স্নান ৩৯

স্নান ৩৯
একটি চিহ্নপরিপূরক ছোটকাগজ

 

চিহ্নপরিবার
১৩০, শহীদুল্লাহ কলাভবন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

সম্পাদক
নিখিলেশ রনি

 

প্রচ্ছদকার
চারু নাজ

 

সদ্যগত মাস— অর্থাৎ ভাষার মাসে নির্দিষ্ট চারটি দিবস পর্যায়ক্রমে আমরা উদযাপন করেছি মহাসমারহে। দিবস চারটি উদযাপনকে কেন্দ্র করে— ভিখারী থেকে প্রধানমন্ত্রী, বাদামওয়ালা থেকে টেলিকম কোম্পানি, আনসার বাহিনী থেকে এনএসআই, বেতার থেকে গুগল পর্যন্ত একটা বড় রকমের চাপ অপসারণ করল। বসন্তবরণে আমরা লাল-হলুদে মাখমাখি করলাম। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আমরা সক্কলেই ভালোবাসায় হাবুডুবু খেলাম। শিক্ষক দিবসে ফাঁউ ছুঁটি উপভোগ করলাম। আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে একযোগে আমরা সক্কলেই মশির অতলে নিমজ্জ্বিত হলাম। অবশেষে লক্ষীপূজা সুসম্পন্ন হলো।

মানুষ এত হাঁসো, এত কাঁদো, মুক্তি কি আজও মিললো?

স্নান সেই মুক্তির আয়ণা ধরে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে…

সম্পাদক

 

 

ব্লাকবোর্ড কালো
দীপ্ত উদাস

আমরা সকলেই আমাদের পূর্বপুরুষের ছায়া অনুসরণ করছি তা না করে কোনো চতুর্দশপদীকে অনুসরণ করতে পারতাম।ন্যাংটো ছেলেটি লাটিমের ঘূর্ণি দেখে গরম নিবারণের জন্য ফ্যান না তৈরি করে মানুষ কুচি কুচি করার যন্ত্র বানাতে পারতো।পতিতার টুকটুকে গালে লোভাতুর হয়ে পতিতালয়ে না গিয়ে একটি বকুল চারা মাটিতে  বুনে দিতে পারতো যুবকটি।গভর্নর আতিউর তার জীবনের আখ্যান প্রচার না করে কিছু মেধাবী বেকারকে যাচাই করে চাকুরি দিতে পারত।পৃথিবীর সকল নারীরা প্রেম না করে প্রেমের অভিনয় করে প্রেম শিল্পের উন্নতি করতে পারতো।মাননীয়া মহামতি প্রধানমন্ত্রী একদিন ছেঁড়া কাপড়ে পরীবাগের মোড়ে দাঁড়িয়ে ভিক্ষার ভান করে দুখী মানুষের দুঃখ অনুভব করতে পারতো।দেশগড়ার প্রত্যয়ে মিটিং-মিছিলে সময় বিনিয়োগ না করে হতাশার বেলুন ফুলিয়ে আকাশে উড়িয়ে দিতে পারতো প্রগতিবাদী যুবকেরা।
কিছু-একটা
কিছুটা হয়তো লাঘব হতো…
তাহলে হাইজিন পর্দার ভেতর দিয়ে মলয়কে পৃথিবী দেখতে হতো না, হয়তো শক্তিকে মাতাল হতে হতো না, জীবনানন্দকে হতাশা নিয়ে ট্রাম চাপা পড়তে হতো না, সুকান্ত হয়তো চাঁদে ঝলসানো রুটি না দেখে শিশুর ফোকলা হাসিতে মুগ্ধ হতো, সুভাষ হয়তো বলতো— শুধু আজ কেন, সারা বছরই ফুল খেলবার দিন।
তবেই হয়তো আজকের শিশুটি মাতার এক স্তন চুষতে চুষতে অন্য স্তন মর্দন না করে কম্পিউটারের মাউস মর্দন করতে পারতো!

এ সভ্যতার জন্য একটি গোলাপ উপহার এনেছি।
কাঁটাভরা ডাটাওয়ালা গোলাপ
গ্রহণ করো হে উত্তরপুরুষ।

 

চলো, বরং বিভ্রমে চলি
রিংকু রাহী

না-
আমি তোমার বিপক্ষে কথা বলবো না
আমি বলবো না সংবিধানের আমুক ধারা কবিতা লেখার পরিপন্থী
আমার চিন্তার পরিপন্থী
আমি বলবো না-
নিপাত যাও
নিপাত যাও!
বলবো না জৌলুসের ইতিহাস কিভাবে নয়নতারার টব হলো
আমি এ-ও বলবো না
আমার না-বলা কথা জমতে জমতে
ক্যামনে পাহাড় হয়ে গেছে
বলবো না
আমি কিভাবে ভয় পেতে শুরু করেছি
হুটহাট গূঢ় গ্যাঞ্জামে ক্যামনে নৈঃশব্দের সঙ্গমে আমি শিউরে উঠেছি
বলবো না
বলবো না
উড়তে থাকা লতপত শব্দেরা আমাকে শুধু মানচিত্র চেনায়
মাটি কিংবা অনার্যের ঘাম চেনায় না
আমি বলবো না-
আমাকে চেনাও
আমাকে চেনাও!
রাষ্ট্রের রঙহীনতায় আমাকে বিলীন করো
আমাকে মাটি করো
বলবো না

 

 

 

রাজহাঁস
শশী আলিওশা

ক্যালানীর অপর প্রান্তে খেলে শাদা ব্যর্থতার চিবুক—

রাজহাঁস এক ব্যর্থ পাখি

হলো না তার জলজ অতল জীবন

আকাশের শোভা মাটির যাতনা বহন

কেবল জলের কাদায় নিদারুণ মাখামাখি—

শুভ্র আগুন মেখে সে মৃদু শিৎকারে

বাতাসের ঘাড়ে ফেলে বিপন্ন প্রশ্বাস—

মিলনের কলা-কুসুম জানে সে সব

এও জানে পৌনঃপুনিকতার জীবনে

এসব অহেতুক ক্যালানী

এক সরস উইথড্রাল

কবিতা লেখার প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সাহিত্যের গোয়েন্দা পুলিশ

ফেসবুক পাড়ায় আমার প্রেমিকা থাকে, তারসাথে দেখা করতে আসি ফেসবুকে। প্রেমিকার পাড়াতো ভাইদের খপ্পড়ে পড়ি, সেলামের মত লাইক দেই। হাতে চিরকুট দেখে প্রেমিকার বড় ভাই জুকারবার্গ, ভেবে বসল জিহাদী লিফলেট, টেনে হেঁচড়ে নিয়ে গেল সাহিত্য পুলিশের কাছে। চারপাশে পুলিশ পুলিশ, কবিতার বাপ মা! রিম্যান্ডে নিয়েছে ফেসবুক গোয়েন্দা পুলিশ, সাহিত্য বিভাগ। কত করে বললাম, এই লেখা জিহাদী না, আমার কবিতা, জমা দিতে এসে ছিলাম প্রেমিকার কাছে। পুলিশ বলে এটা কবিতা? ছন্দ নেই, তাল নেই, নেই বিন্দুমাত্র মাত্রা! কেবল সারি সারি নূরানি অক্ষর, শব্দের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে ফজর ওয়াক্তের বাতাস, বিবির নেকাবঢাকা চোখের কাজলের রঙ! এইসব শব্দ কবিতা? একটা ইমেজ আরেকটার গায়ে তলোয়ার ফুঁড়ছে,  শোনাচ্ছে শাদাঘোড়ার খুড়ের শব্দ, পুষ্ট খেজুরের ঘ্রাণে ভরে উঠছে চারপাশ! বল এইসব বাংলা কবিতা? বুঝি তুই মাদ্রাসায় পড়েছিস? নাকি আরবি বিভাগ, উর্দুর ক্লাস? কিসের জেহাদ করিস তুই? কোন জঙ্গি গ্রুপ? উপায় না দেখে বলি স্যার মাফ করেন। এইসব কবিতা না, আমার ইশকের আমলনামা। শুনে কবিতা পুলিশ স্যার পানের পিকের মত কিছু উপদেশ উগড়ে দিলো আমার লেখার নিচে, সাথে দিল কবিতা লেখার প্রেসক্রিপশন।

যাত্রীবাহি নারী
অতন্দ্র অনিঃশেষ

বুক গেছে গুজরাটে কপোল গেছে কাশ্মির
দেহখানা চলে গেছে- মরে গেছে আট মাইল
সোনাগাছির বাবু গেছে- হাসে খিলখিল।

শকুনের চোখ গেছে কাবেরীর হাতে
বিছানা ভিজে গেছে বেদনার দায়ে
কেউ য্যানো কোথায় গেছে
কি য্যানো কিভাবে
সবকিছু চলে গেছে মায়ার অভাবে।

গোলাপের লাল গেছে ভ্রমরের হুলে
আগুনের জ্বালা গেছে পোড়ামাটির শোকে
বেদনার নীল গেছে, হাড় থেকে দেহ
দীর্ঘ পথ গেছে, হাটছে না কেহ।

সব চলে গেছে পেছনে
ফিরবার পথ, ঘুরেফিরে আবার সেখানে
সময় গেছে ফিরেপেতে জানালার মুখ
প্রেমিক গেছে প্রেমিকার ছিড়তে চিবুক।

 

 

সার্চলাইটের লাভায় অসমাপ্ত খেলা
শাকিলা আলম

রাত খুব বেশি নয়। শামুকের মতো, লোহার মাথাওয়ালা বিশ পঁচিশটি যন্ত্র শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরাও শামুকের মতো গুঁটিগুঁটি এগোয় কিন্তু, শামুক ও যন্ত্রগুলোতে তফাৎ অনেক। শামুক আত্মরক্ষা করতে চায়, এরা চায় অপরকে ধ্বংস করতে। অপরকে ধ্বংস করতে এরা এগোয়, মানুষের প্রতি, সভ্যতার প্রতি। তারপর লোহার মাথাওয়ালা যন্ত্রগুলোর তাড়া খেয়ে মানুষগুলো পিঁপড়ে হয়ে যায়, তারা পিলপিল করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে চায় কিন্তু, সার্চলাইটের আলোর আড়ালে যেতে ব্যর্থ হয়। ফলে, আধুনিক মারণাস্ত্রের তোপের মুখে মারা পড়ে দুশ সাড়ে সত্তরটি পিঁপড়ে। একটি নতুন পিঁপড়ে তার নতুন জীবনের সূচনা করেছিল কিন্তু, সে তার খেলনা পুতুল হারিয়ে ফেলেছে। তাই সে মায়ের আচলের নিচে লুকিয়ে ছিল কারণ বাইরের মাত্রাতিরিক্ত শব্দ ছোট্ট পিঁপড়েটিকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। হয়ত সে ভয় পায়নি তার মা-ই এমনটা ভেবে ছিল। শিশু পিঁপড়েটি চিৎকার শুরু করে দেয় কারণে তার জননী তাকে পৃথিবীর এত আলো ও ধ্বনি তরঙ্গ থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত ছিল। শিশুটি ভাবতে শুরু করে, ঘরের বেড়ার ফাঁকা থেকে যে আলো জ্বলে জ্বলে নিভে যাচ্ছিল তা তার সাথে খেলা করতে চাইছে। দীর্ঘকাল সংগ্রাম করে শিশুটি ছাড়া পাওয়া মাত্রই ছুট্টে গেছে বাইরে আলোর সাথে লুকোচুরি খেলবে বলে। তার মা-ও গেল পিছু পিছু। আলোর সাথে শিশু পিঁপড়েটার খেলা অসমাপ্ত রয়ে গেল।

