স্নান ৩১

সম্পাদকীয়

আমরা এখন বন্দি। বন্দি বর্ণবৃত্তের মধ্যে। গন্তব্য শেষ হয়েছে ইনবক্সে। আমরা এখন বড় বর্ণশিল্পী। আমাদের চুম্বন, আলিঙ্গন, পাশে ঘেঁষে থাকার ইচ্ছা, আবেগের আতিশয্য, হৃদকম্পন, গন্ধ মেখে থাকার করুণ আকুতি সবগুলো আজ বর্ণ বিনিময়ে। তোমাকে নিয়ে কবিতা লেখার শব্দগুলো গ্রাস করেছে চকচকে ঝনঝনে বিদেশি মেমসাহেবেরা। অমানবিক প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। তবুও মরচেপড়া অনুভূতি মাঝে মাঝে উঁকি দেয়। আর তখনই ইচ্ছে করে, জড়িয়ে থাকি তোমার কোমর, বৃষ্টিস্নাত কোনো সন্ধ্যায় এক রিক্সায় জড়োসড়ো হয়ে বসি, বাদাম চিবুই কোন কদম গাছের নিচে কিংবা ধূমায়িত এক পেয়ালা চায়ে ওষ্ঠ ছোঁয়ার চেষ্টায় মত্ত থাকি। কিন্তু হায়! এখনো আলাদা করতে পারি নি তোমাকে, তোমার শব্দগুলোকে।
বেণিচুলে লালফিতের নকশা, ঘরজুড়ে নূপুরের শব্দ, নাকফুলে মতির পাথর, হাত ভরা কাঁচের চুরি, পায়ের পাতায় আলতায় মানচিত্র এইসবের পুনরাবৃত্তি আত্মসম্ভ্রমে বাধে। হয়তো তোমাদেরও বাধে; দূরত্বের কারণে। এই নিয়ে আর কথা বলছি না, বর্ণবমি করছে আমাদের আঙুল। ডিভাইসের চার্জ গেলেই কেবল বন্ধ হয় বর্ণবমি। তবুও শেষ রাতে স্বপ্ন দেখি। হয়তো ভুলে। মানুষ হবার। তোমার মানুষ।

