট দিচ্ছে

টেস্ট করান নাই?

করাইসি… মেজর কিছু পাওয়া যায় নাই… কিন্তু

তো

বিনু খুব খারাপ কিছু সন্দেহ করতেসে

কেমন

ওতো ভাবতেসে ব্রেস্ট ক্যানসার… কেমন জানি হয়ে গেসে… ওর আচরণ ঠিক স্বাভাবিক না… বিনুর এই অবস্থা… এই অবস্থায় সারাদিন সঞ্চয়রে নিয়া একাএকা থাকে। ওরে যে সাপোর্ট দিব তারও উপায় নাই। আমার অবস্থাতো বুঝতেসিস।

হ্মু, বউদির তাই মৃত্যুচিন্তা!

ওইরকমই কিছু

তুই আয়… তোর সাথে কথাবার্তা বললে যদি একটু স্বাভাবিক হয়…

দূর ওসব কিছু না। খামকা চিন্তা করেন না, বসতো ওভার সেনসিটিভ… তিল কে তাল করতে ওস্তাদ। আপনি ভালো করে ডাক্তার দেখান। আমি রবিবারই বাসায় যাবো নে। ঘণ্টাখানেক আড্ডা দিলেই দেখবেন ক্যানসার ফ্যানসার সব ভাগবে।

আয় তাইলে… আর

বলেন?

ধার লাগবে… এখনো বেতন পাই নাই… কিছু টাকা দিস

লাগবে কত বলেন

আপাতত হাজার পাঁচেক

ডান… ভালো থাইকেন তাইলে… আইসে দেখা করতেসি

আচ্ছা…

ক্যান্সারের অভিজ্ঞতাটা কেমন? কুমির ধরলে যেমন হয়! অভিজ্ঞতা আর ঘটনা কি এক?… মাইট বি… অর… না। ওই খালি… যাবা নাকি। আকাশ ভারি হয়ে আছে। সাগরে লঘুচাপ…? হতে পারে। এমন কালচে নীল… ভালোই লাগে। আকশের নীল ছায়া সোজা রাস্তায় গড়ায়ে যাওয়া। রাস্তাও কেমন খালি খালি। আকাশের মতো। দুপুর বটে। আচ্ছা জয়ন্তদা কি সুখী? আজকের খবরটা নতুন কিন্তু তার আগে? কি জানি জায়গাটার নাম?… শান্তিধামের মোড়ে নামবো।

চলেন…

কতো নিবা…

(বোকা হাসি সমেত রিক্সাওয়ালার জবাব) দিয়েন…

রিক্সায় উঠে বসলো সে। এখানকার রিক্সাগুলোর পাটাতন কেমন মসৃণ। পা রাখা যায় না।… দাদা…  লেখালেখি… বউ দি… সংসার… সন্তান… ঠিক মেলে না। লোকটা যে লেভেলের লেখক… কিছুই করতে পারতেসে না। অবশ্য পারতেসে না কথাটা ঠিকও না আবার… মদতো খাচ্ছে, আকণ্ঠ। যেভাবে সে খায় তাতে একদিন না একদিন কিছু হবে। অবশ্য ঠিক মতো লিখলে লোকটা বাঁচতে পারবে কদিন সন্দেহ আসে? সময়টা হেক্টিক্। খালি দুলতেসে। আগাচ্ছে না মোটেও… দুলতেসে। তারপরও… লোকটা কি সুখি? বউদি কি সত্যি তাকে বোঝে? বউদিকে সে? তার দুশ্চিন্তা কেমন কৃত্তিম লাগে। তাহলে তাদের গাড়িটা চলতেসে কি করে? সঞ্জয়? সন্তান, সন্তানইতো… কিন্তু… সংসারে সম্ভবত সন্তানের চাওয়া না চাওয়ার একটা ভ্যালু আসে… সিরাতের পুল… মা বলতেন ‘বুঝবি… যেদিন বাপ হবি’। ওকে ভালো গাইনকোলজিস্ট দেখানো দরকার… তিন বছর হয়ে গেলো… কি ব্যাপার… চেন পড়সে নাকি?

না ভাই… একটু

ওহ! যাও যাও… শালা স্টাইবাকের চ্যালা

রিক্সাটা গলির মুখে দাঁড়িয়ে। রাস্তার ডানদিকে বহুবছরের ধুলো জমা খেরোখাতার মতো দোতলা দালান। কত বয়স হবে এবাড়ির? হলুদ পলেস্তারা খসে বেড়িয়ে পড়া লাল হাড় সাক্ষ দিচ্ছে, সাক্ষ দিচ্ছে হাড়ের গভীর থেকে গজিয়ে ওঠা চুয়ান্নটি বিকট আগাছা, গাড়ি বারান্দার ভাঙা মোজাইক, সামনের ছোট্ট বাগানটাতে নয়নতারা, বেলিদের কবরস্থানের ওপর গাঢ় বুড়ো সবুজ ফার্নগুলো সাক্ষ দিচ্ছে— পাকিস্তান দেখেছে এ বাড়ি এর আস্তর ব্যবচ্ছেদ করেছে দাগ… পরে… তারও পরে পরিত্যাক্ত হয়ে সে হয়েছে পাখিদের, মানুষের ক্ষণিকাশ্রয়— এসমস্ত কিছুর ভেতর দিয়ে হয়তো তাকে যেতে হয়েছে। যেতে হয়েছে প্রতিটি বর্ষার মধ্য দিয়ে। এতোসব কিছুর সমীকরণ হয়ে সে দাঁড়িয়েই আছে। কি আশ্চর্য শরীর! দোতলার কাঠের দীর্ঘ জানলার একপাশ খোলা। তাঁর লম্বা চুলে মুখ ঢাকা। শরীরের ভাজ বলছে বয়সে উঠতি। রাপুনজেল? ভাবতেই ভেতর থেকে হাসি দমক মেরে উঠলো। তবে এমন বাড়ি নিয়ে নস্টালজিক কাব্য করাই যায়। এমন দীঘল চুলের তাহুরাকে নিয়েও।… হইলো?… চলো তাইলে। রিক্সা এগোতে শুরু করেছে। ওই… বায়ে… যাবোওওওও…