সেই দিনের আলোক প্রলয়ের পূর্বে পৃথিবীর জীবনপ্রবাহ থেমে যায়। এই আলোক প্রলয়ের কারণ হলো সূর্য পৃথিবীর ন্যায় মহান গোলকের জন্য স্থায়ী ও নিজস্ব শক্তির উৎস সরবরাহ করেন। পৃথিবী এত বেশি স্বক্রিয় ও কর্মচঞ্চল স্থান যে পৃথিবী সৌর গোলকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী অবস্থান লাভ করে। তার শক্তি এই যে সে প্রচুর পরিমাণ প্রাণ ধারণ করে রাখতে পেরেছে। পৃথিবী যেদিন সূর্যের সভায় তার শক্তি ও সফলতার বিলিয়নবর্ষীয় রিপোর্ট পেশ করে সেদিন সে একটি বিশেষ সেবার দাবিও উত্থাপন করে। পৃথিবীর ভাষ্যমতে পৃথিবী ক্রমে স্ত্রী ঊর্ণনাভে রূপান্তরিত হচ্ছে যার উদরের তলদেশে একটি সাদা ডিম্ব বিদ্যমান। পৃথিবী ঊর্ণনাভে পরিণত হওয়ার পরে তার ডিম্ব তৈরি হচ্ছে না, বরং ডিম্ব সহকারে একটি পূর্ণাঙ্গ ঊর্ণনাভ তৈরি হচ্ছে। পৃথিবী তার এ রূপান্তর রোধ করতে পারছে না, ফলে যে নতুন শিশুরা, নরম কোমল কাঁচা কাঁচা প্রাণ ডিম্বপ্রাচীর ভেদ করে নির্গত হচ্ছে তারা মা ঊর্ণনাভকে খেয়ে ফেলছে। তাই, পৃথিবীর দাবি এই যে তার শিশুদের প্রতিপালনের জন্য তাকে স্বতন্ত্র শক্তির উৎস দেওয়া হোক। যেহেতু পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস সূর্য তাই পৃথিবী তার নিজের একটি সূর্য চায়। সূর্যের সমধর্মী গঠন উপাদান কিছু পরিমাণে পৃথিবীর কেন্দ্রে সঞ্চিত কিন্তু তা কোনো ক্রমেই সূর্যের ন্যায় গুণগত মানসম্পন্ন নয়। পৃথিবীর এমন অপরিনামদর্শী আবেদন শুনে সভাপতি সূর্য ঘোষণা করে,

-আপনার প্রয়োজন বিবেচনাযোগ্য, কিন্তু শক্তির উৎস নেই তাতেই আপনার সন্তানেরা আপনাকে নিশেষিত করছে যদি তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র উৎস নিয়োজিত করা হয় তবে তো তারা আমাদেরকেও খেয়ে ফেলতে সচেষ্ট হবে।

যন্ত্রণাকাতর পৃথিবী অসহায় হয়ে পড়ে। অল্পক্ষণ ভেবেই সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে অনশন ধর্মঘট শুরু করবে এবং ঘোষণা করে,

-আমিই এই সৌরজগতের একমাত্র গোলক যে সন্তানবতী। অন্যরা তো বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছে তারা নতুন প্রাণের জন্মদান বা লালন পালন কিছুই করতে পারবে না। তারা শীতল কারণ তাদের রক্তে আর কোনো উষ্ণতা নেই। তারা বিস্তৃত কারণ ক্রমাগত ব্যবহারে তাদের শরীর প্রসারিত। এ প্রসারতা সন্তানদের আবদ্ধ করে রাখতে পারে না। ফলে এ প্রসারতা মূল্যহীন। অপর দুজন এতই খর্বাকৃতি যে তাদের সহবাসে আপনি কোনো পূর্ণতাই অনুভব করতে পারবেন না। সুতরাং, আমি পৃথিবী মধ্যমাকৃতি এবং চিরযৌবনবতী। আমি ভিন্ন আপনি অপর কারো গর্ভে সন্তান উৎপাদন করতে ব্যর্থ।

পৃথিবীর এরূপ বক্তব্যে সভাপতি সূর্য অপমান বোধ করে। এই সৌরসভার নিয়ন্ত্রক সূর্য অপেক্ষা পৃথিবী নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রমাণ করতে চায়! সূর্যই তো পৃথিবীকে প্রাণে, সবুজে নীলাঞ্জনা করে তুলেছে তবে কেন সে অপর দুই গোলককে প্রাণের সমারোহে সার্থক করে তুলতে পারবে না! পূর্বে সূর্য যখন আরো শক্তিশালী ও বিশালকায় ছিল তখন প্লুটো, নেপচুনেরাও তো ছিল প্রাণপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। গোলকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আভিজাত্যে ভরপুর ছিল শনি। বিগতযৌবনা হয়েও সে এখনও সবচেয়ে বেশি সঙ্গীদের নিয়েই নিজের মতো নিভৃত গম্ভীর জীবন যাপন করে চলেছে তবে পৃথিবী কেন এত ঔদ্ধত্যপূর্ণ কামনায় বিদ্রোহী হয়ে উঠতে চাইছে! সূর্যকে বেশ চিন্তিত মনে হয়। সে ভাবে,

-আমিই পৃথিবীকে সজীব করেছি, শক্তির ক্ষয় হলেও আমি নিঃশেষ হয়ে যাই নি। আমি আমার নিকটবর্তীদেরও প্রাণ-প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারি। প্রথমে শুক্র পরে বুধই তো হবে প্রাণপূর্ণ জীবের আশ্রয় দানকারী, ধারণকারী মাতা।

সূর্য এমন ভাবে কারণ এটাই ভবিতব্য। পৃথিবী যতই সমৃদ্ধ হোক না কেন সময় ফুরাবেই। পৃথিবী তার প্রাণিদের কারণেই আরো বেশি মাত্রায় প্রৌড় হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর প্রাণিরা ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেছে, তাই শিল্পিরা বলছে, ‘পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’। প্রাণিদের এমন ভাবতে পারার কারণ পৃথিবী ক্রমে তাদের লালন পালনে অপারগ হয়ে উঠেছে যে তারা বুঝতে পারে পৃথিবীর সহচর চাঁদ বুড় হয়ে উঠেছে। সূর্য স্মৃতি হাতড়ে পৃথিবীর নৈঃসঙ্গ দূর করতেই চাঁদ পৃথিবীর পাশে জন্ম নিয়েছিল। সেই চাঁদ আজ বুড় হলো আর পৃথিবী কিনা নতুন জীবন যাত্রার অভিযাত্রি! সূর্য পৃথিবীর ভবিতব্য জেনেও বলল,

-পৃথিবী তুমি নিজস্ব নক্ষত্র পেতে চাও যাতে তুমি তোমার প্রাণিদের চাহিদা পূরণ করতে পার। কিন্তু, নতুন নক্ষত্র মানে নতুন শক্তি, যে হয়ে উঠবে আমার সমতুল্য ও প্রতিপক্ষ, যার অনুমতি কখনোই তুমি পাবে না।

পৃথিবী তার ব্যর্থতা উপলব্ধি করতে পেরেও প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। পৃথিবী স্বতন্ত্র নক্ষত্র চায় যাতে সে নক্ষত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে তার তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। যদি তা করা যায় তবে তাকে যেমন পরনির্ভশীল হয়ে থাকতে হবে না একই সাথে সে চিরকাল ব্যাপী সজীব থাকতে পারবে। পৃথিবী বলে চলে যে, ‘স্বতন্ত্র নক্ষত্র দ্বারা আমি হয়ে উঠব সৌর জগতের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ। তখন সূর্য তার স্বেচ্ছার দ্বারা আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমিই হব প্রাণধানকারী একমাত্র ও শ্রেষ্ঠ গোলক।’ এসকল কথা মনে মনে ভেবে নিয়ে পৃথিবী দাবি উপস্থাপন করে যে,

-এত সুদীর্ঘকাল ধরে প্রাণের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটানোর একমাত্র কৃতিত্ব আমার। আমি অপার সম্পদে পরিপূর্ণ। এমনকি নতুন একটি নক্ষত্র তৈরি করার ক্ষামতাও আমি ধারণ করি। সুতরাং, আরো পরিপূর্ণ হতে আমি স্বতন্ত্র নক্ষত্র তৈরির যোগ্যতা রাখি।

সূর্য পৃথিবীর এ সকল দাবির উত্তরে প্রশ্ন করে,

-নক্ষত্র ধারণ করার শক্তি তোমার আছে?

সূর্য জানে প্রকৃতপক্ষেই পৃথিবীর যৌবন ও একইসাথে তার বিবেচনা জ্ঞান বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। ফলে, পৃথিবী তার স্বতন্ত্র নক্ষত্র সৃষ্টির অনুমতিও প্রাপ্ত হলো।

অনুমতি পেয়ে পৃথিবী তার অভ্যন্তরে পরিবর্তন ঘটাতে শুরু করে। পৃথিবী পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে তার নক্ষত্র সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। এই সৃষ্টিকর্মে তার ছিল একইসাথে নতুন সৃষ্টির উন্মাদনা ও সৌর জগতাধিপতির চেয়ে শ্রেষ্ঠতর হয়ে ওঠার উল্লাস। পৃথিবীর তার আভ্যন্তরীন শক্তি যা তার সৃষ্টির কাল থেকে তার মধ্যে সঞ্চিত আছে তা নিগৃত করতে শুরু করে সকল আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে। পৃথিবীর কোনো আগ্নেয়গিরিকেই সে অলস বা নিষ্ক্রয় হয়ে থাকতে দেয়নি। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ আগ্নেয়গিরি ইন্দোনেশিয়ার তাম্বরা তার চিরকালীন স্বভাব মতো নির্গত করতে শুরু করে উত্তপ্ত লাভা। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন ইতালির এতনা আগ্নেয়গিরি, সবচেয়ে বেশিদিন যাবৎ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হাওয়াইয়ের মাওনা কিয়া সকলেই জেগে ওঠে। এইতো সুযোগ, এতদিন তারা সংযমী হয়ে ছিল। তারা তাদের যন্ত্রণার উত্তাপকে পৃথিবীর পেলবতায় আঘাত করতে দেয়নি, কিন্তু আজ আর কোনো সংযম নেই। বাঁধা নেই বাংলাদেশের চন্দ্রনাথের আগ্নেয়গিরিরও। সুদীর্ঘকালের তাপস চন্দ্রনাথ হঠাৎই কেঁপে ওঠে, ঘুম ভাঙে তার, সারা শরীরে অনুভূত হয় অসহ্য অস্থিরতা। ‘এ কি হলো তার!’ চারপাশের সজীবতায় গভীর শ্বাস গ্রহণ করে চন্দ্রনাথ শান্ত হতে চায় এবং চায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। ভেতর থেকে সাড়া জাগে, সব লাভা উত্তাল আনন্দে প্রবাহিত হতে শুরু করে। চন্দ্রনাথ তার জ¦ালামুখ সংকুচিত করে রাখতে চেষ্টা করে। প্রচ- শক্তিতে সে দমন করতে ও ফিরিয়ে দিতে চায় তার দেহের তাড়ণাকে।