কবিতা

রাসেল রহমান এর কবিতা
জীবন

মুক্ত মঞ্চ
অবাধ নৃত্য
অঢেল কাজ
সময় সীমিত

এরফানুর রহমান এর কবিতা
 মেমোয়ার

মফস্বলে বড় হচ্ছিলাম, হতে হতে ছোট হচ্ছিলাম, আমরা তখন লায়েক হচ্ছি, সম্ভাব্য সকল উপায়ে একটু একটু করে শিখছি নারী দেহের রহস্য, আমাদের শিক্ষক ‘রাতের খেলা : দি নাইট কুইন’ সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্রে ভীতু বালকেরা ভীড় করে, চলে আসছে অশ্লীলতা মোবাইল ও পিসিতে শস্তায় অর্থাৎ আমাদের কৈশোর এভাবেই নষ্ট হয়ে যায়!
গিলে খায় ‘ও বিজলি চলে যেও না’’ কিন্তু, বিজলিরা থাকে না, চলে যায় বাতাসে! কানে আসে বিজলিরা কাকে জানি চুমু খায় কোথায় কোথায় কোথায়? শুধু স্ক্যান্ডালের শ্বাস শোনা যায় প্রতিধ্বনি তুলে, ঘুমের মধ্যে বারবার আমাদের ঘুম ভেঙে যায়, এ ওর ঠ্যাং ভাঙে এখানে ওখানে মারপিট!
মাঝে মধ্যে অপ্সরী দেখি ক্রিশ্চান কলোনির ছাদে, ওরা ভালো, শুনতে পাই, ওরাও আহলে কেতাব খালি শুয়োরের মাংস আর মদটা না খেলেই…!
ঘুম ঘুম ক্লাসরুম, জেগে দেখি আমার সামনে ম্যাম, ম্যামের সামনে আমি, আমাদের দুজনার মাঝে মহাজাগতিক দূরত্ব, শেষ ল্যাব করেছি ছ’মাস পূর্বে সম্ভবত, ম্যাম তাই ‘চিনতে পারছি না’ নজরে তাকাচ্ছেন, আমার প্র্যাকটিকাল খাতা কেয়ামতের আগেই সাইন করাবো!
আমার বন্ধু মাহিন জীবনে মেলা প্ল্যান করেছে, আহা দু’একটা ছাড়া অধিকাংশই পূরণ হয় নাই তার, আমার বন্ধু সাকিব কখনো কোনো প্ল্যান করে না। জীবন ওর জন্য নির্মম প্ল্যান করেছে একটা, আর রায়হানের জন্যও রিয়াদটা প্রতিটি জন্মদিনে পাঠিয়ে গেছে শুভেচ্ছার বার্তা, নম্বর অন্য ছিলো; আমি বোকা বুঝতে পারি নি!
প্রথম কবিতা লিখেছিলাম বিপাশা বিনতে সাদাতের নামে, তবে সে উছিলা, ছিল লক্ষ্য অন্য কেউ ভুলে গেছি, ভুলে যাই, ভুলে যেতে হয়! বনানী বিশ্বাসের সাথে কোনোদিনই কথা কই নাই। সাকিবের ভাষায়- তারে না-কি ক্লাসরুমে মাঝে মাঝে ঘুমাইলে বিলাইয়ের লাহান লাগতো, মাইয়া নিদ্রায়ও নিশ্চিত হেফজ করতাসে কৌণিক গতিসূত্র, বিলাইটা আমারে ভাইয়ের নজরে দ্যাখে মেলা দিন, ‘ভাইয়ের কপালে দিলেম ফোঁটা, শত্তুর সব পড়লো কাঁটা!’
বাইরে বাইরে নাগরিক কমই জানে, টের পায়, বুঝতে পারে, যে একটা মফস্বলের মানুষ, আধাখ্যাত, নিক্রপলিসে ঘুরে বেড়াচ্ছে!

নিষুপ্ত শিশুক্ষু এর কবিতা
জীবন যখন যেমন

অনুভূতির জীব আমি পৃথিবীর জীব
বড়ো ছোটো ব্যাকুলতা আমার সর্বসাকুল্যে।
নতুন সুখ-মুখ-ওষ্ঠের ছোঁয়া চাই। পাই। কিন্তু!
যদি বলি, এই সবুজ, এই আদর, খোলা যৌবন
খই খাওয়ার দিন আঁকড়ে রাখবো, নাহ্! সব গুড়েবালি!
নশ্বর সব নশ্বর!
যেনো আমার প্রাণ নেই বস্তুর কাছে, তোর কাছে।
‘মহাকাল’ তুই বড়ো হারামজাদা, নেমকহারাম।
নয়ন দুটিও হারাতে হয় তোর গহ্বরে।

দেবদারু এর কবিতা
৫০-৫০

আর যেভাবেই হোক
ফিরে আসার সম্ভাবনা
ঐ নীল বিলবোর্ডে লেখা আছে।
অযাচিত ভাবে পা ফসকে পড়তে পারো।
আমি প্রস্তুত আছি; এবং
বলে রেখেছি মাকড়শাকে
শক্ত একটা পুরোট জাল পেতে রেখো।
ঝিঁঝিঁ পোকার ব্যান্ড দলে
এক্সপার্ট অনুপস্থিত,
টেনশনটা বড় খোঁচাচ্ছে
কে তখন নেতৃত্ব দেবেÑ
মিলনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে?
বসন্ত নেই বলে কোকিল সফরে
গীতিকার শালিক গান বেঁধে বসে আছে।
শিল্পীর বড় আকাল, দোয়েলও দৃষ্টির বাইরে।
গতকাল মৌমাছিরা এসে
বেশ শাসিয়ে গেল
মধু দিয়ে বানানো মিষ্টিগুলোতে
পিঁপড়া ধরেছে
আর যে ভাবেই হোক
ফিরে আসার সম্ভাবনা
ঐ নীল বিলবোর্ডে লেখা আছে।