ক্যান যেন মনে হলো মেয়েটা আমার দিকে তাকায়ে ছিল। পরিচিত? ধ্যুর কোথা থেকে আসবে! চৌদ্দগুষ্টিতে কেউ এখানে ছিল না… তারপরও মনে হলো। অথবা লক্ষ্যই করে নাই সে… লক্ষ্য করলে ভালো লাগতো। এই মেয়েটাকে নিয়েই তো গপ্প হতে পারে… দারুণ। রোজ সে অপেক্ষা করে কারো জন্য। মুশকিল হলো নির্দিষ্ট কারো জন্য নয়। আর এদিকে এলাকার মোরগভাবধারী ছেলেগুলো বখাটে থেকে বখাটেতর হয়ে উঠতে থাকে। মেয়েটা ছোট্ট রাপুনজেল, ছেলেগুলো একেকটা রঙবেরঙের ঝুটিওয়ালা। তারপর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। মোরগ লড়াই। কক কক কক ক্ কক। ঞযব ড়িৎংঃ ষরবং ড়ঁঃংরফব ঃযব রিহফড়।ি রোজ একটা করে খুন। র‌্যাব-পুলিশ-সাংবাদিকে এলাকা মাতাল। আর সবশেষে রেড দেওয়া হবে বাড়িটাতে। কিছুই পাওয়া যাবে না শুধু সেই জানালায়। সেই জানালার ওপর একটা ছোট্ট টব। দেখা যাবে একটা মৃত নয়নতারা গাছ আর একটা ছোট সাদা ফুল, মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, টবের নীকট বসে পাতিকাক। এভাবে এগোলে মেয়েটা কেমন জানি হয়ে যায়। কেমন অপরিচিত… অন্তর্গত… আর যাই হোক ওইরকম বাড়ি আর অমন মেয়ের সাথে মোবাইল শব্দটাই যায় না।

রিক্সাটা সাতরাস্তা পার করছে। এখানে সেখানে আনাচে কানাচে রাস্তায় ফুটপাতে কয়েনের মতো ঝন ঝন করছে অল্প অল্প মানুষ… কালচার। দুপুর বটে… মফস্বলে। রিক্সায় এদিক সেদিক তাকিয়ে যেন মানুষ দেখছে সে। অথবা দেখছে না, চেয়ে আছে ¯্রফে। চাইলেই কি মানুষ দেখা যায়? এমনো নয়… ইচ্ছা বলে একটা কিছুতো আছে। ইচ্ছার শক্তিটা আসে কোথা থেকে? মহাবিশে^র প্যারালাল মহাবিশে^… পৃথিবীর প্যারালাল পৃথিবীতে… বাংলাদেশের প্যারালাল বাংলাদেশে… মাত্রার দ্বিতীয়, তৃতীয় নাকি চতুর্থ সম্পর্কে কোথাও… কোনো এক বোধে… যেখানে বোধ যতটা বোধ তার চাইতে বেশি নির্বোধ… না/কি? এই শোন… তুমি এইখানেই রাখো। রিক্সাটা টলতে টলতে রাস্তার ডানদিক ঘেষে দাঁড়ালো। ফুটপাত। দেয়াল। অদ্ভুত। দুটো বাড়ির ফাঁকে সোজা সোজা অন্ধকারে। দেয়াল। দেয়ালে পোস্টার। পরিচিত ভঙ্গিমায় উঁচিয়ে অপরিচিত তর্জনী… মুখ… পাশাপাশি… দুই তিন চার। পোস্টার পোস্টার সামরিক কায়দায় ‘সোজা হও’ হয়ে পোস্টার। একটার ওপর আবার অপসেটের সাদা ছাপা মোটা কালো হরফ… লেখা… পাত্র চাই… দুই তিন চার গেলে আরেকটার অর্ধ্বেক দখল– করে কচি চাঁদ… সাদা-সবুজ কম্বিনেশান… ইসলামী যুব কনভেনশান… আরেকটার শরীরে পানের পিক্… পিকইতো আধা দেখা যাচ্ছে বাকিটা দু বাড়ির ফাঁকে অন্তরীণ। এখানেই নামা যাক। মাত্রতো… সে এন্ড্রয়েডে সময় দ্যাখে… কপাল কুঁচকে। রেস্টুরেন্টটা হেটেই খোঁজা যাবে। সিগারেট দরকার। হঠাৎ গরম লাগছে… কেন? কত দেবো… বলো…


Warning: count(): Parameter must be an array or an object that implements Countable in /home/chinnofo/public_html/wp-includes/class-wp-comment-query.php on line 399
আলোচনা