মুসা রইসও একই রকম তাড়ণা বোধ করে। রাত গভীর, কত বাজে কে জানে। ঘড়ি নেই মুসা রইসের কাছে। এত রাতে সে কোথায় যাবে। যেকোনো জায়গাতেই যাওয়া যায়। কিন্তু যা শীত, তাতে সে শরীরের এই তাড়ণাকে দমন করে রাখতে চায়। নগরের অন্যতম মহাসড়ক খান জাহান রোডের পাশে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে ছাউনিহীন এ সংসারে তার বেঁচে থাকাটাও উদ্দেশ্য নয়। তবু কেন যে সে বেঁচে আছে বা থাকতে চায় সে জানে না। বিশাল বিশাল অট্টালিকার সামনেই সে শুয়ে থাকে। দালানগুলোর পাহারাদারদের ওপর কড়া নির্দেশ আছে যেন দালনের সামনে কোন রকম নাগরিক ক্ষতকে যেন স্থান না দেওয়া হয়। তাই যখন রাত গভীর হয়, রাস্তা জনবিরল হয় আর অট্টালিকার কর্তা ব্যক্তিরা যখন তাদের মাতৃহীন কন্যা সন্তানের সুগন্ধযুক্ত স্নেহবঞ্চিত কপালে চুমু খেয়ে স্বতন্ত্র কামরায় ডাস ক্যাপিটালের ‘পুঁজির সঞ্চালন প্রক্রিয়া’ হাতে নিয়ে তার হেলানো চেয়ারে গিয়ে বসে এবং তা এক ফুট গভীর হয়ে যায়, তার হয়তো দশ মিনিটের ব্যবধানে ঝিমুতে শুরু করে অথবা কোনো কোনো স্থুলদেহী কর্তা তার নতুন নারীর সিক্ত গোসলখানার দিকে উঁকি দিতে থাকে তার লোমশ ও ধারালো নখ নিয়ে, তখন মুসা রইস দুই অট্টাালিকার মধ্যবর্তী স্থানে মেহেগনি গাছের শিকড়ে হেলান দিয়ে বসে স্ত্রীর খড়ি ওঠা চুলগুলো পাঁচ ইঞ্চি লম্বা প্লাষ্টিকের চিড়–নি দিয়ে আঁচড়ে দেয়। স্ত্রী তার স্বামী ও পুত্রের পেট থেকে কোনো আওয়াজ শুনতে পায় না কারণ তারা আজ গরম ডালের স্বাদযুক্ত উত্তপ্ত পানি দিয়ে গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত খেতে পেরেছে। ঘুমন্ত ছেলেটিকে পিতা কোলে তুলে নিয়ে ধীর গতিতে একটু প্রশস্ত স্থানের আশায় মায়ের আচল নামক অট্টালিকার সামনে রাস্তার পাশে উঠে আসে। সমস্ত নগরে এভাবে সরীসৃপের মতো মুসা রইসেরা তাদের পরিবার নিয়ে মহাসড়কের পাশে উঠে আসে। মাথার নিচে রাখার জন্য একটা শক্ত বালিশও নেই তার, একটা ইটের ওপর মাথা রাখা যেতে পারত, ইটের ওপর তার লুঙ্গি ও জামা বাঁধা পোটলাটা রেখে বেশ বালিশের কাজ চালিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু, একটা ইটও এখন কোথাও পড়ে থাকতে দেখা যায় না। তাই সে মাটির একটা বড় খ- জোগাড় করে নিয়েছে। স্ত্রীর শতছিন্ন শাড়ি দিয়ে তৈরি চঠচটে কাঁথার উষ্ণতায় ডুবে গিয়েছিল মুসা। তাই শত তাড়ণায়ও সে উঠে যেতে চায় না। কিন্তু সে বাধ্য হয় উঠে যেতে। ড্রেনের পাশে বেশ একটি সুবিধাজনক অবস্থান গ্রহণ করে পেশি শীথিল করা কিছু সময়ের মধ্যে সে ময়লার কটূ ও শীতল গন্ধের পরিবর্তে প্রচ- উত্তাপ অনুভব করতে শুরু করে। অগত্যা তার মাথা ঘোরাতে শুরু করে, তাই সে তার তাড়ণা অর্ধ সমাপ্ত রেখেই উঠে দাঁড়ায়। পশ্চাতদেশে মল নিয়েই মুসা দৌঁড়াতে শুরু করে সংসারের অভিমুখে। ততক্ষণে নীরব নগরীতে সাড়া পড়ে গেছে। প্রচ- ধাক্কায় বহুতলাবিশিষ্ট অট্টালিকাগুলো কাঁপতে শুরু করে। সোয়ান ম্যট্রিক্সের নরম বিছানা ছেড়ে অট্টালিকাবাসীরা দ্রুত কিলবিল করতে করতে বেরিয়ে আসে সড়কে। আজ মুসা রইস বা অট্টালিকার বাসিন্দাদের অবস্থান অভিন্ন। কিন্তু তবু তাদের চিন্তা ভিন্ন। মুসা রইসের স্ত্রী ভয় পেয়ে যায় কিন্তু তা যেন স্বাভাবিক নিয়ম। এমন অবস্থায় ভয় পেতে হয়, কিন্তু জানে আজ যদি সে মারা যায় তা খুব বেশি হতাশাজনক হবে না কারণ তারা তো প্রতিদিনই মরে বারবার মরে। তারা বেঁচে থাকে কারণ বেঁচে থাকতে হয়, তারা সকালে রাস্তার পাশে বসে থাকে কারণ কেউ হয়তো মজুর খুঁজতে আসতে পারে তাহলে আজকের খাবার ব্যবস্থা হয়ে যায়, আবার কেউ খুঁজতে আসতে নাও পারে। মূল কথা তার তো বেঁচে থাকার জন্য খায় না, বরং তারা খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকে। তাই যদি আজ কোনো অট্টালিকার  নিচে চাপা পড়ে সে মারা যায় তবে সকালে তাকে আর খাবারের জন্য চিন্তিত হতে হবে না, ক্ষুধার্ত সন্তানটিকে মেরে তাড়িয়ে দিতে হবে না ভিক্ষার জন্য। মুসার স্ত্রীর খুব ভালো লাগে। এ অবস্থায় মুসা তার হাত ধরে টান দেয়, অট্টালিকা থেকে দূরে রাস্তার মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ায় তারা। কিলবিল করে ছুটে আসা অট্টালিকাবাসীরা অট্টালিকা থেকে বেশি দূরে সরে আসতে পারে না কারণ অন্যান্য সুবিধাজনক জায়গাগুলো রাস্তার সরীসৃপদের দখলে চলে গেছে। মোহাম্মদ আশরাফ খান ঠেলতে ঠেলতে রাস্তার মাঝখানে মুসার পাশাপাশি চলে আসে। মুসা তাকে চেনে কারণ প্রতিদিন তাকে এর কাছে ঠকতে হয়, জেনে বুঝেই ঠকতে হয় কারণ সে যদি না ঠকে তবে অপর কেউ হয়তো তাকে এই ঠকা থেকেও বঞ্চিত করে নিজে টাকাটা হাতিয়ে নেবে। মুসার মন থেকে ভয় উবে যায় কারণ একটা বারের জন্য হলেও সে এই আশরাফ খান থেকে এগিয়ে আছে, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে হলেও সে ও গাড়ির মালিক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একই পরিণতির সম্ভাবনা নিয়ে। শুধু মুসার ক্ষুধার্ত শিশুটি উদর পুর্তি করে ভাত খেতে পেয়ে পিতার কালো বুকের ধুলি মলিন গভীরতায় ঘুমিয়ে থাকে। পিতা তার হৃদস্পন্দন হয়তো অনুভব  করতে পারেনি কিন্তু, যে শরীর থেকে সে জন্ম নিয়েছিল সে রক্ত কণিকায় সে আবার মিশে যেতে পেরেছিল।

চন্দ্রনাথের ন্যায় সমগ্র পৃথিবী কেঁপে কেঁপে উঠে উদগীরণ করে উত্তপ্ত লাভা। লাভার উত্তাপে সবুজ ও নীল রঙের পৃথিবী লাল বর্ণ ধারণ করে। পৃথিবী তার প্রাণিজগতের জন্য একটি নক্ষত্র সৃষ্টি করতে চেয়েছিল কিন্তু সে নিজেই পরিণত হয় একটি নক্ষত্রে। লাভাচ্ছন্ন পৃথিবী একটি নতুন গোলকে রূপান্তরিত হলো। সূর্য শুধু পৃথিবীর উত্তপ্ত হলুদ মুখের দিকে তাকিয়ে একবার হেসেছিল।

শুক্রে পিঁপড়েরা নতুন সভ্যতার সৃষ্টি করেছে। নতুন গ্রহের নতুন ক্ষমতাবান পৃথিবীর পুরাতন পিঁপড়েরা। তাই শিশু পিঁপড়ে তার অসমাপ্ত খেলায় ফিরে আসতে পারে না, কিন্তু সভ্যতার সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে লোহার টুপিধারী যন্ত্ররা বারবার ফিরে আসতে পারে এমনকি নতুন গোলকেও।

 

 

ব্যাকস্টেজে অন্ধকার, অন্ধকারে আলাপ
সিন্ধু কানাই

—মানুষ কবে থেকে আপন উপাসিত ঈশ্বরের স্কালপচারাল ফিগার আঁকা শুরু করল

—যেদিন থেকে মানুষ আপন আশ্রয়কে ঈশ্বরের করুণা আর দূর্যোগকে মহান ঈশ্বরের ক্ষোভ বলে স্বীকার করে নিল। তারপর মৃত ল্যাম্পপোস্টকে ঘোষণা করল ঈশ্বরের উর্দ্ধবাহু বলে।

—আর তারপর নিরর্থকতার সংজ্ঞা গেল পাল্টে মানুষ পদে পদে গন্ধমের সন্ধান পেল! স্বর্গচ্যুতির সার্টিফিকেট পকেটে রেখে শুরু হল অদৃষ্টবাদ। শুরু হল হেগেলের মরণোত্তর ব্যবচ্ছেদ!

—তারও আগে দেবতারা রাজা সিসিফাসের ঘাড়ে তুলে দিয়েছিলেন নিরর্থকতার ভারি বোঝা। সিসিফাস শক্তি ক্ষয় করে নিরর্থক পাথর বইতেন। দ্য এবসার্ড হিরো অফ টাইম।

—দ্য এবসার্ড হিরো অফ দ্য সিভিলিটি। এবসার্ড হিরো অফ মিথ অ্যান্ড্ শ্যাডো!

—ভয় পেওনা প্রিয়তমা, রাজমন্দিরের সলিটারি সেলে এখন আর কোন রাজসাক্ষীর প্রেতাত্মা লুকিয়ে নেই। নেই আর দেবতাদের মিথ্যা অহংকার। পুরোহিতের ভয়ঙ্কর অভিশাপের দোর্দন্ত ছোবলও গিলে খেয়েছে অন্ধ প্রজাপতি। তবুও রাত বিরাতে ঢং ঢং শব্দে ঘন্টা বেজে ওঠে মন্দিরে। ঢাক-কাঁসির শব্দ তোমার বুকের মধ্যে বাজে। উন্মাদ, উলঙ্গ দেবীর সামনে কাপালিকরা হাটু গেঁড়ে বসে কোন অস্পৃশ্য শিশুর গরম রক্ত খায়। তারপরও মোমের ডানায় চেপে ইকারাস সূর্যে পৌছে গেলে ঘুম ভাঙ্গে এক মুমূর্ষ পৃথিবীর! কিন্তু ক্যাপিটালিজমের প্রেতাত্মা তো নিভৃতে চষে বেড়ায় কবিতার সপ্তবহর, আমাদের পূর্ব-পশ্চিমের সবক’টা জানালা, শিশুপার্কের দেয়াল। জরায়ু মুক্ত হলেই শিশুর পিঠে এসে লাগে স্পন্সরের ট্রেড মার্ক। তারপর স্কুল ব্যাগ, ওয়াটার বোটল, শব্দের মেকানিজমএসব কিছু বুঝতে শেখায় তার সুপিরিওরিটি। এককথায় বংশগৌরব! তুমি-আমি তো কেবল বিভ্রান্তির মোড়কে বন্দী।

—আমাদের সময়টা অভিশপ্ত। তাই আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসে অভিশাপের গরম হাওয়া। আমাদের দেয়ালে ঝুলানো পেইন্টিঙে তাই নরকের ছাপ। মানুষের তেল চিটচিটে চোখেমুখে অভিশাপের ফোসকা। অভিশপ্ত মৃত্যু, জন্ম এবং হাহাকার। তোমার বুনো ভালুকের মত হাসিটাও অভিশপ্ত!