ভাঙন সরকার এর কবিতা
সঙ্কট

আমি! আমি হাসনাহেনা ফুলের কচি গাছটি
যার সূর্যের কড়া উত্তাপের ভয়-
ঝিমিয়ে পড়ার, চুপসে যাওয়ার
আর বাতাস; সেও তো আগ্রাসী বৈশাখী ঝড়।
কচি ডালটি; সদ্য বিকশিত চূড়াটি ভাঙ্তেই
তার যত বাহাদুরী।
আর! আর অচল নগ্ন বেড়া!
তারও তো আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্য ফুসরত নেই
দায় মেটাতেই পড়ে বেশরম কালো চশমা।
আমি কি আর সুবাস ছড়াবো না?

রহমতে রাব্বী এর কবিতা
অসংজ্ঞায়িত তরঙ্গ

ফিরে এসেছি আবার শব্দহীন চাঁদ ডোবার পর
হেমন্তের শিশিরভেজা অদ্ভুত রাতের আঁধারে
ছেঁড়া চাঁদের মতো আকাশের নিচে বাসি রজনীগন্ধার
সুবাস আর হৃদয়ের কালো কাঁচে কলঙ্কের আস্তরণ।
আবার যদি নির্বাসন দাও আমার আত্মাকে
পৃথিবীর কুৎসিত মুখে আনন্দে ভেংচি কাটবে
সূর্যের বুকে পদচিহ্ন এঁকে স্বর্গ পেরিয়ে যাবো
কোন নির্জন স্থানে নগ্ন বালির দেশে প্রসন্ন মুখে।
বটগাছের ঝুলন্ত শাখায় ঝুলে আত্মহত্যা করবে না
তমসায় তামাশা দেখা অভ্যাস হয়ে গেছে
শকুনের ভাঙা ডানার নিচে কুৎসিত বসবাস
অসহ্য বিলাপ করে শহীদের রক্ত আর সীমারেখা।
নেমপ্লেট নেই বলে লাথি খাই তবু দুঃখ নেই
ভয় হয় মানুষের সংজ্ঞা নিয়ে বিব্রত মানসিকতায়
আজ হয়তো হেরে গেছি অসম্ভবের দ্বারপ্রান্তে এসে
ঝলসে ওঠা দুপুরে তবু বিকারগ্রস্ত হয়ে ফিরতে চাই।
জানি না ততক্ষণ সবাই গর্তের সন্ধানে বেরুবে কিনা
মৃত পেঁচার ডানা ছিঁড়ে আকাশযান বানিয়ে রওনা দেব
কাপুরুষতার নয় ঘৃণ্যতার সাক্ষী হয়ে
বসে থাকবো হলদে রুটির দোকানে চিরকাল।

তৌহিদুর রহমান এর কবিতা
একটা দ্বিতীয় মুক্তি

একটা শক্ত হাত
করবে পরিষ্কার আবর্জনা-জঞ্জাল
ধরবে সত্য-ন্যায়ের হাল
দিবে তুলে অনাহারির মুখে আহার
আবার ভাঙ্বে একাত্তরের সবিষদের বিষ দাঁত।
একটা দৃঢ় পা
দাঁড়াবে পাশে দুঃস্থের, আসে যদি বিপদ
মারবে লাথি ভাঙবে শৃঙ্খল
মুক্তি পাবে সচ্ছলতা
আসবে শান্তি  বইবে সুখের হাওয়া।
একটা সাম্যের চোখ
দেখাবে এগিয়ে যাওয়ার স্বপন
অন্ধকার দিগন্তের পর সেখানে সোনালি গগন
অচল-অসহায় যারা
তাদের দেবে পাহারা নিয়ে চাতক চোখ।
একটা দরাজ বুক
শুধু দিয়ে যাবে নেবে না কিছু
দুঃখ-কষ্ট, মৃত্যু যতই নেয় পিছু
হাজার মৃত্যু করে আলিঙ্গন
গড়বে মুক্তির পার্বণ, আসবে শান্তি-সুখ।
হে মৃত্যু বিলাসী যুবক!
নাও শপথ, করো না-কো দেরি
তিতুমীর, সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম
যে পথে জান করেছে বলিদান
বঙ্গবন্ধুর ডাকে যে পথে দিয়েছে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ
আজই করতে হবে, সে পথের দ্বিতীয় মুক্তি।