—আমরা নিজেরাও তো অভিশপ্ত মেয়ে। মধুমতির সাঁকো ছুঁয়ে আমি হয়েছিলাম মুগ্ধতার কৃতদাস। সেটাও ছিল অভিশাপ। আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের অভিশাপ গোপনে বিষিয়ে তুলছে আমাদের চারপাশের বাতাস, প্রকৃতি ও বন্য জানোয়ারদের হৃদপি-। একেকটা গুলি একেকটা অভিশাপ। একেকটা ধর্ষণ একেকটা অভিশাপ। একেকটা চিৎকার একেকটা অভিশাপ। আমাদের দেখেও না দেখা, শুনেও না শোনা, দুয়েকটা শুষ্ক কাশি দিয়ে ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া-এসবই একেকটা অভিশাপ। আমাদের শিক্ষা আমাদের জন্যে এক মস্ত বড় অভিশাপ। দান্তে সাহেব বেঁচে থাকলে তাঁর ডিভাইন কমেডি’র চতুর্থ পার্টও লিখে রেখে যেতেন। মালেডিজিওনে! অভিশাপ।

—আর তুমি ?

—আমি অভিশাপ বয়ে নিয়ে বেড়ায়। এই বিষাক্ত জিনিসটার ফেরিওয়ালা বলতে পারো।

—কত রাত ঘুমাওনি তুমি?

—যতরাত পুঁজির চাকা পিষেছে মানুষকে। তারপর জন্মান্তরবাদই হয়ে উঠেছে মানুষের ভাগ্য ফেরানোর সুচিন্তিত কৌশল। সেটাও আবার পুঁজি উপাসকদের হাতেই!

—তোমার দ্বিতীয় নাম দিলাম সমুদ্রা। তৃতীয় নাম সুভাষিণী। এরপর জ্যান্থিপি। এভাবে চুরাশীটা নাম দিব তোমার।

—আমার প্রথম নাম?

— শৃঙ্খল। মুক্তির উল্টোশব্দ। সমস্ত পৃথিবী, পোষাক, তোমার পোষা বেড়াল, আত্মীয়, তোমার কপাল ছোঁয়া রোদ, বুকশেলফ, কবিতার বই, খেরো খাতা-সবাই তোমায় ওই নামে ডাকে। এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমার মধ্যে নেই। তাই লক্ষণ সেন হয়ে নিভৃত পলায়ন।

—সমুদ্রা কেন? এত গভীরতা যে আমার মধ্যে নেই! আবারিত নীলও আমি নই! শুধু যেন লবণাক্ততায় পূর্ণ হয়ে ভাসিয়ে রেখেছি একখ- ভালবাসা। এটাকে ভালবাসা না বলে স্বভাব বলতে পারো। তুমিই উপকৃত হবে।

—উপকার চাইতে যাব কেন মেয়ে! পারলে কিছু নির্ঘুম কুকুরের ডাক আর ক’টা মৌমাছি দিও। সাথে একটা নীলকণ্ঠী ফুল।

—তার চেয়ে তোমাকে বরং কর্পূরের তাজা গন্ধ আর আমার হৃদপি-ের অর্ধেক দেই। অথবা ধর্ষিত, মৃত-নাকে তুলো গুজা কোন মঙ্গলা নারীর অগ্নিমূর্তি তোমাকে দেই। তুমি তাঁকে গন্ধ, রক্ত, প্রাণ ফিরিয়ে দাও।

—সমুদ্রা। তার চেয়ে বরং ভালবাসতে পারার ক্ষমতাটুকু আমাকে দিও। আমি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকিয়ে দিব…

(পৃথিবীর সব দেশ থেকে বিধ্বংসী যুদ্ধ থেমে গেলে দু’দন্ড ঘুমিয়ে নিতে পারত রোগা পাতলা শিশুরা। ঝিঁঝিঁ পোকা আর দেয়াল ঘড়ির অবিরাম শব্দই তখন বাঁচিয়ে রাখত রূপকথার ঝুলি, দ্য আডভেঞ্চার অভ পিনোচ্চিও, দ্য অ্যান্ট এন্ড দ্য গ্র্যাসহপার, সাত ভাই চম্পা, ডালিম কুমার, কিরণমালা। জঙ্গলে লুকানো এয়ারপোর্ট তখন যুদ্ধোত্তর ধ্বংসস্তূপ। পৃথিবী ততদিনে হারিয়েছে বেটোভেনের ফিফথ সিম্ফনি।)

 

সূর্য, পারিজাত ও ভোরের তারা
ঘরকুনো ঘাস

তোমায় দেখব বলে হে ভোরের তারা,

কত রাত কেটেছে নির্ঘুম

কত নষ্ট হয়েছে শীতঘুম।

কুয়াশার পুরু জাল ছিঁড়ে নেমেছি রাস্তায়

পরক্ষণেই জোড় দিয়েছি সেলোটেপ দিয়ে।

খুঁজেছি সারা আকাশে তবুও

খুঁজে খুঁজে যখন পেয়েছি তোমায় দেখতে

মেঘের আড়ালে নিজেকে লুকিয়েছ তুমি।

অন্তরালে থাকা অদৃশ্য সিঁড়ি বেয়ে উঠেছি

যেখানে হাতে হাতে উঠে গেছে আকাশ যোগাযোগহীন।

দৌড়ে আমার সঙ্গ নিয়েছে পারিজাত, আমি পড়ি মহাফাঁপরে

আমাকে পেছনে ফেলে সে খোঁড়া পায়ে উঠে গেছে ওপরে।

বারবার সে পড়ে গেলেও আমি তার পেছনে পড়েছি

একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে চলে গেছে মহাশূন্যে;

আমিও একের পর এক ভেঙেছি সিঁড়ি সঙ্গে সঙ্গে।

যখন মাত্র আর কটি সিঁড়ি ভাঙা বাকি

তোমায় দেখার আশায় পেছনে ফেলেছি পারিজাতকে,

উন্মাদ অবস্থায় দ্রুত দৌড়ে গেছি।

আহ, পেয়েছি ভোরের তারা তোমায়, দেখতে

কিন্তু তারপরই হারিয়েছি তুমি আমার ছায়ায়-আলোয়! নৈঃশব্দের হতাশা, পারিজাতের বিদ্রƒপে মোড়া হাসি

গায়ের রক্তের স্বাদ নিতে শুরু করেছে ছুরি হয়ে।

রেখে দিয়ে ছায়াবাজি নিস্তেজ হয়ে নেমে গেছি সিঁড়ি ধরে,

তখন তা ঝনঝনিয়ে বাজছে বেহালা-অর্কেস্ট্রার করুণ সুরে।

 

অধ্যায় : উদ্বাস্তু
আরিফা সুলতানা

অন্ধ প্রহরের দীর্ঘফলকে, একটানে

লেখা আছে উদ্বাস্তুদের ঠিকানা। সেখানে

কাতারে কাতারে হাঁটু ভাজ করে

দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিনিধি দল।

নাম-ঠিকানার উত্তর পেলেই এক ধাক্কায়

পৌঁছে দিতে চায় ভাগাড়ে। ক্রমশ কাজটি

ধাপে ধাপে সম্পন্ন করি টানা কয়েক বার।

দীর্ঘ ফলকটি আরো আলোকিত হতে থাকে।

সুতরাং প্রহরগুলোর ল.সা.গু. টানি। এরপর

যৌথভাবে আমরা উদ্বাস্তু হয়ে ফিরে আসি

গ.সা.গুর ঠিকানায়।

 

নৈশক্ষয়

প্রেমগুলো ঝুলে থাকে দেয়ালে দেয়ালে।

আফসোসের সিঁধ কেটে প্রতিদিন হানা দেয়,

একপাল গ্লানিরা।

শিথানের চাবি নিয়ে নির্বিঘেœ তোলপাড় করে

প্রেমিকার শরীর।

চুলচেরা কানামাছি চলতে থাকে মাটির দোচালায়।

অবশেষে সব ক্ষয়।

অতঃপর বোবা আমরা (সময়)।

 

প্রবালের সিংহদ্বারে বসে
কায়সার আলম

দিন শেষে উড়ে যাই,
পাতালের গর্ভে থেকে আঁকি উন্মুখ আঁধারের ছবি।
একরাশ ধুলোবালি জমে যায়
হাতের মধ্যে, বুকের মধ্যে, মাথার মধ্যে
যুদ্ধাহত আঙুলে লেগে যায় পরিত্যক্ত বারান্দার প্রজাপতি।

তবু যেন উড়ে যাই
মদের নেশার মতো উড়ে যাওয়া নেশা।
অতিদূরে কোন সেঁতারের ধ্বনি
আযানের মতো আসে কানে
জানি না গোপন কি তার আততায়ী মানে?

কি সেই অর্থবোধক ধ্বনি?
কেবা সেই নিষ্ঠুর আততায়ী
প্রাণ হাতে নিয়ে ধুলোর মধ্যে চালিয়ে যায় বেদনার দ্বিচক্রযান?

আমি অত বুঝি না, দেখি না
কেন প্রতিটি রাতের শীর্ষে জেগে উঠে
চাঁদের সাথে কলম কেনার স্মৃতি।
একদিন, ভুলে যে এনেছিলো পাথরখেকো প্রাণীর হৃদয়ে অয়ণ্যানী শোভা

আমি তো মরুদ্যানের কবি। ধুলোর আস্তরণে বেঁধেছি আমার অক্টোপাসের বাসা।
নীলগাই ও তাদের অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া করেই
নীলসমুদ্রে ফেলি জাল,
মায়াপৃথিবীর অপলাপ শেষে থাকি
প্রবালের সিংহদ্বারে বসে।

 

চারুতমা
আহসান কবীর

খবরটা যখন বড় দারোগার কাছে গলেো সে তখন পাশরে রুম থকেে দৗেড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। বাইরে সন্ধ্যার আগে থকেইে গুড়গিুড়ি বৃষ্টি হচ্ছলিো। বৃষ্টতিে ঝুপঝুপে ভজো আমার ক্রমশ ঘামতে থাকা শরীরে কোনটা বৃষ্টরি ফোঁটা কোনটা ঘামরে ফোঁটা সটো বোঝা কৌতূহল উদ্দীপক হলওে দারোগার যনে সদেকিে খয়োলই নইে। তার হাতে ধোঁয়া উঠতে থাকা চায়রে কাপটা রাগে উত্তজেনায় কাঁপাতে কাঁপাতে সে আমাকে জজ্ঞিসে করইে বসল, “ব্লগার মনীশকে তুমইি খুন করছেো?“

থানায় ঢুকে আত্মসর্মপণ করার পর দারোগা সাহবেরে টবেলিরে সামনরে চয়োরটায় বসে আমি টবেলিে রাখা পপোরওয়টেটার দকিে একটানা তাকয়িে আছ।িসভোবে বসইে আমি উত্তর করলাম, “হুম। আমইি খুন করছে।ি আজ সকাল।ে“

-তুমইি খুন করছেো তা আমরা কনে বশ্বিাস করবো?

-চারুকন্যা সাক্ষী।

-চারুকন্যা কে?

-আমার সাথে ইউনভার্সিটিতে পড়ো।।

-তুমি কে?

-কবি।

তারপর সময়টা বোধহয় সদেনিরে মাঝরাত হব।েজমাট বাঁধা অন্ধকার একটা রুমে মটিরি মটিরি মতন জ্বলা ঝোলানো একটা বাল্বরে নচিে একটা চয়োরে বসয়িে আমাকে প্রশ্নরে পর প্রশ্ন করা হচ্ছলিাে।আমার সামনে টবেলিরে অপর র্পাশ্বে বসা সাদা র্শাট পরা প্রশ্নর্কতা লোকটাকে বশে ধীরস্থরি দখোচ্ছলিো।শুরুতইে আমাকে বলা হলো আমার খবরটা তখনো গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি তারপর প্রশ্নবাণ।জানতে চাওয়া হলো চারুকন্যার সাথে আমার সর্ম্পক কী।

“আমি বশ্বিাস করি পৃথবিীর দুজন মানুষ কবেল স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দতিে পারে একজন কবি তার লেখনিতে, আরকেজন চত্রিশল্পিী তার চিত্রপটে সুতরাং কবরি সাথে চত্রিশল্পিীর সর্ম্পক তো থাকবইে।“

প্রশ্নর্কতা এবার বশে বড়বড় চােখ করে আমার দকিে তাকালো।বলল, “বাংলায় পড়লইে কবি হওয়া যায় না। তোমার সমন্ধে খোঁজ আমরা নিয়েছি দুই সমেষ্টিার মলিে তোমার রজোল্টরে অবস্থা তোমার মাথার চয়েওে খারাপ!“

আমার সামনে এক গ্লাস পানওি ছলিো, আমার জন্য না প্রশ্নর্কতার জন্য নশ্চিতি ছলিাম না। এক ঢোক খয়েে আবার শুরু করলাম।

“প্রথম সমেষ্টিাররে মতো যদেনি দ্বতিীয় সমেষ্টিাররে রজোল্টটাও খারাপ হলো সদেনি সগিারটে ফুঁকতে ফুঁকতে চারুকলা ভবনটার সামনে দয়িে হাঁটছলিাম।বাঁ পাশে হঠাৎ চোখ ফরোতইে চারুকন্যাকে সদেনি প্রথমবাররে মতো দখেছেলিাম।অসমাপ্ত একটা ছবি সামনে নয়িে তুলরি কাঠটিা দাঁতে ঠকেয়িে সে ছবরি শষেটুকু ভাবছলিো হয়তো।যতদূর খয়োল করা গলেো সটো ছলিো কব্জি থকেে কটেে আলাদা করা একটা হাতরে ছবি, হাতে একটা কলমও ধরা ছলিো।আমাদরে গল্পটার সখোনইে শুরু।“

রাগে এবার প্রশ্নর্কতা সজোরে টবেলি চাপড়ে বসলনে! ধমক দয়িে বললনে, “কসিরে আমাদরে গল্প! আমরা খবর নিয়েছি চারুকন্যার সাথে তোমার কোন সর্ম্পকই ছলিো না!“

ধমক শষেে প্রশ্নর্কতা এবার সামনরে গ্লাসরে বাকি পানটিুকু খয়েে নলিনে। আমি এবার শুকনো গলাতইে শুরু কললাম।

“চারুকন্যার সাথে আমার প্রথম পরচিয় হয়ছেলিো দুঃখতি পরচিয় হওয়ার কথা ছলিো ক্যাম্পাসরে একটা চত্রি প্রর্দশনীর সন্ধ্যায়, যখন প্রর্দশনীতে প্রথম পুরষ্কারটা জতিতে না পরেে চারুকন্যা মন খারাপ করে হলে ফরিছলিো।আমি জানতাম সামনরে বছর কোন ছবি আঁকলে সে প্রথম পুরষ্কারটা জতিব।েকন্তিু সদেনি অনকেদূর র্পযন্ত ওর পছেনে পছেন গয়িওে ওকে থাময়িে বলতে পারনিি যে সামনরে বছর একটা নগ্নবক্ষা বশ্যোর ছবি এঁকে নয়িে যওে।আমার বশ্বিবদ্যিালয় আমাকে শখিয়িছেলিো কাউকে এমন বলাটা অশ্লীলতা! কি জানি, চারুকন্যা যদি এমন অশ্লীলতা মনেে না নয়ে।তাই এই অশ্লীলতাকে শ্লীলতা দয়িে মুড়ে দয়োর জন্য বকিল্প কছিু শব্দরে খোঁজে নামলাম।তবুও চারুকন্যাকে বোঝাতইে হবে সখোনে নগ্নবক্ষা বশ্যোর কোনো বকিল্প নইে।“

এতক্ষন থুতনতিে হাত দয়িে বসে থাকা আমার সামনরে প্রশ্নর্কতাকে বশে মনোযোগীই মনে হচ্ছলিো।কন্তিু প্রশ্ন করার সময় আবার তার সইে গম্ভীর গলা, “চারুকন্যাকে প্রথম পুরষ্কার জতিয়িে তোমার লাভটা কি ছলিো?“

একটু দম নয়িে আমি বললাম, “চারুকন্যাকে প্রথম পুরষ্কার জতোনো আমার উদ্দশ্যে ছলিোই না!“

প্রশ্নর্কতার গলায় এবার বরিক্তরি সাথে বস্মিয়রে টান, “মানে?”

আমি শান্তস্বরইে বলে যাচ্ছলিাম, “আমি তো চাইছলিাম চারুকন্যা আবারো প্রর্দশনীতে প্রথম পুরষ্কারটা হারাক!“

এবার কনে জানি প্রশ্নর্কতা কোনো প্রশ্ন করলনে না।

যাইহোক, “চারুকন্যা তখনো জানতো না যে সে পুঁজবিাদী সমাজরে চত্রিশল্পিী।তার কাছে যা সাধনা র্কতৃপক্ষরে কাছে তা বনিোদোন, অবসররে বনিোদন।র্কতৃপক্ষরে কাছ থকেে পুরষ্কার নয়োটা তার জন্য মজুরী দাসত্ব ছাড়া বশেি কছিু না।মজুরীর বনিমিয়ে মজদুররে আত্মসর্মপণ।জানি চারুকন্যাকে বোঝানো সহজ হবে না সমাজে শ্রণেীবন্যিাসরে ধারণা থকেইে এইসব শল্পি, বনিোদনরে জন্ম।উদ্দশ্যে বোধহয় দুটি শল্পিরে মাদকতায় নম্নিশ্রণেী আর শল্পিীশ্রণেীকে ভুলয়িে রাখা, আর সামন্ত থকেে পুঁজপিতদিরে বনিোদনরে খোরাক যোগাড়।যে উদ্দশ্যেগুলরি নচিে চাপা পড়ে শল্পিীর শল্পি সৃষ্টরি তৃপ্তি। তাইতো সাধরে সমস্তটুকু দয়িে ছবি এঁকওে র্কতৃপক্ষরে প্রর্দশনী নামক শল্পিমঞ্চ থকেে চারুকন্যাকে মন খারাপ করে হলে ফরিতে হয়! সাধরে র্পূণতাকে গ্রাস করে এসে সাধ্যরে অর্পূণতা! চারুকন্যা না জানলওে র্কতৃপক্ষ জানে সাধ ও সাধ্যরে সর্ম্পকটা সবসময়ই সমাধানরে বাইর। এরকম অসম সমীকরণগুলরি অসীমতার মায়া দয়িে ফাঁদ পতেে র্কতৃপক্ষ তাতে শল্পিকে বেধে ফলেছে। এই র্কতৃপক্ষরো কবি বা চারুকন্যার সামনে উন্মুক্ত না হলওে একটা জায়গায় ঠকিই উন্মুক্ত হয়- বশ্যোর বছিানা।আমি জানি আমি চারুকন্যা দুজনই বশ্বিবদ্যিালয়রে অধীন।আমি তাই চারুকন্যাকে বশ্যোর কাছে নয়িে যতেে পারনিা।কন্তিু চারুকন্যাকে বশ্যোর কাছে না নয়িে গলেে তার পুরষ্কার হারানোর র্গবটা তাকে ধরয়িে দয়োও সম্ভব ছলিো না।“

একটানা এভাবে বলার পর আমি একটু দম নয়োর চষ্টো করছলিাম।প্রশ্নর্কতা আমাকে দম নয়োর সুযোগ না দয়িইে জজ্ঞিসে করল, “চারুকন্যাকে র্গবতি করে তোমার লাভ?“

খানকিটা থমেে আমি আবার শুরু করলাম, “বশ্বিবদ্যিালয়ে সাহত্যিে পড়ার আগে আমার যে কবতিাগুলকিে আমার সন্তানরে মতো মনে হত, বশ্বিবদ্যিালয়ে পড়ার সময় বুঝলাম সন্তান তো আমার কন্তিু সন্তানকে লালন করার জন্য আমি র্বুজোয়া নামরে কোন একটা শ্রণেীর উপর নর্ভির কর।িশল্পিীর শল্পিকে র্স্বাথকতার মাপকাঠতিে মাপার সবচয়েে বড় মাপকাঠটিা হলো তা র্বুজোয়ার কতটুকু মনোরঞ্জন করতে পারলো।“

-মাথাটা বোধয় অনকে আগইে গছে। সময়টা সমাজবিজ্ঞিান র্অথনীততিে না দয়িে নজিরে সাবজক্টে আই মনি বাংলা সাহত্যিে দলিে অন্তত রজোল্টটা ভালো করতে!

-র্কতৃপক্ষ আমাদরে মতো সাহত্যিরে ছাত্রদরে দয়িে সাহত্যি তো জন্ম দয়োয় কন্তিু সইে জন্মকে র্স্বাথক করার সুযোগ আমাদরে হাতে আর রাখে না।

-আমার প্রশ্নরে উত্তর এটা না।এখানে চারুকন্যার প্রসঙ্গ কোথায়?

দুঃখতি বলে আমি আবার কথা বাড়ালাম, “ধুঁকতে থাকা কবি পরচিয় আর র্জীণ কয়কেটা পরীক্ষার খাতা নয়িে যখন বশ্বিবদ্যিালয়টাকে কারাগার আর ছাত্রজীবনটাকে বন্দজিীবন ভবেে আমার বশ্বিবদ্যিালয় জীবনরে এক বছর কটেে যাচ্ছলিো তখন চারুকন্যাকে দখেতাম রং তুলি হাত।েক্যাম্পাসরে কোণায় কোণায় বসে কখনো ব্যস্ত চায়রে দোকান, কখনো শরতে একলা ফোটা গুটকিয়কে কাশফুলরে দকিে তুলরি কাঠটিা দাঁতে ঠকেয়িে একটানা তাকয়িে থাকতো আর তা ক্যানভাসে আঁকতো।যে ক্যাম্পাস আমার কাছে কারাগার সইে ক্যাম্পাসই চারুকন্যার ক্যানভাসে উঠে আসতো শল্পি হয়!ে রং তুলি হাতে ক্যানভাসরে দকিে চারুকন্যার মুগ্ধ চাহুনতিে আমওি মুগ্ধ হতে থাকলাম প্রতদিনি।“

-তোমাকে আগে থকেইে জানয়িে রাখি, চারুকন্যা আমাদরে সাফ জানয়িে দয়িছেে সে কোনো কবকিে চনেনো!