এইচ.এম. এরশাদ এর কবিতা
পরিহাস

মজলিশি বিবেকের পরিহাসে ক্লান্ত মানুষ
জীবনের মৌলিক চাহিদা বঞ্চিত
অসহায় ভাইরাসে প্রতিবন্ধী আজীবন
জ্ঞানীরা মুচকি হাসে এন্টিভাইরাস নেই চা চক্রে
৭১ এর প্রতিবাদীরা অসুস্থ ক্ষমতাহীন
চেয়ে থাকে শিশুর মত।
লুকানো দুঃখ আজও হরিপদ কেরানির মতো
অথবা ক্যামেলিয়াকে না পাওয়ার মতো গোপন
এজন্যই দেশ আজ হিংসা বিহারে
রামুর ট্র্যাজেডি নিত্য ঘটে।
১, ২, শত সংখ্যা দ্রুত যায় বেড়ে
ঠিকানাহীন মাংসহীন দেহ প্ল্যাকার্ড হাতে
কেন ভেসে যায় লাশের মিছিলে জুরাইনে
ক্ষুধার্তকে ক্ষুধার্ত আগুন খেয়েছে
অশ্রু সেখানে পেট্টোলিয়াম অকটেন
মায়াজাল সংসার, রানা প্লাজার মতো শক্ত
প্রেমময় নরম আগুনের মতো লালচে
কেন নিত্য
লাল সবুজের পাশে কালো পতাকা কাঁপে
সময় অশ্রুত
আগুন কি নেভে আর্তনাদের বৃষ্টিতে
মিডিয়ার হুঙ্কার
চলছে এখনও দেখ ব্যস্ত মধ্যরাতে
কেন ওরাই শুধু? আমাদেরও  জীবন যাবে পরিহাসে
না খেয়ে শ্যাভিজমোর আর্তনাদে।

রোমিও এর কবিতা
বিস্ময়ে তুমি

সবুজের বুক চিরে অজানায়
কতবার শিশিরে ভিজে
আমি বিস্ময়ে তাকিয়েছি
এ মাটির স্বর্গ সুন্দরে।
শৈশবের পাল ছেঁড়া সে জীবন
কখন, কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে
ছুটে চলেছে জীবনের আঁকেবাঁকে।
পড়ে থাকে জীবনের শত অবসাদ
প্রকৃতির শৈল্পিক মঞ্চে।
রূপালি জোস্নার নিশ্চুপ রাতে
বাতাসের গন্ধে মিশে থাকা জীবন
যেন জীবনের সব সুখটুকু আলিঙ্গনে
হেঁটে চলেছে সাত সমুদ্দুর।
খেয়ালি মনের কত স্বপ্ন
অঝোরে বৃষ্টি হবে বলে
থেমে নেই। ছুটে চলেছে
এ বাংলার অপার সৌন্দর্যে
স্বর্ণালি সন্ধ্যার শ্রাবণ স্বপনে।

অতন্দ্র অনিঃশেষ এর কবিতা
মতান্তরে

যে দিন তোমায় শেষবার দেখি
মনে হয়েছিল
এ রাত শুধু তারকাদেরই বসবাস নয়।
একবার বিচরণ আর একবার সহমরণ
নাকি একবারই সহবাস
দুই পক্ষের সাধক আমি নই।
হয় তুমি আমাকে নরকে নিয়েছো
না হয় আমি তোমাকে
তবে একসাথে নরকে যেতেও রাজি
তুমি তো স্বর্গে যেতেও ভয় পাও
সন্দেহ তোমার
এখানে কি সত্যিই সুখ পাওয়া যায়!
দীপাদের বাগানে আজও আমি একাই ফুল কুড়াতে যাই।