-ভাবতে ভাবতে আরো একটি বছর চলে গছেলিো প্রায়।চারুকন্যার সামনে তখন আরকেটা চত্রি প্রর্দশনী। কন্তিু আমি তখনো চারুকন্যার সামনে দাঁড়াতে পারনি।িকারণ বশ্যো শব্দরে শ্লীল কোন সর্মাথক শব্দ বাংলা সাহত্যি তখনো আমাকে দতিে পা্রেনি।

-তারপর?

-তারপর এক দুপরে শুনলাম নজি বাসায় প্রকাশক সায়ীদ খুন হয়ছেনে! ক্যাম্পাসে গয়িে দখেি বন্ধুরা এর প্রতবিাদে মানববন্ধনরে ডাক দিয়েছি।আমি বললাম সাথে এই বষিয়রে উপর একটা পথনাটক আর চত্রি প্রর্দশনী করলে কমেন হয়।বন্ধুরা দ্বধিান্বতি হল।কারণ এত কছিুর সময় নইে, সামনে পরীক্ষা! ঠকি করা হলো এরপর যখন অন্য কউে এমন হত্যাকান্ডরে স্বীকার হবে তখন আমরা এসব করবো।

-আর চারুকন্যা?

-পরর্বতী হত্যাকান্ডরে প্রতবিাদরে প্রস্তুতি নতিে নতিে আমি ভুলে গলোম চারুকন্যার কথা।আর অমার এই প্রস্তুতরি সাথে সাথে চারুকন্যার পরর্বতী প্রর্দশনীর প্রস্তুতি আর ব্লগার মনীশ দাশ গুপ্তরে খুন হওয়ার প্রস্তুতটিাও চলছলিো।

-তোমাকে এখনই বলে রাখছ’ি চারুকন্যা কন্তিু এটাও বলে দয়িছেে সে কোনো খুনরে সাক্ষী টাক্ষী না!

-কাল ছলিো চারুকন্যার চত্রি প্রর্দশনী।আমি জানতাম না।রাতে খবর পলোম চারুকন্যা প্রর্দশনীতে এবার প্রথম পুরষ্কারটা জতিছে।েসকালে খবর পলোম এক ব্লগার খুন হয়ছে,ে নাম মনীশ। মন খারাপ করে ক্যাম্পাসরে দকিে হাঁটা শুরু কররাম।আজ আমাদরে অনকে কাজ, খুনরে প্রতবিাদে আজ বশিাল মানববন্ধনরে সাথে পথ নাটক আর চত্রি প্রর্দশনীও আছ!ে কন্তিু হাঁটতে হাঁটতে আমার মনে হলো আমার তো খুশী হওয়ার কথা! আবারো কউে খুন হব,ে তারপর তার প্রতবিাদে আমার এতদনি ধরে এত এত কছিু করার প্রস্তুত,ি আজ এর সবই তো র্পূণ হতে চলছে!ে তবে কি আমার এই প্রতবিাদ প্রস্তুতরি ডাকইে খুন হলাে না মনীশ? হ্যাঁ তাইতো! তবে এ খুনরে দায় আমি এড়াই কি কর!ে

-তারপর সকাল থকেে সন্ধ্যা র্পযন্ত ঘোরাঘুরি করওে যখন হত্যাকান্ডে তোমার দায় প্রমাণ করার কছিুই খুঁজে পলেে না, তখন চারুকন্যা সাক্ষী বলে হত্যাকান্ডে তোমার সাথে তাকওে জড়য়িে দলি!ে

-যে প্রতবিাদ প্রস্তুতি দুঃখতি হত্যা প্রস্তুতরি জন্য আমি চারুকন্যার সাথে বশ্যোর পরচিয় করয়িে দতিে পারলাম না, পুরষ্কার নামরে মজুরী দাসত্ব থকেে তাকে বাঁচাতে পারলাম না, সখোনে এই হত্যাকান্ডে আমার সম্পৃক্ততার সবচয়েে বড় সাক্ষী চারুকন্যার থকেে আর কে হতে পার?ে

শুনলাম দারোগা সাহবেরা দ্বধিান্বতি ছলিনে।আমাকে গ্রফেতার দখোলে তারাও যমেন বঁেচে যায়, আমি চারুকন্যা থকেে দূরে থাকলে চারুকন্যাও নাকি তমেন বঁেচে যায়! শুনলাম চারুকন্যার ভালোর জন্য হলওে আমাকে গ্রফেতার দখোনো উচতি।

খণ্ড- খণ্ড- অখণ্ড- ছাই রং ছবি
আব্দুল্লাহেল কাফী

ঘোলা জল শান্ত হলো, এখন ব্যাঙগুলোও চুপ।

রাত বেড়ে চলেছে। এমনি কোন এক রাতে, এইতো সেই দিন অথবা বছর কয়েক আগে, তখনো শীতের রাত ছিলো।

জাঙ্গু শেখ নৌকো ডুবিয়ে রেখেছিলো পানিতে। তবু নৌকটা মুখ উঁচু করে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলো। সকালে সেই জেদি নৌকোর নাক মুখ চোখ ভেজা ছিলো শিশিরে। তেমনি এক রাত আজ, শীতের রাত, বাড়ন্ত রাত।

রাত বেড়ে চলেছে। এমনি কোন এক রাতে জড়সড় হয়ে শুয়ে থাকতে পারতো চৌধুরী বাড়ির জুলফিকার। সবাই তাঁকে ভুট্ট বলে ডাকতো। আর চৌধুরী? এরা মোটেও দাপুটে নয়, সব কিষাণ। তাই সবাই এদের উলুবনে চৌধুরী বলে। ভুট্ট একা। ভুট্ট বলদ ছিলো। সে চেয়ে চিন্তে খেতো। বিয়েও করেছিলো একটা। বাচ্চাও হয়েছিলো। বউটা চলেও গিয়েছিলো। ভুট্ট খোঁজ রাখতো কোন বাড়িতে বিয়ে আর মিলাদ। ও সবার আগেই গিয়ে হাজির হতো। গেলো বর্ষায় এক ঝড়ের রাতে মসজিদে এশার নামাজের পর কেউ একজন বললো— ভুট্ট মনেহয় টেকবেনারে, আফনারা সবাই তাঁর জন্নি দোয়া অইরেন। সারা রাত আকাশ কাঁপিয়ে ঝড়। ভুট্টর কী অবস্থা? আছে? নাকি মরে আছে একা একা? সকালে খবর পাওয়া গেলো ভুট্ট মরে নাই। সপ্তাহ খানেক পরে ভুট্ট মারা গেলো। মরে ছিলো একা একা। বউটা দেখতে আসছিলো কি না জানি না। আজ ভুট্ট বেঁচে থাকলে এই শীতের রাতে জড়সড় হয়ে শুয়ে থাকতে পারতো। আরও দু একটা বিয়ে খেতে যেতে পারতো। সকাল বেলা করিম শেখের বাড়ির সামনে গিয়ে দাড়িয়ে থাকতে পারতো। করিম শেখ ঢাকা থাকে। ঢাকা তাঁর বড় বড় বাড়ি আছে কয়েকটা। করিম শেখ বলদ ভুট্টর জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছিলো। ভুট্ট একা, কেউ কোনদিন তাঁর পক্ষ নিয়ে করিম শেখের বিরুদ্ধে কথা বলে নাই।

রাত বেড়ে চলেছে। এমনি কতো রাতে অ্যাঁ অ্যাঁ করে চিৎকার করে কেঁদেছে লুৎফরের ছেলে আকাশ। আকাশ গ্রামের সবচেয়ে বড় বান্দর। সবার চোখের কাঁটা। আকাশ বিড়ি খায়, এবার দশে পড়লো। রাত তিনটায় যাত্রা দেখে ঐ পাড়ার কবর স্থানের পাশ দিয়ে একা একা বাড়ি আসে। তিন চারবার চুরি করতে গিয়ে ধরাও নাকি খেয়েছে। তবু লুৎফর ছেলের জন্য হাট থেকে আর্দশলিপি কিনে আনে।

এমনি এক রাত, তবে শীতের নয়, শুষ্কতা অটুট ছিলো তখনো। কুরবানির ঈদ। বিধবা রজিনা বেগম শুটো মুখে উজ্জ্বল চোখ নিয়ে তাঁর ছোটো বাচ্চা দুটোকে চুলোর পাশে বসিয়ে গরম গরম ধোঁয়া ওড়া মোটা চালের ভাত আর গোস্তো খেতে দিতেন আর হাঁটুর উপর মুখ রেখে চেয়ে থাকতেন। সারা দিন পাশের বাড়ির আলতাফ শেখের বাড়িতে গোস্তো বানাতে সাহায্য করতেন। গরুর পা, কান, জিব্বা, ভুঁড়ি সাফ করে দিতেন। সন্ধ্যা বেলা আঁচলের নিচে আধা কেজি খানেক গোস্তো নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। দরজার সামনে রাখা পাতিলে আরো কিছু গোস্তো জমা হতো সারা দিন। এই নিয়ে শুরু হতো আবার রজিনা বেগমের কাজ। তাঁর শুটো মুখ আর দূরে কোথাও বিঁধে থাকা চোখ। রজিনা বেগম এই শীতটা টিকলো না।

রাত বাড়ছে। ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে। প্লাটফর্মের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা পিলারে ২১ লেখা নম্বরপ্লেটটা ট্রেনের সাথে সাথে কাঁপছে বোধহয় এখন। আর এই শীতের রাতে শিশিরে ভিজে যাচ্ছে একা একা। সারা রাত ভিজবে একা একা। এমনি রাত কতো রকমের রাত হতে পারতো! ভুট্ট বেঁচে থাকতে পারতো, করিম শেখের উঠোনে আরো কয়েক সকাল ভুট্টর পায়ের ছোঁয়া পেতে পারতো। রজিনা বেগম এই শীত, আরো কয়েক শীত কাটিয়ে যেতে পারতেন। সারা দিন অপেক্ষা শেষে বাচ্চা দুটোকে বহুদিন পর গোস্তো ভাত খাওয়ানোর তৃপ্তিতে উজ্জ¦ল চোখে তাকিয়ে থাকতে পারতেন।

সেদিন খবর এলো, করিম শেখ মারা গেছে। লাশ গ্রামে আনা হয়েছিলো। মুখ পোড়ামবিলের মতো হয়ে গিয়েছিলো। গোপন সূত্রে জানা গেলো, টয়লেটের মধ্যে মরে ছিল একা একা। কয়েক মসজিদে মিলাদের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। ভুট্ট বেঁচে থাকলে মিলাদ খেতে যেতো কি না জানি না। তবে এতটুকু জানি, জাঙ্গু শেখ তাঁর নৌকো যতই পানিতে ডুবিয়ে রাখুক, নৌকো মুখ উঁচু করে থাকবেই, নিঃশ্বাস নেবেই।

রাত বেড়ে চলেছে। শীতের রাত। সাদা কুয়শা জোট বেঁধে হ্যাঁচকা টান টানছে মাথায়। কতো শত খ- খ- অখ- ছাই রং ছবি ভেসে আসছে মাথায়! রাত তবু এগিয়ে যাচ্ছে, রাত বাড়ছে, কিছু কালক্ষেপণ মাত্র, তারপর সকাল। তখন জাঙ্গু শেখের নৌকোর মতো অসংখ্য নৌকো দেখা যাবে নাক মুখ চোখ শিশিরে ভিজে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার।

 

চটিনামার সংক্ষিপ্ত স্বীকারোক্তি
(দালাল আর বেশ্যার মাঝে পার্থক্য আছে— যে এই কথা মানে নাই তাকে )

আদিত্যআর্য

পুঁজির পোদের ভেতরে দুটো পেরেক ঢোকাবো

বিদ্যা সিনহা মিমের ভেতরে একটা।

বক্স অফিস ফাঁটছে

কপালে ঘাম

জিপারের তলে চলে ব্যায়াম

আহ্ উহ্

জেরিন খান উঠছে নামছে

মহাজন ক্ষেপছে

ঐ তো বিলবোর্ড

উলঙ্গ নারী— চ্যাপিস্টিক

ইচ্ছে করে তার মুখের মধ্যে ভরে দিই

একগাঁদা রক্তগোলাপ

 

বালক! ধিয়ান ছে ছোন,

গোলাপ চোষা যায় না।

আহ্! কি পর্ন!

ডাবকা ডাবকা

খসা চিজ দোস্তানা, মাস্তানা

রুহ আবজা

খেয়ে, চেটে পুটে লুটে

শেষ হবে না

কোমরের ভাজে গোপণ ফুলকা

দেখা যায় আস্তানা

জোরসে জোরসে

ফেঁটে যাক গুহা-মুহা

খাসা চিজ

আহা! কি দোলন!

পর্দায় সানি লিওন।

বিজ্ঞাপণ এমন এক নারী যা দেখলেই আমার ল্যাওড়া খাড়া হয়ে যায়।

ঢাকায় এক মাগী কবির সাথে দেখা

তাকে বলি বসুন

অমনি ধারালো গ্রীবায় মাথা ঠেসে বলে ওঠে, শুয়ে পড়ি

আসুন

এতোটা ফর্সা মাগী

সে আবার কবি!

তাকে বলি চলুন

অমনি দুধ দুটো ঝাঁকিয়ে জিরো ফিগার দেখায়

মরতে মরতে বলে মিনারে তুলুন।

অই খবর পড়া মেয়ে

শাড়ী পরা ছাগল

খুলে দে, তুলে দে

ছমছম ঝুমঝুম

ছায়ার ফিতা

উরুতে মুখ ঘঁষতে দে

অই মেকাপ করা মুখ

হা কর, লুফে নে

আমার একটাই বন, একটাই ধোন।

উর্র্বশী মেনোকা রম্ভা

উঠে গেছে ডায়াসে

নাদানেরা ক্রিকেট খেলছে

ব্যাটিং-এ ব্যাসদেব

খালি ছক্কা হাকায়

পাঁচটি বল হারিয়ে গেছে

লাস্ট বল উর্বশীর কাছে।

মসজিদে বোমা ফাঁটলো

তোমার সতীচ্ছেদ হলো

দেশবাসী টের পেলোনা।

১০

মার খাওয়া চে

বাংলাদেশে মে

বিজয়ের নামে বাল হয়

আন্দোলনের নামে হোল।

১১

ডলফিনটা লাফ দিলো

যমুনার অতলে।

 

হে মহান বারাঙ্গানা,

আপনি এতো বিশাল হতে গেলেন কেনো?

১২

নারীর নিতম্বকে হেরা-গুহা ছাড়া অন্যকিছু মনে করা পাপ

ধ্যান হয়, জটিল ধ্যান!

প্রত্যেকটা সূরা প্রত্যেকটা আয়াত

তার নাভী-স্তনে মেশানো আবে হায়াৎ

 

চেটে চেটে খান

উলঙ্গ দেহ দিনমান।

১৩

স্টেগান কেড়ে নিয়ে বেশ্যাটা আমাকে একশ গোলাপ দিয়েছে

আজ রাতে তার ছেদার মধ্যে একটা একটা করে গোলাপ ঢুকাবো।

১৪

বাংলাদেশ নামে একটি ডিজিটাল সাবান পাওয়া যায়

সেই সাবান শরীরে যতই মাখবেন

ততোই আপনি অপবিত্র হতে

থাকবেন— এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে।

১৫

গু আর স্বাধীনতা এ দুটো শব্দকে যতোই ঘাটবেন, ততোই দুর্গন্ধ ছড়াবে।

১৬

আয়নার সামনে উলঙ্গ হও

ফিংগারিং করো

মাঝে মাঝে বব ডিলান চোদাও

এর ফ্ল্যাটে ওর ফ্ল্যাটে

গুদের বিজ্ঞাপণ দিয়ে বেড়াও

অথচ

আমাকে পাছা মারতে দিলে না

১৭

খাড়া খাড়া নিপল

তীর ধনুকের গুলতি

টানা টানা দুধ

কি অদ্ভুত! কি অদ্ভুত!

১৮

বলে রাখা ভালো

ভোদা হলে কালো

ক্ষুধা বাড়ে আরো

জেনে রাখা দরকার

ভোদা হলে পান্নার

রেন্ডি ছিলো যার-তার

 

কবিরও

কুকুরেরও

১৯

কোমরের খাঁজে কি জানি কি লেখা আছে

আল্লায় জানে, ট্যাটু ফ্যাটু স্টিকার

কি জানি কি!

আয়তুল কুরছি

বারবার মারে ঝাঁকি, ফেলে দেয় ব্রা-প্যান্টি

ব্যাস, একটুখানি লাক্স

পাডুকোনের জন্য বরাদ্দ থাকলো

আধেক জিভের ট্যাক্স!

২০

সাকার

ফাকার

বিক্রয় ডট কম

কুইকার

টুইটার

 

ঠাপানো দরকার।

২১

গর্দভ;

উনাকে নারী ভেবোনা, উনি একটা বেশ্যার কারখানা

যেটাকে শিল্প ভাবো, সেটা একটা পুঁজির দালান

যেটাকে তারা ভাবো, সেটা বাংলালিংকের টাওয়ার।

২২

মনের কথা বলছো ?

দেখ, এদিকে কি কা-টা না ঘটে গেল

আজ জুতা হারিয়ে ফেলেছিলাম

২৩

হবে হয়তো কোনো লেখক টেখক

বালছিঁড়– মোস্তাক, আনারুল

প্রকাশিত-অপ্রকাশিত মিলে

হবে হয়তো একচল্লিশ-বিয়াল্লিশ

তার সাথে আবার সালেহা, পারুল

ডি জে’র সময় সবে হলো এবার

পাজামা খোলো

বইমেলা ষোলো

 

 

কতিপয় গালাজ : প্রসঙ্গ পুঁজিবাদ
রফিক সানি

আপনি একজন উদিয়মান স্বাপ্নিক মানুষ। আপনার একাডেমিক লেখাপড়া শেষ হয়েছে কষ্ট-ক্লেশে বাবার টাকায়। বাবার স্বপ্ন—আপনি একজন বড়ো অফিসার হবেন। হয়তো কোনো ব্যাংকের ম্যানেজার, বিসিএস প্রশাসনিক ক্যাডার অথবা কোনো কেউকাটা কেউ একজন। যাকে দেখে লোকে সালাম দেবে। আপনাকে তো সালাম দেবে তো দেবেই—বাবাকেও দেবে। এবং আপনার কাছে কোনো কাজের প্রয়োজন হলে আপনার বাবার কাছে গিয়ে সাধারণ মানুষ ধরনা দেবে, তাকে পটিয়ে-পাটিয়ে তার অনুরোধে কাজটা সিদ্ধ করবে—এমন স্বপ্নও আপনার বাবা দেখে থাকেন।

কিন্তু সমস্যা হলো— আপনার বাবা আপনাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন তা আপনি দেখেন না। আপনি খোঁজেন স্বাধীনতা। স্বাধীন একটা প্রতিষ্ঠান। যা হবে একান্ত আপনার। সেটা কোনো সাধারণ নিয়মে চলবে না। অন্যের ধার ধারবে না। নিজের মতো করে চলবে। তার মধ্যে থাকবে গতি, থাকবে পরিবর্তন, থাকবে অনন্য মূল্যায়ন। আপনি কারো পরাধীনতা গ্রহণ করতে রাজি নন। কারো নিকট থেকে চাকরি নিতে নয় বরং চাকরি দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আপনি এই শিক্ষাই লাভ করেছেন। কারণ যেকোনো উপায়ে দেশের সেবাকেই আপনি বড়ো সেবা হিসেবে বিবেচনা করেন।

যেহেতু আপনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত, সেহেতু আপনি আপনার কাজ এবং ভবিষ্যৎ চিন্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সুতরাং আপনি যেকোনো কাজে নামার পূর্বে সঠিক পরিকল্পনা করে নিবেন। কী কাজ আপনি করবেন তা স্বভাবত আপনি আপনার অধ্যয়ন, কার্যক্রম ইত্যাদির মাধ্যমে ঠিক করে ফেলবেন। তারপর ভাববেন কিভাবে সেই কাজটি শুরু করবেন। প্রথম পর্যায়ে আপনার কতোজন সহযোগী থাকবে। তাদের কাজ কেমন হবে। কি প্রণালীতে এগোলে সুচারু রূপে কাজ সমাধা হবে সব পরিকল্পনা করতে আপনি ভুলবেন না। সমস্ত আটঘাট বেঁধে আপনি এবার যাবেন আপনার নিকটভাজন শুভাকাঙ্খীদের কাছে—আশির্বাদ কামনায়। তাদের গিয়ে সরল মনে বলবেন—চাচা বা মামা বা ভাই আমি অমুক কাজটি নিজের মতো করে শুরু করতে চাচ্ছি। তাদের জিজ্ঞাসু মুখের উত্তর হিসেবে আপনি আপনার গোটা পরিকল্পনা অতি উৎসাহে ব্যক্ত করবেন। তারাও আপনার সমস্ত কথা শুনবেন। খুব আগ্রহ নিয়ে শুনবেন। পরিশেষে বলবেন—কোনো চকরি করতে পারলে না, বাবা? আপনি তাদেরকে বুঝাবেন—আসলে চাকরি করে চাকরেরা। যাদের জ্ঞান নেই, পরিকল্পনা করারর মতো মেধা নেই তারাই মানুষের প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাকরের মতো চাকরি করে। তখন তারা বলবেন, আচ্ছা, ঠিক আছে। কিন্তু তুমি যে এই কাজ শুরু করতে যাচ্ছো, তোমার কাছে পুঁজি আছে? শেষ কথাটি বলার সময় তারা তর্জনিতে বৃদ্ধ আঙুল ঘষতে ভুলবেন না। আপনি ফিরতি পথে পুঁজি কী জিনিস নতুন করে ভাবতে থাকবেন নিশ্চয়?