ফয়সাল ইসলাম এর কবিতা
অতঃপর

অস্তিত্ব আমার ঝাপসা হয়ে আসে
চাওয়া ও পাওয়ার অসম সমীকরণে
এটা, ওটা না সেটা; এই অস্বাভাবিক হিসেবে
গরমিলগুলো সব বজ্রাহত করে,
ভীষণ বেগে ধেয়ে আসে,
ঠিক যেমন ছোঁ মেরে চিল নিয়ে যায় মুরগিছানা।
জীবনের অপূর্ণতা চিড়ে চ্যাপ্টা করে দেয়
জাগতিক কোলাহল মুখরিত আমার চারপাশ,
আমি চোখ বুঁজলেই দেখতে পাই
আমার অস্তিত্ব ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে!
চাওয়া ও পাওয়ার অসম সমীকরণে
এটা, ওটা না সেটা?
আজ বড় বেশি মনে পড়ে!
শুরুর সেই দিনগুলো
ছিল না কোনো পিছুটান, ছিল না কোন অভিমান
শুধু আনন্দ আহরণ, আর সন্ধ্যা হলে
বাড়ি ফিরে মায়ের মৃদু বকুনি।
তবু কি অনন্ত সুখের ছিল না দিনগুলি?
ধীরে ধীরে ভাবনা এসে ঘিরে ধরে আমায়
‘এটা করো, নাকি ঐটা’ চিন্তাগুলো
তীক্ষè ফলার মতো ছেদ করা শুরু করে
আমার শরীর, আমার মন।
তারপর, যখন মেলে না হিসাব
কুঁড়ে কুঁড়ে খায় আমার অস্তিত্ব, আর
ডানাহীন আহত পাখির মতো
আহত করে যায় আমায়।
অতঃপর
শূন্য আমি, ধ্বংস আমি
মিলিয়ে যেতে থাকি আমার অস্তিত্বে
যেখানে শুরু হয়েছিল আমার যাত্রা
আমাদের সকলেরই কি নয়?
আসা-যাওয়ার মাঝে এই সময়
কি নিষ্ঠুর, কি ছলনাময়!
এইতো এদিকে, না, না, ঐ দিকে
এটা, ওটা না সেটা?
কখনও রবিঠাকুর, কখনও নজরুল, কখনও বা
কিশোর, সুকান্ত। আবার কখনও জীবনানন্দ,
কখনও বা নকশী কাঁথার মাঠ হয়ে
ঐ দূর দেশের শেক্সপিয়র এর অফুরন্ত
ভাণ্ডার। কখনও গালিভার, কখনও লিলিপুট
ব্রব্ডিগ্নাগ্ ও কি নয়?
এই এখন হেক্টর, এখনই এ্যাকিলিস
এখনই আবার শাইলক, এখনই পলিটিক্স
কি চাই আমি, কি সঠিক আমার?
প্রশ্নই শুধু আসে মনে; উত্তর?
সেটা পাওয়ার নয়।
রোমান কলোসিয়ামের গ্লাডিয়েটর আমি?
হতে-তো চাই। কিন্তু সে ভাগ্যও আমার নয়।
নিজেকে হারিয়ে খুঁজি আজ
আমার আমি আজ নাই।
চাওয়া ও পাওয়ার অসম সমীকরণে
এটা, ওটা না সেটা-গরমিলের এই হিসেবে
অশান্ত, বিক্ষিপ্ত, কোলাহলপূর্ণ এই ধরণীতে
এইতো এদিকে; না, না, ঐদিকে
আসলে কোন দিকে?
প্রশ্নগুলো শুধু ঘুরপাক খায়
আমাকে চিড়ে চ্যাপ্টা করে দিয়ে যায়
আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়,
ঝাপসা হয়ে যায়
আমাকে বজ্রাহত করে যায় ॥
অতঃপর
শূন্য আমি, ধ্বংস আমি, রিক্ত আমি
মিলিয়ে যেতে থাকি আমার অস্তিত্বে
যেখানে শুরু হয়েছিল আমার যাত্রা।
আমাদের সকলেরই কি নয়?

আলোচনা