আপনি ভাববেন পুঁজি হলো যা একজন মানুষের কাছে এই মূহূর্তে আছে। অর্থাৎ মানুষ যা ব্যবহার করে, নিজের কাছে রাখে প্রয়োজনে কাজে লাগানোর জন্য এমন সম্পদকে পুঁজি বলা যেতে পারে। এটাও পুঁজি—কিছু পরিমাণ অর্থ, যা মানুষ অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকে। যেমন জামা-প্যান্ট, ব্যবহার্য কাপড়, কালি-কলম-খাতা, বইপত্র, মোবাইল, ল্যাপ্টপ ইত্যাদি মানুষের পুঁজি। সাথে সাথে কিছু পরিমাণ অর্থ যা আগামী দিনটার জন্য প্রয়োজন। আপনার কাছে এগুলোই পুঁজি।

কিন্তু ঐ যে ব্যক্তি তর্জনিতে বৃদ্ধাঙুল ঘষলেন তার অর্থ আপনি জানেন না। তার অর্থ হলো পুঁজি। বর্তমান সমাজে তাকেই পুঁজি বলে। সেটাকেই ইশারায় দেখাতে হয় ওই সংকেতে। এই ইশারার অর্থনৈতিক অর্থ হচ্ছে—কোনো নতুন কাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত নগত অর্থ। যা বিনিয়োগ করে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন। আর কাজ শুরু করলে পরে আপনি লাভবান হতে পারেন অথবা লোকসানও করতে পারেন।

আপনি খুব ভালো করে জানেন আপনার মেধা-বুদ্ধি এবং পরিকল্পনার শক্তি হলো আপনার পুঁজি। কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজ বা রাষ্ট্র আপনাকে বলছে— না, পুঁজির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ হলো আপনার পুঁজি।

ভেবে দেখুন, পুঁজির অর্থ আপনি যেটা জানেন, এই যে জামা-কাপড়, মোবাইল, ল্যাপ্টপ প্রয়োজনীয় কিছু টাকা ইত্যাদি। এগুলো আপনার বহনযোগ্য সম্পদ। আপনি যেখানে যাবেন ইচ্ছা করলেই আপনি সেগুলো নিয়ে যেতে পারেন। মানে আপনি আপনার পুঁজিকে পেছনে পেছনে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ান। কিন্তু সমাজ যেটাকে পুঁজি বলছে সেটাকে আপনি পেছনে পেছনে ঘুরাতে পারছেন না। বরং সেটাই আপনাকে ঘুরাচ্ছে। একবার সপিংমলে, একবার রাজনৈতিক মঞ্চে, একবার ফাইভস্টার হোটেলে, একবার বেশ্যাপাড়ায় পুঁজিই আপনাকে নাকে দড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এই বাজারে যার যতো বেশি পুঁজি আছে সে ততো বেশি দৌড়ে এগিয়ে আছে।

সে যা-ই হোক আপনি যে স্বপ্নটা দেখছিলেন তা কি আপনি এখনও দেখবেন? নাকি সমস্ত স্বপ্ন বাদ দিয়ে চোরাকারবারে লেগে পড়বেন পুঁজি সংগ্রহের কাজে? তাছাড়া আপনার সামনে আর উপায় কী আছে? আপনি বংশপরম্পরায় ধনী নন। তাহলে আপনি এই পুঁজি পাবেন কোথায়? এবার আপনি খোঁজ নিবেন— এই সমাজে যারা শিল্পপতি তাদের পূর্বের ইতিহাস কী। মাঠে নেমে পড়লে দেখতে পাবেন— যারা শিল্পকারখানার মালিক তাদের প্রত্যেকেই অসৎ। তাদের কেউ কেউ বংশপরম্পরায় অর্থ পেয়েছে। আর বেশির ভাগই কালোবাজারী করে অর্থ উপার্জন করেছে। উভয়ই অসৎ এই কারণে যে, যে ব্যক্তি তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ বিনিয়োগ করে শিল্প গড়ে তুলছে সে নিজের থেকে কিছু করছে না। আর দ্বিতীয় ব্যক্তির কথা বলা পাপ।

আপনি এতোকাল ভেবে বা শিখে এসেছেন মেধা-বুদ্ধি থাকলে এবং কর্মপরিকল্পনার সামর্থ থাকলে আপনার স্বপ্ন পূরণ হবেই। কিন্তু সমাজ বলছে আপনাকে চোরাকারবারের সাথে আগে যোগ দিয়ে পুঁজি সংগ্রহ করতে হবে। সেটা কি আপনার দ্বারা সম্ভব? কোনোভাবে তো নয়। তাহলে? তৈরি হবেন? হ্যাঁ, তৈরি হবেন। ঘুরে দাঁড়াবেন। এবং ডাক পাঠাবেন—

‘গ্রাম-নগর, মাঠ-পাথার,

বন্দরে তৈরি হও।

কার ঘরে জ্বলেনি দ্বীপ,

চির আধার তৈরি হও

কার বাছার জোটেনি দুধ, শুকনো মুখ তৈরি হও।

ঘরে ঘরে ডাক পাঠাই তৈরি হও।

জোট বাঁধো মাঠে কৃষাণ, কলে মজুর নও জোয়ান জোট বাঁধো।

এই মিছিল সব হারার, সব পাওয়ার

এই মিছিল প্রতিভা আর যশোদা মার, রক্ত বীজ এই মিছিল।

স্বামী হারা অনাথীনির , চোখের জল এই মিছিল।

শিশুহারা মাতা-পিতার, অভিশাপের এই মিছিল।

এই মিছিল সব হারার, সব পাওয়ার

হও সামিল, হও সামিল,

হও সামিল।’

 

 

বর্গহীনের ক্ষ  বর্গ
দিনকাল

সুজন হালদার

 

জ্ঞানী ব্যক্তি হলো প্রজা

অবাং হলো রাজা

একঘাটে জল খায় সবে

কেউ থাকে না রোজা

ফসল রক্ষায় দেয় বেড়া

বেড়ায় খায় ফসল

তাহলে কি থাকে

ফসলের আসল নকল।

নিজ স্বার্থে গড়বে স্বপ্ন

রাখবে নিজের মান

অবশেষে ঘটে যাবে

রাজ্যের অবসান।

অতিবিদ্যা বিবাদের উদয়

রাঘব-বোয়াল ছিঁড়ছে জাল

কালের চক্রে চলছে দিনকাল।

 

 

তখন তুমি ছিলে

লাবণী চৌধুরী তখন নায়কের খুব প্রিয় বন্ধু ছিল। এক ছোট্ট টিনের খুপরিতে নায়ক থাকত খদ্দরের চাদর মুড়ে, বেশ একাকী। খুপরীর পাশে প্রতিদিন গান হয়। কে যেন একটা বাঁশী বাজিয়ে চলে সেখানে। ওই সুরের ভিতরে নির্ণিমেষ তাকানো রাস্তায় তখন দিগন্তের রশ্মি প্রান্ত স্পর্শ করে— তখন লাবণী এসে দাঁড়ায় রাস্তায়। টিক টিক করে টোকা দেয়, তারপর ঢুকে পড়ে অন্দরমহলে। কী যেন এক মেঘলা বাতাস গড়ে ওঠে তাতে! ঝরা পাতাগুলা লম্বা বারান্দা দিয়া দৌড়ায়, আউলা-ঝাউলা করে। সেসব আকুল উদাসী হাওয়া পেরিয়ে লাবণী একসময় খাবার নিয়া আসে। কেন আসে— কেউ জানে না। কেউ সে খবর রাখে না। কিচ্ছুটির আর সময় নাই। কেমন যেন তখন হাওয়া বইতে থাকে নায়কের শরীর ঘিরিয়া। তখন কেউ লাবণীর রূপ দেখে নাই, কর্ম দেখে নাই। চোখের সৌন্দর্যও খুঁজিয়া পায় নাই। পা-পর্যন্ত পায় নাই। শরীর নাই। খুব খুব ভোর আর কুয়াশায় একদিন সবকিছু এক হইয়া আসে। লাবণী রোদমাখা ভোরে কাছে ঝিমিয়া থাকে। উপন্যাস পড়ে, সুনীল পড়ে আর কুয়াশা দেখে। নায়ক ওসব কিছু বোঝে নাই। তবে এক সময় হঠাৎ সে নরোম বুকে হাত দিয়াছিল, তারই প্ররোচনায়। নৌকা কাঁপা রোদ তখন কূলে উপকূলে। টলমলে জলতরঙ্গে শীর্ণ শীষ হাওয়া ছড়ায়। হায়রে পরণ মন, কী যে হা-হুতাশ ধেয়ে আসে! লাবণী তখন চিক্কুর দেয় আর হাত ধরে। কতোকাল সে সব নায়কের মরশুমকে ভরিয়া আনে। জীবনের প্রবাহ ছানিয়া লয়। অনেক ঝরাপাতা ডুবন্ত, বর্ষণও অপার ঝিমাইয়া ধরে। তবে তার ভেতর অনেক কম্প্রকথা। মানুষও তাপে-ভাপে দ-ায়মান। তাই সে মরিয়া গিয়া কয়, আয় আয়, সব স্বপ্নবানদের নিয়া আয়। ফেলে আসা প্ররোচনা নিয়া এক হ। সবাইকে সন্তাপে ক, ‘বণিজ্যেতে যাবো আমি সিন্দাবাদের মতো’।

তখন বাণিজ্য-বোঝা তটীনি ছাড়িয়া রয়। হারায়। পথহারারূপে আগাইয়া চলে। নায়ক তাহার বাজুবন্ধ শুকিয়া লয়। কোণায় কোণায় ভরা প্রভঞ্জন আঁখিমুদে গ্রহণ করে। কী তার অপরূপ আস্বাদ। রূপ নিয়া রাজকন্যার বাতাসে তেপান্তর রচিয়া দাঁড়ায়। হে লোকসভ্যতা! কী তোমার দর্পিত বাতিদর্পণ। তখন নায়ক গোঁফ রাখিয়া লয়। দাড়ি ওঠে। সেটা খুব ভরাট। তাপের অগ্নিতে পড়া। আরও অবিস্মরণীয় সত্যে দাঁড়ানো সব। খুব কষ্টে চোখের ফোলা কোণে আকণ্ঠ রূপময় নিমজ্জন। নিমজ্জমান তটে শরীর ভরিয়া ওঠে। তাপ দানা বাঁধিয়া চলে। কণ্ঠ বিস্ময়কর রূপ ধারণ করে। কৃষ্ণচূড়া আরও আগুন ফলায়। অশোকগুচ্ছ শরীর চড়ায়। ঐরাবত নাদ তোলে। ঘনীভূত জীবনের সুর আর রূপমুগ্ধতা তখন আকাশে নীল ছামিয়ানা মাড়ায়।

বণিজ্যতরী ওপারে পৌঁছিয়া যায়। খুব প্রবাল দ্বীপ আর নারকেলের শাখে দোদুল্যমান প্রকৃতি। সে চাপিয়া ধরে। মিশিয়া চলে লোকালয়হীন বালুর মঠে, নিশ্চিন্ত প্রান্তরে। ভোগ নয়, চিরসুখ আর চিরবৃষ্টির ঝুর ঝুর শব্দে। চোখ ওল্টায়, বিনিময় হয়, ওঠে উটের প্রহরা, তবুও শেষ হয় না কিছু। চিরকালের চাওয়া চলতে থাকে। চিরস্মরণীয় হওায়ার বারতা ঘুচে যায়। এবার খাওয়ার আসর। লাবণী এই প্রথম লাবণ্য হয়ে উঠল। নায়ক জানে কী করে ঝুম বৃষ্টি হয়। সে হঠাৎ ঘনিয়া ফেলে। খুব গভীরে। তারপর মায়াকান্নাগুলা স্ফটিক হয়। একাকার জীবনের সব সুখ কিনিয়া ফেলে।

তবে সব একদিন ছাড়িয়া গেলে, ভরা নায়ককে বিনষ্ট করে, চিল ওড়া আকাশের চাইতেও তাহা বেশি। লোহার চিক্কন রড, পড়ে থাকা চেয়ার, ফাটা মেঝে, একলা খাট, বাথরুমের টাব আর নরোম চেয়ার— সেখানে একদিন শুভ্রসুখ ঘনাইয়া আসে। ওসব আর নাই। চিরিয়া ওঠা বুকে ঘোর অন্ধকার বাস্তব করে।

তারপর সিন্দবাদ আর তেপান্তর সত্যের কৌমার্যনদী ভরিয়া ওঠে!

চিহ্নপ্রধান

আলোচনা